#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ১১, মুজাহাদা (সাধনা)।

Muhammads words
0

قَالَ اللهُ تَعَالَى (وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَانَّ اللهَ لَمَعَ الْمُحْسنين).


মুজাহাদা শব্দের অর্থ সর্বশক্তি নিয়োগ করে চরম মেহনত ও চেষ্টা করা। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন এবং এটাকে বাস্তবে কায়েম ও বিজয়ী করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে দাওয়াত, সংগঠন, প্রশিক্ষণ এবং নিজের, সমাজের ও রাষ্ট্রের সংশোধনের মাধ্যমে আপোষহীন প্রচেষ্টা, সংগ্রাম ও সাধনা করার নাম হচ্ছে মুজাহাদা। আর এই মুজাহাদার মাধ্যমেই মানবজীবনের চরম লক্ষ্য আল্লাহ্র সন্তোষ ও নৈকট্য লাভ সম্ভবপর। (অনুবাদক)


মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন:

(১) “যারা আমার জন্য চেষ্টা-সাধনা করে, তাদেরকে আমি আমার পথ দেখাব। আর আল্লাহ নিশ্চয়ই সৎকর্মশীল লোকদের সাথে রয়েছেন।” (সূরা আল আনকাবূত: ৬৯)

মুজাহাদা শব্দের অর্থ সর্বশক্তি নিয়োগ করে চরম মেহনত ও চেষ্টা করা। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন এবং এটাকে বাস্তবে কায়েম ও বিজয়ী করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে দাওয়াত, সংগঠন, প্রশিক্ষণ এবং নিজের, সমাজের ও রাষ্ট্রের সংশোধনের মাধ্যমে আপোষহীন প্রচেষ্টা, সংগ্রাম ও সাধনা করার নাম হচ্ছে মুজাহাদা। আর এই মুজাহাদার মাধ্যমেই মানবজীবনের চরম লক্ষ্য আল্লাহ্র সন্তোষ ও নৈকট্য লাভ সম্ভবপর। (অনুবাদক)

وَقَالَ تَعَالَى : وَاعْبُدْ رَبِّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ .

(২) “তুমি তোমার রবের ইবাদাত কর সেই (মৃত্যুর) মুহূর্ত পর্যন্ত যা তোমার নিকট সুনিশ্চিতভাবে আসবে।” (সূরা আল হিজর: ৯৯)

وَقَالَ تَعَالَى : واذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتِّلُ إِلَيْهِ تَبْتِيلاً.

(৩) “তুমি তোমার রবের নাম স্মরণ করতে থাক এবং সবার সম্পর্ক ছিন্ন করে একমাত্র তাঁরই দিকে মনোনিবেশ কর।” (সূরা আল মুয্যাম্মিল: ৮)

وَقَالَ تَعَالَى : فَمَنْ يُعْمَلُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ

(৪) “অতএব কোনো ব্যক্তি বিন্দু পরিমাণ ভালো কাজ করলেও তা সে দেখতে পাবে।”

وقَالَ تَعَالَى : وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وأعظم أجراً .

(৫) “তোমরা নিজেদের জন্য যা কিছু ভাল আমল অগ্রিম পাঠাবে, তা আল্লাহ্র কাছে উত্তম ও বিরাট বিনিময়রূপে পাবে।” (সূরা আল মুয্যাম্মিল: ২০)

وَقَالَ تَعَالَى : وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيْمٌ .

(৬) “তোমরা যা কিছু দান কর তা আল্লাহ খুব ভালো করে জানেন।” (সূরা আল বাকারা ২৭৩)

٩٥ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إنَّ اللهَ تَعَالَى قَالَ مَنْ عَادَى لِى وَلِيًا فَقَدْ أذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ وَمَا تَقَرِّبَ إِلَى عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرِّبُ إِلَى بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أحبهُ فَإذا أحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذى يَسْمَعُ بِهِ وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ وَبَدَهُ الَّتِي يَبْطِسُ بِهَا وَرَجُلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا وَإِنْ سَالَنِي اعْطَيْتُهُ وَلَئِنِ اسْتَعَاذَنِي لَأَعْيُدَنَّهُ. رواه البخاري - أذنتُهُ اعْلَمْتُهُ بِأَنِّي مُحَارِبٌ لَهُ اِسْتَعَاذَنِي رُوِىَ بِالنُّونِ وَبِالْبَاءِ.


৯৫। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আমার বন্ধুকে আল্লাহ্ বন্ধু হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ্ প্রতি পূর্ণ অনুগত হয় এবং পরিপূর্ণ তাওয়ার জীবন যাপন করে, আল্লাহ্র হুকুম বিরোধী কোন কাজ করে না, তাঁর হুকুমের বিপরীত কাজে বাধা দেয় এবং তাঁর হুকুমকেই জীবনের একমাত্র নিয়ামক মনে করে। (সম্পাদক) কষ্ট দেয়, আমি তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দিই। আমার বান্দা আমার আরোপিত ফরয কাজের মাধ্যমে যা আমার নিকট প্রিয় এবং নফল কাজের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে। 

এভাবে (এক স্তরে) আমি তাকে ভালোবাসতে থাকি। আর যখন আমি তাকে ভালোবাসি তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলাফেরা করে। (অর্থাৎ ফরয ও নফল কাজের মাধ্যমে বান্দাহ আল্লাহর এতটা নৈকট্য লাভ করে এবং তাকে এত বেশি ভালবাসে যে, তিনি ঐ বান্দাহর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে তাঁর খুশী ও রেজামন্দির পথে পরিচালিত করেন। ফলে আল্লাহর নারাজি বা অসন্তুষ্টিমূলক কোন কাজ তার দ্বারা সংঘটিত হয় না।) যদি সে আমার নিকট কিছু চায়, আমি তাকে দিই এবং যদি আমার নিকট আশ্রয় চায় তাহলে আমি তাকে আশ্রয় দিই। (বুখারী)


٩٦ - عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيْمَا يَرُويْهِ عَنْ ربِّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ إِذَا تَقَرِّبَ الْعَبْدُ إِلَى شِبْرًا تَقَرِّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا وَإِذَا تَقَرَّبَ إِلَى ذراعًا تَقَربْتُ مِنْهُ بَاعًا وَإِذا أَتَانِي يَمْشِى أتَيْتُهُ هَرُولَة - رواه البخاري .

৯৬। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, মহান আল্লাহ বলেন: বান্দা আধ হাত আমার দিকে এগিয়ে এলে, আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই। আর যখন সে আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে দুই হাত এগিয়ে যাই। আর যখন সে আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়িয়ে যাই। (বুখারী) 

এ হাদীসের অর্থ এই যে, বান্দা যত বেশি আল্লাহ্র পছন্দনীয় কাজ করে এবং তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি ও মহব্বত লাভের চেষ্টা করে তার চেয়ে অনেক বেশি আল্লাহ তাকে ভালোবাসার স্তরে নিয়ে এসে তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিজের খুশি ও মর্জি অনুযায়ী পরিচালিত করেন। (অনুবাদক)


:-٩٧ عَنِ ابْنِ عَبَّاس رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِعْمَتَانِ مَغْبُونَ فِيْهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ الصَّحَةُ وَالْفَرَاغُ - رواه البخاري .

৯৭। ইবনুল আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু'টি নি'আমাত (আল্লাহ্ দান) যার ব্যাপারে বহু লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেঃ স্বাস্থ্য ও অবসর সময়। (বুখারী)

(অর্থাৎ মানব জীবনে স্বাস্থ্য ও অবসর সময় আল্লাহ তা'আলার বিরাট নি'আমত ৷ কিন্তু অধিকাংশ লোক প্রবৃত্তির তাড়নায় আমোদ প্রমোদে লিপ্ত হয়ে সময় মত এ নি'আমতকে কাজে লাগায় না। ফলে পরবর্তীতে তাদের আফসোসের সীমা থাকে না। কারণ স্বাস্থ্য সব সময় একরকম থাকে না। যে কোন সময় রোগাক্রান্ত হতে পারে। অনুরূপভাবে অবসরের পর ব্যস্ততা আসতে পারে। তখন মানুষ ইবাদাত-বন্দেগী করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়।


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ حَتَّى تَتَفَطَّرَ قَدَمَاهُ فَقُلْتُ لَهُ لمَ تَصْنَعُ هذا يَا رَسُولَ اللهِ وَقَدْ غَفَرَ اللهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبُكَ وَمَا تَأَخَّرَ؟ قَالَ أَفَلا أُحِبُّ أَنْ أَكُونَ عَبْدًا شَكُوراً ؟ متفق عليه هذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ وَنَحْوَهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْ رِوَايَةِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ

৯৮। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এত বেশি ইবাদাত করতেন যে, তাতে এমনকি তাঁর পা দু'খানা ফুলে ফেটে যেত। আমি তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এরূপ করছেন কেন, আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের সমস্ত গুনাহ তো আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন? তিনি বলেনঃ আমি কি আল্লাহ্র কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়া পছন্দ করব না? (বুখারী, মুসলিম)

হাদীসের মূল শব্দগুলো বুখারীর, বুখারী ও মুসলিমে মুগীরা ইবনে শোবা (রাঃ)-এর সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।


٩٩ - عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذا دَخَلَ الْعَشْرُ أَحْيَا اللَّيْلَ وَايْقَظ أهْلَهُ وَجَدٌ وَشَدَّ الْمِثْزَرَ - متفق عليه . وَالْمُرَادُ الْعَشر الأواخرُ مِنْ شَهْرٍ رَمَضَانَ والمَشْزَرُ الْازَارُ وَهُوَ كِنَابَةٌ عَنْ اعتزال النِّسَاءِ وَقِيْلَ الْمُرَادُ تَشَمِيْرُهُ لِلْعِبَادَةِ يُقَالُ شَدَدَتْ لِهَذَا الْأَمْرِ مِنْزَرِى أَنْ تَشَمِّرْتُ وَتَفَرَّغْتُ لَهُ .

৯৯। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসের শেষ দশক এলে সারা রাত জেগে ইবাদাত করতেন এবং নিজের পরিবারবর্গকেও জাগিয়ে দিতেন। এ সময় তিনি কোমর বেঁধে ইবাদাতে লেগে যেতেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।


١٠٠ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلى اللهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيْفِ وَفِي كُلِّ خَيْرٌ احْرِضْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ وَاسْتَعِنُ بِاللهِ وَلَا تَعْجَ وَإِنْ أَصَابَكَ شَى فَلَا تَقُلْ لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَنَا وكذا ولكن قُلْ قَدْرَ اللهُ وَمَا شَاءَ فَعَلَ فَإِنَّ لَوْ تُفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ- رواه مسلم.

১০০। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: শক্তিশালী মুমিন আল্লাহ্র নিকট দুর্বল মুমিনের চেয়ে বেশি ভালো ও বেশি প্রিয়। আর প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। যা তোমার জন্য উপকারী তার প্রতি লোভ কর এবং আল্লাহ্র কাছে সাহায্য চাও, দুর্বল হয়ো না। যদি তোমার কোন বিপদ আসে তবে এ কথা বলো না, যদি আমি এরূপ করতাম তাহলে ঐরূপ হতো। বরং এ কথা বল যে, আল্লাহ তাকদীরে এটাই রেখেছেন এবং তিনি যা চান তাই করেন। কেননা 'যদি' শব্দটি শয়তানের কাজের দরজা খুলে দেয়। (মুসলিম)


١٠١ - وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حُجِبَتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ وَحُحِبَتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ - متفق عليه وفي روايَةٍ لِمُسْلِمٍ حُقَّتْ بَدَلَ حُجبَتْ وَهُوَ بمَعْنَاهُ أَي بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا هذا الْحَجَابُ فَاذَا فَعَلَهُ دَخَلَهَا .

১০১। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জাহান্নামকে লোভনীয় জিনিস দিয়ে আড়াল করে রাখা হয়েছে এবং জান্নাতকে দুঃখ - খষ্টের, আড়ালে রাকা হয়েছে। 

 এ হাদীসের অর্থ এই যে, লোভ-লালসা ও ভোগবিলাসে যে ব্যক্তি মগ্ন থাকে সে জাহান্নামে যাওয়ার যোগ্য হয়। আর যে ব্যক্তি বিপদ-আপদ ও দুঃখ-কষ্ট স্বীকার করে দীনের উপর কায়েম থাকে সে জান্নাতে যাওয়ার যোগ্য হয়। (অনুবাদক)


۱۰۲ - عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذاتَ لَيْلَة فَافْتَتَحَ الْبَقَرَةَ فَقُلْتُ يَرْكَعُ عِنْدَ الْمَانَة ثُمَّ ، فَقُلْتُ يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى فَقُلْتُ يَرْكَعُ بِهَا ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ افْتَتَحَ اللَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا يَقْرَأُ مُتَرَسَلاً إِذَا مَرَّ بِأْيَةٍ فِيهَا تَسْبِيحٌ سَبْحَ وَإِذا مَرَّ بِسُؤال سَأَلَ وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوذ تَعَودَ ثُمَّ رَكَعَ فَجَعَلَ يَقُولُ سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيمِ فَكَانَ رَكُوعُهُ نَحُوا مِنْ قِيَامِهِ ثُمَّ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبِّنَا لَكَ الْحَمْدُ ثُمَّ قَامَ قِيَامًا طَوِيْلاً قَرِيبًا مِمَّا رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ فَقَالَ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى فَكَانَ سُجُودُهُ قَرِيبًا مِنْ قِيَامِهِ - رواه مسلم

১০২। হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক রাতে নামায পড়েছি। তিনি সূরা আল বাকারা তিলাওয়াত শুরু করলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, তিনি হয়ত এক শত আয়াত পড়ে রুকূ করবেন। কিন্তু তিনি তারপরও পড়তে লাগলেন। ভাবলাম, তিনি হয়ত এ সূরা এক রাকাতেই পড়ে শেষ করবেন। তিনি একাধারে পড়তে থাকলেন। ভাবলাম, তিনি এরপরই রুকূ করবেন। কিন্তু তিনি সূরা আন্ নিসা শুরু করে দিলেন। এটা পড়ে শেষ করে তিনি সূরা আলে ইমরান শুরু করলেন। তিনি ধীরে ধীরে তারতীলের সাথে পড়ছিলেন। যখন এমন কোন আয়াত পড়তেন যাতে আল্লাহ্র তাসবীহ বর্ণনা করা হয়েছে, সেখানে তিনি তাসবীহ পড়তেন। আর যেখানে কোন কিছু চাওয়ার আয়াত পড়তেন সেখানে তিনি আল্লাহ্র নিকট চাইতেন। আবার যেখানে আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত পড়তেন সেখানে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তারপর তিনি রুকূতে গিয়ে বলেন, “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম” (আমার মহান প্রভু পবিত্র)। তাঁর রুকূও কিয়ামের মত দীর্ঘ ছিল। তারপর তিনি “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্” (যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে, তিনি তার প্রশংসা শুনেন) বলেন। তারপর প্রায় রুকূর মত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর সিজদায় গিয়ে বলেন: “সুবহানা রব্বিয়াল আলা” (আমার রব পবিত্র যিনি সর্বোচ্চ)। তাঁর সিজদাও দাঁড়ানোর মত দীর্ঘ ছিল। (মুসলিম)


ى اللهُ عَنْهُ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةَ فَأَطالَ الْقِيَامَ حَتَّى هَمَمْتُ بِأَمْرِ سُوءٍ قِيْلَ وَمَا هَمَمْتَ بِهِ؟ قَالَ هَمَمْتُ أَنْ أَجْلسَ وَادَعَهُ - متفق عليه.

১০৩। ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক রাতে নামায আদায় করেছি। তিনি নামাযে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েছিলেন, এমনকি আমি একটা খারাপ কাজের ইচ্ছা করলাম। ইবনে মাসউদকে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কিরূপ খারাপ কাজের ইচ্ছা করেছিলেন? তিনি বলেন, আমি তাঁকে নামাযে দাঁড়ানোরত রেখে বসে পড়ার ইচ্ছা করেছিলাম। (বুখারী, মুসলিম)


١٠٤ - عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَتْبَعُ الميت ثَلَاثَةِ أَهْلَهُ وَمَالُهُ وَعَمَلَهُ فَيَرْجِعُ إِثْنَانِ وَيَبْقَى وَاحِدٌ يَرْجِعُ أَهْلَهُ وَمَالُهُ وتنهى عَمَلُهُ - متفق عليه

১০৪। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তিনটি জিনিস অনুসরণ করে: তার পরিবার, তার মাল এবং তার আমল। তারপর দু'টি ফিরে আসে, আর একটি থেকে যায়। ফিরে আসে তার পরিবার ও মাল, আর থেকে যায় তার আমল। (বুখারী, মুসলিম)


١٠٥ - عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الجنَّةُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ وَالنَّارُ مِثْلُ ذَلِكَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .

১০৫। ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাত তোমাদের প্রত্যেকের জন্য তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটে, আর জাহান্নামও। (বুখারী)


١٠٦ - عَنْ أَبِى فِرَاسٍ رَبِيعَةَ بْنِ كَعْبِ الْأَسْلَمِيِّ خَادِمِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمِنْ أَهْلِ الصُّفَةِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنتُ أبَيْتُ مَعَ رَسُول الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاتِيهِ بِوَضَوْنِهِ وَحَاجَتِهِ فَقَالَ سَلَنِي فَقُلْتُ أَسَأَلُكَ مرافقتك في الجنّة فَقَالَ اوَ غَيْرَ ذَلكَ؟ قُلْتُ هُوَ ذَاكَ قَالَ فَأَعَنِّي عَلَى نَفْسِكَ بكثرة السجود . رواه مسلم.

১০৬। আবু ফিরাস রবী'আ ইবনে কা'ব আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম এবং আসহাবে সুফ্ফার সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রাত যাপন করতাম এবং তাঁকে উযুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দিতাম। (একদা) তিনি আমাকে বলেন: আমার নিকট (তোমার যা ইচ্ছা) চাও। আমি বললাম, আমি জান্নাতে আপনার সাথে থাকতে চাই। তিনি বলেনঃ এছাড়া আর কিছু? আমি বললাম, ওটাই চাই। তিনি বলেনঃ তাহলে তুমি তোমার নিজের জন্য বেশি বেশি সিজদা (অর্থাৎ নামায) দ্বারা আমাকে সাহায্য কর। (মুসলিম)


١٠٧ - عَن أبي عَبْد الله وَيُقَالُ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ عَلَيْكَ بكثرة السجود فَإِنَّكَ لَنْ تَسْجُدَ الله سَجْدَةُ الأَ رَفَعَكَ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْكَ بهَا خَطيئَةً - رواه مسلم 

১০৭। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত দাস সাওবান (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমার বেশি বেশি সিজদা (অর্থাৎ নামায) করা উচিত। কেননা তুমি আল্লাহ্র জন্য একটা সিজদা করলেই তা দ্বারা আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে একটা উচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং তোমার একটি গুনাহ মাপ করে দেন। (মুসলিম)


۱۰۸ - عَنْ أَبِى صَفْوَانَ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرِ الْأَسْلَمِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ النَّاسِ مَنْ طَالَ عُمُرُهُ وَحَسُنَ عَمَلَهُ - رواه الترمذي وَقَالَ حَديثُ حَسَنٌ .

১০৮। আবু সাফওয়ান আবদুল্লাহ ইবনে বুস্ আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সেই ব্যক্তি উত্তম যে দীর্ঘ জীবন লাভ করেছে এবং উত্তম কাজ করেছে।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।


١٠٩ - عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ غَابَ عَمَى أَنَّسُ بْنُ النَّضْرِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ قِتَالِ بَدْرٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ غَبْتُ عَنْ أَوَّلِ قِتَالٍ قَاتَلْتَ الْمُشْرِكِينَ لَئِنِ اللَّهُ أشْهَدَنِي قِتَالَ الْمُشْرِكِينَ لَيُرِيَنَّ اللهُ مَا اصْنَعُ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ انْكَشَفَ الْمُسْلِمُونَ فَقَالَ اللَّهُمُ اعْتَذِرُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هَؤُلَاءِ يَعْنِي أَصْحَابَهُ وَأَبْرَا إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هولاً ، يَعْنِي الْمُشْرِكِينَ ثُمَّ تَقَدَّمَ فَاسْتَقْبَلَهُ سَعْدُ بْنُ مُعَادٍ فَقَالَ يَا سَعْدُ بْنُ مُعَاذِ الْجَنَّةُ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ إِنِّى أَجِدُ رِيْحَهَا مِنْ دُونِ أُحُدٍ فَقَالَ سَعْدُ فَمَا اسْتَطَعْتُ يَا رَسُولَ اللهِ مَا صَنَعَ قَالَ أَنَسُ فَوَجَدْنَا بِهِ بِضْعًا وَثَمَانِينَ ضَرْبَةٌ بالسيف أو طَعْنَةٌ بِرُمْحٍ أَوْ رَمْيَةٌ بِسَهُم وَوَجَدْنَاهُ قَدْ قُتِلَ وَمَثْلَ بِهِ الْمُشْرِكُونَ فَمَا عَرَفَهُ أَحَدٌ إِلا أَخْتُهُ بِبَنَانِهِ قَالَ أَنَسُ كُنَّا نَرَى أَوْ نَظُنُّ أَنْ هَذِهِ الْآيَةَ نَزَلَتْ فِيْهِ وَفِي أَشْبَاهِهِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ) ... إِلَى آخرها - متفق عليه. قَوْلُهُ لَيُرِينَ اللهُ رُوِيَ بِضَمَ الْمَاءِ وَكَسْرِ الرَّاءِ أَتَى لِيُظْهِرَنَّ اللَّهُ ذَلِكَ لِلنَّاسِ وَرُوِيَ بِفَتْحِهِمَا وَمَعْنَاهُ ظَاهِرُ وَاللهُ أَعْلَمُ

১০৯। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার চাচা আনাস ইবনে না (রাঃ) বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। তাই তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি প্রথম যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলাম যা আপনি মুশরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করেছিলেন। যদি আল্লাহ আমাকে এখন মুশরিকদের সাথে কোন যুদ্ধে হাযির করে দেন তাহলে আমি কি করি তা নিশ্চয়ই আল্লাহ (মানুষকে) দেখিয়ে দেবেন। তারপর উহুদের যুদ্ধের দিন এলে মুসলিমগণ কাফিরদের আক্রমণের সম্মুখীন হলেন (অর্থাৎ বাহ্যত তাদের পরাজয় হল)। 

তখন আনাস ইবনে নাদৃর বললেন, হে আল্লাহ! আমার সাথীরা যা করেছে, আমি সেজন্য তোমার নিকট ওযর পেশ করছি এবং মুশরিকদের কার্যকলাপ থেকে আমার সকল প্রকার সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি। তারপর তিনি অগ্রসর হলে তার সাথে সা'দ ইবনে মু'আযের দেখা হল। তাকে তিনি বলেন, হে সা'দ ইবনে মু'আয! কা'বার রবের কসম, আমি উহুদের পেছন থেকে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাচ্ছি। সা'দ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে যে কি করেছে তা বর্ণনা করতে পারছি না। 

আনাস (রাঃ) বলেন, আমরা তার শরীরে তলোয়ারের অথবা বর্শার অথবা তীরের ৮০টির বেশি আঘাত দেখতে পেয়েছি। আরও দেখলাম, সে শহীদ হয়ে গেছে, আর মুশরিকরা তার শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ কেটে দিয়েছে। তাই আমরা কেউ তাকে চিনতেই পারলাম না। তবে তার বোন তার আঙুলের ডগা দেখে তাকে চিনতে পেরেছে। আনাস বলেন, আমরা ধারণা করতাম যে, তার ও তার মত লোকদের ব্যাপারে এই আয়াত নাযিল হয়েছে: “ঈমানদারদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা আল্লাহ্র নিকট কৃত ওয়াদাকে সত্য প্রমাণ করেছে। তাদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করেছে, আর কেউ অপেক্ষায় আছে।” (বুখারী, মুসলিম)


۱۱۰ - عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عُقْبَةَ بْنِ عَمْرُو الْأَنْصَارِيِّ الْبَدْرِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَما نَزَلَتْ آيَةُ الصَّدَقَة كُنَّا نُحَامِلُ عَلَى ظُهُورِنَا فَجَاءَ رَجُلٌ فَتَصَدَّقَ بِشَيْ كَثِيرٍ فَقَالُوا مُرَاء وَجَاءَ رَجُلٌ أَخَرُ فَتَصَدَّقَ بِصَاعِ فَقَالُوا إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيُّ عَنْ صَاعِ هَذا فَنَزَلَتْ الَّذِينَ يَلْمِزُونَ المُطَوَعِيْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لَا يَجِدُونَ إِلا جُهْدَهُمْ الاية متفق عليه ، ونُحَامِلُ بِضَمِ النُّونِ وَبِالْمَاء الْمُهْمَلَةِ أَى يَحْمِلُ أَحَدُنَا عَلَى ظَهْرِهِ بِالْأَجْرَةِ وَيَتَصَدِّقُ بِهَا .

১১০। আবু মাসউদ উকবা ইবনে আম্র আনসারী বদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সাদাকা সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হল তখন আমরা পিঠে বোঝা বহন করতাম (এ কাজের মজুরী থেকে দান করতাম)। এক লোক এসে বেশি পরিমাণে দান করল। মুনাফিকরা বলল, এ ব্যক্তি রিয়াকার (লোক দেখানো কাজ করে)। 

এরপর আর এক লোক এসে এক সা' পরিমাণ দান করল। মুনাফিকরা বলল, আল্লাহ এই এক সা' পরিমাণ দানের মুখাপেক্ষী নন। তখন এই আয়াত নাযিল হল: “মুমিনদের মধ্যে যারা আন্তরিক সন্তোষ সহকারে দান করে এবং যাদের নিকট শুধু তাই আছে যা তারা নিজেদের অপরিসীম কষ্ট স্বীকার করেই দান করে তাদেরকে যারা বিদ্রূপ করে, তাদের (বিদ্রূপকারীদের) প্রতি আল্লাহ বিদ্রূপ করেন এবং তাদের জন্য কষ্টদায়ক শাস্তি রয়েছে।” (বুখারী, মুসলিম)


۱۱۱ - عَنْ أَبِي ذَرٍ جُنْدَبِ بْنِ جُنَادَةً رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيْمَا يَرُوِيُّ عَنِ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَنَّهُ قَالَ يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلُمَ عَلَى نَفْسِى وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا فَلا تَظالَمُوا يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ ضَالُّ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُهُ فَاسْتَهُدُونِی اَهْدِكُمْ يَا عِبَادَى كُلُّكُمْ جَائِعٌ إِلَّا مَنْ أَطْعَمْتُهُ فَاسْتَطْعِمُونِي أَطْعِمُكُمْ يَا عِبَادِى كُلُّكُمْ عَارِ إِلا مَنْ كَسَوْتُهُ فَاسْتَكْسُونِي أَكْسُكُمْ يَا عِبَادِي إِنَّكُمْ تُخْطِئُونَ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَأَنَا أَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا فَاسْتَغْفِرُونِي أَغْفِرُ لَكُمْ يَا عِبَادِي إِنَّكُمْ لَنْ تَبْلُغُوا ضُرِى فَتَضُرُّونِى وَلَنْ تَبْلُغُوا نَفْعِي فَتَنفَعُونِي يَا عِبَادِي لَوْ أَنْ اَوَلَكُمْ وَأَخِرِكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ كَانُوا عَلَى اتْقَى قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ مِنْكُمْ مَا زَادَ ذلِكَ فِى مُلْكِى شَيْئًا يَا عِبَادِى لَوْ أَنْ أُولُكُم وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُم كَانُوا عَلَى أَفْجَرِ قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ مِنْكُمُ مَا نَقَصَ ذَلِكَ مِنْ مُلْكِى شَيْئًا يَا عِبَادِي لَوْ أنْ أُولُكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنْكُمْ قَامُوا فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ فَسَأَلُونِى فَأَعْطَيْتُ كُلَّ إِنْسَانٍ مَسْأَلَتَهُ مَا نَقَصَ ذَلِكَ مِمَّا عِنْدِي الأَكَمَا يَنْقُصُ المخيط اذا أدْخِلَ الْبَحْرَ يَا عِبَادِى إِنَّمَا هِيَ اعْمَالُكُمْ أَحْصِبُهَا لَكُمْ ثُمَّ أَوَفِّيْكُمْ ايَّاهَا فَمَنْ وَجَدَ خَيْرًا فَلْيَحْمَد اللهَ وَمَنْ وَجَدَ غَيْرَ ذَلكَ فَلَا يَلُوْمَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ - قَالَ سَعِيدُ كَانَ أَبُو إِدْرِيسَ إِذَا حَدَّتَ بِهذا الْحَدِيثِ جَنَا عَلَى رُكْبَتَيْهِ- رواه مسلم وَرَوَيْنَا عَنِ الْإِمَامِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ لَيْسَ لِأَهْلِ الشَّامِ حَدِيْثُ أَشْرَفُ مِنْ هذا الحديث .

১১১। আবু যার জুনদুব ইবনে জুনাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: হে আমার বান্দারা! আমি নিজের উপর যুল্‌মকে হারাম করে রেখেছি এবং তোমাদের জন্যও তা হারাম করেছি। কাজেই তোমরা পরস্পর যুলম করো না।

হে আমার বান্দারা! আমি যাকে হিদায়াত দিয়েছি সে ছাড়া তোমাদের প্রত্যেকেই পথভ্রষ্ট। কাজেই তোমরা আমার কাছে হিদায়াত চাও, আমি তোমাদেরকে হিদায়াত দেব।

হে আমার বান্দারা! আমি যাকে খাদ্য দিয়েছি সে ছাড়া তোমাদের প্রত্যেকেই ক্ষুধার্ত। কাজেই তোমরা আমার কাছে খাদ্য চাও, আমি তোমাদেরকে খাদ্য দেব। হে আমার বান্দারা! আমি যাকে বস্ত্র দিয়েছি সে ছাড়া তোমাদের প্রত্যেকেই বিবস্ত্র। কাজেই তোমরা আমার কাছে বস্ত্র চাও, আমি তোমাদেরকে বস্ত্র দেব।

হে আমার বান্দারা! তোমরা রাত-দিন ভুল করে থাক, আর আমি সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিই। কাজেই তোমরা আমার কাছে গুনাহ মাফ চাও, আমি তোমাদেরকে মাফ করে দেব।

হে আমার বান্দারা। তোমরা আমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আমার কোন উপকারও করতে পারবে না। হে আমার বান্দারা! যদি তোমাদের পূর্বের ও পরের সমস্ত জিন ও মানুষ তোমাদের মধ্যকার সবচেয়ে মুত্তাকী লোকের দিলের মত হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্বের কিছুই শ্রীবৃদ্ধি করবে না।

হে আমার বান্দারা। যদি তোমাদের পূর্বের ও পরের সমস্ত জিন ও মানুষ তোমাদের মধ্যকার সবচেয়ে খারাপ মানুষের দিলের মত দিলসম্পন্ন হয়ে যায়, তবুও তাতে আমার রাজত্বের এতটুকু মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে না। হে আমার বান্দারা! যদি তোমাদের পূর্বের ও পরের সমস্ত জিন ও মানুষ এক ময়দানে দাঁড়িয়ে একত্রে আমার কাছে চায় এবং আমি তাদের প্রত্যেককে তার চাহিদা পূরণ করে দিই, তাহলে তাতে আমার কাছে যে ভাণ্ডার রয়েছে তার অতটুকু কমে যায় যতটুকু সমুদ্রে একটি সূঁচ ফেললে তার পানি কমে যায় (অর্থাৎ সমুদ্রের মধ্যে একটি সূঁচ ফেলে দিলে যেমন তাতে সমুদ্রের পানির কিছুই কমে না, তেমনি আল্লাহ্র অসীম ভাণ্ডার থেকে প্রত্যেকের চাহিদা পূরণ করে দিলেও তার কিছুমাত্র কমে না)।

হে আমার বান্দারা! আমি তোমাদের নেক আমলকে তোমাদের জন্য জমা করে রাখছি, তারপর আমি তোমাদেরকে তার পূর্ণ বিনিময় দেব। কাজেই যে ব্যক্তি কোন কল্যাণ পায়, সে যেন আল্লাহ্র প্রশংসা করে। আর যে ব্যক্তি অন্য কিছু পায়, সে যেন নিজেকেই তিরস্কার করে।

সাঈদ (রঃ) বলেন, আবু ইদরীস যখন এই হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন হাঁটু ভাঁজ করে পড়ে যেতেন। ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) বলেনঃ সিরিয়াবাসীদের কাছে এর চাইতে বেশি মর্যাদাপূর্ণ আর কোন হাদীস নেই।

#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ১১, মুজাহাদা (সাধনা)।
#মুহাম্মদের_বাণী #ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default