#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ ৩০, শাফা'আত বা সুপারিশ।

Muhammads words
0

قَالَ اللهُ تَعَالَى : مَنْ يُشْفَعْ شَفَاعَةٌ حَسَنَةٌ يُكُنْ لَهُ نَصِيبٌ مِنْهَا

মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন -:-

“যে ব্যক্তি ভালো কাজের সুপারিশ করবে সে তা থেকে অংশ পাবে। আর যে ব্যক্তি খারাপ কাজের সুপারিশ করবে সেও তা থেকে অংশ পাবে।” (সূরা আন নিসাঃ ৮৫)


عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ الله وَسَلَّمَ إِذَا آتَاهُ طَالِبُ حَاجَةٍ أَقْبَلَ عَلَى جُلَسَانِهِ فَقَالَ اشْفَعُوا تُوْجَرُوا وَيَقْضِىَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ مَا أَحَبِّ متفق عليه وفي روايَةٍ مَا شَاءَ .


২৪৬। আবু মূসা আল আশ'আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কোন অভাবী লোক আসলে তিনি উপস্থিত লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতেনঃ তোমরা সুপারিশ কর, প্রতিদান পাবে। আল্লাহ যা পছন্দ করেন, তা তাঁর নবীর মুখ দিয়ে প্রকাশ করান ৷


ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অপর এক বর্ণনায় ‘যা ইচ্ছা করেন' কথা উল্লেখ আছে।


٢٤٧ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فِي قِصَّةِ بَرِيْرَةَ وَزَوْجِهَا قَالَ قَالَ لَهَا النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ رَاجَعْته ؟ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ تَأْمُرُني ؟ قَالَ إِنَّمَا أَشْفَعُ قَالَتْ لَا حَاجَةَ لِى فِيْهِ - رواه البخاري .


২৪৭। ইবনুল আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বারীরাহ ও তার স্বামীর ঘটনা প্রসংগে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (বারীরাকে) বললেনঃ তুমি যদি তাকে (স্বামীকে) পুনরায় গ্রহণ করতে। বারীরাহ ও তাঁর স্বামী মৃগীস উভয়েই ক্রীতদাস ছিলেন। আয়িশা (রা) বারীরাহকে ক্রয় করে আযাদ করে দেন, কিন্তু তাঁর স্বামী তখনও ক্রীতদাস ছিলেন। ফলে বারীরাহ বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করার অধিকার (Option) লাভ করেন এবং মুগীসকে পরিত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বেচারা মুগীস ছিলেন তার প্রেমে পাগল।


বারীরাহ বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! এটা কি আমার প্রতি আপনার নির্দেশ? তিনি বললেনঃ আমি সুপারিশ করছি, তোমাকে অনুরোধ করছি।  রাসূলের (সাঃ) দু'টি সত্তা। একটি তাঁর নববীসত্তা, অপরটি তাঁর ব্যক্তিসত্তা। নবী হিসাবে তিনি যেসব নির্দেশ দিয়েছেন তা অলংঘনীয়, বাধ্যতামূলক এবং শিরোধার্য। এগুলো মেনে নেয়া বা নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিবেচনার কোন স্থান নেই। রাসূল (সাঃ) যখন মুগীসকে পুনরায় গ্রহণ করার জন্য বারীরাহকে বললেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা তার প্রতি রাসূলের নির্দেশ কি না। কেননা নির্দেশ হলে অবশ্যই তাকে এটা মেনে নিতে হবে।


সমাজের একজন ব্যক্তি হিসাবে তিনি নিজেও মানবীয় অভিজ্ঞতা থেকে যেসব পরামর্শ, প্রস্তাব, অভিপ্রায় ও সুপারিশ ব্যক্ত করেছেন, যার সাথে ওহীর কোন সম্পর্ক নেই, তা বিবেচনা করে গ্রহণ করা বা না করার অধিকার উম্মাতের রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত প্রসংগে মহানবী (সাঃ) বলতেনঃ “আমি তোমাদেরই মত একজন মানুষ।” স্বামীকে পুনরায় গ্রহণ করার জন্য বারীরাহর প্রতি রাসূলের (সাঃ) নির্দেশ ছিল না; ছিল ব্যক্তিগত অনুরোধ, যা বারীরাহ বিবেচনা করেননি।


বারীরাহ বললেন, তাকে (স্বামীকে) আমার প্রয়োজন নেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default