#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ১৪ ইবাদাত-বন্দেগীতে ভারসাম্য বজায় রাখা।

Muhammads words
0

قَالَ الله تَعَالَى : طه مَا انْزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقى .


মূল আরবী “ইত্তিসাদ” শব্দের অর্থ হচ্ছে ভারসাম্যপূর্ণ ও মাঝামাঝি পন্থা অবলম্বন করা। কোন কাজে সীমা লংঘন না করা, বাড়াবাড়ি না করা এবং মাত্রাতিরিক্ত না করা।


মহান আল্লাহ বলেন:

(১) “তা-হা-। আমি তোমার উপর আল কুরআন এজন্য নাযিল করিনি যে, তুমি কষ্ট ভোগ করবে।”(সূরা তা-হা:১)


وَقَالَ تَعَالَى : يُرِيدُ اللهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ

(২) “আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং তোমাদের জন্য যা কষ্টকর তা চান না।” (সূরা আল বাকারা: ১৮৫)


١٤٣ - وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا وَعِنْدَهَا امْرَأَةٌ قَالَ مَنْ هذه؟ قَالتْ هذه فُلانَةٌ تَذكُرُ مِنْ صَلاتِهَا قَالَ مَهُ عَلَيْكُمْ بمَا تُطيقُونَ فَو الله لا يَمَلُ اللهُ حَتَّى تَمَلوا وكَانَ أَحَبُّ الدِّينِ اليْهِ مَا دَاوَمَ صَاحِبَهُ عَلَيْهِ - متفق عليه وَمَهُ كَلِمَةٌ نَهى وَزَجْرٍ وَمَعْنَى لَا يَمَلُّ اللَّهُ أَى لَا يَقْطَعُ ثَوَابَهُ عَنْكُمْ وَجَزَاء أَعْمَالِكُمْ وَيُعَامِلُكُمْ مُعَامَلَةَ الْمَالِ حَتَّى تَمَلُّوا فَتَتْرَكُوا فَيَنْبَغِي لَكُمْ أَنْ تَاخُذُوا مَا تُطِيقُونَ الدَّوَامَ عَلَيْهِ ليَدُومَ ثَوَابُهُ لَكُمْ وَفَضْلُهُ عَلَيْكُمْ.


১৪২। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট গেলেন। তখন এক মহিলা তাঁর নিকট বসা ছিল। নবী (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন: মহিলাটি কে? আয়িশা (রাঃ) বলেন, এ হচ্ছে অমুক মহিলা, সে তার নামায সম্পর্কে আলোচনা করছে। তিনি বলেন: থাম, সব কাজ তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তোমাদের উপর ওয়াজিব। আল্লাহ্র শপথ! তোমরা ক্লান্ত হলেও আল্লাহ (সাওয়াব দিতে) ক্লান্ত হন না। আর আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় দীনী কাজ তা-ই যার কর্তা সে কাজ নিয়মিত করে। (বুখারী, মুসলিম)


١٤٣ - وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ ثَلَاثَةُ رَهْطٍ إِلَى بُيُوتِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُونَ عَنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا


মুমিনের জীবনের সব কাজের মধ্যে একটা ভারসাম্য থাকা দরকার। কোন একদিকে বেশি ঝুঁকে পড়লে অন্যদিকের কাজের অবশ্যই ক্ষতি হবে। এজন্য প্রতিটি কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী সময়, অর্থ ও শ্রম দান করা অপরিহার্য। যে কোন কাজ নিয়মিত করলে তাতে বরকত হয় এবং তাতে যোগ্যতাও বাড়ে। নিয়মিত কাজ অল্প হলেও সেটা স্থায়ী হয় এবং তাতে ভালো ফল পাওয়া যায়।


কোন ব্যাপারে সীমা লংঘন করে বাড়াবাড়ি করলে বা মাত্রাতিরিক্ত করলে তাতে যেমন বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়, তেমনি তাতে ক্লান্তও হয়ে যেতে হয় এবং এতে যোগ্যতার বিকাশও হয় না। কারণ জীবনের কাজ তো অনেক। আল্লাহ্র হক আদায় করার সাথে সাথে বিভিন্ন বান্দার হকও আদায় করতে হয়। আবার নিজের জরুরী ও প্রয়োজনীয় হকও আদায় করতে হয়। ভারসাম্য না থাকলে কোন হকই ঠিকমত আদায় করা সম্ভব হয় না। হঠাৎ করে জায় এসে অনেক কাজ করে ফেলা এবং তারপর আর কোন তৎপরতা না থাকা ইসলামের মেজাজ নয়। তাই প্রত্যেকের পূর্ণ শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পন্থায় সব কাজ নিয়মিতভাবে করতে থাকা আল কুরআন ও হাদীসের দাবি। (অনুবাদক)


أخْبِرُوا كَانُهُمْ تَقَالُوْهَا وَقَالُوا ابْنَ نَحْنُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أَحَدُهُمْ أمَا أَنَا فَأَصَلَّى اللَّيْلَ أَبَدًا وَقَالَ أَخَرُ وأنا أصُومُ الدَّهْرَ وَلَا أَفْطِرُ وَقَالَ أَخَرُ وَأَنَا  َأعْتَزِلُ النِّسَاءَ فَلَا أَتَزَوِّجُ أَبَدا فَجَاءَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ  ِالَيْهِمْ فَقَالَ انْتُمُ الَّذِينَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا ؟ أَمَا واللهِ إِنِّي لَأَخْشَاكُمْ لِلَّهِ وَأَتْقَاكُمْ لَهُ لَكِنِّي أَصُومُ وَأَفْطِرُ وَأَصَلَّى وَارْقُدُ وَتَزَوِّجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سَنتِى فَلَيْسَ مِنّى - متفق عليه .


১৪৩। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনজন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণের বাড়িতে আসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইবাদাত সম্পর্কে জানার জন্য। যখন তাদেরকে এ সম্পর্কে অবহিত করা হল, তারা যেন এটাকে (নিজেদের জন্য) কম মনে করল এবং বলল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমাদের তুলনা কোথায়? তাঁর পূর্বাপর সব গুনাহ তো মাফ করে দেয়া হয়েছে। তাদের একজন বলল, আমি অনবরত সারা রাত নামাযে মগ্ন থাকব। আরেকজন বলল, আমি অনবরত রোযা থাকব, কখনও রোযাহীন থাকব না। একজন বলল, আমি নারীদের থেকে দূরে থাকব এবং কখনও বিয়ে করব না। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এলেন এবং বললেন: তোমরা কি এরূপ এরূপ কথা বলেছ? আল্লাহ্র শপথ! তোমাদের চেয়ে আমি আল্লাহকে বেশি ভয় করি এবং বেশি তাওয়া অবলম্বন করি। কিন্তু আমি তো রোযা রাখি আবার খাই, নামায পড়ি আবার ঘুমাই এবং বিয়ে-শাদীও করি। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত (জীবন পদ্ধতি) পালন থেকে বিরত থাকবে সে আমার (দলভুক্ত) নয়। (বুখারী, মুসলিম)


١٤٤ - وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ هَلَكَ المُتَنَطِعُونَ قَالَهَا ثَلاثًا - رواه مسلم الْمُتَنَطِعُونَ الْمُتَعَمِقُونَ الْمُسْلِدُونَ فِي غَيْرِ مَوْضِعِ التَّشْدِيدِ


১৪৪। ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: অযথা কঠোরতা অবলম্বনকারীরা ধ্বংস হয়েছে। তিনি এ কথা তিনবার বলেন। (মুসলিম)


١٤٥ - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الدين يُشر وَلَنْ يُشَادُ الدِّينُ إِلا غَلَبَهُ فَسَدَدُوا وَقَارِبُوا وَأَبْشِرُوا وَاسْتَعِينُوا

بِالْغَدْوَةِ وَالرَّوْحَةِ وَشَيْءٍ مِّنَ الدُّنْجَةِ - رواه البخاري وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ سَدِدُوا وَقَارِبُوا وَاغْدُوا وَرُوْحُوا وَشَيْ مِنَ الدُّنْجَةِ الْقَصْدَ الْقَصْدَ تَبْلُغُوا -

قَوْلُهُ الدِّينُ هُوَ مَرْفُوعَ عَلَى مَا لَمْ يُسَمٌ فَاعِلُهُ وَرُوِيَ مَنْصُوبًا وَرُوِيَ لَنْ يُشَادٌ الدِّينَ أَحَدٌ وَقَوْلُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الأ غَلَبَهُ أَنْ غَلَبَهُ الدِّينُ وَعَجَزَ ذَلِكَ الْمُشَادُّ عَنْ مُقَاوَمَةِ الدِّين لكثرة طرقه والْعَدْوَةُ سَيْرُ أَوَّلِ النَّهَارِ وَالرِّوْحَةُ أَخِرِ النَّهَارِ والدجة آخر اللَّيْلِ وَهَذَا اسْتعَارَةٌ وَتَمثيل وَمَعْنَاهُ اسْتَعِينُوا عَلَى طَاعَة اللهِ عَزَّ وَجَلَّ بِالْأَعْمَالِ فِي وَقْتِ نَشَاطِكُمْ وَفَرَاعَ قُلُوْبِكُمْ بِحَيْثُ تَسْتَلِدُونَ العبادةَ وَلا تَسْأَمُونَ وَتَبْلُغُونَ مَقْصُودَكُمْ كَمَا أَنَّ الْمُسَافِرَ الْحَاذِقَ يَسِيرُ فِي هَذِهِ الْأَوْقَاتِ وَيَسْتَرِيحُ هُوَ وَدَابْتُهُ فِي غَيْرِهَا فَيَصِلُ الْمَقْصُودَ بِغَيْرِ تَعَبِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.


১৪৫। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দীন সহজ। কোন ব্যক্তি এ দীনকে কঠিন বানালে তা তাকে পরাভূত করবে। কাজেই তোমরা ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা অবলম্বন কর, সামর্থ্য অনুযায়ী আমল কর এবং সুখবর গ্রহণ কর। আর সকাল, সন্ধ্যা ও শেষ রাতের কিছু অংশে (ইবাদাত করে) আল্লাহ্ সাহায্য চাও।


ইমাম বুখারী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। আর বুখারীর অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে: তোমরা মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর ও সামর্থ্য অনুযায়ী আমল কর এবং সকালে চল (ইবাদাত করার উদ্দেশে), রাতে চল এবং শেষ রাতের কিছু অংশে, ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা অবলম্বন কর, মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর, লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।


١٤٦ - وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْجِدَ فَإِذَا حَبْلٌ مَمْدُودٌ بَيْنَ السَّارِيَتَيْنِ فَقَالَ مَا هَذَا الْحَبْلُ؟ قَالُوا هَذَا حَبْلُ


এই হাদীসের অর্থ এটা নয় যে, দীনের শুধু ঐ সমস্ত সহজ কাজ করতে হবে যাতে কোন ঝুঁকি নেই, ত্যাগ নেই, বিপদ নেই এবং দুনিয়ার সুখ-শান্তি ও আর্থিক স্বাচ্ছন্দে কোনরূপ ব্যাঘাত ঘটে না। বরং এর তাৎপর্য এই যে, দীনের কাজ বহু রয়েছে। আল্লাহ ও বান্দার হকও অনেক। এসব কাজ করা ও হক আদায় করা অবশ্যকর্তব্য। সেজন্য সবগুলো কাজই যথাযথ গুরুত্ব সহকারে নিয়মিতভাবে যথাসাধ্য সরল ও সহজভাবে করে যেতে হবে। সব কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হতে হবে। এরূপ করলে দীনের জন্য জান-মাল কোনবানী করাও সহজ হয়ে যায়। নতুবা অযথা কঠোরতা অবলম্বন করলে দীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্বভারের চাপে আল্লাহর পথে টিকে থাকাই অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। (অনুবাদক)


لِزَيْنَبَ فَاذَا فَتَرَتْ تَعَلقَتْ بِهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُلُوهُ لِيُصَلِ أحَدُكُمْ نَشَاطَهُ فَاذَا فَتَرَ فَلْيَرْقُدْ - متفق عليه


১৪৬। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে গিয়ে দেখতে পেলেন একটি রশি দু'টি খুঁটির মাঝখানে বাঁধা রয়েছে। তিনি বলেন: এ রশিটা কিসের? সাহাবীগণ বলেন, এটা যায়নাবের রশি। তিনি যখন নামায পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে যান তখন এ রশিতে ঝুলে পড়েন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এটা খুলে ফেল। তোমাদের প্রত্যেকের পক্ষে তার শক্তি ও সতেজ থাকা অবস্থায় নামায পড়া উচিত এবং সে যখন ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন ঘুমানো উচিত।(বুখারি ও মুসলিম)


١٤٧ - وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إذا نَعَسَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ يُصَلِى فَلْيَرْقَدْ حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ فَإِنْ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى نَفْسَهُ - متفق عليه وَهُوَ نَاعِسٌ لَا يَدْرِي لَعَلَهُ يَذْهَبُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبُّ :


১৪৭। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তোমাদের কারো নামাযরত অবস্থায় ঘুম এলে সে যেন শুয়ে পড়ে, যাবত না তার ঘুম চলে যায়। কেননা তন্দ্রা অবস্থায় নামায পড়লে সে হয়ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে নিজেকে গালি দিতে থাকবে (বুখারি ও মুসলিম)


١٤٨ - وَعَنْ أَبِي عَبْدِ اللهِ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كُنْتُ أَصَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلَوَاتِ فَكَانَتْ صَلَاتُهُ قَصْداً وَخُطْبَتُهُ قَصْدا - رواه مسلم قوله قصداً أَي بَيْنَ الطول والقصر .


১৪৮। জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায আদায় করতাম। তাঁর নামায ও খুতবা ছিল নাতিদির্ঘ ।(মুসলিম)


١٤٩ - وَعَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ وَهْبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَخَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ سَلْمَانَ وَآبِي الدَّرْدَاءِ فَزَارَ سَلْمَانُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فَرَأَى أَمْ الدرداء مُتَبَذِلَة فَقَالَ مَا شَأْنُكَ؟ قَالَتْ أخُوكَ أَبُو الدَّرْدَاءِ لَيْسَ لَهُ حَاجَةٌ فِي 

الدُّنْيَا فَجَاءَ أَبُو الدَّرْدَاءِ فَصَنَعَ لَهُ طَعَامًا فَقَالَ لَهُ كُلِّ فَإِنِّي صَائِمٌ قَالَ مَا أَنَا أكل حَتَّى تَأْكُلَ فَأَكَلَ فَلَمَّا كَانَ اللَّيْلُ ذَهَبَ أَبُو الدَّرْدَاءِ يَقُومُ فَقَالَ لَهُ نَمْ فَنَامَ ثُمَّ ذَهَبَ يَقُوْمُ فَقَالَ لَهُ نَمْ فَلَمَّا كَانَ أَخِرُ اللَّيْلِ قَالَ سَلْمَانُ قُمِ الْآنَ فَصَلِّيَا جَمِيعًا فَقَالَ لَهُ سَلْمَانُ إِنَّ لِرَبِّكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنْ لِنَفْسِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَلِأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا فَاعْط كُلِّ ذِى حَقٌّ حَقَّهُ فَأَتَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذلك لَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ سَلْمَانُ - رواه البخارى .


১৪৯। আৰু জুহাইফা ওয়াব ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান ও আবুদ দারদা (রাঃ)-এর মাঝে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছিলেন। সালমান (রাঃ) আবুদ দারদার সাথে সাক্ষাত করতে গিয়ে উন্মুদ্ দাদাকে (আবুদ্ দার্দার স্ত্রী) পুরোনো খারাপ কাপড় পরিহিতা অবস্থায় দেখতে পান। তিনি তার অবস্থা জিজ্ঞেস করলে উদ্বুদ্ দাদা বলেন, তোমার ভাই আবুদ দারদার দুনিয়ায় কোন কিছুর প্রয়োজন নেই। এরপর আবুদ দারদা (রাঃ) এসে সালমানের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করে তাকে বলেন, 'তুমি খাও, আমি রোযা রেখেছি'। সালমান (রাঃ) বলেন, তুমি না খেলে আমি খাব না। তখন আবুদ দাদাও খেলেন। এরপর রাতে আবুদ্ দার্দা নামায পড়তে উঠতে গেলে সালমান (রাঃ) তাকে ঘুমাতে বলেন। তিনি ঘুমালেন। পরে আবার উঠতে গেলে সালমান এবারও তাকে ঘুমাতে বলেন। শেষ রাতে সালমান (রাঃ) তাকে উঠতে বলেন এবং দু'জনে একত্রে নামায পড়লেন। তারপর সালমান (রাঃ) তাকে বলেন, তোমার উপর তোমার রবের (আল্লাহ্) হক আছে, তোমার উপর তোমার নফসের হক আছে, তোমার উপর তোমার পরিবারের হক আছে। কাজেই প্রত্যেক হকদারের হক আদায় কর। তারপর আবুদ দারদা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে সব কথা বললে তিনি বলেন: সালমান ঠিক কথা বলেছে। (বুখারী)


١٥٠ - وَعَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللهِ بن عَمرو بن الْعَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أخبرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انّى أَقُولُ وَالله لَأَصُومَنْ النَّهَارَ وَلَا تُؤْمَنْ اللَّيْلَ مَا عِشتُ فَقَالَ رَسُولُ الله صَلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْتَ الَّذِي تَقُولُ ذلِكَ ؟ فَقُلْتُ لَهُ قَدْ قُلْتُهُ بِأَبِي أَنْتَ وَأَمَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَإِنَّكَ لَا تَسْتَطِيعُ ذَلِكَ

قصُمْ وَاقْطِرُ وَنَمْ وَقُمْ وَهُمْ مِنَ الشَّهْرِ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ فَإِنَّ الْحَسَنَةَ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا وذلك مثل صيام الدهر قُلْتُ فَانّى أطبق أفْضَلَ مِنْ ذَلكَ قَالَ فَهُمْ يَوْمًا وَأَقْطَرُ يَوْمَيْن قُلْتُ فَانّي أَطيقُ افْضَلَ من ذلكَ قَالَ فَصُمْ يَوْمًا وَأَقْطَرُ يَوْمًا قَذَلكَ صِيَامُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلامُ وَهُوَ أَعْدَلُ الصِيَامِ وَفِي رِوَايَةٍ هُوَ أَفْضَلُ الصِّيَامِ فَقُلْتُ فَإِنِّي أطيق أفضل من ذلكَ فَقَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا أَفْضَلَ مِنْ ذلكَ ولان اكونَ قَبلْتُ الثَّلاثَةَ الْأَيَّامِ الَّتِي قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَبُّ إِلَى مِنْ أَهْلِي وَمَالِي .

وَفِي رِوَايَةٍ أَلَمْ أَخْبَرُ أَنَّكَ تَصُومُ النَّهَارَ وَتَقُومُ اللَّيْلَ: قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ فَلا تَفْعَلْ كُمْ وَأَقْطرُ ونَمْ وَقُمْ فَانَّ لجَسَدَكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنْ لَعَيْنَيْكَ عَلَيْكَ حَقًّا وان لزوجكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنْ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنْ بِحَسْبِكَ أَنْ تَصُومَ فِي كُلِّ شهر ثلاثة أيَّامٍ فَإِنْ لَكَ بِكُلِّ حَسَنَةٍ عَشْرَ أَمْثَالِهَا فَإِنْ ذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ فَشَدُدْتُ فَشَدِّدَ عَلَى قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنّى أَجِدُ قُوةٌ قَالَ صُمْ صِيَامَ نَبِيَّ اللهِ داودَ وَلَا تَزِدُّ عَلَيْهِ قُلْتُ وَمَا كَانَ صِيَامُ دَاوُدَ ؟ قَالَ نِصْفُ الدِّهْرِ فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ يَقُولُ بَعْدَ مَا كَبِرَ يَا لَيْتَنِي قَبِلْتُ رُحْصَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . وَفِي رِوَايَة المُ أَخْبَرُ أَنَّكَ تَصُومُ الدَّهْرَ وَتَقْرَأ الْقُرْآنَ كُلِّ لَيْلَةِ؟ فَقُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ وَلَمْ أردُ بِذلِكَ إِلا الْخَيْرَ قَالَ فَصُمْ صَوْمَ نَبِيِّ اللَّهِ دَاوُدَ فَإِنَّهُ كَانَ أَعْبَدَ النَّاسِ وَاقْرًا الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ قُلْتُ يَا نَبِيِّ اللَّهِ إِنِّي أَطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ ؟ قَالَ فَاقْرَاهُ في كُل عشرينَ قُلْتُ يَا نَبى الله انى أطيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذلكَ؟ قَالَ فَاقْرَأَهُ فِي كُلِّ عَشْرِ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي أَطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ؟ قَالَ فَاقْرَأَهُ فِي كُلِّ سَبْعِ وَلَا تَزِدُ عَلَى ذلِكَ فَشَدَدْتُ فَشَدِّدَ عَلَى وَقَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكَ لا تَدْرِي لَعَلَّكَ يَطولُ بِكَ عُمر قَالَ فَصِرْتُ إِلَى الَّذِي قَالَ لِي

النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا كَبِرْتُ وَدِدْتُ أَنِّي كُنتُ قَبِلْتُ رُخْصَةً نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وفي رواية وأن لولدكَ عَلَيْكَ حَقًّا . وفي روايَةِ لَا صَامَ مَنْ صَامَ الْأَبَدَ ثَلَاثًا

وفي روايَةٍ أَحَبُّ الصِيَامِ إِلَى اللهِ صِيَامُ دَاوُدَ وَأَحَبُّ الصَّلاةِ إِلَى اللَّهِ صَلَاةُ دَاوُدَ كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ وَكَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَلَا يَفرُّ إذا لاقى.

وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ أَنْكَحَنِى أَبِى اِمْرَأَةً ذاتَ حَسَبٍ وَكَانَ يَتَعَاهَدُ كُنْتَهُ أَنْ امْرَأَةَ وَلَدِهِ فَيَسْأَلُهَا عَنْ بَعْلِهَا فَتَقُولُ لَهُ نِعْمَ الرّجُلُ مِنْ رَجُلٍ لَمْ يَطَأُ لَنَا فِرَاشًا وَلَمْ يُفَتِّش لَنَا كَنَفًا منذ أتَيْنَاهُ فَلمَّا طَالَ ذلكَ عَلَيْه ذكرت ذلك للنبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ الْقَنِى بِهِ فَلَقِيتُهُ بَعد ذلِكَ فَقَالَ كَيْفَ تَصُومُ؟ قُلْتُ كُلِّ يَوْمٍ قَالَ وكَيْفَ تَخْتِمُ؟ قُلْتُ كُلِّ لَيْلَةٍ وَذَكَرَ نَحْوَ مَا سَبَقَ وَكَانَ يَقرَأُ عَلَى بَعْضٍ أَهْلِهِ السبعَ الَّذِي يَقْرَؤُهُ يَعْرِضُهُ مِنَ النَّهَارِ لِيَكُونَ أَخَفٌ عَلَيْهِ بِاللَّيْلِ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُتَقَوَى أفطر أيامًا وأَحْصَى وَصَامَ مِثْلَهُنَّ كَرَاهِيَةً أَنْ يُتْرَكَ شَيْئًا فَارَقَ عَلَيْهِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

كُلِّ هذه الروايات صحيحَةُ مُعْظَمُها فى الصحيحين وَقَلِيلٌ مِنْهَا فِي أَحدهما .


১৫০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবহিত করা হল যে, আমি বলে থাকি: আল্লাহ্র শপথ! যত দিন জীবিত থাকব তত দিন আমি রোযা রাখব এবং রাতে নামায পড়তে থাকর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন: তুমি নাকি এরূপ কথা বলে থাক? আমি বললাম, আমার মা-বাপ আপনার জন্য উৎসর্গীত। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ঠিকই এ কথা বলেছি। তিনি বলেন: তুমি তা করতে সক্ষম হবে না, কাজেই রোযাও রাখ আবার রোযা ছেড়েও দাও, তেমনি নিদ্রাও যাও আবার রাত জেগে নামাযও পড়, আর প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখ। কারণ সৎ কাজে দশ গুণ সাওয়াব পাওয়া যায় এবং এটা হামেশা রোযা রাখার সমতুল্য হবে। আমি বললাম, আমি এর চাইতে বেশি শক্তি রাখি। তিনি বলেন: তাহলে তুমি একদিন রোযা রাখ ও দু'দিন খাও। আমি বললাম, আমি এর চাইতেও বেশি শক্তি রাখি। তিনি বলেনঃ তাহলে একদিন রোযা রাখ ও একদিন খাও এবং এটি হচ্ছে দাউদ আলাইহিস সালামের রোযা, আর এটিই হচ্ছে ভারসাম্যপূর্ণ রোযা। অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে, আর এটিই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ রোযা। আমি বললাম, আমি এর চাইতেও বেশি শক্তি রাখি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এছাড়া আর কোনো শ্রেষ্ঠ রোযা নেই। (আবদুল্লাহ বুড়ো বয়সে বলতেন:) হায়! আমি যদি সেই তিন দিনের রোযা কবুল করে নিতাম যার কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, তাহলে তা আমার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের চাইতে আমার কাছে বেশি প্রিয় হতো।


অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি কি অবহিত হইনি, তুমি দিনে রোযা রাখ ও রাতে নফল নামায পড়? আমি জবাব দিলাম, অবশ্যই হে আল্লাহ্র রাসূল! তিনি বলেন: এমনটি কর না, রোযা রাখ, আবার ইফতারও কর, ঘুমাও আবার ঘুম থেকে উঠে নামাযও পড়। কারণ তোমার উপর তোমার শরীরের হক আছে, তোমার দুই চোখের উপর তোমার হক আছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হক আছে, তোমার উপর তোমার মেহমানেরও হক আছে। আর প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা রাখাই তোমার জন্য যথেষ্ট। কারণ প্রতিটি নেকীর বদলে তুমি দশ গুণ সাওয়াব পাবে। আর এটা সারা বছর বা সর্বক্ষণ রোযা রাখার সমান হয়ে যায়। আমি (আবদুল্লাহ) নিজে আমার উপর কঠোরতা আরোপ করার ফলে আমার উপর কঠোরতা চেপেছে। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি শক্তি অনুভব করছি। তিনি জবাব দিলেন: আল্লাহ্ নবী দাউদের রোযা রাখ এবং তার উপর বৃদ্ধি করো না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, দাউদের রোযা কেমন ছিল। জবাব দিলেনঃ অর্ধ বছর (অর্থাৎ একদিন রোযা রাখা একদিন ইফতার করা)। আবদুল্লাহ (রাঃ) বুড়ো হবার পর বলতেনঃ হায়, আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত সুবিধা গ্রহণ করতাম।


অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাকে কি খবর দেয়া হয়নি, তুমি সারা বছর রোযা রাখ এবং প্রত্যেক রাতে আল কুরআন খতম কর? আমি বললাম, হাঁ, হে আল্লাহ্র রাসূল! তবে আমি এ থেকে কল্যাণ লাভের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি। তিনি বলেন: তাহলে আল্লাহ্ নবী দাউদের (নিয়মে) রোযা রাখ। কারণ তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইবাদাতগুজার, আর প্রতি মাসে একবার আল কুরআন খতম কর। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র নবী! আমি এর চাইতে বেশি করার ক্ষমতা রাখি। তিনি বলেন: তাহলে বিশ দিনে খতম কর। বললাম, হে আল্লাহ্ নবী !


আমি এর চাইতেও বেশি ক্ষমতা রাখি। তিনি বলেন: তাহলে দশ দিনে খতম কর। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি এর চাইতেও বেশি শক্তি রাখি। তিনি বলেন: তাহলে এক সপ্তাহে আল কুরআন খতম কর এবং এর বেশি নয়। এভাবে আমি নিজেই কঠোরতা আরোপ করেছি এবং তা আমার উপর আরোপিত হয়েই গেছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেন: তুমি জানো না, সম্ভবত তোমার বয়স দীর্ঘায়িত হবে। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছিলেন আমি সেখানে পৌঁছে গেছি। কাজেই যখন আমি বার্ধক্যে পৌঁছে গেলাম তখন আমার আফসোস হল- যদি আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত সুবিধা গ্রহণ করতাম! অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে: তোমার ছেলেরও তোমার উপর হক আছে। আর এক রিওয়ায়াতে আছেঃ যে হামেশা রোযা রাখে সে রোযাই রাখে না। এ কথা তিনি তিনবার বলেন।


অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে: আল্লাহ্র কাছে সবচাইতে পছন্দনীয় রোযা হচ্ছে দাউদের রোযা এবং সবচাইতে পছন্দনীয় নামায হচ্ছে দাউদের নামায। তিনি অর্ধেক রাত ঘুমাতেন, রাতের এক-তৃতীয়াংশের সময় ইবাদাত করতেন এবং ষষ্ঠাংশে (আবার) ঘুমাতেন। আর তিনি একদিন রোযা রাখতেন, একদিন ইফতার করতেন এবং দুশমনের মুকাবিলায় আসলে পেছনে হটতেন না।


অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে, আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমার পিতা একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ের সাথে আমার বিয়ে দেন। আমার পিতা তাঁর পুত্রের স্ত্রীকে শপথ দিয়ে তার স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। আমার স্ত্রী তাকে জবাবে বলত: খুব ভালো লোক, এমন লোক যে, এখনো আমার সাথে বিছানায় শয়ন করেনি, পরদাও খোলেনি যখন থেকে আমি তার কাছে এসেছি। ব্যাপারটি দীর্ঘায়িত হলে আমার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রসংগটি উত্থাপন করলেন। তিনি বলেন: তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও। অতঃপর আমি তাঁর সাথে মুলাকাত করলাম।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কিভাবে রোযা রাখ? আমি বললাম, প্রতিদিন। তুমি আল কুরআন কিভাবে খতম কর? জবাব দিলাম, প্রতি রাতে। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ। আর আবদুল্লাহ (রাঃ) তার পরিবারের কাউকে এক সপ্তমাংশ শুনিয়ে দিতেন, যা তিনি পড়তেন, যাতে রাতে তার বোঝা হালকা হয়ে যায়। আবদুল্লাহ যখন আরাম করতে চাইতেন তখন কয়েকটা দিন গণনা করে ইফতার করতেন এবং পরে সে দিনগুলোর রোযা কাযা করে নিতেন। কারণ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে কথাসহ পৃথক হয়েছেন তার খেলাপ করাকে তিনি অপছন্দ করতেন।


ইমাম নববী (রাঃ) বলেন, এই বর্ণনাগুলির সবই সহীহ, এদের অধিকাংশই বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে এবং মাত্র সামান্য অংশ এ দু'টি গ্রন্থের কোন একটি থেকে গৃহীত হয়েছে।


١٥١ - وَعَنْ أَبِى رِبْعِي حَنْظَلَةَ مِن الرِّبِيعِ الْأَسَيِّدِيِّ الْكَاتِبِ أَحَدِ كُتَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَقِيَنِى أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ كَيْفَ أَنْتَ يَا حَنْظَلَةُ ؟ قُلْتُ نَافَقَ حَنْظَلَةُ قَالَ سُبْحَانَ الله مَا تَقُولُ؟ قُلْتُ نَكُونُ عِنْدَ رَسُول اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُذكِرْنَا بِالْجَنَّةِ وَالنَّارِ كَانَّا رَأَى عَيْنِ فَإِذَا خَرَجْنَا مِنْ عندِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَافَسُنَا الْأَزْوَاجَ وَالْأَوْلاَدَ والضَّيِّعَاتِ نَسِينَا كَثِيرًا قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فَوَالله انا لتلقى مثل هذا فانطلقت أنا وأبو بَكْرٍ حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ نَافَقَ حَنْظَلَةُ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا ذَاكَ؟ قُلْتُ يَا رَسُولَ الله تَكُونُ عِنْدَكَ تُذكَّرُنَا بِالنَّارِ وَالْجَنَّةِ كَأَنَّا رَأَى الْعَيْنِ فَإِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِكَ عَافَسْنَا الْأَزْوَاجَ وَالْأَوْلاَدَ والضَّيِّعَاتِ نَسِيْنَا كَثِيرًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ والذى نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ تَدُومُونَ عَلَى مَا تَكُونُونَ عِنْدِي وَفِي الذِكرِ لَصَافَحَتْكُمُ الْمَلَائِكَةُ عَلَى فُرُشِكُمْ وَفِي طُرُقِكُمْ وَلَكِنْ يَا حَنْظَلَةُ سَاعَةً وَسَاعَةً ثَلاثَ مَرَأت . رواه مسلم قوله ربعى بِكَسْرِ الرَّاءِ وَالْأَسَيِّدِي بِضَمَ الهَمْزَة وَفَتْحِ السَيْنِ وَبَعْدَهَا يَاءُ مُشَدِّدَةٌ مَكْسُورَةٌ وَقَوْلُهُ عَائِشَنَا هَوَ بِالْعَيْنِ وَالسَّيْنِ الْمُهْمَلَتَيْنِ أَى عَالَجْنَا وَلَاعَبْنَا وَالضَّيِّعَاتُ الْمَعَايِسُ .


১৫১। আবু রিয়ী ইবনে হানযালা ইবনে রিবৃঈ উসাইয়েদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সচিব ছিলেন। তিনি বলেন, আবু বাক্ (রাঃ) একদিন আমার সাথে সাক্ষাত করে জিজ্ঞেস করলেন, কেমন আছ হানযালা? আমি বললাম, হানযালা মুনাফিক হয়ে গেছে। আবু বাক্ (রাঃ) বিস্মিত হয়ে বলেন, সুবহানাল্লাহ্, তুমি কি বলছ? আমি বললাম, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে থাকলে তিনি আমাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের কথা বলে উপদেশ দেন। তখন আমরা যেন তা চোখের সামনে দেখতে পাই। কিন্তু যখন তাঁর কাছ থেকে চলে গিয়ে স্ত্রী, সন্তান ও ধন-সম্পত্তির ঝামেলায় পড়ি, তখন অনেক কথাই ভুলে যাই। আবু বাক্র (রাঃ) বলেন, আমার অবস্থাও এইরূপ।


তারপর আমি ও আবু বাক্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! হানযালা মুনাফিক হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, সে আবার কি? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার কাছে থাকলে আপনি আমাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের কথা বলে উপদেশ দিয়ে থাকেন। তখন আমরা যেন তা চোখের সামনে দেখতে পাই। কিন্তু যখন আপনার কাছ থেকে চলে গিয়ে স্ত্রী, সন্তান ও ধন-সম্পত্তির ঝামেলায় পড়ি, তখন অনেক কথাই ভুলে যাই।


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেই আল্লাহ্ শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি তোমরা আমার কাছে থাকাকালীন অবস্থায় যেরূপ হয় সব সময় তদ্রূপ থাকতে এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকতে, তাহলে ফেরেশতাগণ তোমাদের বিছানায় অর্থাৎ শায়িত অবস্থায় এবং তোমাদের চলার পথে তোমাদের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করত। কিন্তু হানযালা! (মানুষের অবস্থা) এক সময় এক রকম আরেক সময় আরেক রকম (স্বভাবতই) হয়ে থাকে। (তাই একে নিফাকের লক্ষণ মনে করা ঠিক নয়) তিনি এ কথা তিনবার বলেন । (মুসলিম)


١٥٢ - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ بَيْنَمَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ إِذَا هُوَ بِرَجُلٍ قَائِمٍ فَسَأَلَ عَنْهُ فَقَالُوا أَبُو إِسْرَائِيلَ نَذَرَ أَنْ يَقُومَ فِي الشَّمْسُ وَلَا يَقْعُدَ وَلَا يَسْتَطِلْ وَلَا يَتَكَلَّمَ وَيَصُوْمَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُرُوهُ فَلْيَتَكَلَّمْ وَلْيَسْتَظلَّ وَلْيَقْعُدُ وَلَيتِم صَوْمَهُ - رواه البخاري .


১৫২। ইবনুল আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাদানকালে এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সাহাবীগণ বলেন, এ ব্যক্তি আবু ইসরাঈল। সে মানত করেছে যে, সে রোদে দাঁড়িয়ে থাকবে, বসবে না, ছায়ায় যাবে না এবং কারও সাথে কথা বলবে না, আর রোযা রাখবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তাকে হুকুম দাও যেন সে কথা বলে, ছায়ায় যায়, বসে এবং তার রোযা পূর্ণ করে। (বুখারী) 

#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ১৪ ইবাদাত-বন্দেগীতে ভারসাম্য বজায় রাখা।

#মুহাম্মদের_বাণী #ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ  #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী  #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default