#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ১৩, উত্তম কাজের বিবিধ পন্থা৷

Muhammads words
0

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللهَ بهِ عَلِيمٌ .


উত্তম কাজ বহু প্রকার এবং অনেক ব্যাপক। কতকগুলো বিশেষ ধর্মীয় কাজকেই কেবল উত্তম ও সৎ কাজ বলা হয় না। আল কুরআন ও হাদীসে আমলে সালেহ্ ও খায়ের (সৎ কাজ)-এর গুরুত্ব ঈমানের মতই। মূল ঈমানের সাথে সামঞ্জস্য রাখে এবং তার দাবি পূরণ করে এমন যে কোন কাজকেই আমলে সালেহ, উত্তম কাজ বলা হয়েছে। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমষ্টিগত জীবনের সর্বস্তরের এরূপ ছোট-বড় কল্যাণকর কাজকেই দীনী কাজ বলা হয়। 

সমাজকল্যাণমূলক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক ইত্যাদি সব রকমের কাজই ইসলামের অনুশাসন অনুযায়ী হলে তা আমলে সালেহ, উত্তম ও দীনী কাজ হিসেবে পরিগণিত হয়। আর এসব কাজের মাধ্যমেই প্রকৃত ঈমানের পরিচয় ও প্রমাণ পাওয়া যায়। (অনুবাদক)


মহান আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

(১) “তোমরা যে কোন উত্তম কাজ কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণভাবে অবগত।” (সূরা আল বাকারা: ২১৫)

وَقَالَ تَعَالَى : وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يُعْلَمُهُ اللهُ

(২) “তোমরা যে কোন উত্তম কাজ কর তা আল্লাহ জানেন।” (সূরা আল বাকারা: ১৯৭)

وَقَالَ تَعَالَى : فَمَنْ يُعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ

(৩) “কোন ব্যক্তি বিন্দু পরিমাণ আমলে সালেহ করলেও তা সে দেখতে পাবে।” (সূরা আয্ যিলযাল: ৭)

وَقَالَ تَعَالَى : مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلَنَفْسه

(৪) “যে ব্যক্তি আমলে সালেহ করে তা তার নিজের জন্যই।”(সূরা আল জাসিয়াঃ ১৫)


والْآيَاتُ فِي الْبَابِ كَثِيرَةً وَأَمَّا الْأَحَادِيثُ فَكَثِيرَةً جِداً وَهِيَ غَيْرُ مُنْحَصِرَةٍ فَتَذْكُرُ طَرَفًا منها :

۱۱۷ - عَنْ أبِي ذَرٍ جُنْدَبِ بْنِ جُنَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ الله أَيُّ الْأَعْمَال أَفْضَلُ؟ قَالَ الْإِيْمَانَ باللهِ وَالْجِهَادُ فِي سَبِيْلِهِ قُلْتُ أَيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ؟ قَالَ أَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلَهَا وَأَكْثَرُهَا ثَمَنًا قُلْتُ فَانْ لَمْ أَفْعَلُ قَالَ تُعِينُ صَانِعًا أَوْ تَصْنَعُ لِأَخْرَقَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِن ضَعُفَتُ عَنْ بَعْضِ الْعَمَلِ؟ قَالَ تَكْفُ شَرَك عَن النَّاسِ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ مِنْكَ عَلَى نَفْسِكَ - متفق عليه . الصانع بالصَّادِ المُهْمَلَةِ هذا هُوَ الْمَشْهُورُ وَرُوِيَ ضَائِعًا بِالْمُعْجَمَةِ أَنْ ذَا ضَبَاعِ مِنْ فَقْرِ أَوْ عِبَالٍ وَنَحْوِ ذَلِكَ وَالْأَخْرَقُ الَّذِي لَا يُتْقِنُ مَا يُحَاوِلُ فَعْلَهُ


১১৭। আবু যার জুনদুব ইবনে জুনাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন কাজটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বলেন: আল্লাহ্র প্রতি ঈমান এবং তাঁর পথে জিহাদ। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন্ গোলাম আযাদ করা উত্তম? তিনি বলেনঃ যে গোলাম তার মালিকের নিকট বেশি প্রিয় এবং যার মূল্য বেশি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি যদি (দারিদ্র্যের কারণে) এ কাজ না করতে পারি? তিনি বলেন: কোন কারিগরকে সাহায্য করবে অথবা এমন কোন লোককে কাজ শিখিয়ে দেবে যে জানে না। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি মনে করেন আমি যদি এই কাজও না করতে পারি? তিনি বলেন: মানুষের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাক। তা তোমার পক্ষ থেকে তোমার জন্যই সাদাকা। (বুখারী, মুসলিম)


۱۱۸ - عَنْ أَبِي ذَرٍ أَيْضًا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلامَى مِنْ أحَدِكُمْ صَدَقَةٌ فَكُلُّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ

تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَكبِيرَةٍ صَدَقَةٌ وَامْرَ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ وَنَهى عَنِ الْمُنْكَر صَدَقَةٌ وَيُجْزى من ذلكَ رَكْعَتَان يَرْكَعُهُمَا مِنَ الضُّحى - رواه مسلم. السلام بِضَمِّ السِّينِ الْمُهْمَلَة وتخفيف اللام وفتح الميم الْمَفْصِلُ.


১১৮। আবু যার জুনদুব ইবনে জুনাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তোমাদের যে কোন লোকেরই শরীরের প্রতিটি সংযোগস্থলের উপর সাদাকা (ওয়াজিব) হয়। সুবহানাল্লাহ্, আলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার- এসবের প্রতিটি এক একটি সাদাকা। সৎ কাজের হুকুম দেয়া এবং অসৎ কাজে নিষেধ করাও সাদাকা। আর এসব চাশত্-এর (দুপুরের পূর্বেকার) দুই রাক'আত নামায পড়লে পূরণ হয়ে যায়। (মুসলিম)


١١٩ - وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُرِضَتْ عَلَى أَعْمَالُ أُمَّتِي حَسَنُهَا وَسَيِّنُهَا فَوَجَدْتُ فِي مَحَاسِنِ أَعْمَالِهَا الْأَذَى يُمَاطُ عَنِ الطَّرِيقِ وَوَجَدْتُ فِي مَسَاوِي أَعْمَالِهَا النُّخَاعَةَ تَكُونُ فِي الْمَسْجِدِ لا تُدْفَنُ - رواه مسلم .


১১৯। আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার নিকট আমার উম্মাতের ভালো ও মন্দ কাজ পেশ করা হয়েছে। তাতে আমি পথ থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেয়া ভালো কাজের অন্তর্ভুক্ত দেখলাম এবং মসজিদে পতিত থুথু মাটিতে পুঁতে না ফেলা মন্দ কাজের অন্তর্ভুক্ত পেলাম। (মুসলিম)


۱۲۰ - وَعَنْهُ أَنْ نَاسًا قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ ذَهَبَ أَهْلُ الدُّتُورِ بِالْأُجُورِ يُصَلُّونَ كَمَا تُصَلِى وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَيَتَصَدِّقُونَ بِفُضُولِ أَمْوَالِهِمْ قَالَ أَوَلَيْسَ قَدْ جَعَلَ اللهُ لَكُمْ مَا تَصَدَّقُونَ بِهِ إِنْ بِكُلِّ تَسْبِيحَة صَدَقَةً وَكُلِّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةً وَكُل تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةً وَكُلِّ تَهْلِيلَة صَدَقَةً وَآمُرُ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ وَنَهى عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةً قَالُوْا يَا رَسُولَ اللَّهِ آيَاتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُوْنَ لَهُ فِيهَا أَجْرُ؟ قَالَ أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرَامَ أَكَانَ عَلَيْهِ وِزْرُ؟ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِي الْحَلالِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ- رواه مسلم. الدتُورُ بِالنَّاءِ الْمُثَلَكَةِ الْأَمْوَالُ واحدها دثر


১২০। আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। কতিপয় লোক বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ধনীরা তো সব সাওয়াব নিয়ে গেল। আমরা যেমন নামায পড়ি তারাও তেমনি নামায পড়ে। আমরা যেমন রোযা রাখি তারাও তেমনি রোযা রাখে। (কিন্তু) তারা তাদের উদ্বৃত্ত মাল থেকে দান করে (যা আমরা করতে পারি না)।

তিনি বলেন: আল্লাহ কি তোমাদের জন্য এমন ব্যবস্থা করেননি যার মাধ্যমে তোমরা দান করতে পার? (জেনে রাখ) প্রতিবার সুবহানাল্লাহ্ বলা সাদাকা (দান), আল্লাহু আকবার বলা সাদাকা, আলহামদু লিল্লাহ্ বলা সাদাকা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সাদাকা, সৎ কাজের হুকুম করা সাদাকা, অসৎ কাজ করতে নিষেধ করা সাদাকা এবং তোমাদের স্ত্রীর সাথে মিলনও সাদাকা।

সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কেউ তার যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করলে তাতেও সাওয়াব হয়? তিনি বলেন: আচ্ছা বলত, যদি কেউ হারাম উপায়ে যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে তবে তার গুনাহ হবে কি না? এভাবে হালাল পন্থায় এ কাজ করলে তার সাওয়াব হবে। (মুসলিম)


۱۲۱ - وَعَنْهُ قَالَ قَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَحْقِرَنٌ مِنَ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا وَلَوْ أَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهِ طليق - رواه مسلم .


১২১। আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন সৎ কাজকে তুচ্ছ মনে করো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করার কাজ হয়। (মুসলিম)


۱۲۲ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّ سُلامَى مِنَ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ كُلِّ يَوْمٍ تَطْلُعُ فِيْهِ الشَّمْسُ تَعْدِلُ بَيْنَ الْاِثْنَيْنِ صَدَقَةٌ وَتُعِينُ الرّجُلَ فِي دَابَتِهِ فَيَحْمِلُهُ عَلَيْهَا أوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةً والْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ وَبِكُلِّ خُطْوَةٍ تَمْشِيهَا إِلَى الصَّلَاةِ صَدَقَةٌ وَيُمِيطُ الْأَذَى عن الطريق صَدَقَةٌ متفق عليه.

وَرَوَاهُ مُسْلِمُ أَيْضًا مِنْ رِوَايَةِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ خُلِقَ كُلَّ إِنْسَانِ مِنْ بَنِي أَدَمَ عَلَى سَيِّينَ وَثَلاثَ مِائَةٍ مَفْصَلٍ فَمَنْ كَبُرَ اللهَ وَحَمدَ اللهَ وَهَلَ اللهَ وَسَبِّحَ الله وَاسْتَغْفَرَ اللَّهَ وَعَزَلَ حَجَرًا عَنْ طرِيقِ النَّاسِ أَوْ شَوْكَةً أَوْ عَظُما عَنْ طَرِيقِ النَّاسِ أَوْ أَمَرَ بِمَعْرُوفِ أَوْ نَهَى عَنْ مُنْكَر عَدَدَ السَّيِّينَ وَالثَّلاث مَائَةٍ فَإِنَّهُ يَمْشِي يَوْمَئِذٍ وَقَدْ زَحْزَحَ نَفْسَهُ عَنِ النَّارِ.


১২২। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূর্যোদয় হয় এমন প্রতিটি দিন মানুষের শরীরের প্রতিটি সংযোগস্থলের জন্য সাদাকা ওয়াজিব হয়। তুমি দু'জনের মধ্যে যে সুবিচার কর তা সাদাকা । তুমি মানুষকে তার বাহনে তুলে দিয়ে অথবা তার উপর তার আসবাবপত্র উঠিয়ে দিয়ে যে সাহায্য কর তাও সাদাকা। ভালো কথা বলাও সাদাকা। নামাযের দিকে যাওয়ার সময় তোমার প্রতিটি পদক্ষেপ সাদাকা। রাস্তা থেকে তুমি যে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেল তাও সাদাকা। (বুখারী, মুসলিম)

ইমাম মুসলিম এই একই হাদীস আয়িশা (রাঃ)-র সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি আদম সন্তানকে তিন শত ষাটটি গ্রন্থির সমন্বয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ্র মহত্ব বর্ণনা করে, তাঁর প্রশংসা করে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে, সুবহানাল্লাহ বলে, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, লোকদের যাতায়াতের পথ থেকে পাথর অথবা কাঁটা অথবা হাড় সরিয়ে দেয় অথবা সৎ কাজের আদেশ করে অথবা খারাপ কাজ করতে নিষেধ করে- এসব কিছু সংখ্যায় তিন শত ষাট হয়ে যায়। আর এ লোকটির সারাটা দিন এভাবে কাটে যে, সে নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে রাখল।


۱۲۳ - وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ أَوْ راح أعَدَّ اللهُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ نُزُلاً كُلَّمَا غَداً أو راح متفق عليه. النزلُ الْقُوتُ والرِّزْقُ وَمَا يُهَيًا للضيف


১২৩। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সকালে কিংবা সন্ধ্যায় মসজিদে আসে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে প্রতি সকাল ও সন্ধ্যায় মেহমানদারির ব্যবস্থা করেন। (বুখারী, মুসলিম)


١٢٤ - وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا نِسَاءَ الْمُسْلِمَاتِ لا تَحْقِرَنَّ جَارَةً لِجَارَتِهَا وَلَوْ فِرْسِنَ شَاةٍ - متفق عليه قَالَ الْجَوْهَرِئُ الْفِرْسِنُ مِنَ الْبَعِيرِ كَالْخَافِرِ مِنَ الدَّابَّةِ قَالَ وَرَبِّمَا اسْتَعِيرَ فِي الشَّاةِ


১২৪। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে মুসলিম নারীগণ! কোন মহিলা যেন তার প্রতিবেশী মহিলাকে ছাগলের খুর হলেও তা দিতে অবজ্ঞা না করে (অর্থাৎ দানের পরিমাণ নগণ্য হলেও তা দিতে বা নিতে সংকোচবোধ করা উচিত নয়)। (বুখারী, মুসলিম)


١٢٥ - وَعَنْهُ عَن النَّبيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْأَيْمَانُ بِضْعُ وَسَبْعُونَ أَوْ بضْعُ وستونَ شُعْبَةٌ فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لا اله الا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطريق وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيْمَانِ متفق عليه البِضْعُ مِنْ ثَلاثَةٍ إِلى تِسْعَةٍ بِكَسْرِ الْبَاءِ وَقَدْ تُفْتَحُ وَالشُّعْبَةُ القِطْعَةُ.


১২৫। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈমানের সত্তরের কিছু বেশি অথবা ষাটের কিছু বেশি শাখা আছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হচ্ছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা, আর সাধারণ শাখা হচ্ছে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলে। লজ্জা ও ঈমানের একটি শাখা।( বুখারি ও মুসলিম)


١٢٦ - وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بَيْنَمَا رَجُلُ يُمْشي بطريق اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْعَطَسُ فَوَجَدَ بِتْراً فَنَزَلَ فِيْهَا فَشَربَ ثُمَّ خَرَجَ فَاذَا كَلْبٌ يُلْهَتْ يَأْكُلُ القرى مِنَ الْعَطش فَقَالَ الرَّجُلُ لَقَدْ بَلَغَ هذا الْكَلْبَ مِنَ الْعَطَشِ مِثْلُ الَّذِي كَانَ قَدْ بَلَغَ مِنِّي فَنَزَلَ الْبِشْرَ فَمَلَا خُفْهُ مَاءً ثُمَّ أَمْسَكَهُ بِفِيْهِ حَتَّى رَقِيَ فَسَقَى الْكَلْبَ فَشَكَرَ اللهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ اِنْ لَنَا فِي الْبَهَائِمِ أَجْرًا ؟ فَقَالَ فِي كُلِّ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرُ - متفق عليه. وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ فَأَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا بَيْنَمَا كَلْبٌ يُطِيفُ بِرَكِيَّةٍ قَدْ كَادَ يَقْتُلُهُ الْعَطَسُ إِذْ رَاتْهُ بَغِيُّ مِنْ بَغَايَا بَنِي إِسْرَائِيلَ فَنَزَعَتْ مُوْقَهَا فَاسْتَقَتْ لَهُ بِهِ فَسَقَتْهُ فَغْفَرَ لهَا به . الْمُوْقُ الْخُفُ وَيُطيفُ يَدُورُ حَولَ رَكِيَّةٍ وَهِيَ الْبَشِّرُ .


১২৬। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক ব্যক্তি একটি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। তার খুব পিপাসা পেল। সে একটি কূয়া দেখতে পেয়ে তাতে নেমে পানি পান করে বেরিয়ে এসে দেখল, একটি কুকুর পিপাসায় কাতর হয়ে জিহ্বা বের করছে এবং কাদা চাটছে। লোকটি ভাবল, আমি যেমন পিপাসার্ত হয়েছিলাম তেমনি এ কুকুরটি পিপাসার্ত। তাই সে পুনরায় কূয়াতে নেমে তার মোজায় পানি ভরে নিজের মুখ দিয়ে ধরে কূয়া থেকে উঠে এল, তারপর কুকুরটিকে পানি পান করাল। এতে আল্লাহ তার প্রতি রহম করলেন এবং তার গুনাহ মাফ করে দিলেন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পশুদের উপকার করলেও কি আমাদের সাওয়াব হবে? তিনি বলেন: প্রতিটি প্রাণীর ব্যাপারেই সাওয়াব আছে। (বুখারী, মুসলিম)

বুখারীর অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: আল্লাহ তার প্রতি রহম করলেন, তাকে ক্ষমা করলেন এবং তাকে জান্নাতে স্থান দিলেন। আর বুখারী ও মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছেঃ একদা একটি কুকুর চারদিকে ঘুরছিল। কুকুরটি পিপাসায় মরে যাবার উপক্রম হয়েছিল। বনী ইসরাঈলের জনৈকা বেশ্যা নারী তাকে দেখতে পেয়ে নিজের মোজা খুলে কূয়া থেকে পানি উঠিয়ে তাকে পান করায় এবং এজন্য তাকে ক্ষমা করা হয়।


۱۲۷ - وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَجُلاً يَتَقَلَبُ فِي الجنَّةِ فِي شَجَرَةٍ قَطَعَهَا مِنْ ظَهْرِ الطَّرِيقِ كَانَتْ تُؤْذِي الْمُسْلِمِينَ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي رِوَايَةٍ مَرَّ رَجُلٌ بِغُصْنٍ شَجَرَةٍ عَلَى ظَهْرِ طَرِيق فَقَالَ وَاللَّهِ لَانْحِيَنَّ هَذَا عَنِ الْمُسْلِمِينَ لا يُؤْذِيهِمْ فَادْخِلَ الْجَنَّةَ . وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا بَيْنَمَا رَجُلُ يَمْشِي بِطَرِيق وَجَدَ غُصْنَ شَوْكَ عَلَى الطريق فَأَخَّرَهُ فَشَكَرَ اللهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ .


১২৭। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি (স্বপ্নে বা মি'রাজে গিয়ে) এক ব্যক্তিকে পথের উপর থেকে একটি গাছ কেটে ফেলার কারণে জান্নাতে চলাফেরা করতে দেখেছি। গাছটি (যাতায়াতের পথে) মুসলিমদেরকে কষ্ট দিত। ইমাম মুসলিম এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

মুসলিমের অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছেঃ এক ব্যক্তি একটি গাছের ডালের পাশ দিয়ে গেল। ডালটি ছিল পথের মাঝখানে। সে বলল, আল্লাহ্র শপথ! আমি একে মুসলিমদের পথের উপর থেকে দূর করে দেব যাতে এটা তাদের কষ্ট দিতে না পারে। এজন্য তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়৷

বুখারী ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে: একটি লোক রাস্তার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কাঁটা গাছের ডাল পথের উপর থেকে সরিয়ে দিল। ফলে আল্লাহ তার উপর রহম করলেন এবং তাকে ক্ষমা করলেন।


۱۲۸ - وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَوَضَّأَ فَاحْسَنَ الْوَضُوءَ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَاسْتَمَعَ وَانْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ وَزِيَادَةٌ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ وَمَنْ مَسَ الْحَصَا فَقَدْ لَغَا- رواه مسلم .


১২৮। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি খুব ভালোভাবে উযু করে তারপর মসজিদে এসে চুপ থেকে খুতবা শুনে, তার এক জুমু'আ থেকে পরবর্তী জুমু'আ পর্যন্ত এবং তারপরের তিন দিনের গুনাহও মাফ করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি (খুতবার সময়) পাথরের টুকরা নাড়াচাড়া করে সে অন্যায় কাজ করে। (মুসলিম)


۱۲۹ - وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا تَوَضًا الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ أَوِ الْمُؤْمِنُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ وقَطْرِ الْمَاءِ فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ كَانَ بَطْشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الماء أو مع أخرِ قَطْرِ الْمَاء فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَتَهَا رِجَلاهُ مَعَ الْمَاء أَوْ مَع آخر قطر الْمَاء حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيَّا مِنَ الذُّنُوبِ - رواه مسلم. أَخِرِ قَطْرِ


১২৯। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: মুসলিম বা মুমিন বান্দা উযু করতে গিয়ে যখন তার চেহারা ধুয়ে ফেলে, তখন পানির সাথে অথবা পানির শেষ ফোঁটার সাথে তার চেহারা থেকে এমন প্রতিটি গুনাহ ঝরে যায় যা সে তার দুই চোখের দৃষ্টির দ্বারা করেছে। 

তারপর যখন সে তার দুই হাত ধুয়ে ফেলে, তখন পানির সাথে অথবা পানির শেষ ফোঁটার সাথে তার দুই হাত থেকে এমন প্রতিটি গুনাহ ঝরে যায় যা সে তার দুই হাত দিয়ে করেছে। তারপর যখন সে তার দুই পা ধুয়ে ফেলে, তখন পানির সাথে অথবা পানির শেষ ফোঁটার সাথে তার দুই পায়ের এমন প্রতিটি গুনাহ ঝরে যায় যা সে তার দুই পা দ্বারা করেছে। এমনকি সে সমস্ত (সগীরা) গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে যায়। (মুসলিম)


۱۳ - وَعَنْهُ عَنْ رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ والجمعة إِلَى الْجُمُعَةِ وَرَمَضَانُ إِلى رَمَضَانَ مُكَفِّرَاتٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتَنِبَتِ الْكَبَائِرُ- رواه مسلم .


১৩০। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: পাঁচ ওয়াক্তের নামায, এক জুমু'আ থেকে আর এক জুমু'আ এবং এক রমযান থেকে আর এক রমযান পযন্ত মধ্যবর্তী দিনগুলোর ছোট ছোট গুনাহের কাফ্ফারা হয়, যদি কবীরা গুনাহসমূহ পরিহার করা হয়। (মুসলিম)


۱۳۱ - وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلا ادْلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرْجَاتِ ؟ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَكَثرَةُ الخُطا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظارُ الصَّلاةِ بَعْدَ الصَّلاةِ فَذلكم الرباط - رواه مسلم .

·

১৩১। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদেরকে সেই কাজ বলে দেব না যা দ্বারা আল্লাহ (মানুষের) গুনাহসমূহ মুছে দেন এবং (তার) মর্যাদা বৃদ্ধি করেন? সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অবশ্যই বলুন। 

তিনি বলেন: কষ্ট সত্ত্বেও পূর্ণভাবে উযু করা, মসজিদসমূহের দিকে বেশি বেশি হেঁটে যাওয়া এবং এক নামাযের পর পরবর্তী নামাযের অপেক্ষায় থাকা৷ আর এটাই তোমাদের রিবাত বা জিহাদ।  (মুসলিম) 

পবিত্রতা অর্জন করা, নামায ও আল্লাহ্র ইবাদাতে নিয়মিতভাবে লেগে থাকা এবং এতে পরিপক্বতা অর্জন করা জিহাদের মত। রিবাত্‌ শব্দের মূল অর্থ হচ্ছে সীমান্ত রক্ষার জন্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সর্বদা প্রস্তুত থাকা। হাদীসে এক নামাযের পর অপর নামাযের অপেক্ষায় থাকাকে এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ সীমান্ত পাহারা দেয়ার সাওয়াব এতে তারা লাভ করবে। (অনুবাদক)


۱۳۲ - عَنْ أبِي مُوسَى الْأَشْعَرِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الْبَرْدَيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ الْبَرْدانِ الصُّبْحُ وَالْعَصْرُ .


১৩২। আবু মূসা আল আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুই ঠাণ্ডা সময়ের নামায পড়বে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামায। (বুখারী, মুসলিম)


۱۳۳ - وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَرِضَ الْعَبْدُ أَوْ سَافَرَ كُتب له مثلُ مَا كَانَ يَعْمَلُ مُقيمًا صحيحا - رواه البخاري .


১৩৩। আবু মূসা আল আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ্র বান্দা যখন অসুস্থ হয় অথবা সফর করে, তখন সুস্থ ও মুকীম অবস্থায় সে যে পরিমাণ নেক কাজ করত সেই পরিমাণ কাজের সাওয়াব তার জন্য লেখা হয়। (বুখারী)


١٣٤ - عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّ مَعْرُوفِ صَدَقَةٌ . رواه البخاري وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ مِنْ رِوَايَةِ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ

১৩৪। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি সৎ কাজই সাদাকা। (বুখারী)

ইমাম মুসলিম হুযাইফা (রাঃ)-এর সূত্রে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।


١٣٥ - وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا الأكَانَ مَا أكل منْهُ لَهُ صَدَقَةً وَمَا سُرِقَ مِنْهُ لَهُ صَدَقَةٌ وَلَا يَرْزَؤُهُ أَحَدٌ الا كَانَ لَهُ صَدَقَةٌ رَوَاهُ مُسْلِمُ وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ فَلا يَغْرِسُ الْمُسْلِمُ غَرْسًا فَيَأْكُلُ مِنْهُ انْسَانُ وَلَا دَابَّةٌ وَلَا طَيْرُ الأَ كَانَ لَهُ صَدَقَةٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ لا يَغْرِسُ مُسْلِمٌ غَرَسًا وَلَا يَزْرَعُ زَرْعًا فَيَأْكُلُ مِنْهُ إِنْسَانٌ وَلَا دَابَّةٌ وَلا شَى الأ كَانَتْ لَهُ صَدَقَةً وَرَوَبَاهُ جَمِيعًا مِنْ روَايَةِ أَنَّسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَوْلُهُ يَرْزَؤُهُ أَي يَنْقُصُهُ


১৩৫। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম ব্যক্তিই কোন গাছ লাগালে তা থেকে যা কিছু খাওয়া হয়, সেটা তার জন্য সাদাকা হবে; আর তা থেকে কিছু চুরি হলে এবং কেউ তার কোন ক্ষতি করলে সেটাও তার জন্য সাদাকা হবে। ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

মুসলিমের অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: মুসলিম কোনো গাছ লাগালে তা থেকে মানুষ, পশু ও পাখিরা যা কিছু খায়, কিয়ামাত পর্যন্ত তা তার জন্য সাদাকা হিসেবে জারি থাকে। মুসলিমের অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: মুসলিম কোন গাছ লাগালে ও কোনো চাষাবাদ করলে তা থেকে মানুষ, পশু ও অন্য কিছু যা খেয়ে ফেলে, তা তার জন্য সাদাকা বিবেচিত হয়। শেষোক্ত রিওয়ায়াত দুটো আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।


١٣٦ - وَعَنْهُ قَالَ أَرَادَ بَنُو سَلِمَةَ أَن يُنْتَقِلُوا قُرْبَ الْمَسْجِدِ فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُمْ إِنَّهُ قَدْ بَلَغَنِى أَنَّكُمْ تُرِيدُونَ أَن تَنْتَقِلُوا قُرْبَ الْمَسْجِد ؟ فَقَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللهِ قَدْ أَرَدْنَا ذَلِكَ فَقَالَ بَنِي سَلِمَةَ دِيَارَكُمْ تكتب أَثَارَكُمْ دِيَارَكُمْ تُكْتَبُ أَثَارَكُمْ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي رِوَايَةٍ إِنْ بِكُلِّ خَطْوَةٍ دَرَجَةً. رواه مسلم ورواه البخاري أَيْضًا بِمَعْنَاهُ مِنْ رِوَايَةِ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وبنو سَلِمَة بكسر اللام قَبِيْلَةٌ مَعْرُوفَةٌ مِّنَ الْأَنْصَارِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَأَثَارُهُمْ خُطَاهُمْ .


১৩৬। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনু সালেমা মসজিদের (মসজিদে নববী) নিকটে স্থানান্তরিত হওয়ার ইচ্ছা করল। এ খবর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌছলে তিনি তাদেরকে বলেন: আমার নিকট খবর পৌঁছেছে যে, তোমরা নাকি মসজিদের নিকট স্থানান্তরিত হতে চাও? তারা বলল, হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা এরূপ ইচ্ছা করেছি।

তিনি বলেনঃ বনু সালেমা! তোমরা ঘরেই থাক (অর্থাৎ বর্তমান বাসস্থানে), তোমাদের পদচিহ্ন লেখা হয়, তোমরা ঘরেই থাক, তোমাদের পদচিহ্ন লেখা হয়।

ইমাম মুসলিম এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: প্রতিটি পদক্ষেপে একটি মর্যাদা উন্নত হয়। ইমাম বুখারী (রাঃ) আনাস (রাঃ)-এর মাধ্যমে এরই সমার্থক একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।


۱۳۷ - عَنْ أَبِي الْمُنْذِرِ أَبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَجُلٌ لَا أَعْلَمُ رَجُلاً أَبْعَدَ مِنَ الْمَسْجِدِ مِنْهُ وَكَانَ لا تُخْطِئُهُ صَلَاةٌ فَقِيلَ لَهُ أَوْ فَقُلْتُ لَهُ لَوِ اشتريت حمارًا تَرْكَبُهُ فِي الظُّلْمَاء وَفِي الرَّمْضَاء فَقَالَ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ مَنْزِلِى إِلَى جَنْبِ الْمَسْجِدِ إِنِّي أُرِيدُ أنْ يُكْتَبَ لِى مَمْشَاءَ إِلَى الْمَسْجِدِ وَرُجُوعِى إِذَا رَجَعْتُ إلى أهْلِي فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ جَمَعَ اللَّهَ ذَلِكَ كُلَّهُ. رَوَاهُ مُسْلِم وَفِي رِوَايَة إِنَّ لَكَ مَا احْتَسَبْتَ الرِّمْضَاءُ الْأَرْضُ الَّتِي أَصَابَهَا الْخَرُّ الشَّدِيدُ


১৩৭। উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি সম্পর্কে আমি জানতাম যে, তার চেয়ে আর কেউ মসজিদ থেকে অতদূরে ছিল না। সে কখনো জামা'আত (অর্থাৎ জামা'আতের সাথে নামায) হারাত না। তাকে বলা হল অথবা আমি তাকে বললাম, তুমি একটি গাধা খরিদ করে তাতে চড়ে দিনে ও রাতে, অন্ধকার ও গরমে মসজিদে আসতে পার। সে বলল, মসজিদের নিকটে আমার বাড়ি হওয়া আমার ভালো লাগে না। আমি তো চাই যে, মসজিদে আমার আসা এবং পরিবারবর্গের নিকট ফিরে যাওয়া- এসবই আমার আমলনামায় লিখিত হোক। 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ তোমার জন্য এসবই জমা করে রেখেছেন। ইমাম মুসলিম এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছেঃ তুমি যে সাওয়াবের আশা করেছ তা তোমার জন্য আছে।


۱۳۸ - عَنْ أَبِى مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعُونَ خَصْلَةٌ أَعْلَاهَا مَنِيْحَةُ الْعَشْرِ مَا مِنْ عَامِل يَعْمَلُ بِخَصْلَةٍ مِنْهَا رَجَاءَ ثَوَابِهَا وَتَصْدِيقَ مَوْعُودِهَا إِلَّا أَدْخَلَهُ اللهُ بِهَا الجنة - رَوَاهُ الْبُخَارِى المنيحَةُ أنْ يُعْطِيَهُ ايَّاهَا لِيَأْكُلَ لَبَنَهَا ثُمَّ يَرُدُّهَا إِلَيْهِ


১৩৮। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: চল্লিশটি সৎ কাজের মধ্যে উচ্চতম কাজ হচ্ছে দুধ পান করার জন্য কাউকে উটনী ধার দেয়া। যে ব্যক্তি এ চল্লিশটি কাজের কোনটি সাওয়াবের আশায় করে এবং তাতে (প্রতিদানের) যে ওয়াদা আছে তা বিশ্বাস করে, তাকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

ইমাম বুখারী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।


۱۳۹ - عَنْ عَدِي بْنِ حَاتِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ متفق عليه وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أحد الأ سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تَرْجُمَانُ فَيَنْظُرُ أَيْمَنَ مِنْهُ فَلا يَرَى الأ ما قَدَّمَ وَيَنْظُرُ أَشَامَ مِنْهُ فَلا يَرَى إِلا مَا قَدَّمَ وَيَنْظُرُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَلَا يَرَى إِلَّا النَّارَ تلْقَاءَ وَجْهِهِ فَاتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمَرَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدُ فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ.


১৩৯। আদী ইবনে হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আগুন থেকে বাঁচ, একটা খেজুরের অর্ধেকটা দান করে হলেও। (বুখারী, মুসলিম)

বুখারী ও মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের সাথে অচিরেই তার রব কথা বলবেন এমন অবস্থায় যে, উভয়ের মধ্যে কোন দোভাষী থাকবে না। মানুষ তার ডান দিকে তাকাবে তো নিজের কৃতকর্মই দেখতে পাবে, বাম দিকে তাকাবে তো নিজের কৃতকর্মই দেখতে পাবে, সামনে তাকাবে তো তার মুখের সামনে আগুন দেখতে পাবে। কাজেই তোমরা একটা খেজুরের অর্ধেকটা দান করে হলেও আগুন থেকে বাঁচ। যে ব্যক্তি তাও না পায় সে উত্তম কথা দ্বারা (আগুন থেকে বাঁচতে চেষ্টা করবে)।


١٤٠ - عن أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الله ليرضى عن الْعَبْد  َأنْ يَأكُل الأكلة فَيَحْمَدُهُ عَلَيْهَا أَوْ يَشْرَبَ الشَّربَةَ فَيَحْمَدُهُ عَلَيْهَا - رواه مسلم والأكْلَةُ بِفَتْحِ الْهَمْزَةِ وَهِيَ الْعَدْوَةُ أَوِ الْعَشْوَةُ .


১৪০। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ অবশ্যই তাঁর বান্দার প্রতি এজন্য সন্তুষ্ট হন যে, সে কোন কিছু খেয়ে তাঁর প্রশংসা করে অথবা কোন কিছু পান করে তাঁর প্রশংসা করে। (মুসলিম)


١٤١ - عَنْ أبِى مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَلَى كُلِّ مُسْلِم صَدَقَةً قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَجِدُ ؟ قَالَ يَعْمَلُ بِيَدَيْهِ فَيَنْفَعُ نَفْسَهُ وَيَتَصَدِّقُ قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَسْتَطِعُ ؟ قَالَ يُعِينُ ذَا الْحَاجَةِ الْمَلْهُوفَ قَالَ أَرَأَيْتَ إنْ لَمْ يَسْتَطِعْ قَالَ يَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ أَوِ الْخَيْرِ قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَفْعَلُ قَالَ يُمْسِكُ عَنِ الشَّرِّ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ - متفق عليه


১৪১। আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: প্রত্যেক মুসলিমের উপর দান করা ওয়াজিব। এক সাহাবী বলেন, তবে যদি সে (সাদাকা বা দান করার মত) কোন কিছু না পায়? তিনি বলেন: তাহলে সে নিজ হাতে কাজ করে নিজেকে লাভবান করবে এবং সাদাকাও দেবে। সাহাবী বলেন, সে যদি তা না পারে? তিনি বলেন তাহলে সে দুঃস্থ ও অভাবগ্রস্তদের সাহায্য করবে। 

সাহাবী বলেন, সে যদি তাও না পারে? তিনি বলেন: তাহলে সে সৎ অথবা উত্তম কাজের হুকুম করবে। সাহাবী বলেন, যদি সে এটাও না করতে পারে? তিনি বলেন: তাহলে সে (অন্তত) নিজেকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। আর এটা তার জন্য সাদাকাস্বরূপ। (বুখারী, মুসলিম)

#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ১৩, উত্তম কাজের বিবিধ পন্থা৷
#মুহাম্মদের_বাণী #ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ  #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী  #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default