#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ ৩৫, স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য।

Muhammads words
0

قَالَ الله تَعَالَى: الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاء بِمَا فَضْلَ اللهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ


মহান আল্লাহ বলেন :

“পুরুষরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল, কারণ আল্লাহ তাদের একের উপর অপরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং আরো এজন্য যে, পুরুষরা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। অতএব সতী নারীরা আনুগত্যপরায়ণা হয়ে থাকে এবং পুরুষদের অনুপস্থিতিতে আল্লাহ্র হিফাযাত ব্যবস্থার অধীনে তাদের অধিকার রক্ষা করে। (সূরা আন-নিসা : ৩৪)

:

وأمَّا الْأَحَادِيْثُ فَمِنْهَا حَدِيثُ عَمْرِو بْنِ الْأَحْوَصِ السَّابِقُ فِي الْبَابِ قَبْلَهُ ۲۸۱ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إذا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إلى فراشه فَلَمُ تَأْتِهِ فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ متفق عليه. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا إِذَا بَانَتِ الْمَرْأَةُ هَاجِرَةً فراش زَوْجِهَا لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ . وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدَعُوَ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهَا فَتَأْبِى عَلَيْهِ إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ سَاخِطًا عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنْهَا


২৮১। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন লোক তার স্ত্রীকে তার বিছানায় ডাকে কিন্তু সে আসে না, ফলে স্বামী তার প্রতি অসন্তুষ্ট অবস্থায় রাত কাটায়, ফেরেশতাগণ তাকে সকাল হওয়া পর্যন্ত অভিশাপ দিতে থাকে।


ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাদের উভয়ের অন্য এক বর্ণনায় আছেঃ কোন স্ত্রীলোক যখন তার স্বামীর বিছানা পরিত্যাগ করে রাত কাটায়, তখন ফেরেশতাগণ সকাল হওয়া পর্যন্ত তাকে অভিশাপ দিতে থাকে। 

অতপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন। কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার বিছানায় ডাকে আর সে তা অস্বীকার করে, এ অবস্থায় তার প্রতি তার স্বামী খুশি না হওয়া পর্যন্ত যিনি আসমানে আছেন তিনি তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন।


۲۸۲ - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَيْضًا أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لا يَحِلُّ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَصُومَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ وَلَا تَأْذَنَ فِي بَيْتِهِ إلا بإذنه متفق عليه وَهَذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ .


২৮২। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ স্বামী বাড়িতে উপস্থিত থাকা অবস্থায় তার অনুমতি ছাড়া কোন স্ত্রীলোকের পক্ষে (নফল) রোযা রাখা হালাল নয়। তার অনুমতি ছাড়া অন্য লোককে তার ঘরে আসার অনুমতি দেয়াও তার জন্য হালাল নয়।


ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মূল পাঠ বুখারী শরীফের।


۲۸۳ - عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كلكم راع وكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالْأَمِيرُ رَاعٍ وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ والْمَرْأَةُ رَعِيَّةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجِهَا وَوَلَدِهِ فَكُلُكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ . متفق عليه .


২৮৩। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকেই রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আমীর বা শাসক একজন রক্ষণাবেক্ষণকারী (তাকেও তার রক্ষণাবেক্ষণের পুংখানুপুংখ হিসাব দিতে হবে)। পুরুষ তার পরিবার-পরিজনের রক্ষণাবেক্ষণকারী, স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের এবং সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।


ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।


٢٨٤ - عَنْ أَبِي عَلَى طَلْقٍ بْنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا دَعَا الرَّجُلُ زَوْجَتَهُ لِحَاجَتِهِ فَلْتَأْتِهِ وَإِنْ كَانَتْ عَلَى التَّنُّورِ. رَوَاهُ الترمذى والنِّسَائِي وَقَالَ التِّرْمِذِى حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .


২৮৪। আবু আলী তাল্‌ল্ফ ইবনে আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: স্বামী যখন তার কোন প্রয়োজনে স্ত্রীকে ডাকে, সে যেন সাথে সাথে তার কাছে চলে আসে; এমনকি চুলার উপর রুটি থাকলেও।

ইমাম তিরমিযী ও ইমাম আন্ নাসাঈ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। 


তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।


٢٨٥ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ كُنتُ أمراً أحَداً أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا - رَوَاهُ لتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَديثُ حَسَنٌ صَحِيحٌ.


২৮৫। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :আমি যদি কোন ব্যক্তিকে অন্য কাউকে সিজদা করতে নির্দেশ দিতাম তবে স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদা করতে।


ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।


٢٨٦ - عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّمَا اِمْرَأَةٍ مَاتَتْ وَزَوْجُهَا عَنْهَا رَاضِ دَخَلَتِ الْجَنَّةَ . رَوَاهُ التَّرْمِدَى وَقَالَ ६..حَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ


২৮৬। উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন স্ত্রীলোক তার প্রতি তার স্বামী সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় মারা গেলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।


ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটা হাসান হাদীস।


۲۸۷ - عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لا تُؤذى امْرَأَةٌ زَوْجَهَا فِي الدُّنْيَا إِلا قَالَتْ زَوْجَتُهُ مِنَ الْحُورِ الْعَيْنِ لَا تُؤْذِيهِ قَاتَلكَ اللهُ فَإِنَّمَا هُوَ عِندَك دَخيل يُوشِكُ أَنْ يُفَارِقَكَ الَّيْنَا - رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ


২৮৭। মু'আয ইবনে জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখনই কোন স্ত্রীলোক তার স্বামীকে দুনিয়ায় কষ্ট দিতে থাকে তখনই (জান্নাতের) আয়তলোচনা হুরদের মধ্যে যে তার স্ত্রী হবে সে বলে, (হে অভাগিনী) তুমি তাকে কষ্ট দিয়ো না। আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন। তিনি তোমার কাছে মেহমান। অচিরেই তিনি তোমাকে ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসবেন।


ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।


۲۸۸ - عَنْ أَسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا تَرَكْتُ بَعْدِى فِتْنَةٌ هِيَ أَضَرٌ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ- متفق عليه


২৮৮। উসামা ইবনে যায়িদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার পরে আমি পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিকতর ক্ষতিকর ফিত্না রেখে যাইনি।


ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default