#রিয়াদুস_সালেহীন দ্বিতীয় খণ্ড অনুচ্ছেদঃ৮ ওয়াজ-নসীহত করা ও তাতে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা।

Muhammads words
0

ওয়াজ-নসীহত করা ও তাতে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা।

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : أَدْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحَكمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“তুমি তোমার রবের পথে লোকদের ডাক বিজ্ঞতার সাথে এবং আকর্ষণীয় উপদেশের মাধ্যমে।” (সূরা আন নাহল: ১২৫)

٦٩٩ عن أبي وائل شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ قَالَ كَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يُذكرنا كل خميس فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ لَوَدِدْتُ أَنَّكَ ذكرتَنَا كُلِّ يَوْمِ فَقَالَ أَمَا إِنَّهُ يَمْنَعُنِى مِنْ ذلِكَ إِنّى اكْرَهُ أَنْ أُمِلُكُمْ وَإِنِّي أَتَخَولُكُمْ بِالْمَوْعِظَةِ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَولُنَا بِهَا مَخَافَةَ السَّامَة عَلَيْنَا - متفق عليه.


৬৯৯। আবু ওয়াইল শাকীক ইবনে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,ইবনে মাসউদ (রাঃ) প্রতি বৃহস্পতিবার আমাদের উদ্দেশে ওয়াজ-নসীহত করতেন। এক ব্যক্তি তাকে বলল, হে আবু আবদুর রহমান! আমরা আশা করি যে, আপনি প্রতিদিন আমাদের ওয়াজ-নসীহত করবেন। তিনি বলেন, দেখ, প্রতিদিন ওয়াজ করার পথে আমার জন্য এটাই একমাত্র বাধা যে, আমি তোমাদেরকে বিরক্ত করতে অপছন্দ করি। আমি তোমাদের উপদেশ দেয়ার ক্ষেত্রে সেই নীতিই অনুসরণ করি যে নীতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বেলায় অনুসরণ করতেন। (তিনি লক্ষ্য রাখতেন,) পাছে আমরা যেন বিরক্ত না হয়ে পডি। (বুখারী ও মুসলিম)


۷۰۰- وَعَنْ أَبِي الْيَقْطَانِ عَمارِ بْنِ يَاسِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنْ طُوَلَ صَلَاةِ الرَّجُلِ وَقِصَرَ خُطْبَتِهِ مَنِنْةٌ مِنْ فقه فأطيلُوا الصَّلوةَ وَاقْصِرُوا الْخُطْبَة- رواه مسلم.


৭০০। আবুল ইয়াকযান আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ একজন লোকের দীর্ঘ নামায ও সংক্ষিপ্ত ভাষণ দীন সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান ও দূরদর্শিতার পরিচায়ক। কাজেই তোমরা নামাযকে দীর্ঘ কর এবং বক্তৃতা-ভাষণকে সংক্ষিপ্ত কর। (মুসলিম)

۷۰۱- وَعَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَا أَنَا أَصَلِي مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ عَطَسَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَقُلْتُ يَرْحَمُكَ اللهُ فَرَمَانِي القَومُ بأَبْصَارِهِمْ فَقُلْتُ وَاتُكُل أميَاهُ مَا شَانُكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَى فَجَعَلُوا يَضْرِبُونَ بِأَيْدِيهِمْ عَلَى أَفْخَادِهِمْ فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ يُصَمِّتُونَنِي لَكِنِّي سَكَتْ فَلَمَّا صَلَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبِأَبِي هُوَ وَأَمِّي مَا رَأَيْتُ مُعَلَّمًا قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ أَحْسَنَ تَعْلِيمًا مِنْهُ فَوَالله مَا كَهَرَنِى وَلا ضَربَنِي وَلَا شَتَمَنِى قَالَ إِنْ هَذه الصَّلاةَ لا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْ مِنْ كَلامِ النَّاسِ إِنَّمَا هِيَ التَّسْبِيحَ وَالتَّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ وَقَدْ جَاءَ اللهُ بِالْإِسْلامِ وَإِنْ مِنَّا رِجَالاً تَأْتُونَ الْكَهَانَ قَالَ فَلا تَأْتِهِمْ قُلْتُ وَمِنَّا رِجَالٌ يَتَطيرُونَ قَالَ ذَاكَ شَيْ يَجِدُونَهُ فِي صُدُورِهِمْ فَلَا يصدهم - رواه مسلم.


৭০১। মু'আবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায পড়ছিলাম। তখন এক নামাযী হাঁচি দিলে আমি বললাম, ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন)। এতে মুসল্লীরা আমার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে লাগল। আমি বললাম, তোমরা মাতৃহারা হও। তোমাদের কি হল? তোমরা আমার প্রতি এভাবে তাকাচ্ছো কেন? তারা তাদের ঊরুতে হাত চাপড়াতে লাগল। আমি যখন বুঝলাম, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে, (তখন আমার রাগ হলো।) কিন্তু আমি চুপ হয়ে গেলাম। এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায সমাপন করলেন। তাঁর প্রতি আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক! আমি তাঁর পূর্বে ও পরে তাঁর চাইতে উৎকৃষ্ট শিক্ষক আর দেখিনি । আল্লাহ্ শপথ। তিনি আমাকে তিরস্কারও করলেন না, মারলেনও না এবং মন্দও বললেন না। তিনি (শুধু এতটুকু) বলেনঃ এই নামাযের মধ্যে মানবীয় কথাবার্তা সংগত নয়। নামায হচ্ছে তাবীহ, তাকবীর ও আল কুরআন তিলাওয়াতের সমষ্টি অথবা অনুরূপ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল। সবেমাত্র আমি জাহিলিয়াতের যুগ ছেড়ে এসেছি এবং আল্লাহ আমাদের ইসলাম কবুলের তাওফীক দিয়েছেন। আমাদের অনেকে (এখনো) ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট যায়। তিনি বলেনঃ না, তাদের নিকট যেয়ো না। আমি বললাম, আমাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা শুভ-অশুভের নিদর্শনে বিশ্বাস করে। তিনি বলেন: এটা এমন জিনিস যা তারা তাদের অন্তরে অনুভব করে। তবে এটা যেন তাদেরকে (কোন কাজ করা বা না করা থেকে) বিরত না রাখে। (মুসলিম)

۷۰۲- وَعَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ وَعَظَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَوْعِظَةً وَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ وَذَرقَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَذَكَرَ الْحَدِيث وَقَدْ سَبَقَ بِكَمَالِهِ فِى بَابِ الْأمْرِ بِالْمُحَافَظَةِ عَلَى السُّنَّةِ وَذَكَرْنَا أَنَّ التَّرْمِذِي قَالَ انَّهُ حَدِيثُ حَسَنٌ صَحِيحٌ


৭০২। ইরবাদ ইবনে সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে এমন বক্তৃতা করলেন যে, তাতে অন্তর কেঁপে গেল এবং চোখ অশ্রুসিক্ত হল... এরপর পুরো হাদীস বর্ণনা করেন। এ হাদীস সুন্নাতের রক্ষণাবেক্ষণের নির্দেশ শীর্ষক অনুচ্ছেদে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী বর্ণিত উক্ত হাদীসটি তাঁর মতে হাসান ও সহীহ।

#মুহাম্মদের_বাণী #ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ  #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী  #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default