قَالَ اللهُ تَعَالَى : لا تَمُدُنٌ عَيْنَيْكَ الى مَا مَتَّعْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِّنْهُمْ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِلْمُؤْمِنِينَ .
মহান আল্লাহ বলেন :
“তুমি এ দুনিয়ার দ্রব্যসামগ্রির প্রতি দু' চোখ তুলে তাকাবেও না, যা আমরা এদের মধ্যে বিভিন্ন লোককে দিয়ে রেখেছি, আর না এদের অবস্থার জন্য নিজের দিলে কষ্ট অনুভব করবে। তুমি ঈমানদার লোকদের প্রতি তোমার অনুগ্রহের ডানা বিস্তার করে রাখবে।” (সূরা আল হিজর: ৮৮)
وَقَالَ تَعَالَى: وَاصْبِرُ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِيْنَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِيْنَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا
“তুমি তোমার অন্তরকে এমন লোকদের সংস্পর্শে স্থিতিশীল রাখবে যারা নিজেদের প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় সকাল-সন্ধ্যায় তাঁকে ডাকে। আর পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের দিক থেকে কখনও অন্যদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করো না।” (সূরা আল-কার্ফঃ ২৮)
وَقَالَ تَعَالَى : فَأَمَّا الْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرُ . وَأَمَّا السَّائِلَ فَلَا تَنْهَرُ
“অতএব তুমি ইয়াতীমদের প্রতি কঠোর ব্যবহার করো না এবং যাঞ্চাকারীকে ধমক দিও না।” (সূরা আদ দুহাঃ ৯, ১০)
وَقَالَ تَعَالَى : أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ . فَذَلِكَ الَّذِي يَدْعُ الْيَتِيمَ . وَلَا يَحْضُ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ
“তুমি কি তাদের দেখেছ যারা কিয়ামাতের প্রতিফলকে মিথ্যা মনে করে? তারা হল ঐসব লোক, যারা ইয়াতীমকে ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং তারা মিসকীনকে খাবার দিতে উৎসাহ দেয় না।” (সূরা আল মাউনঃ ১-৩)
٢٦٠ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِى وَقَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِتَّةَ نَفَرٍ فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَطْرُه هؤُلاَءِ يَجْتَرِثُونَ عَلَيْنَا وَكُنْتُ أَنَا وَابْنُ مَسْعُودٍ وَرَجُلٌ مِنْ هُدَيْلٍ وَبِلَالٌ وَرَجُلَانِ لَسْتُ أسَمِّيْهِمَا فَوَقَعَ فِي نَفْسٍ رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ يُقَعَ فَحَدَّثَتَ نَفْسَهُ فَانْزَلَ اللهُ تَعَالَى: وَلَا تَطْرُدُ الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ رواه مسلم يريدون وجهه...
২৬০। সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ছয়জন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, এই লোকদেরকে আপনার নিকট থেকে তাড়িয়ে দিন। তাহলে তারা আমাদের উপর বাহাদুরি করতে পারবে না। আমরা (ছ’জন) ছিলাম: আমি, ইবনে মাসউদ, হুযাইল গোত্রের এক ব্যক্তি, বিলাল এবং অন্য দুই ব্যক্তি যাদের নাম আমার মনে নেই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে (এ বিষয়ে) আল্লাহ্র ইচ্ছায় কিছু (কথার) উদয় হল। তাই তিনি মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন। ইতোমধ্যে আল্লাহ তা'আলা ওহী নাযিল করলেন: “যারা তাদের প্রতিপালককে দিন-রাত ডাকতে থাকে এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ব্যস্ত থাকে তাদেরকে তোমার নিকট থেকে দূরে ঠেলে দিও না। কোন কিছুতে তাদের হিসাবের দায়িত্ব তোমার নেই এবং কোন কিছুতে তোমার হিসাবের দায়িত্ব তাদের উপর নেই। এতদসত্ত্বেও যদি তুমি তাদেরকে দূরে সরিয়ে দাও তবে তুমি যালিমদের মধ্যে গণ্য হবে।” (সূরা আল আন'আম: ৫২)
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٦١ - عَنْ أَبِي هُبَيْرَةَ عَائِدِ بْنِ عَمْرِهِ الْمُزَنِي وَهُوَ مِنْ أَهْلِ بَيْعَةِ الرَّضْوَانِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ أَبَا سُفْيَانَ أَتَى عَلَى سَلْمَانَ وَصُهَيْبٍ وَبِلَالٍ فِي نَفَرٍ فَقَالُوا مَا أخَذَتْ سُيُوفُ اللهِ مِنْ عَدُدِ اللهِ مَأخَذَهَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اتَقُولُونَ هذا لِشَيْخ قُرَيْشٍ وَسَيّدِهِمْ؟ فَأَتَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ يَا أبا بكر لَعَلَّكَ أَغْضَبْتَهُمْ لَئِنْ كُنتَ أَغْضَبْتَهُمْ لَقَدْ أَغْضَبْتَ رَبِّكَ فَأَتَاهُمْ فَقَالَ يَا اخْوَتَاهُ أَغْضَبْتُكُمْ؟ قَالُوا لاَ يَغْفِرُ اللهُ لَكَ يَا أَخَى رواه مسلم. قَوْلُهُ مَاخَذَهَا أَى لَمْ تَسْتَوْفِ حَقَّهَا مِنْهُ وَقَوْلُهُ يَا أَخَيَّ رُوِيَ بِفَتْحِ الْهَمْزَةِ وَكَسْرِ الْقَاءِ وَتَخْفِيفِ الْيَاءِ وَرُوِيَ بِضَمِ الْهَمْزَةِ وَفَتح الخاء وَتَشْدِيدِ الْمَاء
২৬১। আবু হুবাইরা আয়ে ইবনে আমর আল-মুযানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বাইআতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী সাহাবী ছিলেন। একদা আবু সুফিয়ান কতিপয় লোকের সাথে সালমান ফারসী (রাঃ), সুহাইর রূমী (রাঃ) ও বিলাল (রাঃ)-র কাছে আসলেন। তারা বলেন, আল্লাহ্ তরবারি আল্লাহ্ দুশমনদের কাছ থেকে প্রাপ্য হক আদায় করেনি? আবু বাক্ (রাঃ) বলেন, তোমরা কুরাইশ শেখ এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে এই কথা বলছ? তিনি (আবু বাক্র) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করলেন।
তিনি বলেনঃ হে আবু বাক্র! তুমি সম্ভবত তাদেরকে অসন্তুষ্ট করেছ। যদি তুমি তাদেরকে (বিলাল, সালমান ও সুহাইবকে) অসন্তুষ্ট করে থাক তবে তুমি তোমার প্রভুকেই অসন্তুষ্ট করলে! তিনি (আবু বাক্র) তাদের কাছে ফিরে এসে বলেন, হে ভাইয়েরা! আমি কি তোমাদেরকে অসন্তুষ্ট করেছি? তারা বলেন, না হে ভাই! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।'
٢٦٢ - عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ فِي الْجَنَّةِ هَكَذَا وَأَشَارَ بِالسَّبَابَةِ وَالْوُسْطَى وَفَرْجَ بَيْنَهُما - رواه البخاري كَافَلُ الْيَتِيمِ الْقَائم بأموره
২৬২। সাহল ইবনে সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি ও ইয়াতীমদের লালন-পালনকারী জান্নাতে এভাবে একত্রিত থাকব। (এই বলে) তিনি নিজের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন এবং দুটোর মাঝখানে ফাঁক করলেন।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٦٣ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَافِلُ الْيَتِيمِ لَهُ وَلِغَيْرِهِ أَنَا وَهُوَ كَهَاتَيْنِ فِي الْجَنَّةِ وَأَشَارَ الراوى وَهُوَ مَالِكُ بْنُ أنس بالسبابة والوسطى - رواه مسلم . قَوْلُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْيَتِيمُ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ مَعْنَاهُ قَرِيْبُهُ أَوِ الْأَجْنَبِيُّ مِنْهُ فَالْقَرِيبُ مثلُ أَنْ تَكْفُلَهُ أُمُّهُ أَوْ جَدهُ أَوْ أَخُوهُ أَوْ غَيْرُهُمْ مِنْ قَرَابَتِهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ .
২৬৩। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়াতীমের লালন-পালনকারী তার নিকটাত্মীয় কিংবা অন্য কেউ হোক, আমি ও তারা জান্নাতে এভাবে পাশাপাশি থাকব। আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হাদীসটি বর্ণনা করার সময় তার নিজের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে ইশারা করে (বিষয়টি বুঝালেন)।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٦٤ - وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ الْمِسْكِينُ الَّذِي ترده النمْرَةُ وَالشَّمْرَتَانِ وَلَا اللَّقْمَةُ والقَمَتَانِ إِنَّمَا المِسْكِينُ الَّذِي يَتَعَفَّفُ متفق عليه وَفِي رِوَايَةٍ فِي الصَّحِيحَيْنِ لَيْسَ المِسْكِينُ الَّذِي يَطُوفُ عَلَى النَّاسِ تَرُدُّهُ اللقْمَةُ واللُّقْمَتَانِ والسَّمْرَةُ والتَّمْرَتَانِ وَلَكِنَّ الْمُسْكِينُ الَّذِي لَا يَجِدُ عَنِّى يُغْنِيهِ وَلَا يُقطنُ بِهِ فَيُتَصَدَّقَ عَلَيْهِ وَلَا يَقُومُ فَيَسْأَلَ النَّاسَ .
২৬৪। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন ব্যক্তি মিসকীন নয় যাকে একটি অথবা দু'টি খেজুর দেয়া হয়, এক লোকমা (গ্রাস) বা দুই লোকমা খাদ্য দেয়া হয় (অর্থাৎ যে খুবই সামান্য পাওয়ার জন্য মানুষের নিকট হাত পাতে)। বস্তুত যে ব্যক্তি দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হয়েও অন্যের কাছে হাত পাতে না সেই হচ্ছে মিসকীন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উল্লেখিত সহীহ হাদীস গ্রন্থদ্বয়ের অপর বর্ণনায় আছেঃ এমন ব্যক্তি মিসকীন নয়, যে এক-দুই মুঠো খাবারের জন্য বা দুই-একটি খেজুরের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় এবং তা দেয়া হলে সে প্রত্যাবর্তন করে। প্রকৃত মিসকীন ঐ ব্যক্তি, যার প্রয়োজন পূরণ করার মত যথেষ্ট সংগতি নেই; অথচ (তার নীরবতার কারণে) তাকে চেনাও যায় না যাতে লোকে তাকে সাহায্য করতে পারে এবং লোকদের নিকট গিয়েও সে হাত পাতে না।
٢٦٥ - وَعَنْهُ عَن النَّبيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ السَّاعِي عَلَى الْأَرْمَلَة وَالْمِسْكِيْنِ كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَحْسَبُهُ قَالَ وَكَالْقَائِمِ الذي لا يَفْتُر وكالصائم الذي لا يُفْطِرُ - متفق عليه
২৬৫। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: বিধবা, বৃদ্ধ ও মিসকীনদের (সাহায্যের) জন্য চেষ্টা-সাধনাকারী আল্লাহ্র পথে জিহাদকারীর মত। (রাবী বলেন), আমার ধারণা, তিনি (নবী) এ কথাও বলেছেনঃ সে অবিরাম নামায পাঠকারী ও অনবরত রোযা রাখা ব্যক্তির মত।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٦٦ - وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيْمَةِ يُمْنَعُهَا مَنْ يَأْتِيْهَا وَيُدْعَى إِلَيْهَا مَنْ يَأْبَاهَا وَمَنْ لَمْ يُجِبِ الدَّعْوَةَ فَقَدْ اللهَ وَرَسُولَهُ- رواه مسلم وفي رواية فِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مِنْ قَوْلِهِ بِئْسَ الطَّعَامُ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُدعى إليها الأغنياء وَيُتْرَكَ الْفُقَرَاء .
২৬৬। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এমন ওয়ালীমা (বিবাহভোজ) নিকৃষ্ট, যে ওয়ালীমায় আগতদেরকে (গরীব) বাধা দেয়া হয় এবং যারা আসতে রাজী নয় (ধনী) তাদেরকে দাওয়াত দেয়া হয়। যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করল না, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করল।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ হাদীস গ্রন্থদ্বয়ে আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে: সবচে' নিকৃষ্ট ওয়ালীমা হচ্ছে সেটি যাতে ধনীদের দাওয়াত করা হয় এবং গরীবদের পরিত্যাগ করা হয়।
٢٦٧ - عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ كَهَاتَيْنِ وَضَمَّ أَصَابِعَهُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَجَاريتين أى بنتين.
২৬৭। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি দু'টি মেয়েকে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করল, সে কিয়ামাতের দিন এরূপ অবস্থায় আসবে যে, আমি ও সে এরকম একত্রিত থাকব। তিনি তাঁর আঙুলগুলো মিলিয়ে দেখালেন।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٦٨ - عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ دَخَلَتْ عَلَى امْرَأَةٌ وَمَعَهَا ابْنَتَانِ لَهَا تَسْأَلُ فَلَمْ تَجِد عندى شَيْئًا غَيْرَ تَمْرَةٍ واحدَة فَاعْطَيْتُهَا أَيَّاهَا فَقَسَمَتْهَا بَيْنَ ابْنَتَيْهَا وَلَمْ تَأكُلَ مِنْهَا ثُمَّ قَامَتْ فَخَرَجَتْ فَدَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْنَا فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ مَنِ ابْتُلِيَ مِنْ هَذِهِ الْبَنَاتِ بِشَيْءٍ فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ كُنْ لَهُ سِتْرًا مِّنَ النَّارِ- متفق عليه.
২৬৮। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে এক মহিলা আসল এবং তার সাথে তার দু'টি মেয়েও ছিল। সে কিছু চাইল কিন্তু আমার কাছে একটি খেজুর ছাড়া আর কিছুই ছিল না। আমি খেজুরটা তাকে দিলাম। সে খেজুরটি তার দুই কন্যার মধ্যে বণ্টন করল, সে নিজে তা থেকে খেল না, অতঃপর উঠে চলে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলে আমি তাঁকে ব্যাপারটা অবহিত করলাম। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তিই এরূপ কন্যা সন্তানদের নিয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে এবং তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করবে, তারা (কিয়ামাতের দিন) তার জন্য জাহান্নামের আগুনের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٦٩ - عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَتْ جَاءَتْنِي مِسْكِينَةٌ تَحْمِلُ ابْنَتَيْنِ لَهَا فَاطْعَمْتُهَا ثَلاثَ تَمَرَاتِ فَاعْطَتْ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا تَمْرَةً وَرَفَعَتْ إِلى فِيهَا تَمْرَةً لِتَأْكُلهَا فَاسْتَطْعَمَتْهَا ابْنَتَاهَا فَشَقَّتِ التَّمَّرَةَ الَّتِي كَانَتْ تُرِيدُ أَنْ تَأْكُلَهَا بَيْنَهُمَا فَأَعْجَبَنِي شَأْنُهَا فَذَكَرْتُ الَّذِي صَنَعَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَوْجَبَ لَهَا بِهَا الْجَنَّةَ أَوْ أَعْتَقَهَا بِهَا مِنَ النَّارِ. رَوَاهُ مُسْلِمٍ
২৬৯। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক দরিদ্র স্ত্রীলোক তার দু'টি কন্যাসহ আমার কাছে আসল। আমি তাদেরকে তিনটি খেজুর খেতে দিলাম। সে তাঁর মেয়ে দুটোকে একটি করে খেজুর দিল এবং একটি খেজুর নিজে খাওয়ার জন্য তাঁর মুখের দিকে তুলল। কিন্তু এটিও তাঁর মেয়েরা খেতে চাইল। যে খেজুরটি সে নিজে খাওয়ার ইচ্ছা করল তাও দু'ভাগ করে তার মেয়ে দু'টিকে দিল। (আয়িশা রাঃ বলেন), ব্যাপারটি আমাকে অবাক করল। সে যা করল আমি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম। তিনি বলেনঃ এর বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন অথবা তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٧٠ - عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ خُوَيْلِدِ بْنِ عَمْرِو الْخَزَاعِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَحَرِّجُ حَقَّ الضَّعِيفَيْنِ الْيَتِيمِ وَالْمَرْأَةِ- حَدِيث حَسَن رَوَاهُ النِّسَائِيُّ بِاسْنَادِ جَسَدِ وَمَعْنَى أَحَرِّجُ الْحِقُ الْحَرَجَ وَهُوَ الْإِثْمُ بِمَنْ ضَيْعَ حَقَّهُمَا وَأَحَذِرُ مِنْ ذلكَ تَحْذيرا بليغاً وَأَزْجُرُ عَنْهُ زَجْراً اكيداً .
২৭০। আবু শুরাইহ্ খুয়াইলিদ ইবনে আমর আল-খ্যাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! দুই দুর্বল অর্থাৎ ইয়াতীম ও নারীদের প্রাপ্য ও অধিকার যে ব্যক্তি নষ্ট করে আমি তার জন্য অন্যায় ও গুনাহ নিৰ্দিষ্ট করে দিলাম।
এটা হাসান হাদীস। ইমাম নাসাঈ উত্তম সনদ সহকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۷۱ - عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِى وَقَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ رَأَى سَعْدٌ أَنْ لَهُ فَضْلاً عَلَى مَنْ دُونَهُ فَقَالَ النَّبيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ تُنْصَرُونَ وَتُرْزَقُونَ إِلا بِضُعَفَائِكُمْ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ هَكَذَا مُرْسَلاً فَإِنْ مُصْعَبَ بْنَ سَعْدٍ تَابِعِي رَوَاهُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرِ الْبَرْقَانِيُّ فِي صَحِيْحِهِ مُتَّصِلا عَنْ مُصْعَب عَنْ أَبِيْهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
২৭১। মুস'আব ইবনে সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'দ (রাঃ) দেখলেন অন্যদের উপর তার একটা শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তোমরা কেবল তোমাদের দুর্বলদের উসীলায়ই সাহায্য ও রিযক পেয়ে থাক।
ইমাম বুখারী মুস'আব ইবনে সা'দ সূত্রে এটি মুরসাল হাদীসরূপে বর্ণনা করেছেন। কেননা তিনি (মুস'আব) তাবিঈ ছিলেন। হাফেজ আবু বাক্ আল-বুরকানী তার সহীহ গ্রন্থে এটিকে মুত্তাসিল হাদীসরূপে বর্ণনা করেছেন অর্থাৎ মুস'আব তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
۲۷۲ - عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عُوَيْمَرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ ابْغُونى فى الضُّعَفَاء فَانَّمَا تُنْصَرُونَ وَتُرُزَقُونَ الله بِضُعَفَائِكُمْ - رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِاسْنَادِ جَيِّد .
২৭২। আবুদ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা আমার সন্তুষ্টি নিঃস্ব-দুর্বলদের মধ্যে অন্বেষণ কর। কেননা তোমরা তাদের উসীলায় সাহায্য ও রিযক পেয়ে থাক।
ইমাম আবু দাউদ উত্তম সনদ সহকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।