قَالَ اللهُ تَعَالَى : واصْبِرُ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ .
মহান আল্লাহ্ বলেন:
“তোমার দিলকে এমন লোকদের সংস্পর্শে স্থিতিশীল রাখ যারা নিজেদের প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁকে ডাকে। আর তাদের দিক থেকে কখনও অন্যদিকে তোমার দৃষ্টি নিবদ্ধ করো না।” (সূরা আল-কাহফঃ ২৮)।
٢٥٢ - عَنْ حَارِثَةَ بْنِ وَهْبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِلا أَخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ الْجَنَّةِ ؟ كُلُّ ضَعِيفَ مُتَضَعْفَ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى الله لأبره إلا أخبركُمْ بِأهْلِ النَّارِ كُلُّ عُتُل جَواظٌ مُسْتَكْبِر متفق عليه . العملُ الغَلِيظَ الْجَانِي وَالْجَواظُ بِفَتْحِ الجِيْمِ وَتَشْدِيدِ الْوَاوِ وَبِالظَّاءِ الْمُعْجَمَةِ وَهُوَ الجموع الْمَنُوعُ وَقِيلَ الضَّخْمُ الْمُخْتَالُ فِي مِشْيَتِهِ وَقِيْلَ الْقَصِيرُ الْبَطِينُ .
২৫২। হারিসা ইবনে ওয়াত্ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কোন্ ধরনের লোক জান্নাতী হবে আমি কি তা তোমাদেরকে বলব না? প্রত্যেক দুর্বল (বিনয়ী) ব্যক্তি যাকে লোকেরা শক্তিহীন ও তুচ্ছ জ্ঞান করে। সে যদি আল্লাহ্র উপর ভরসা করে শপথ করে, আল্লাহ তা অবশ্যই পূর্ণ করার সুযোগ দেন। কোন্ প্রকৃতির লোক জাহান্নামে যাবে আমি কি তা তোমাদেরকে বলব না? প্রত্যেক নাদান-মূৰ্খ, উদ্ধত-অবাধ্য ও অহংকারী ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٥٣- عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ سَهْلِ بْنِ سَعْدِ السَّاعِدِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ مَرَّ رَجُلٌ على النبي صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لرَجُلٍ عِندَهُ جَالس مَا رَأَيْكَ في هذا ؟ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَشْرَافِ النَّاسِ هَذَا وَاللهِ حَرِى إِنْ خَطَبَ أَنْ يُنْكَحَ وَإِنْ شَفَعَ أَنْ "يُشفَع فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ مَرَّ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا رَأيك فى هذا ؟ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ هَذَا رَجُلٌ مِنْ فُقَرَاءِ الْمُسْلِمِينَ هَذَا حَرِيٌّ إِنْ خَطَبَ أَنْ لَا يُنْكَحَ وَإِنْ شَفَعَ أَنْ لَا يُشَفْعَ وَإِنْ قَالَ أن لا يُسْمَعَ لِقَوْلِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذَا خَيْرٌ مِنْ مِلْ الْأَرْضِ مِثْلَ هَذا - متفق عليه. قَوْلُهُ حَرِى هُوَ بِفَتْحِ الْمَاءِ وَكَسْرِ الرَّاءِ وَتَشْدِيدِ الباء أو حقيقُ وَقَوْلُهُ شَفَعَ بفَتْح الفاء
২৫৩। সাহল ইবনে সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তাঁর নিকটে বসা লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন: এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কি মত? সে বলল, ইনি তো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে গণ্য। আল্লাহ্ শপথ! তিনি খুবই যোগ্য লোক, বিবাহের প্রস্তাব দিলে তা কবুল করা হয় এবং কোন ব্যাপারে সুপারিশ করলে তা গ্রহণ করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন। অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি তাঁর সামনে দিয়ে গেল।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (বসা লোকটিকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কি ধারণা? সে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! এতো নিঃস্ব-গরীব মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। সে এতটুকু উপযুক্ত যে, সে বিবাহের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়, তার সুপারিশ কবুল করা হয় না এবং কোন কথা বললে তাতে কেউ আমল দেয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এ (নিঃস্ব মুসলিম) ব্যক্তি দুনিয়াভর্তি ঐসব (তথাকথিত সম্ভ্রান্ত) ব্যক্তিদের চেয়ে অনেক উত্তম।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٥٤ - عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ احْتَجت الجَنَّةُ والنَّارُ فَقَالت النَّارُ فِى الْجَبَّارُونَ وَالْمُتَكَبِّرُونَ وَقَالَتِ الْجَنَّةُ في ضُعَفَاءُ النَّاسِ وَمَسَاكِيْتُهُمْ فَقَضَى اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّكَ الْجَنَّهُ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أشَاء وَإِنَّكَ النَّارُ عَذَابِي أُعَذِبُ بِك مَنْ أَشَاءُ ولكليْكُمَا عَلَى مِلْؤُهَا - رواه مسلم.
২৫৪। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়ের মধ্যে বিতর্ক হল। জাহান্নাম বলল, আমার অভ্যন্তরে বড় বড় স্বৈরাচারী, দাম্ভিক ও অহংকারী ব্যক্তিরা রয়েছে। জান্নাত বলল, আমার মাঝে অসহায়, দরিদ্র ও দুর্বল লোকেরা রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা উভয়ের মধ্যে ফায়সালা দিলেনঃ জান্নাত! তুমি আমার রহমত ও অনুগ্রহের আধার। তোমার সাহায্যে যাকে ইচ্ছা আমি অনুগ্রহ করব। আর হে জাহান্নাম! তুমি আমার শাস্তির আধার। তোমার সাহায্যে যাকে ইচ্ছা আমি শাস্তি দেব। তোমাদের উভয়কে পরিপূর্ণ করা আমারই দায়িত্ব। ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّهُ لَيَأْتِي الرُّجُلُ الْعَظِيمُ السَّمِينُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَزِنُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ متفق عليه.
২৫৫। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন এক মোটা-তাজা ও দীর্ঘকায় ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে। কিন্তু আল্লাহ্র কাছে তার মর্যাদা ও মূল্য একটি মাছির ডানার সমানও হবে না।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٥٦ - وَعَنْهُ أَنْ امْرَأَةٌ سَوْداءَ كَانَتْ تَقُمُ الْمَسْجِدَ أَوْ شَابًّا فَفَقَدَهَا أَوْ فَقَدَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ عَنْهَا أَوْ عَنْهُ فَقَالُوا مَاتَ قَالَ أَفَلَا كُنتُمْ أَذَنْتُمُونِي بِهِ فَكَانُهُمْ صَغَرُوا أَمْرَهَا أَوْ أَمْرَهُ فَقَالَ دُلُّونِي عَلَى قَبْرِهِ فَدَلُوْهُ فَصَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذِهِ الْقُبُورَ مَعْلُومَةً ظُلْمَةٌ عَلَى أَهْلِهَا وَإِنَّ اللَّهَ يُنَوِّرُهَا لَهُمْ بِصَلَاتِي عَلَيْهِمْ - متفق عليه قَوْلُهُ تَقُمُّ هُوَ بِفَتْحِ النَّاءِ وَضَمِّ الْقَافِ أَن تَكْنُسُ والْقَمَامَةُ الْكنَاسَة واذنْتُمُونِي بِمَيِّ الْهَمْرَةِ اعْلَمْتُمُونِي .
২৫৬। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক কৃষ্ণকায় মহিলা অথবা যুবক মসজিদে নববীতে ঝাড়ু দিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে না দেখতে পেয়ে (সাহাবীদেরকে) তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তাঁরা বলেন, সে মারা গেছে।
তিনি বলেনঃ তোমরা আমাকে খবর দাওনি কেন? সম্ভবত তাঁরা এটাকে মামুলি ব্যাপার মনে করেছিলেন। তিনি বললেন: আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও। তাঁরা তাঁকে তার কবরের কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি তার জানাযা পড়েন এবং বলেনঃ এই কবরবাসীদের কবরগুলো অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকত। আমার দু'আ করার বদৌলতে আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য তাদের কবরগুলোকে আলোকিত করে দিয়েছেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٥٧ - وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَبِّ أَشْعَتْ أَغْبَرَ مَدْفُوعِ بالأبواب لَوْ أقْسَمَ عَلى الله لأبره - رواه مسلم .
২৫৭। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এরূপ অনেক লোক আছে যাদের (মাথার চুল) উসকো খুসকো এবং (পা দু'টি) ধুলি ধুসরিত, তাদেরকে (মানুষের) দরজাসমূহ থেকে ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। যদি তারা আল্লাহ্র নামে শপথ করে তবে আল্লাহ তাদের তা পূরণের তাওফীক দেন।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٥٨ - عَنْ أَسَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قُمْتُ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ فَإِذا عَامَّةٌ مَنْ دَخَلَهَا الْمَسَاكِينُ وَأَصْحَابُ الْجَدِ مَحْبُوسُونَ غَيْرَ أنْ أَصْحَابَ النَّارِ قَدْ أُمَرَ بِهِمْ إِلَى النَّارِ وَقُمْتُ عَلَى بَابِ النَّارِ فَإِذَا عَامَّةٌ مَنْ دَخَلَهَا النِّسَاءُ متفق عليه. والجَدُّ بِفتح الجيمِ الْحَظَ وَالْعَنِى وَقَوْلُهُ مَحْبُوسُونَ أَى لَمْ يُؤْذَن لَهُمْ بَعْدُ فِي دَخُولِ الْجَنَّةِ .
২৫৮। উসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি (মি'রাজের রাতে) জান্নাতের দরজায় দাঁড়ালাম। (দেখলাম), জান্নাতে প্রবেশকারী অধিকাংশ লোকই হচ্ছে নিঃস্ব-দরিদ্র। ধনী লোকদের তখনো জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ ইতোমধ্যেই দেয়া হয়েছিল। আমি জাহান্নামের দরজায় দাঁড়ালাম। (দেখলাম), জাহান্নামে প্রবেশকারীদের অধিকাংশই হচ্ছে স্ত্রীলোক।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٥٩ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَمْ يَتَكَلَّمُ فِي الْمَهْدِ إِلا ثَلاثَةٌ عِيسَى بْنُ مَرْيَمَ وَصَاحِبُ جُرَيْجٍ وَكَانَ جُرَيْجٍ رَجُلاً عابداً فَاتَّخَذَ صَوَمَعَةٌ فَكَانَ فِيهَا فَاتَتْهُ أُمُّهُ وَهُوَ يُصَلِّي فَقَالَتْ يَا جُرَيْجُ فَقَالَ يَا رَبِّ أُمِّي وَصَلَاتِي فَأَقْبَلَ عَلَى صَلَاتِهِ فَانْصَرَفَتْ فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ أَتَتْهُ وَهُوَ يُصَلِّي فَقَالَتْ يَا جُرَيْجُ فَقَالَ أَى رَبِّ أَمِّي وَصَلَاتِي فَأَقْبَلَ عَلَى صَلَاتِهِ فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ َأتَتْهُ وَهُوَ يُصَلِى فَقَالَتْ يَا جُرَيْجُ فَقَالَ أَيْ رَبِّ أَمِّنْ وَصَلَاتِي فَأَقْبَلَ عَلَى صَلاتِه فَقَالتْ اللّهُمُ لا تُمتْهُ حَتَّى يَنْظُرَ إِلى وُجُوهِ الْمُؤْمِسَاتِ فَتَذَا كَرَ بَنُو إِسْرَائِيلَ جُرَيْجًا وَعِبَادَتَهُ وَكَانَتِ امْرَأَةٌ بَنِي يُتَمَثْلُ بِحُسْنِهَا فَقَالَتْ إِنْ شِئْتُمْ لَأَفْتِنَنَّهُ فَتَعَرَّضَتْ لَهُ فَلَمْ يَلْتَفِتْ إِلَيْهَا فَاتَتْ رَاعِيًا كَانَ يَأْوِي إِلَى صَوْمَعَتِهِ فَأَمْكَنَتْهُ مِنْ نَفْسِهَا فَوَقَعَ عَلَيْهَا فَحَمَلَتْ فَلَمَّا وَلَدَتْ قَالَتْ هُوَ مِنْ جُرَيْج فَاتَوْهُ فَاسْتَنْزَلُوهُ وَهَدَمُوْا صَوْمَعَتَهُ وَجَعَلُوْا يَضْرِبُونَهُ فَقَالَ مَا شَأْنُكُمْ؟ قَالُوا زَنَيْت بهذه الْبَغِيِّ فَوَلَدَتْ مِنْكَ قَالَ ابْنَ الصَّبِيُّ؟ فَجَامُوا بِهِ فَقَالَ دَعُونِي حَتَّى أُصَلِيَ فَصَلَّى فَلَمَّا انْصَرَفَ أَتَى الصَّبِى فَطَعَنَ فِي بَطْنِهِ وَقَالَ يَا غُلَامُ مَنْ أبُوكَ ؟ قَالَ فُلان الراعى فَاقْبَلُوا عَلَى جُرَيْج يُقَتِلُونَهُ وَيَتَمَسْحُونَ بِهِ وَقَالُوا نَبْنِي لكَ صَوْمَعَتَكَ مِنْ ذَهَب قَالَ لا أَعِيدُوهَا مِنْ طِيْن كَمَا كَانَتْ فَفَعَلُوا وَبَيْنَا صَبِي يَرْضَعُ مِنْ أُمِّهِ فَمَرٌ رَجُلٌ رَاكِبٌ عَلَى دَابَّةٍ فَارِهَةٍ وَشَارَةٍ حَسَنَةٍ فَقَالَتْ أُمُّهُ اللَّهُمْ اجْعَلِ ابْنِي مثل هذا فَتَرَكَ الشَّدْىَ وَأَقْبَلَ إِلَيْهِ فَنَظَرَ إِلَيْهِ فَقَالَ اللَّهُمْ لَا تَجْعَلْنِي مِثْلَهُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى ثَدْيِهِ فَجَعَلَ يَرْتَضِعُ فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَحْكى ارْتِضَاعَهُ بِأَصْبُعَه السَّبَابَة فِي فِيهِ فَجَعَلَ يَمُدُّهَا قَالَ وَمَرُوا بِحَارِيَةٍ وَهُمْ يَضْرِبُونَهَا وَيَقُولُونَ زَنَيْتِ سَرَقَتِ وَهِيَ تَقُولُ حَسْبِيَ اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ فَقَالَتْ أُمُّهُ اللهُمْ لا تَجْعَلْ ابْنِي مِثْلَهَا فَتَرَكَ الرَّضَاعَ وَنَظْرَ إِلَيْهَا فَقَالَ اللهُمَّ اجْعَلْنِي مِثْلَهَا فَهُنَالِكَ تَرَاجَعَا الْحَدِيثَ فَقَالَتْ مَرَّ رَجُلٌ حَسَنُ الْهَيْئَةِ فقلت اللهُمَّ اجْعَلْ ابْنِي مِثْلَهُ فَقُلْتَ اللهُ لا تَجْعَلْنِي مِثْلَهُ وَمَرُّوا بِهَذِهِ الْآمَةِ يَضْرِبُونَهَا وَيَقُولُونَ زَنَيْت سَرَقَت فَقُلْتُ اللّهُمَّ لَا تَجْعَلْ ابْنِي مِثْلَهَا فَقُلْتَ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِثْلَهَا ؟ قَالَ إِنَّ ذلكَ الرّجُلَ كَانَ جَبَّارًا فَقُلْتُ اللَّهُمُ لَا تَجْعَلْنِي مثله وإن هذه يَقُولُونَ لَهَا زَنَيْت وَلَمْ تَزَن وَسَرَقَت وَلَمْ تَشرقُ فَقُلْتُ اللَّهُم اجْعَلْنِى مِثْلَهَا - متفق عليه الْمُؤْمِسَاتُ بِضَمِّ الْمِيْمِ الْأَولَى وَاسْكَانِ الْوَاءِ وَكسْرِ الْمِيمِ الثَّانِيَةِ وَبِالسِّينِ الْمُهْمَلَةِ وَهُنَّ الزَّوَانِي وَالْمُؤْمِسَةُ الزَّانِيَةُ وَقَوْلُهُ دابَّةٌ فَارِهَةٌ بِالْقَاءِ أَى حَاذِقَةٌ نَفِيْسَةٌ وَالسَّارَةُ بِالشَّيْنِ الْمُعْجَمَةِ وَتَخْفِيفِ الرَّاءِ وَهِيَ الجَمَالُ الظَّاهِرُ فِي الْهَيْئَةِ وَالْمَلْبَسِ وَمَعْنَى تَرَاجَعَا الْحَدِيثَ أَيْ حَدَّثَتِ الصبي وَحَدَّثَهَا وَاللَّهُ أَعْلَمُ
২৫৯। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: (বনী ইসরাঈলের মধ্যে) তিন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই দোলনায় কথা বলেনি। (এক) ঈসা ইবনে মারইয়াম এবং (দুই) সাহেবে জুরাইজ। অর্থাৎ জুরাইজের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বাচ্চা। জুরাইজ একজন আবেদ বান্দা ছিলেন। তিনি নিজের জন্য একটি খানকাহ্ তৈরি করে সেখানেই অবস্থান করছিলেন। সেখানে তার মা আসলেন। এ সময় তিনি নামাযে রত ছিলেন। তার মা বললেন, হে জুরাইজ! তখন তিনি (মনে মনে) বলেন,
হে প্রভু! আমার মা ও আমার নামায। জুরাইজ নামাযেই রত থাকলেন। তার মা চলে গেলেন। পরবর্তী দিন তার মা আসলেন। এবারও তিনি নামাযে মগ্ন ছিলেন। তার মা তাকে ডাকলেন, হে জুরাইজ! তিনি (মনে মনে) বলেন, হে প্রভু! আমার মা ও আমার নামায। তিনি নামাযেই রত থাকলেন। পরবর্তী দিন এসেও মা তাকে নামাযে রত অবস্থায় দেখলেন। তিনি ডাকলেন, হে জুরাইজ! জুরাইজ বলেন, হে প্রভু! আমার মা ও আমার নামায। তিনি তার নামাযেই ব্যস্ত থাকলেন। তার মা বললেন, হে আল্লাহ! একে তুমি যেনাকারী নারীর মুখ না দেখা পর্যন্ত মৃত্যু দিও না।
বনী ইসরাঈলের মধ্যে জুরাইজ ও তার ইবাদাতের চর্চা হতে লাগল। এক ব্যভিচারী নারী ছিল। সে বেশ রূপ-সৌন্দর্যের অধিকারিণী ছিল। সে বলল, তোমরা যদি চাও আমি তাকে (জুরাইজকে) বিভ্রান্ত করতে পারি। সে তাকে ফুসলাতে লাগল, কিন্তু তিনি সেদিকে ভ্রূক্ষেপই করলেন না।
অতঃপর সে তার খানকার কাছাকাছি এলাকায় এক রাখালের কাছে আসল। সে নিজের উপর তাকে অধিকার দিল এবং উভয়ে যেনায় লিপ্ত হল। এতে সে গর্ভবতী হল। সে বাচ্চা প্রসব করে বলল, এটা জুরাইজের ফসল। বনী ইসরাঈল (ক্ষিপ্ত হয়ে) তার কাছে এসে তাকে খানকাহ থেকে বের করে আনল, খানকাহ্টি ধূলিসাৎ করে দিল এবং তাকে মারধর করতে লাগল। জুরাইজ বলেন, তোমাদের কি হয়েছে? তারা বলল, তুমি এই বেশ্যার সাথে যেনা করেছ। ফলে একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হয়েছে।
তিনি বলেন, শিশুটি কোথায়? তারা বাচ্চাটিকে নিয়ে আসল। জুরাইজ বলেন, আমাকে একটু সুযোগ দাও, নামায পড়ে নিই। কাজেই তিনি নামায পড়লেন। নামায শেষ করে তিনি শিশুটির নিকট এসে তার পেটে খোঁচা মেরে জিজ্ঞেস করলেন, হে শিশু! তোমার পিতা কে? সে বলল, আমার পিতা অমুক রাখাল। উপস্থিত লোকেরা তখন জুরাইজের দিকে আকৃষ্ট হল এবং তাকে চুমো দিতে লাগল। তারা বলল, এখন আমরা তোমার খানকাটি সোনা দিয়ে তৈরি করে দিচ্ছি। তিনি বলেন, দরকার নেই, বরং পূর্বের মত মাটি দিয়েই তৈরি করে দাও। অতঃপর তারা তার খানকাটি পুনর্নির্মাণ করে দিল।
(তিন) একটি শিশু তার মায়ের দুধ পান করছিল। এমন সময় একটি লোক দ্রুতগামী ও উন্নত মানের একটি পশুতে সওয়ার হয়ে সেখান দিয়ে যাচ্ছিল।
তার পোশাক-পরিচ্ছদও ছিল উন্নত। শিশুটির মা বলল, হে আল্লাহ! আমার ছেলেটিকে এই ব্যক্তির মত যোগ্য করো । শিশুটি দুধপান ছেড়ে দিয়ে লোকটির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল, অতঃপর বলল, হে আল্লাহ! আমাকে এ ব্যক্তির মত করো না?। (রাবী বলেন), আমি যেন এখনও দেখছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুটির দুধ পানের চিত্র তুলে ধরছেন এবং নিজের তর্জনী মুখে দিয়ে চুষছেন।
তিনি (নবী) বলেনঃ লোকেরা একটি বাঁদীকে মারতে মারতে নিয়ে যাচ্ছিল আর বলছিল, তুমি যেনা করেছ এবং চুরি করেছ। মেয়েলোকটি বলছিল, আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই আমার উত্তম অভিভাবক। শিশুটির মা বলল, হে আল্লাহ! তুমি আমার সন্তানকে এ ভ্রষ্টা নারীর মত করো না। শিশুটি দুধপান ছেড়ে দিয়ে মেয়েলোকটির দিকে তাকাল, অতঃপর বলল, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এই নারীর মত বানাও।
এ সময় মা ও শিশুর মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে গেল। মা বলল, একটি সুঠাম ও সুন্দর লোক চলে যাওয়ার সময় আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমার সন্তানকে এরূপ যোগ্য করে দাও। তুমি প্রতিউত্তরে বললে, হে আল্লাহ! আমাকে এর মত করো না। আবার এই ক্রীতদাসীকে লোকেরা মারধর করতে করতে নিয়ে যাচ্ছে এবং বলছে, তুমি যেনা করেছ এবং চুরি করেছ।
আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমার সন্তানকে এরূপ করো না। আর তুমি বললে, হে আল্লাহ! আমাকে এরূপ করো। শিশুটি এবার জবাব দিল, প্রথম ব্যক্তি ছিল স্বৈরাচারী যালিম। সেজন্যই আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমাকে এ ব্যক্তির মত করো না। আর এই মেয়েলোকটিকে তারা বলল, তুমি যেনা করেছ। প্রকৃতপক্ষে সে যেনা করেনি। তারা বলল, তুমি চুরি করেছ; আসলে সে চুরি করেনি। এজন্যই আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমাকে এই মেয়েলোকটির মত কর।