#রিয়াদুস_সালেহীন ১ম খণ্ড অনুছেনঃ ৩৪, মেয়েদের সাথে সদ্ব্যবহার করা।

Muhammads words
0

 قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ

মহান আল্লাহ বলেন :

“এবং তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে মিলেমিশে সদ্ভাবে জীবন যাপন কর।”(সূরা আল-নিসা ১৯)


وَقَالَ تَعَالَى: وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاء وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِيلُوا كُلِّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ وَإِنْ تُصْلِحُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا


“স্ত্রীদের মধ্যে পুরোপুরি সুবিচার ও ইনসাফ বজায় রাখা তোমাদের সাধ্যের অতীত। তোমরা অন্তর দিয়ে চাইলেও তা করতে সমর্থ হবে না। অতএব (আল্লাহর আইনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে) একজন স্ত্রীকে একদিকে ঝুলিয়ে রেখে অপরজনের দিকে একেবারে ঝুঁকে পড়বে না। তোমরা যদি নিজেদের কাজকর্ম সঠিকরূপে সম্পন্ন কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, তবে আল্লাহ তো ক্ষমাকারী ও দয়াময়।” (সূরা আল-নিসা ১২৯)।


۲۷۳ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم اِسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْراً فَإِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ لَعِ وَإِنْ أَعْوَجَ مَا فِي الضّلْعِ اعْلاهُ فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيْمُهُ كَسَرْتَهُ وَإِن تَرَكْتُهُ لَمْ يَزَلَ أَعْوَجَ فَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ. متفق عليه وفي رواية فِى الصَّحِيحَيْنِ الْمَرْأَةُ كَالضَّلَعِ إِنْ أَقَمْتَهَا كَسَرْتَهَا وَإِنِ اسْتَمْتَعْتَ بِهَا اسْتَمْتَعْت وَفِيهَا عَوَجٌ. وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِم إِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعِ لَنْ تَسْتَقِيمَ لَكَ عَلَى طَرِيقَةٍ فَإِنِ اسْتَمْتَعْتَ بِهَا اسْتَمْتَعْتَ بِهَا وَفِيْهَا عَوَجٌ وَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيْمُهَا كَسَرْتَهَا وَكَسْرُهَا طلاقها قَوْلُهُ عَوَجٌ هُوَ بِفَتْحِ الْعَيْنِ وَالْوَاوِ


২৭৩। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার কাছ থেকে মেয়েদের সাথে সদ্ব্যবহার করার শিক্ষা গ্রহণ কর। কেননা নারী জাতিকে পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে উপরের হাড়টা সর্বাপেক্ষা বাঁকা। অতএব তুমি যদি তা সোজা করতে যাও তবে ভেংগে ফেলার আশংকা রয়েছে এবং যদি ফেলে রাখ তবে বাঁকা হতেই থাকবে। অতএব তোমরা নারীদের সাথে ভালো ব্যবহার কর।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাদের সহীহ হাদীস গ্রন্থদ্বয়ের অপর বর্ণনায় আছে: মেয়েরা পাঁজরের বাঁকা হাড়ের সমতুল্য। তুমি যদি তা সোজা করতে যাও ভেংগে ফেলবে। অতএব তুমি যদি তার থেকে কাজ আদায় করতে চাও তবে তার এ বাঁকা অবস্থায়ই কাজ আদায় কর। মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে: মহিলাদেরকে পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে কখনও এবং কিছুতেই তোমার জন্য সোজা হবে না। যদি তুমি তার থেকে কাজ আদায় করতে চাও, তবে এ বাঁকা অবস্থায়ই কাজ আদায় কর, আর যদি সোজা করতে যাও ভেংগে ফেলবে। ভাংগার অর্থ হল তাকে তালাক প্রদান।


٢٧٤ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمْعَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ وَذَكَرَ النَّاقَةَ وَالَّذِى عَفَرَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إذ انْبَعَثَ أَشْقَاهَا انْبَعَثَ لَهَا رَجُلٌ عَزِيزٌ عَارِمٌ مَنِيعٌ فِي رَهْطِهِ ثُمَّ ذَكَرَ النِّسَاءَ فَوَعَظَ فِيْهِنَّ فَقَالَ يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ فَيَجْلِدُ اِمْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ فَلَعَلَهُ يُضَاجِعُهَا مِنْ أَخِرِ يَوْمِهِ ثُمَّ وَعَظَهُمْ فِى ضَحِدِهِمْ مِنَ الضَّرْطَةِ وَقَالَ لِمَ يَضْحَكُ أَحَدُكُمْ مِمَّا يَفْعَلُ؟ متفق والْعَارِمُ بِالْعَيْنِ المُمَةِ وَالرَّاءِ هُوَ السَّرِيرُ الْمُفْسِدُ وَقَوْلُهُ انْبَعَثَ أَى قَامَ بِسُرْعَةٍ .


২৭৪। আবদুল্লাহ ইবনে যাম'আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুতবা দিতে শুনলেন। তিনি সেই উদ্গ্রী এবং তার হত্যাকারীর কথা উল্লেখ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “যখন তারা তাদের হতভাগা দুষ্ট লোকটাকে পাঠালো।” অর্থাৎ (সামূদ জাতির) এক বড় সরদার, নিকৃষ্ট দুষ্ট ও সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি স্ফূর্তি ও উন্মত্ততার সাথে (উগ্রীকে হত্যা করার জন্য) দাঁড়িয়ে গেল। এখানে সামূদ জাতির নবী সালিহ আলাইহিস সালামের উষ্ট্রীর দিকে ইংগিত করা হয়েছে। এটি ছিল আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তাঁর জন্য একটি মুজিযা।

আল কুরআনে একে ‘আল্লাহ্র উন্নী’ বলা হয়েছে। তিনি তাঁর জাতিকে পূর্বেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন: যদি এর কোন ক্ষতি সাধন করা হয় তবে কঠিন শাস্তিতে তারা ধ্বংস হবে। তারা যখন এ সতর্কবাণী উপেক্ষা করে উগ্রীটিকে হত্যা করে তখন তাদেরকে একটি প্রচণ্ড ও বিকট শব্দ দ্বারা ধ্বংস করা হয়।

(নবী সাঃ তাঁর বক্তৃতায়) মেয়েদের কথা উল্লেখ করলেন, তিনি তাদের সম্পর্কে উপদেশ দিলেন। তিনি বলেন: তোমাদের কেউ তার স্ত্রীকে মারতে উদ্যত হয় এবং তাকে গোলাম-বাঁদীর ন্যায় মারে। দিনের শেষে সে আবার তার সাথে শোয় (সংগম করে, কত অকৃতজ্ঞ)। অতঃপর তিনি বাতকর্মের কারণে তাদের হাসি সম্পর্কে উপদেশ দিলেন। তিনি বলেন: যে কাজ তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি করে সে কাজের জন্য সে নিজেই কেন হাসবে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।


٢٧٥ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا يَشْرَكَ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةٌ إِنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقًا رَضِيَ مِنْهَا أَخَرَ أَوْ قَالَ غَيْرَهُ - رواه مسلم. وَقَوْلُهُ يَفْرَكْ هُوَ بِفَتْح الْيَاء وَاسْكَانِ الْقَاءِ وَفَتْحُ الرَّاءِ مَعْنَاهُ يُبْغِضُ يُقَالُ فَرَكَتِ الْمَرَاةُ زَوْجَهَا وَفَرَكَهَا زَوْجُهَا بِكَسْرِ الرَّاءِ يَفْرَكُهَا بِفَتْحِهَا أَنْ أَبْغَضَهَا -والله أعلم .


২৭৫। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম পুরুষ যেন কোন মুসলিম মহিলার প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ না করে। কেননা তার কোন একটি দিক তার কাছে খারাপ লাগলেও অন্য একটি দিক তার পছন্দ হবে (অর্থাৎ দোষ থাকলে গুণও আছে) অথবা তিনি (নবী) অনুরূপ কথা বলেছেন।

হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে অধিকতর আল্লাহভীতি ও দায়িত্ব সচেতনতার পরিপ্রেক্ষিতে হাদীস বর্ণনাকারীগণ এ ধরনের বাক্য উচ্চারণ করে থাকেন।


ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।


٢٧٦ - عَنْ عَمْرِو بْنِ الْأَحْوَصِ الْحُسَمِيَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ يَقُولُ بَعْدَ أنْ حَمِدَ اللَّهَ تَعَالَى وَأَثْنَى عَلَيْهِ وذكرَ وَوَعَظَ ثُمَّ قَالَ أَلَا وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا فَإِنَّمَا هُنْ عَوَانٌ عِندَكُم لَيْسَ تَمْلِكُونَ مِنْهُنَّ شَيْئًا غَيْرَ ذلك الا أن يَأْتِينَ بفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ فَإِنْ فَعَلْنَ فَاهْجُرُوهُنَّ في الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً الا إِنْ لَكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ حَقًّا وَلَنِسَائِكُمْ عَلَيْكُمْ حَقًّا فَحَقَّكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لا يُوْطتْنَ فُرُشَكُمْ مَنْ تَكْرَهُونَ وَلَا يَأْذَنْ فِي بُيُوتِكُمْ لَمَنْ تَكْرَهُونَ إِلا وَحَقَّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِى كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثُ سَحِيْحٌ قَوْلُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَوَانَّ أَنْ أَسِيْرَاتٌ جَمْعُ عَانِيَةٍ بِالْعَيْنِ المُهْمَلَةِ وَهِيَ الْأَسِيْرَةُ وَالْعَانِي الْأَسِيرُ شَبِّهَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَرْأَةَ فِي دُخُولِهَا تَحْتَ حُكم الزوج بِالْأَسِيرِ وَالضَّرْبُ المُبَرِحُ هُوَ الشَّاقُ الشَّدِيدُ وَقَوْلُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً أَي لَا تَطْلُبُوا طرِيقًا تَحْتَجُونَ بِهِ عَلَيْهِنَّ وَتُؤْذُونَهُنَّ بِهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ


২৭৬। আমর ইবনুল আহওয়াস আল-জুশামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিদায় হজ্জের খুত্বায় বলতে শুনেছেনঃ তিনি আল্লাহ্র প্রশংসা ও গুণগান করলেন, লোকদেরকে ওয়াজ-নসীহত করলেন এবং বললেন: তোমরা মেয়েদের প্রতি সদ্ব্যবহার কর। কেননা তারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

তোমরা তাদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা লাভ (সহবাস ও সংসারের তত্ত্বাবধান) ছাড়া অন্য কিছুর মালিক নও, কিন্তু হাঁ, যদি তারা প্রকাশ্যে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়। যদি তারা এরূপ করে তবে তোমাদের বিছানা থেকে তাদেরকে পৃথক করে দাও এবং তাদেরকে মারধর কর কিন্তু কঠোরভাবে নয়। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়ে যায়, তবে তাদের (কষ্ট দেয়ার জন্য বিকল্প পথ অনুসন্ধান করো না।

সাবধান! তোমাদের স্ত্রীদের উপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে, তোমাদের উপরও তাদের তেমন অধিকার রয়েছে। তাদের উপর তোমাদের অধিকার হলঃ তারা তোমাদের অপছন্দনীয় ব্যক্তিদের দ্বারা তোমাদের বিছানা কলুষিত করবে না এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ব্যক্তিকে তোমাদের বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি দেবে না। তোমাদের উপর তাদের অধিকার হলঃ তোমরা তাদের খাওয়া-পরার উত্তম ব্যবস্থা করবে।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ। শব্দার্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা :বহুবচনের শব্দ, অর্থ কয়েদ বা বন্দী। তিনি স্ত্রীকে স্বামীর অধীনে থাকার অবস্থাকে বন্দীর অবস্থার সাথে তুলনা করেছেন।

অর্থ : কঠিন প্রহার। অর্থাৎ এমন প বা পন্থা অবলম্বন করো না যাতে তারা কষ্ট ভোগ করবে বা দুর্ভোগ পোহাতে থাকবে ।


۲۷۷ - عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ حَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ مَا حَقٌّ زَوْجَة أَحَدَنَا عَلَيْهِ ؟ قَالَ أنْ تُطْعَمَهَا اذا طعمت وَتَكْسُوهَا إِذا اكْتَسَيْتَ ولا تَضْرِب الْوَجْهَ وَلَا تُقَبِّحُ وَلَا تَهْجُرُ إِلا فِي الْبَيْتِ حَدِيثُ حَسَنٌ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ مَعْنى لا تُقبح لا تَقُل قَبْحك الله


২৭৭। মু’আবিয়া ইবনে হাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি বললাম, হে  আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের কোন ব্যক্তির উপর তাঁর স্ত্রীর কি অধিকার রয়েছে? তিনি বলেনঃ তুমি যখন আহার কর তাকেও আহার করাও, তুমি যখন পরিধান কর, পরিধান করাও, কখনও মুখমণ্ডলে প্রহার করো না, কখনও অশ্লীল ভাষায় গালি দিও না এবং ঘরের মধ্যে ছাড়া তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। 

ঘরের মধ্যে বলতে এখানে বিছানা বুঝানো হয়েছে অর্থাৎ কখনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্দেশে আলাদা বিছানার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

এটি হাসান হাদীস এবং ইমাম আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।


۲۷۸ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم اكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيْمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا وَخِيَارِكُمْ خِيَارِكُمْ لِنِسَائِهِمْ - رَوَاهُ التِرْمِذِيُّ وَقَالَ حَديثُ حَسَنٌ صَحِيحٌ .


২৭৮। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তির চরিত্র ও ব্যবহার সবচেয়ে উত্তম, ঈমানের দিক দিয়ে সে-ই পরিপূর্ণ মুমিন। তোমাদের মধ্যে সেইসব লোক উত্তম যারা তাদের স্ত্রীদের।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।


۲۷۹ - عَنْ إِيَاسِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي ذُبَابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا تَضْرِبُوا إِمَاءَ اللهِ فَجَاءَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَى رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ ذَكرنَ النِّسَاءُ عَلَى أَزْوَاجِهِنَّ فَرَخْصَ فِي ضَرْبِهِنَّ فَأَطافَ بال رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِسَاءٌ كَثيرٌ يَشْكُونَ أَزْوَاجَهُنَّ فَقَالَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ  َأطافَ بأل بَيْتِ مُحَمَّد نِسَاء كَثِيرٌ يَشْكُونَ ازْوَاجَهُنَّ لَيْسَ أولئِكَ بخيَارِكُمْ - رواه ابو داود باشنَادِ صَحِيح . قَوْلُهُ ذَيْرْنَ هُوَ بذال مُعْجَمَةٍ مَفْتُوحَةٍ ثُمَّ هَمْزَةٍ مَكْسُورَةٍ ثُمَّ رَاءِ سَاكِنَةٍ ثُمَّ نُونِ أَى اجْتَرَانَ وَقَوْلُهُ أَطَافَ أَي أَحَاطَ .


২৭৯। ইয়াস ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা আল্লাহ্ বাঁদীদেরকে (স্ত্রীলোকদেরকে) মারপিট করো না। উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলেন, স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের উপর চড়াও হয়েছে (ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে)। অতঃপর তিনি তাদেরকে মারতে অনুমতি দিলেন। ফলে অনেক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার-পরিজনদের কাছে এসে তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তোমাদের অনেক মহিলা এসে মুহাম্মাদের পরিবারের কাছে তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এরা (স্বামীরা) কিছুতেই উত্তম লোক নয়।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদ সহকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।


۲۸۰ - عَنْ عَبْدِ اللَّهُ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِهَا الْمَرْأةُ الصَّالِحَةُ - رواه مسلم .


২৮০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সমগ্র পৃথিবীটাই সম্পদ। আর পৃথিবীর সর্বোত্তম সম্পদ হল সৎকর্মপরায়ণা স্ত্রী।


ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default