قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَمَا أمرُوا الأليَعْبُدُوا اللهَ مُخلصينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُواالصلوةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذلك دينُ القَيمة .
মহান আল্লাহ বলেন:
(১) “আর তাদেরকে হুকুম করা হয়েছে যে, তারা যেন একনিষ্ঠ হয়ে আন্তরিকভাবে আল্লাহ্র দীন পালনের মাধ্যমে একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করে, সালাত (নামায) কায়েম করে এবং যাকাত দান করে। এটাই হচ্ছে সরল ও মজবুত ব্যবস্থা।” (সূরা আল-বায়্যিনাহ: ৫)
وَقَالَ تَعَالَى : لَنْ يُنَالَ اللهَ لُحُومُهَا وَلاَ دمَاؤُهَا وَلَكنْ يُنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ .
(২) “তোমাদের কুরবানীর পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহ্র নিকট কখনই পৌঁছে না, বরং তোমাদের আল্লাহভীতিই তাঁর নিকট পৌঁছে।” (সূরা আল-হজ্জ: ৩৭)
وَقَالَ تَعَالَى : قُلْ أَنْ تُخْفُوا مَا فِي صُدُورِكُمْ أوْ تُبْدُوهُ يَعْلَمُهُ الله . :
(৩) “আপনি বলুন, তোমরা তোমাদের মনের কথা গোপন রাখ অথবা প্রকাশ কর তা সবই আল্লাহ জানেন।” (সূরা আলে ইমরানঃ ২৯)
١- وَعَنْ أمِيرِ الْمُؤْمِنِيْنَ أَبِى حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بْنِ نُفَيْلِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى ابن رباح بن عَبْد الله بن قُرْط بن رزاح بن عَدِي بْن كَعْب بن لوي بن غالب الْقُرَشِيِّ الْعَدَوِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ اِمْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهَجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ. مُتَّفَقٌ عَلَى صِحْتِهِ
১। আমীরুল মুমিনীন উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ সমস্ত কাজের ফলাফল নিয়াত (অভিপ্রায়) অনুযায়ী হবে। প্রত্যেকেই যে নিয়াতে কাজ করবে সে তাই পাবে। কাজেই যার হিজরাত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সন্তুষ্টির) জন্য হয়েছে তার হিজরাত
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সন্তুষ্টির) জন্যই হয়েছে (বলে পরিগণিত হবে)। আর যে ব্যক্তি কোন পার্থিব স্বার্থ লাভের অভিপ্রায়ে বা কোন নারীকে বিবাহের উদ্দেশে হিজরাত করে, তার হিজরাত উক্ত উদ্দেশেই হয়েছে বলে পরিগণিত হবে। (বুখারী, মুসলিম)
- وَعَنْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَمَ عَبْدِ اللَّهِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْزُو جَيْشِ الْكَعْبَة فَإِذَا كَانُوا بِبَيْدا ، مِنَ الْأَرْضِ يُخْسَفَ بأولهم وأخرهمْ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ يُخْسَفُ بِاوَلِهِمْ وَأَخِرِهِمْ وَفِيهِمْ أسْوَاقُهُمْ وَمَنْ لَيْسَ مِنْهُمْ قَالَ يُخْسَفُ بِأَوَلِهِمْ وَأَخِرِهِمْ ثُمَّ يُبْعَثُونَ عَلَى نِيَّاتِهِمْ -مُتَّفَقٌ عَلَيْه .
২। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: একটি সৈন্যদল কাবার উপর হামলা করতে যাবে। যখন তারা সমতলভূমিতে পৌঁছবে, তখন তাদের পূর্বের ও পরের লোকজনসহ ভূমিকে ধসিয়ে দেয়া হবে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কিভাবে তাদের পূর্বের ও পরের সব লোকসহ তা ধসিয়ে দেয়া হবে, অথচ তাদের মধ্যে বহু নগরবাসী ও এমন লোক থাকবে যারা হামলাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তাদের পূর্বের ও পরের লোকজনসহ ভূমিকে ধসিয়ে দেয়া হবে, অতঃপর তাদের নিয়াত অনুযায়ী তাদের পুনরুত্থিত করা হবে। (বুখারী, মুসলিম)
এখানে বুখারীর পাঠ উদ্ধৃত হয়েছে।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا هجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ وَلَكِنْ جِهَادُ وَنِيَّةٌ وَإِذَا اسْتَنْفِرْتُمْ فَانْفِرُوا - مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
৩। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরাত নেই। তবে জিহাদ ও নিয়াত রয়েছে। যখনই তোমাদেরকে জিহাদের জন্য তলব করা হবে তখনই তোমরা বের হয়ে পড়বে (বুখারী, মুসলিম)
ইমাম নববী (রাঃ) বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, মক্কা থেকে হিজরাত করার হুকুম এ হাদীস বর্ণনাকালে ছিল না। কারণ তখন মক্কা ইসলামী রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল।
وَعَنْ أَبِي عَبْدِ اللهِ جَابِرِ بْن عَبْدِ الله الأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزَاةٍ فَقَالَ إِنَّ بِالْمَدِينَةِ لَرِجَالاً مَا سِرْتُمْ ضُ وَفِي رِوَايَة الا مسيراً وَلَا قَطَعْتُمْ وَاديا الأكَانُوا مَعَكُمْ حَبَسَهُمُ ا شَرَكُوكُمْ فِي الْأَجْرِ رَوَاهُ مُسْلَمْ. وَرَوَاهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ رَجَعْنَا مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ اقْوَامًا خَلْقَنَا بِالْمَدِينَةِ مَا سَلَكْنَا شِعبًا وَلَا وَادِياً الْعُدْرُ . حبسهم إلا وَهُمْ مَعَنَا
৪। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক জিহাদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তখন তিনি বলেন ঃ মদীনায় এমন কিছু সংখ্যক লোক রয়েছে, তোমরা যে সকল স্থানে সফর কর এবং যে ময়দান অতিক্রম কর সেখানে তারা তোমাদের সাথেই থাকে। তাদেরকে রোগ আটকে রেখেছে (মুসলিম)। অন্য বর্ণনায় আছে, তারা সাওয়াবে তোমাদের সাথে শরীক আছে। ইমাম বুখারী এই হাদীসটি আনাস (রাঃ) থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা তাবূকের জিহাদ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ফিরে আসার পর তিনি বলেনঃ আমরা মদীনায় আমাদের পেছনে এমন একদল লোককে রেখে গিয়েছিলাম, আমরা যে গিরিপথ এবং যে ময়দানই অতিক্রম করেছি তারা (যেন) আমাদের সাথেই ছিল, তাদেরকে বিশেষ ওজর আটকে রেখেছে।
وَعَنْ أَبِي يَزِيدَ مَعْنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ الْأَخْنَس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَهُوَ وَأَبُوهُ وَجَدهُ صَحَابِيُّونَ قَالَ كَانَ أَبِي يَزِيدُ أَخْرَجَ دَنَانِيْرَ يَتَصَدِّقُ بِهَا فَوَضَعَهَا عِنْدَ رَجُلٍ فِي الْمَسْجِدِ فَجِئْتُ فَأَخَذْتُهَا فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَقَالَ وَاللَّهِ مَا إِيَّاكَ أَرَدَتْ فَخَاصَمْتُهُ الى رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَكَ مَا نَوَيْتَ يَا يَزِيدُ وَلَكَ مَا أَخَذْتَ يَا مَعْنُ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.
৫। আবু ইয়াযীদ মা'ন ইবনে ইয়াযীদ ইবনে আখনাছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি, তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা তিনজনই সাহাবী ছিলেন। তিনি বলেন, আমার পিতা ইয়াযীদ (রাঃ) কিছু দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) সাদাকা করার জন্য বের করলেন। তিনি মসজিদে এক লোকের কাছে তা রেখে দিলেন। আমি গিয়ে তা নিয়ে এলে আমার পিতা বলেন, আল্লাহ্র কসম! আমি তোমাকে দেয়ার ইচ্ছা করিনি। আমি তখন বিষয়টা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পেশ করলাম। তিনি বলেন: হে ইয়াযীদ! তুমি যা নিয়াত করেছো তা (সাওয়াব) তোমার। আর হে মা'ন! তুমি যা নিয়েছ তাও তোমার। (বুখারী )
٦ - وَعَنْ أَبِي إِسْحَاقَ . سَعْدِ بْنِ أَبِى وَقَاصِ مَالِكِ بْنِ و مالك بن وَهَيْبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ ابْنِ زُهْرَةَ بن كلاب بن مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُوَنِ الْقُرَشِيِّ الزُّهْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَحَدِ الْعَشَرَةِ الْمَشْهُودِ لَهُمْ بِالْجَنَّةِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ قَالَ جَاءَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ مِنْ وَجَعِ اشْتَدَّ بِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي قَدْ بَلَغَ بِي مِنَ الْوَجَعِ مَا تَرَى وَأَنَا ذُومَال وَلَا يَرِثُنِي إِلَّا إِبْنَةٌ لِى أَفَأَتَصَدِّقُ بثلثي مالي؟ قَالَ "لا" قُلْتُ فَالشَّطْرُ يَا رَسُولَ الله؟ فَقَالَ "لا قُلْتُ فَالقُلتُ يَا رَسُوْلَ الله؟ قَالَ الثَّلْتُ كَثيرٌ أَوْ كَبير انَّكَ اَنْ تَدَرَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ وَأَنَّكَ لَنْ تُنْفَقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ الله الا أَجْرْتَ عَلَيْهَا حَتَّى مَا تَجْعَلُ في في امْرَأَتكَ قَالَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ الله أَخَلَّفُ بَعْدَ أَصْحَابي ؟ قَالَ انَّكَ لَنْ تُخَلَّفَ فَتَعْمَلَ عَمَلاً تَبْتَغى به وجه الله الا ازْدَدَتَ . دَرَجَةً وَرَقْعَهُ وَلَعَلَّكَ أَنْ تُخَلَفَ حَتَّى يَنْتَفِعَ بِكَ أقوام وَيُضَرٌ بِكَ أَخَرُونَ اللهُم أمْضِ لِأَصْحَابِى هِجْرَتَهُمْ وَلَا تَرُدُّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ لَكِنِ الْبَائِسُ سَعْدُ بْنُ خَوْلَةَ يَرْتَى لَهُ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أنْ مَاتَ بمَكة - مُتَّفَقٌ عَلَيْه .
৬। আবু ইসহাক সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর একজন। তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জের বছর খুব রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার রোগের অবস্থা তো আপনি দেখছেন৷ আর আমি একজন ধনবান লোক। আমার ওয়ারিস একমাত্র আমার কন্যাই। আমি কি আমার সম্পদের তিন ভাগের দুই ভাগ সাদাকা করে দেব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ না। আমি আবার বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে অর্ধেক? তিনি বলেন: না। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে তিন ভাগের এক ভাগ (দান করে দিই)? তিনি বলেন: তিন ভাগের এক ভাগই দান কর। আর এটা অনেক বেশি অথবা অনেক বড়। তোমার ওয়ারিসগণকে মানুষের নিকট হাত পাতার মত নিঃসম্বল অবস্থায় না রেখে তাদেরকে ধনবান রেখে যাওয়াই উত্তম। তুমি আল্লাহ্র সন্তোষ লাভের জন্য যাই ব্যয় কর না কেন, এমনকি তোমার স্ত্রীর মুখে যা তুলে দেবে তারও প্রতিদান তোমাকে নিশ্চয়ই দেয়া হবে। আৰু ইসহাক (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি আমার সংগীগণের পেছনে (হিজরাতের পর মক্কায়) রয়ে যাব? তিনি বলেন : তুমি থেকে গিয়ে আল্লাহ্র সন্তোষ লাভের জন্য যে কাজই কর না কেন, তাতে তোমার মর্যাদা ও সম্মান অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। খুব সম্ভব তুমি থেকে যাবে। তখন অনেকে তোমার দ্বারা উপকৃত হবে, আবার অনেকে তোমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হে আল্লাহ! আমার সাথীদের হিজরাত সম্পন্ন কর এবং তাদেরকে পেছনে ফিরিয়ে দিও না। তবে সা'দ ইবনে খাওলা কিন্তু সত্যিই কৃপার পাত্র। মক্কায় তার মৃত্যুতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমবেদনা প্রকাশ করেন। (বুখারী, মুসলিম)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْن صَخْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ تَعَالى لا يَنظُرُ إِلَى أَجْسَامِكُمْ وَلَا إِلى صُوَرِكُمْ ولكن ينظر إلى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ - رَوَاهُ مُسْلِمٌ
৭। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তোমাদের শরীর ও চেহারার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেন না, বরং তোমাদের মনের ও কর্মের দিকে দৃষ্টিপাত করেন। (মুসলিম)
وَعَنْ أَبِي مُوسَى عَبْدِ اللهِ بْنِ قَيْسِ الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَن الرّجُل يُقَاتِلُ شَجَاعَةٌ وَيُقَاتِلُ حَمِيَّةٌ وَيُقَاتِلُ رِيَاء أَيُّ ذَلِكَ فِي سَبِيلِ اللهِ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَاتَلَ لِتَكُوْنَ كَلِمَةُ اللهِ هِيَ الْعُلْيَا فَهُوَ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ )
৮। আবু মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হল, কোন ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে, আর কেউ আত্মসম্মান ও বংশগত মর্যাদার জন্য লড়াই করে, আবার কোন লোক প্রদর্শনেচ্ছায় লড়াই করে, এদের মধ্যে কে আল্লাহ্র পথে (লড়াই করে)? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহ্ কালেমা সমুন্নত করার জন্য লড়াই করে সে-ই আল্লাহ্র পথে। (বুখারী, মুসলিম)
- وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ نُفَيْعِ بْنِ الْحَارِثِ الثَّقَفِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ قُلْتُ يَا رَسُولَ الله هذا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُول؟ قَالَ إِنَّهُ كَانَ حَرِيصًا عَلَى قَبْلِ صَاحِبِهِ (مُتَّفَقٌ عَلَيْه).
৯। আবু বাকরা নুফাই ইবনুল হারিস আস-সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: দু'জন মুসলিম তাদের নিজ নিজ তরবারি নিয়ে পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হলে হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়ই জাহান্নামী। আৰু বাকরা (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ তো হত্যাকারী, নিহত ব্যক্তির কি হল (যে, সেও জাহান্নামী)? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সেও তার প্রতিপক্ষকে হত্যা করার আকাঙ্ক্ষী ছিল । (বুখারী, মুসলিম)
١٠ - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاةُ الرَّجُلِ فِي جَمَاعَةٍ تَزِيْدُ عَلَى صَلَاتِهِ فِى سُوقِهِ وَبَيْتِهِ بِضُعًا وَعِشْرِينَ دَرَجَةً وَذَلِكَ أَنْ أَحَدَهُمْ إِذَا تَوَضًا فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ أَتَى الْمَسْجِدَ لَا يُرِيدُ إِلا الصَّلاةَ لَا يَنْهَرُهُ إِلا الصَّلاةُ لَمْ يَخْطُ خُطُوَةٌ إِلَّا رُفِعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ وَحُطْ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ حَتَّى يَدْخُلَ الْمَسْجِدَ فَإِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ كَانَ فِي الصَّلاةِ مَا كَانَتِ الصَّلاةُ هِيَ تَحْبِسُهُ وَالْمَلَائِكَةُ يُصَلُّونَ عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مَجْلِسِهِ الَّذِي صَلَّى فِيهِ يَقُولُونَ اللَّهُمُ ارْحَمْهُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُم تُبْ عَلَيْهِ مَا لَمْ يُؤْذِ فِيْهِ مَا لَمْ يُحْدِثُ فِيْهِ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَهُذَا لَفْظُ مُسْلِمٍ وَقَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَرُهُ هُوَ بِفَتْحِ الْيَاءِ وَالْهَا ، وَبِالزَّأَي أَنْ يُخْرِجُهُ وَيُنْهِضُهُ) .
১০। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির জামা'আতে নামায পড়ার সাওয়াব তার বাজারে ও ঘরের নামায অপেক্ষা বিশ গুণেরও বেশি। কারণ কোন ব্যক্তি যখন ভালোভাবে উযু করে শুধু নামাযের উদ্দেশ্যেই মসজিদে আসে এবং নামায ছাড়া অন্য কিছু তাকে উদ্বুদ্ধ করে না, সে মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত তার প্রতি পদক্ষেপে তার এক ধাপ মর্যাদা বর্ধিত হয় এবং তার একটি করে গুনাহ মাফ হয়ে যায়। সে যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন হতে তাকে নামাযের মধ্যে গণ্য করা হয়- যতক্ষণ পর্যন্ত নামায তাকে আটকে রাখে। তোমাদের কেউ যতক্ষণ নামাযের জায়গায় অবস্থান করে এবং (মসজিদে) কাউকেও কষ্ট না দেয়া ও উযু ভঙ্গ না করে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার জন্য এই বলে দু'আ করতে থাকেন; হে আল্লাহ! তার প্রতি দয়া কর, হে আল্লাহ! তাকে মাফ কর, হে আল্লাহ! তাঁর তাওবা কবুল।
١١ - وَعَنْ أَبِي الْعَبَّاس عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيْمَا يَرْوِي عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ إِنَّ اللَّهَ كتب الْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ ثُمَّ بَيْنَ ذَلِكَ فَمَنْ هُم بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلُهَا كَتَبَهَا اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عِنْدَهُ حَسَنَةٌ كَامِلَةً وانْ هَمْ بهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللهُ عَشَرَ حَسَنَاتِ إلى سبعمائة ضعف إلى أَضْعَافِ كَثيرَةٍ وَأَنْ هَمَ بسَيِّئَة فَلَمْ يَعْمَلُهَا كَتَبَهَا اللهُ عندَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً وإِنْ هَمْ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللهُ سَيِّئَةً وَاحِدَةً - مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
১১। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালকের বরাতে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ আল্লাহ সৎ কাজ ও অসৎ কাজ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তারপর তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। অতএব কোন ব্যক্তি কোন সৎ কাজের সংকল্প করে তা না করলেও তাকে আল্লাহ তাআলা একটি পূর্ণ নেকী দান করেন। আর যদি সে উক্ত কাজ করে, তবে আল্লাহ দশ থেকে সাত শত পর্যন্ত, এমনকি তার চেয়েও বেশি সাওয়াব তাকে দান করেন। আর কেউ কোন অসৎ কাজের সংকল্প করে তা না করলে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তাকে একটি পূর্ণ সাওয়াব দান করেন। আর সে সেই অসৎ কাজটি করলে আল্লাহ তার কারণে তার একটিমাত্র গুনাহ লেখেন। (বুখারী, মুসলিম)
۱۲ - وَعَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ انْطَلَقَ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ مِمِّنْ كَانَ قَبْلَكُم حَتَّى أَوَاهُمُ الْمِبَيْتُ إِلى غَارِ فَدَخَلُوهُ فَاتْحَدَرَثَ صَخْرَةٌ مِنَ الْجَبَلَ فَسَدَّتْ عَلَيْهِمُ الْغَارَ فَقَالُوا إِنَّهُ لا يُنْجِيْكُمْ مِنْ هَذِهِ الصَّخْرَةِ إِلا أَنْ تَدْعُوا اللَّهَ بِصَالِحِ أَعْمَالِكُمْ قَالَ رَجُلٌ مِنْهُمُ اللَّهُمْ كَانَ لِى أَبَوَانِ شَيْخَانِ كَبِيرَانِ وَكُنْتُ لَا أَغْبِقُ قبلهما أهلاً وَلا مَالاً فَنَا بِي طَلَبُ الشَّجَرِ يَوْمًا فَلَمْ أَرِحٍ عَلَيْهِمَا حَتَّى نَامَا فَحَلَبْتُ لَهُمَا غَبُوْقَهُمَا فَوَجَدتُهُمَا نَائِمَيْنِ فَكَرِهْتُ أَنْ أَوْقِظَهُمَا وَأَنْ أَغْبِقَ قَبْلَهُمَا أَوْ اهلاً أو مَالاً فَلَبِثْتُ وَالْقَدَحُ عَلَى يَدِى انْتَظِرُ اسْتِيْقَاظَهُمَا حَتَّى بَرِقَ الْفَجْرُ والصِبْيَةُ يَتَضَاغَوْنَ عِنْدَ قَدَمَى فَاسْتَيْقَظَا فَشَرِيَا غَبُوقَهُمَا اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ذلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَفَرِّجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيهِ مِنْ هَذِهِ الصَّخْرَةِ فَانْفَرَجَتْ شَيْئًا لَا يَسْتَطِيعُونَ الْخُرُوجَ مِنْهُ قَالَ الْآخَرُ اللهُمْ إِنَّهُ كَانَتْ لِي إِبْنَةٌ عَمِّ كَانَتْ أَحَبٌ النَّاسِ إِلَى وَفِي رِوَايَةٍ كُنتُ أَحِبُّهَا كَاشَدِ مَا يُحِبُّ الرِّجَالُ النِّسَاءَ فَأَرَدْتُهَا عَلَى نَفْسِهَا فَامْتَنَعَتْ مِنّى حَتَّى المَتْ بهَا سَنَةٌ مِنَ السِّنِينَ فَجَاءَتْنِي فَأَعْطَيْتُهَا عِشْرِينَ وَمِائَةَ دِينَارٍ عَلَى أَنْ تُخَلَّى بَيْنِي وَبَيْنَ نَفْسِهَا فَفَعَلَتْ حَتَّى إِذَا قَدَرْتُ عَلَيْهَا وَفِي رِوَايَةٍ فَلَمًا فَعَدْتُ بَيْنَ رِجُلَيْهَا قَالَتْ اتَّقِ اللَّهَ وَلَا تَفْضُ الْخَاتَمَ الا بحَقِّهِ فَانْصَرَفَتْ عَنْهَا وَهِيَ أَحَبُّ النَّاسِ إِلَى وَتَرَكْتُ الذَّهَبَ الَّذِي أَعْطَيْتُهَا اللهم إن كُنْتُ فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَاخْرُجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيْهِ فَانْفَرَجَتِ الصَّخْرَةُ غَيْرَ أَنَّهُمْ لا يَسْتَطِيعُونَ الخروج مِنْهَا وَقَالَ الثَّالِثُ اللَّهُمُ اسْتَأْجَرْتُ أجراء وَاعْطَيْتُهُمْ أَجْرَهُمْ غَيْرَ رَجُلٍ وَاحِدٍ تَرَكَ الَّذِي لَهُ وَذَهَبَ فَشَمِّرْتُ أَجْرَهُ حَتَّى كَثرَتْ مِنْهُ الْأَمْوَالُ فَجَاءَنِي بَعْدَ حَيْن فَقَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ آدِ إِلَى أَجْرِى فَقُلْتُ كُلُّ مَا تَرَى مِنْ أَجْرِكَ مِنَ الْإِبِلِ وَالْبَقَرِ وَالْغَنَمِ وَالرِّقِيقِ فَقَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ لَا تَسْتَهْزِئُ بِي فَقُلْتُ لا اسْتَهْزِئُ بِكَ فَأَخَذَهُ كُلَّهُ فَاسْتَاقَهُ فَلَمْ يَتْرُكُ مِنْهُ شَيْئًا اللهم إِنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَاخْرُجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيْهِ فَانْفَرَجَتِ الصَّخْرَةُ فَخَرَجُوا يَمْشُونَ مُتَّفَقٌ عَلَيْه.
১২। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের পূর্বকালের তিনজন লোক কোথাও চলার পথে রাত কাটাবার উদ্দেশে এক পর্বত গুহায় আশ্রয় নিল। তারা সেখানে প্রবেশ করার পর একখানা পাথর খসে পড়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ করে দেয়। তারা পরস্পর বলতে লাগল, “তোমরা একমাত্র আল্লাহ্র কাছে তোমাদের খাঁটি আমলকে অসীলা বানিয়ে দু'আ করলে কেবল এই পাথরের বিপদ থেকে মুক্তি পাবে।” তাদের একজন বললঃ হে আল্লাহ! আমার পিতামাতা ছিলেন অত্যধিক বৃদ্ধ। আমি তাঁদেরকে আমার পরিবার, সন্তান ও অধীনস্থদের পূর্বেই দুধ পান করিয়ে দিতাম। একদিন কাঠের সন্ধানে আমাকে বহুদূর যেতে হল এবং যথাসময়ে বাড়ী ফিরে আসতে পারলাম না, ফলে তারা ঘুমিয়ে পড়লেন। আমি তাঁদের রাতে খাওয়ার জন্য দুধ দোহন করে এনে দেখি তাঁরা ঘুমিয়ে রয়েছেন। তখন তাঁদেরকে জাগিয়ে তোলা আমি পছন্দ করলাম না। আবার তাঁদের পূর্বে পরিবারবর্গ ও অধীনস্থদের দুধ খাওয়াতেও পছন্দ করলাম না। কাজেই আমি দুধের পেয়ালা হাতে নিয়ে তাঁদের জাগ্রত হওয়ার অপেক্ষায় রইলাম। এদিকে আমার সন্তানগুলো আমার দুই পায়ের কাছে ক্ষুধায় কান্নাকাটি করছিল। এ অবস্থায় ভোর হয়ে গেল। তারপর তাঁরা জেগে উঠে দুধ পান করেন। হে আল্লাহ! যদি আমি এ কাজটি তোমারই সন্তুষ্টি লাভের জন্য করে থাকি তাহলে এই পাথরের দরুন আমরা যে বিপদে পড়েছি তা দূর করে দাও। এতে পাথরখানা কিছুটা সরে গেল, কিন্তু তার ফাঁক দিয়ে তারা বের হতে পারল না। অন্য একজন বললঃ হে আল্লাহ! আমার এক চাচাত বোন ছিল। আমি তাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতাম। অন্য বর্ণনায় আছে, পুরুষ নারীকে যত বেশি ভালোবাসতে পারে আমি তাকে তত বেশি ভালোবাসতাম। আমি তার সংগে মিলনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলাম, কিন্তু সে রাজী হল না। শেষে এক দুর্ভিক্ষের বছরে সে আমার নিকট এলে আমি তাকে আমার সাথে নির্জনে মিলনের শর্তে এক শত বিশটি স্বর্ণমুদ্রা দিলাম। এতে সে রাজী হয়ে গেল। আমি যখন তাকে পেলাম, অন্য এক বর্ণনায় আছে: যখন আমি তার দুই পায়ের মাঝখানে বসলাম, তখন সে বলল: “আল্লাহকে ভয় কর এবং অবৈধভাবে আমার কৌমার্য নষ্ট করো না।” তখনই আমি তাকে ছেড়ে চলে গেলাম। অথচ মানুষের মধ্যে সে ছিল আমার নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয়। আমি তাকে যে স্বর্ণমুদ্রা দিয়েছিলাম তাও ছেড়ে দিলাম। হে আল্লাহ! আমি যদি এ কাজ তোমারই সন্তোষ লাভের জন্য করে থাকি, তাহলে তুমি আমাদের এই বিপদ দূর করে দাও। এতে পাথর আরও কিছুটা সরে গেল, কিন্তু তাতেও তারা বের হতে পারল না। তৃতীয় ব্যক্তি বলল : হে আল্লাহ! আমি কয়েকজন মজুর রেখেছিলাম। আমি তাদের সবাইকে মজুরী দিলাম, কিন্তু একজন তার মজুরী রেখে চলে গেল। আমি তার মজুরীটা ব্যবসায়ে খাটালাম। তাতে ধন-দৌলত অনেক বেড়ে গেল। কিছুকাল পর সে ব্যক্তি আমার কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্র বান্দা! আমার মজুরী দাও। আমি বললামঃ এই উট, গরু, ছাগল, চাকর যা তুমি দেখছ সবই তোমার। সে বলল, হে আল্লাহ্র বান্দা! তুমি আমার সাথে উপহাস করো না ৷ আমি তাকে বললামঃ আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না। তারপর সে সবকিছু নিয়ে চলে গেল এবং কিছুই রেখে যায়নি। হে আল্লাহ! আমি যদি তোমারই সন্তোষ লাভের জন্য এ কাজ করে থাকি, তবে আমাদের এ বিপদ থেকে মুক্তি দাও। তারপর ঐ পাথর সম্পূর্ণ সরে গেল এবং তারা সকলে হেঁটে বের হয়ে গেল। (বুখারী, মুসলিম)
#মুহাম্মদের_বাণী #ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন