উলামায়ে কিরাম বলেন, প্রতিটি গুনাহ থেকে তাওবা করা ওয়াজিব। যদি গুনাহ আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার বিষয় সংশ্লিষ্ট হয় এবং তার সাথে কোন লোকের হক জড়িত না থাকে তবে তা থেকে তাওবা করার তিনটি শর্ত রয়েছে।
(এক) তাওবাকারীকে গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে। (দুই) সে তার কৃত গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হবে। (তিন) তাকে আর কখনো গুনাহ না করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। যদি কোন লোকের সাথে গুনাহর কাজটি সংশ্লিষ্ট থাকে তাহলে তা থেকে তাওবা করার জন্য উপরোক্ত তিনটি শর্ত ছাড়া আরও একটি শর্ত আছে।
এই চতুর্থ শর্তটি হচ্ছে: তাওবাকারীকে হকদার ব্যক্তির প্রাপ্য আদায় করতে হবে। যদি কারও ধন-সম্পত্তির হক থাকে অথবা এরূপ অন্য কিছু থাকে তবে তা তাকে ফেরত দিতে হবে। দোষারোপ (যেনার অপবাদ) বা এরূপ অন্য কোন বিষয় হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি থেকে তার শাস্তি ভোগ করতে হবে অথবা তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। গীবাত বা পরনিন্দার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে মাফ চেয়ে নিতে হবে। সমস্ত গুনাহ থেকে তাওবা করা ওয়াজিব। কতক গুনাহ থেকে তাওবা করলে তাও গ্রহণযোগ্য হবে এবং অন্যান্য গুনাহ থেকে তাওবা বাকী রয়ে যাবে। কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মাতের ইজমার মাধ্যমে তাওবা করা ওয়াজিব প্রমাণিত হয়েছে।
قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَتُوبُوا إِلَى اللهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ .
মহান আল্লাহ বলেন:
“হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহ্র নিকট তাওবা কর, তাহলে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হবে।” (সূরা আন্ নূর: ৩১)
وَقَالَ تَعَالَى : اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ
(খ) “তোমরা নিজ প্রভুর নিকট গুনাহ মাফ চাও, তারপর তাঁর নিকট তাওবা কর।” (সূরা হূদঃ ৩)
وَقَالَ تَعَالَى : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللهِ تَوْبَةً نَصُوحًا
(গ) “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ্র নিকট খাঁটি তাওবা (তাওবা নাসূহা) কর।” (সূরা আত্ তাহ্রীমঃ ৮)
১. তাওবা নাসূহা করার জন্য তিনটি বিষয় অপরিহার্য: (ক) সমস্ত গুনাহ থেকে তাওবা করতে হবে, (খ) তাওবা করার ব্যাপারে সমস্ত প্রকার সন্দেহ, সংকোচ ও ইতস্ততভাব থেকে মুক্ত হতে হবে এবং (গ) তাওবা বহাল রাখার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে। (অনুবাদক)
۱۳ - وَعَنْ أبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَليه وَسَلَّمَ يَقُولُ وَالله اني لَاسْتَغْفِرُ اللهَ وَآتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةٌ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .
১৩। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ্র শপথ! আমি একদিনে সত্তরবারের অধিক তাওবা করি এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।
ইমাম বুখারী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
١٤ - وَعَنِ الْأَغَرَ بْنِ يَسَارِ الْمُرْنِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللهِ وَاسْتَغْفِرُوهُ فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مرة - رواه مسلم
১৪। আল-আগার ইবনে ইয়াসার আল-মুয়ানি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহ্র কাছে তাওবা কর এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। কেননা আমি দৈনিক শতবার তাওবা করি। (মুসলিম)
١٥ - وَعَنْ أَبِي حَمْزَةَ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ الْأَنْصَارِيِّ خَادِمٍ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَة عَبْدِهِ مِنْ أحَدِكُمْ سَقَطَ عَلَى بَعِيرِهِ وَقَدْ أَضَلَّهُ فِي أَرْضِ فَلاة - مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وفي روايَة لِمُسْلِمَ اللهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ حِيْنَ يَتُوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ عَلَى رَاحِلَتِهِ بِأَرْضِ فَلَاةٍ فَانْفَلَتَتْ مِنْهُ وَعَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ فَابِسَ مِنْهَا فَأَتَى شَجَرَةٌ فَاضْطَجَعَ فى ظلِهَا وَقَدْ أَيسَ مِنْ راحلته فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذَا هُوَ بِهَا قَائِمَةٌ عِنْدَهُ فَأَخَذَ بِخِطَامِهَا ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ اللَّهُمْ أَنْتَ عَبْدِي وَأَنَا رَبُّكَ أَخْطَا من شدة الفرح .
১৫। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম আবু হামযা আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায় তোমাদের ঐ ব্যক্তির চেয়েও বেশি আনন্দিত হন যার উট মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়ার পর সে তা ফিরে পেল। (বুখারী, মুসলিম)
ইমাম মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে: আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায় তোমাদের ঐ ব্যক্তির চেয়েও বেশি আনন্দিত হন যার খাদ্য ও পানীয়সহ তার উট মরুভূমিতে হারিয়ে গেল। সে নিরাশ হয়ে এক গাছের ছায়ায় শুয়ে পড়ল। এহেন নিরাশ অবস্থায় হঠাৎ তার নিকট সেই উটটিকে দাঁড়ানো দেখতে পেয়ে সে তার লাগাম ধরে ফেলল এবং আনন্দের আতিশয্যে বলে উঠল, হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা, আমি তোমার প্রভু! সে আনন্দের আতিশয্যেই ভুল করে ফেলেছে।
١٦ - وَعَنْ أبِي مُوسَى عَبْدِ اللهِ بْنِ قَيْسِ الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللهَ تَعَالَى يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسْئُ النَّهَارِ وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسْئُ اللَّيْلِ حَتَّى تَطْلَعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ .
১৬। আবু মূসা আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত (কিয়ামাত পর্যন্ত) আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতে তাঁর কুদরাতী হাত প্রসারিত করতে থাকবেন, যাতে দিনের গুনাহগার তাওবা করে। আর তিনি প্রতিদিন তাঁর কুদরতী হাত প্রসারিত করতে থাকবেন, যাতে রাতের গুনাহগার তাওবা করে। (মুসলিম)
۱۷ - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَابَ قَبْلَ أنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ- رَوَاهُ مُسْلِمٌ
১৭। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা আল্লাহ কবুল করবেন। (মুসলিম)
۱۸ - وَعَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَن النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلٌ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرُغرُ - رَوَاهُ التِّرْمِذِى وَقَالَ حَديثُ حَسَنُ .
১৮। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বান্দার তাওবা কবুল করেন তার মৃত্যুর লক্ষণ প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত।
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন এবং একে হাসান আখ্যায়িত করেছেন।
١٩ - وَعَنْ زِرِ بْنِ حُبَيْشِ قَالَ أَتَيْتُ صَفْوَانَ بْنَ عَسَالٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَسْأَلُهُ عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَ مَا جَاءَ بِكَ يَا زِرُ؟ فَقُلْتُ ابْتِغَاءَ الْعِلْمِ فَقَالَ إِنْ الْمَلَائِكَةَ تَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ رِضَى بِمَا يَطْلُبُ فَقُلْتُ إِنَّهُ قَدْ حَكَ فِي صَدْرِى الْمَسْحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ بَعْدَ الْغَائط والْبَوْلِ وَكُنتَ امْرَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجِئْتُ أَسْأَلُكَ هَلْ سَمِعْتَهُ يَذْكُرُ فِي ذَلِكَ شَيْئًا ؟ قَالَ نَعَمْ كَانَ يَأْمُرُنَا اذا كُنَّا سَفْرًا أَوْ مُسَافِرِيْنَ أنْ لا تَنْزعَ خَفَافَنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ الأ مِنْ جَنَابَةٍ لَكِنْ مِنْ غَائِطِ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ فَقُلْتُ هَلْ سَمِعْتَهُ يَذْكُرُ فِي الْهَوَى شَيْئًا ؟ قَالَ نَعَمْ كُنَّا مَعَ رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَبَيْنَا نَحْنُ عِنْدَهُ إِذْ نَادَاهُ أَعْرَابِيُّ بِصَوْتٍ لَهُ جَهْوَرِي يَا مُحَمَّدُ فَاجَابَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوًا مِنْ صَوْتِهِ هَاؤُمُ فَقَلْتُ لَهُ وَيْحَكَ أَغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ فَانَّكَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ نُهِيْتَ عَنْ هَذَا فَقَالَ وَاللَّهُ لَا أَغْضُضْ قَالَ الْأَعْرَابِيُّ الْمَرْءُ يُحِبُّ الْقَوْمَ وَلَمَّا يَلْحَقِّ بِهِمْ ؟ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَرُهُ مَعَ مَنْ أَحَبِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَمَا زَالَ يُحَدِّثْنَا حَتَّى ذَكَرَ بَابًا مِنَ الْمَغْرِبِ مَسيرَةُ عَرْضِهِ أَوْ يَسيرُ الرَّاكِبُ فِى عَرْضهِ أَرْبَعِينَ أَوْ سَبْعِينَ عَامًا قَالَ سُفْيَانُ احَدُ الرُّوَاةِ قِبَلَ الشَّامِ خَلَقَهُ اللَّهُ تَعَالَى يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ مَفْتُوحًا للنوبة لا يُغَلَقُ حَتَّى تَطْلَعَ الشَّمْسُ مِنْهُ رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ وَغَيْرُهُ وَقَالَ حَدِيث حسن صحيح صَحِيحٌ.
১৯। যির ইবনে হুবাইশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাফওয়ান ইবনে আস্সাল (রা)-র নিকট মোজার উপর মাসেহ্ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার উদ্দেশ্যে এসেছিলাম। তিনি আমার আসার উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করলে আমি বললাম, জ্ঞান লাভের জন্য এসেছি। তিনি বলেন, ফেরেশতাগণ জ্ঞান অন্বেষণকারীর জ্ঞানচর্চায় সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা তার জন্য বিছিয়ে দেন। আমি বললাম, মলমূত্র ত্যাগের পর মোজার উপর মাসেহ্ করার ব্যাপারে আমার মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
আর আপনি হচ্ছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী। তাই আমি আপনার কাছে জিজ্ঞেস করতে এসেছি, আপনি এ বিষয়ে তাঁর কোন বাণী শুনেছেন কি না। তিনি বলেন ঃ হাঁ, যখন আমরা সফরে থাকতাম, তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের তিন দিন তিন রাত পর্যন্ত জানাবাত (গোসল ফরয হয় যে অপবিত্র অবস্থায়) ছাড়া (উযুর সময় পা ধোয়ার জন্য) পা থেকে মোজা না খুলতে আদেশ করেছেন। তবে মলমূত্র ত্যাগ ও নিদ্রার পর উযু করতে গিয়ে মোজা খুলতে হবে না (অর্থাৎ পা ধুতে হবে না, মাসেহ্ করলেই চলবে) ৷
আমি বললাম, ভালোবাসা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিছু বলতে শুনেছেন কি? তিনি বলেন, হাঁ। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে ছিলাম। আমরা তাঁর নিকট থাকাকালীন হঠাৎ এক বেদুইন উচ্চস্বরে 'হে মুহাম্মাদ' বলে তাঁকে ডাক দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তার মত জোরে আওয়াজ দিয়ে বললেন, বস। আমি তাকে বললাম, আহ! তোমার আওয়াজ নিচু কর। কারণ তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে রয়েছ এবং তোমাকে এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে। লোকটি বলল, আমি আমার আওয়াজ নিচু করব না।
তারপর সে জিজ্ঞেস করল, এক ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়কে ভালোবাসে, অথচ সে এখনও তাদের সাথে মিলেনি। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে যাকে ভালোবাসে সে তারই সাথে কিয়ামাতের দিন থাকবে। এভাবে তিনি কথা বলতে বলতে শেষে পশ্চিম দিকের একটি দরজার কথা বলেন, যার প্রস্থের দূরত্ব পায়ে হেঁটে গেলে অথবা কোন যানবাহনে গেলে চল্লিশ অথবা সত্তর বছর।
সুফিয়ান নামে একজন হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, যেদিন আল্লাহ তাআলা আকাশ ও পৃথিবী তৈরি করেছেন, সেই থেকে (সিরিয়ার দিকে) এই দরজা তাওবার জন্য খোলা রেখেছেন। পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত এ দরজা বন্ধ করা হবে না ।
ইমাম তিরমিযী প্রমুখ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান ও সহীহ হাদীস আখ্যায়িত করেছেন।
- وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ سَعْدِ بْنِ مَالِكِ بْنِ سِنَانِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ نَبِيٍّ الله صلى الله عَليْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَانَ فِيْمَنْ كَانَ قَبْلِكُمْ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةٌ وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَم أَهْلِ الْأَرْضِ فَدَلٌ عَلَى رَاهِبٍ فَأَتَاهُ فَقَالَ إِنَّهُ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَهَل لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ؟ فَقَالَ لا فَقَتَلَهُ فَكَمْلَ بِهِ مِائَةٌ ثُمَّ سَأَلَ عَنْ أَعْلَم اهْلِ الْأَرْضِ قَدْلٌ عَلَى رَجُلٍ عَالِمٍ فَقَالَ إِنَّهُ قَتَلَ مِائَةَ نَفْسٍ فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ؟ فَقَالَ نَعَمْ وَمَنْ يَحُولُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ التَّوْبَةِ؟ انْطَلِقُ إِلَى أَرْضِ كَذَا وَكَذَا فَإِنْ بِهَا
أنَاسًا يَعْبُدُونَ اللهَ تَعَالَى فَاعْبُدِ اللَّهَ مَعَهُمْ وَلَا تَرْجِعُ إِلَى أَرْضِكَ فَإِنَّهَا أَرْضُ سُوءٍ فَانْطَلَقَ حَتَّى إِذَا نَصَفَ الطَّرِيقَ آتَاهُ الْمَوْتُ فَاخْتَصَمَتَ فِيْهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَة وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ فَقَالَتْ مَلائِكَةُ الرَّحْمَة جَاءَ تائبا مُقْبلاً بِقَلْبه الى الله تَعَالى وَقَالَتْ مَلائِكَةُ الْعَذَابِ إِنَّهُ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ فَأَتَاهُمْ مَلَكَ فِي صُوْرَةٍ ادَمي فَجَعَلُوهُ بَيْنَهُمْ أَى حَكَمًا فَقَالَ قِيْسُوا مَا بَيْنَ الْأَرْضِيْنِ قَالَى أَيْتِهِمَا كَانَ أَدْنَى فَهُوَ لَهُ فَقَاسُوا فَوَجَدُوهُ أَدْنَى إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي أَرَادَ فَقَبَضَتُهُ مَلَائِكَةُ :
وَفِي رِوَايَةٍ فِى الصَّحِيحِ فَكَانَ إِلَى الْقَرْيَةِ الصَّالِحَةِ أَقْرَبَ بِشِبْرٍ فَجُعِلَ مِنْ أهْلِهَا وَفِي رِوَايَةٍ فِي الصَّحِيحِ فَأَوْحَى اللهُ تَعَالَى إِلَى هَذِهِ أَنْ تَبَاعَدِي وَإِلَى هذهِ أَنْ تَقَرِّبِي وَقَالَ قِيْسُوا مَا بَيْنَهُمَا فَوَجَدُوهُ إِلَى هَذِهِ أَقْرَبَ بِشِبْرٍ فَغْفِرَ لَهُ وفِي رِوَايَةٍ فَنَأَى بِصَدْرِهِ نَحْوَهَا
২০। আবু সাঈদ সা'দ ইবনে মালিক ইবনে সিনান আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তোমাদের পূর্ববর্তী কালে একজন লোক নিরানব্বইজন মানুষকে হত্যা করার পর দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ আলিমের সন্ধান করল। তাকে একজন সংসারত্যাগী খৃস্টান দরবেশের সন্ধান দেয়া হল। সে তার নিকট গিয়ে বলল যে, সে নিরানব্বইজন লোককে হত্যা করেছে, এখন তার জন্য তাওবার কোন সুযোগ আছে কি? দরবেশ বলল, নেই।
লোকটি দরবেশকে হত্যা করে এক শত সংখ্যা পূর্ণ করল। তারপর আবার সে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ আলিমের সন্ধান করায় তাকে এক আলিমের সন্ধান দেয়া হল। সে তার নিকট গিয়ে বলল যে, সে এক শত লোককে হত্যা করেছে, এখন তার জন্য তাওবার কোন সুযোগ আছে কি? আলিম বললেন, হাঁ, তাওবার সুযোগ আছে। আর তাওবার অন্তরায় কে হতে পারে? তুমি অমুক জায়গায় চলে যাও। সেখানে কিছু সংখ্যক লোক আল্লাহ্র ইবাদাত করছে। তুমিও তাদের সাথে ইবাদাত কর। আর তোমার দেশে ফিরে যেও না। কারণ ওটা খারাপ জায়গা। লোকটি নির্দেশিত জায়গার দিকে চলতে থাকল। অর্ধেক পথ গেলে তার মৃত্যুর সময় এসে পড়ল। তখন রহমতের ফেরেশতা ও আযাবের ফেরেশতার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিল। রহমতের ফেরেশতারা বলেন, এ লোকটি তাওবা করে আল্লাহ্ দিকে ফিরে এসেছে। কিন্তু আযাবের ফেরেশতারা বলেন, লোকটি কখনও কোনো ভালো কাজ করেনি।
এমন সময় আর এক ফেরেশতা মানুষের রূপ ধরে তাদের নিকট এলেন। তারা তাকেই এ বিষয়ে তাদের মধ্যে শালিস মেনে নিলেন। শালিস বলেন: তোমরা উভয় দিকের জায়গার দূরত্ব মেপে দেখ। যে দিকটি নিকটতর হবে সেটিরই সে অন্তর্ভুক্ত। কাজেই জায়গা পরিমাপের পর যে দিকের উদ্দেশে সে এসেছিল তাকে সে দিকটির নিকটবর্তী পাওয়া গেল। ফলে রহমতের ফেরেশতাগণ লোকটির প্রাণ নিলো।( বুখারিও মুসলিম)
বুখারীর অপর বর্ণনায় বলা হয়েছে, ঐ ব্যক্তি সৎ লোকদের জনবসতির দিকে এক বিঘত বেশি নিকটবর্তী হয়েছিল। কাজেই তাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বুখারীর অপর বর্ণনায় আছেঃ আল্লাহ তাআলা একদিকের জমিকে দূরে সরে যেতে এবং অন্যদিকের জমিকে নিকটে আসতে বলে ফেরেশতাদেরকে জমি মাপার হুকুম দিয়েছিলেন। কাজেই তারা সৎ লোকদের জমির দিকে লোকটিকে আধ হাত বেশি নিকটবর্তী দেখতে পেল। তাই তাকে ক্ষমা করে দেয়া হল। অন্য বর্ণনায় আছেঃ সে নিজের বুক ঘষে অসৎ লোকদের জমি থেকে দূরে সরে গেল।
۲۱ - وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكِ وَكَانَ قَائِدُ كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ بَنِيهِ حِيْنَ عَمِيَ قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يُحَدِّثُ بِحَدِيْثِهِ حِيْنَ تَخَلَفَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ قَالَ كَعْب لَمْ اتَخَلَّفْ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا قَطُّ إِلَّا فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ غَيْرَ أَنَّى قَدْ تَخَلَفْتُ فِي غَزْوَةِ بَدْرٍ وَلَمْ يُعَاتَبُ أَحَدٌ تَخَلَّفَ عَنْهُ إِنَّمَا خَرَجَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمُسْلِمُونَ يُرِيدُونَ عِيْرَ قُرَيْشٍ حَتَّى حَتَّى جَمَعَ اللهُ تَعَالَى بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ عَدُوِّهِمْ عَلَى غَيْرِ مِبْعَادٍ وَلَقَدْ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةَ الْعَقَبَةِ حِينَ تَوَاثَقَنَا عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَا أُحِبُّ أَنْ لِي بِها مَشْهَدَ بَدْرٍ وَإِنْ كَانَتْ بَدْرٌ أَذْكَرَ فِي النَّاسِ مِنْهَا .
وَكَانَ مِنْ خَبَرِى حِيْنَ تَخَلَّفْتُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ أَنِّي لم أكن قط أقوى وَلا أَيْسَرَ مِنِى حِيْنَ تَخَلَّفْتُ عَنْهُ فِي تِلْكَ الْغَزْوَةِ والله مَا جَمَعْتُ قَبْلَها راحلتين قَط حَتَّى جَمَعْتُهُمَا فِي تِلْكَ الْغَزْوَةِ وَلَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُرِيدُ غَزْوَةٌ إِلَّا وَرَى بِغَيْرِهَا حَتَّى كَانَتْ تِلْكَ الْغَزْوَةُ فَغَزَاهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَرِّ شَدِيدٍ وَاسْتَقْبَلَ سَفَرَا بَعِيداً وَمَفَارًا وَاسْتَقْبَلَ عَدَدَا كَثِيرًا فَجَلَى لِلْمُسْلِمِيْنَ أَمْرَهُمْ لِيَتَاهُبُوا أَهْبَةَ غَزْوِهِمْ فَأَخْبَرَهُمْ بِوَجْهِهِمُ الَّذِى يُرِيدُ وَالْمُسْلِمُونَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَثِيرٌ وَلَا يَجْمَعُهُمْ كِتَابٌ حَافظ يُريدُ بذلكَ الدِّيوَانَ قَالَ كَعْبٌ فَقَلٌ رَجُلٌ يُرِيدُ أَنْ يَتَغَيَّبَ إِلَّا ظَنِّ أَنَّ ذَلِكَ سَيَخْفَى بِهِ مَا لَمْ يَنْزِلْ فِيْهِ وَحْيَّ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى وَغَزَا رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تِلْكَ الْغَزْوَةَ حينَ طَابَتِ الحِمَارُ وَالظَّلالُ فَأَنَا إِلَيْهَا أَصْعَرُ فَتَجَهْزَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمُسْلِمُونَ مَعَهُ وَطَفِقْتُ أَغْدُوْ لِكَيْ أَتَجَهْزَ مَعَهُ فَارْجِعُ وَلَمْ أَقْضِ شَيْئًا وَأَقُولُ فِي نَفْسِى | ن أنا قَادِر عَلَى ذلِكَ إِذا أَرَدْتُ فَلَمْ يَزَلْ يَتَمَادَى بِي حَتَّى اسْتَمَرَّ بِالنَّاسِ الْجِدُّ فَأَصْبَحَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَادِيًا وَالْمُسْلِمُوْنُ مَعَهُ وَلَمْ أَقْضِ مِنْ جِهَازِى شَيْئًا ثُمَّ غَدَوْتُ فَرَجَعْتُ وَلَمْ اقْضِ شَيْئًا فَلَمْ يَزَلْ يَتَمَادَى بَيْ حَتَّى أَسْرَعُوا وَتَفَارَطَ الْغَزَرُ فَهَمَمْتُ أَنْ أَرْتَحِلَ فَادْرِكَهُمْ فَيَالَيْتَنِي فَعَلْتُ ثُمَّ لَمْ يُقَدِّرُ ذَلِكَ لِي قطفِقْتُ إِذا خَرَجْتُ فِي النَّاسِ بَعْدَ خُرُوجِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْزُنُنِي أني لا أرى لى أَسْوَةً الأَ رَجُلاً مَعْمُوضًا عَلَيْهِ فِي النِّفَاقِ أَوْ رَجُلاً مِمَّنْ عَدَرَ اللهُ تَعَالَى مِنَ الضُّعَفَاءِ وَلَمْ يَذْكُرْنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَلَغَ تَبُوكَ فَقَالَ وَهُوَ جَالِسٌ فِى الْقَوْمِ بِتَبُوكَ مَا فَعَلَ كَعْبُ بْنُ مَالِكَ ؟ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلَمَةَ يَا رَسُولَ الله حَبَسَهُ بُرْداهُ والنظرُ في عَطْفَيْهِ فَقَالَ لَهُ مُعَاذ بنُ جَبَلٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ بِئْسَ مَا قُلْتَ وَاللهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عَلِمْنَا عَلَيْهِ الأَ خَيْرًا فَسَكَتَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَيْنَا هُوَ عَلَى ذلِكَ رَأَى رَجُلاً مُبِيضًا يُزولُ بِهِ السَّرَابُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُنْ آبَا خَيْثَمَةَ فَإِذَا هُوَ أَبُو خَيْثَمَةَ الْأَنْصَارِيُّ وَهُوَ الَّذِي تَصَدِّقَ بِصَاعِ الشَّمْرِ حِيْنَ لَمَزَهُ الْمُنَافِقُونَ قَالَ كَعْبُ فَلَمَّا بَلَغَنى أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ تَوَجُهَ قافِلاً مِّنْ تَبُوكَ حَضَرَنِي بَنِي فَطَفِقْتُ اتَذكَّرُ الْكَذِبَ وَأَقُولُ بِمَا أَخْرُجُ مِنْ سَخَطِهِ غدا واسْتَعينُ عَلى ذلك بكل ذى رأى من أهلي فلما قيلَ إِنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَظَلَّ قَادمًا زَاحَ عَنِى الْبَاطِلُ حَتَّى عَرَفَتُ أَنِّي لَمْ أَنجُ مِنْهُ بِشَيْءٍ أَبَداً فَأَجْمَعْتُ صِدْقَهُ وَأَصْبَحَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَادِمَا وَكَانَ اذا قدمَ مِنْ سَفَر بَدَأُ بِالْمَسْجِد فَركَعَ فيه ركعتين ثُمَّ جَلَسَ للنَّاسِ فَلَمَّا فَعَلَ ذلكَ جَاءَهُ الْمُخَلَّفُونَ يَعْتَدْرُونَ إِلَيْهِ وَيَحْلِفُونَ لَهُ وَكَانُوا بِضَعًا وَثَمَانِينَ رَجُلاً فَقَبِلَ مِنْهُمْ عَلانِيَتَهُمْ وَبَايَعَهُمْ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمْ وَوَكَلَ سَرَائِرَهُمْ إِلَى اللهِ تَعَالَى حتى جنت فَلَمَّا سَلَّمْتُ تَبَسَّمَ تَبَسَّمَ الْمُغْضَبِ ثُمَّ قَالَ تَعَالَ فَجِئْتُ أَمْشِي حَتَّى جَلَسْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ لِى مَا خَلْفَكَ أَلَمْ تَكُنْ قَدِ ابْتَعْتَ ظَهْرَكَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ اِنّى وَاللهِ لَوْ جَلَسْتُ عِنْدَ غَيْرِكَ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا لَرَأَيْتُ إِنِّي سَاخْرُجُ مِنْ سَخَطِهِ بِعُدْرٍ لَقَدْ ُأعْطِيتُ جَدَلاً ولكننى واللهِ لَقَدْ عَلِمْتُ لَئِنْ حَدَّثْتُكَ الْيَوْمَ حَدِيث كَذِبِ تَرْضَى به عَنِّى لَيُوشِكَنَّ اللهُ يُسخطكَ عَلَى وَإِنْ حَدَّثْتُكَ حَديث صِدْقٍ تَجِدُ عَلَى فِيْهِ إِنِّي لَأَرْجُو فِيْهِ عُقْبَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَاللَّهِ مَا كَانَ لِيْ مِنْ
عُدْرٍ وَاللهِ مَا كُنتُ قَط أقوى وَلَا أَيْسَرَ مِنِّي حِيْنَ تَخَلَّفْتُ عَنْكَ. قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ امّا هُذَا فَقَدْ صَدَقَ فَقُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللهُ فِيكَ وَسَارَ رِجَالٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ فَاتَّبَعُونِي فَقَالُوا لِي وَاللَّهِ مَا عَلِمْنَاكَ اذنبت ذَنْبًا قَبْلَ هذا لَقَدْ عَجَزْتَ فى أَنْ لا تَكُونَ اعْتَذَرْتَ إِلَى رَسُول الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَا اعْتَذَرَ بِهِ إِلَيْهِ الْمُخَلَّفُونَ فَقَدْ كَانَ كَافَيَكَ ذَنْبَكَ اسْتِغْفَارُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَكَ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا زَالُوا يُؤْنَبُونَنِي حَتَّى أَرَدْتُ
أنْ أَرْجِعَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَا كَذِبَ نَفْسِي ثُمَّ قُلْتُ لَهُمْ هَلْ
لَقِيَ هَذَا مَعِيَ مِنْ أَحَدٍ ؟ قَالُوا نَعَمْ لَقِيَهُ مَعَكَ رَجُلانِ قَالَا مِثْلَ مَا قُلْتَ وَقِيلَ لَهُمَا مِثلَ مَا قِيلَ لَكَ قَالَ قُلْتُ مَنْ هُمَا؟ قَالُوا مُرَارَةُ بْنُ الرَّبِيعِ الْعَمْرِي وَهِلَالُ بن أمية الواقفِيُّ قَالَ فَذَكَرُوا لِى رَجُلَيْنِ صَالحَيْن قَدْ شَهِدَا بَدْرًا فِيهِمَا أَسْوَةٌ قَالَ فَمَضَيْتُ حينَ ذَكَرُوهُمَا لى ونَهى رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كَلامَنَا أيُّهَا الثلاثَةُ مِنْ بَين مَنْ تَخَلَّفَ عَنْهُ قَالَ فَاجْتَنَبْنَا النَّاسُ أَوْ قَالَ تَغَيَّرُوا لَنَا حَتَّى تَنَكَّرَتْ لِي فِي نَفسى الأَرْضُ فَمَا هِىَ بِالْأَرْضِ الَّتِي أَعْرِفُ فَلَبِثْنَا عَلَى ذلِكَ خَمْسِينَ لَيْلَةً فَأَمَّا صَاحِبَايَ فَاسْتَكَانَا وَقَعَدَا فِي بُيُوتِهِمَا يَبْكِيَانِ وَأَمَّا أَنَا فَكُنْتُ أَشَبِّ الْقَوْمِ وَأَجْلَدَهُمْ فَكُنْتُ أَخْرُجُ فَأَشْهَدُ الصَّلَاةَ مَعَ الْمُسْلِمِينَ وَاطُوفُ فِي الْأَسْوَاقِ وَلَا يُكَلِّمُنِى أَحَدٌ وَاتِى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَسَلِمُ عَلَيْهِ وَهُوَ فِي مَجْلِسِهِ بَعْدَ الصَّلاةِ فَأَقُولُ فِى نَفْسِي هَلْ حَرَكَ شَفَتَيْهِ بِرَدِ السلام أم لا ؟ ثُمَّ أَصَلَّى قَرِيبًا مِنْهُ وَأَسَارِقَهُ النَّظَرَ فَإِذَا أَقْبَلْتُ عَلَى صَلَاتِي نَظَرَ إلَى وَإِذَا الْتَفَتْ نَحْوَهُ أَعْرَضَ عَنِّى حَتَّى إِذَا طَالَ ذَلِكَ عَلَى مِنْ جَفْوَةِ الْمُسْلِمِينَ مَشَيْتُ حَتَّى تَسَوِّرْتُ جِدَارَ حَائِطِ أَبِي قَتَادَةَ وَهُوَ ابْنُ عَمِّى وَأَحَبُّ النَّاسِ إِلَى فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَوَالله مَا رَدَّ عَلَى السَّلَامَ فَقُلْتُ لَهُ يَا أَبَا قَتَادَةَ انْشُدُكَ بالله هَلْ تَعْلَمُنِي أُحِبُّ اللهَ وَرَسُولَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَسَكَتَ فَعُدْتُ فَنَاشَدَتُهُ فَسَكَتَ فَعُدتُ فَنَا شَدْتُه فَقَالَ اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ فَفَاضَتْ عَيْنَايَ وَتَوَلَّيْتُ حَتَّى تَسَورْتُ الْجِدَارَ فَبَيْنَا أَنَا أَمْشِي فِى سُوقِ الْمَدِينَةِ إِذَا نَبَطِيِّ مِّنْ نَبَطِ أَهْلِ الشَّامِ مِمَّنْ قَدِمَ بِالطَّعَامِ يَبِيعُهُ بِالْمَدِينَةٍ يَقُولُ مَنْ يَدُلُّ عَلَى كَعْبِ بْنِ مَالِكَ؟ فَطَفِقَ النَّاسُ يُشيرُونَ لَهُ إِلَى حَتَّى جَاءَنِي فَدَفَعَ إِلَى كِتَابًا مِّنْ مَلَكَ غَسَّانَ وَكُنْتُ كاتبًا فَقَرَأَتُهُ فَإِذَا فِيهِ : أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّهُ قَدْ بَلَغَنَا أَنْ صَاحِبَكَ قَدْ جَفَاكَ وَلَمْ
يَجْعَلَكَ اللهُ بِدَارِ هَوَانٍ وَلَا مَضْيَعَةٍ فَالْحَقِّ بِنَا نُوَاسِكَ فَقُلْتُ حِيْنَ قَرَأَتُهَا وَهَذِهِ
أيْضًا مِّنَ الْبَلاء فَتَيَمَمْتُ بهَا التَّنُّورَ فَسَجَرْتُهَا حَتَّى إِذَا مَضَتْ أَرْبَعُونَ مِنَ الْخَمْسَيْنَ وَاسْتَلَبَتْ الْوَحْى إِذَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْتِيْنِيَ فَقَالَ انَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأمُرُكَ أَنْ تَعْتَزِلَ امْرَأَتَكَ فَقُلْتُ أطلقها أمْ مَاذَا افْعَلُ؟ قَالَ لا بَلْ إعْتَزِلُهَا فَلا تَقْرَبَنهَا وَأَرْسَلَ إِلَى صَاحِبَى بِمِثْلِ ذَلِكَ فَقُلْتُ الاِمْرَأَتِي الْحَقِى بِأَهْلِكِ فَكُونِى عِنْدَهُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ فِي هَذَا الْأَمْرِ فَجَاءَتْ امْرَاةُ هلال بن أُمَيَّةَ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ هِلَالَ بْنَ أُمَيَّةَ شَيْخٌ ضَائِعٌ لَيْسَ لَهُ خَادِمٌ فَهَلْ تَكْرَهُ أَنْ أَخْدُمَهُ؟ قَالَ لَا ولكن لا يَقْرَبَنَّكَ فَقَالَتْ إِنَّهُ وَاللهِ مَا بِهِ مِنْ حَرَكَةِ إِلَى شَيْءٍ وَوَاللَّهِ مَا زَالَ يَبْكِي
مُنْذُ كَانَ مِنْ أَمْرِهِ مَا كَانَ إِلَى يَوْمِهِ هَذا فَقَالَ لِي بَعْضُ أَهْلِي لَوِ اسْتَأْذَنَتَ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى امْرَأَتِكَ فَقَد أَذنَ لِامْرَأَةِ هلالِ بْنِ أُمَيَّةَ أَنْ تخدمة ؟ فَقُلْتُ لا اسْتَأْذِنُ فِيهَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا يُدْرِينِي مَاذَا يَقُولُ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذا اسْتَأْذَنْتُهُ فِيهَا وَأَنَا رَجُلٌ شَابٌ
فَلَبِثْتُ بِذلِكَ عَشْرَ لَيَالٍ فَكَمَلَ لَنَا خَمْسُونَ لَيْلَةً مِنْ حِيْنَ نُهِيَ عَنْ كَلَامِنَا . ثُمَّ صَلَّيْتُ صَلَاةَ الْفَجْرِ صَبَاحَ خَمْسِينَ لَيْلَةً عَلَى ظَهْرِ بَيْتٍ مِّنْ بُيُوتِنَا فَبَيْنَا أَنَا جالس عَلَى الحال التي ذكَرَ اللهُ تَعَالَى مِنَّا قَدْ ضَاقَتْ عَلَى نَفْسِى وَضَاقَتْ عَلَى الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ سَمِعْتُ صَوْتَ صَارِحَ أَوْفَى عَلَى سَلْعِ يَقُولُ بِأَعْلَى صَوْتِهِ يَا كَعْبَ بْنَ مَالِكِ أَبْشِرُ فَخَرَرْتُ سَاجِداً وَعَرَفْتُ أَنَّهُ قَدْ جَاءَ فَرَجٌ فَأْذَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّاسَ بِتَوْبَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْنَا حِيْنَ صَلَى صَلاةَ الْفَجْرِ فَذَهَبَ النَّاسُ يُبَشِرُونَنَا فَذَهَبَ قِبَلَ صَاحِبَيٍّ مُبَشِرُونَ وَرَكَضَ رَجُلٌ إِلَى فَرَسًا وَسَعَى سَاعٍ مِنْ أَسْلَمَ قِبَلِى وأوفى عَلَى الْجَبَلِ وَكَانَ الصَّوْتُ أَسْرَعَ مِنَ الْفَرَسِ فَلَمَّا جَاءَنِي الَّذِى سَمِعْتُ صَوْتَهُ يُبَشِرْنِي نَزَعْتُ لَهُ ثَوْبَيٍّ فَكَسَوْتُهُمَا
أيَّاهُ بِبَشارَتِهِ وَاللهِ مَا أَمْلِكُ غَيْرَهُمَا يَوْمَئِذٍ وَاسْتَعَرْتُ ثَوْبَيْنِ فَلِبِسْتُهُمَا وانْطَلَقْتُ أَتَاهُمُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَلَقَّانِي النَّاسُ فَوْجًا فَوْجًا يُهننونني بالتّوبَة وَيَقُولُونَ لى لتهنكَ تَوْبَةُ الله عَلَيْكَ حَتَّى دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَاذَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ حَوْلَهُ النَّاسُ فَقَامَ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يُهَرُولُ حَتَّى صَافَحَنِى وَهَنَانِى وَاللَّهِ مَا قَامَ رَجُلٌ مِنَ الله الْمُهَاجِرِينَ غَيْرُهُ فَكَانَ كَعْبُ لا يَنْسَاهَا لطَلْحَةَ قَالَ كَعْبٌ فَلَمَّا سَلَّمْتُ عَلَى رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَهُوَ يَبْرُقُ وَجْهُهُ مِنَ السُّرُورِ أَبشر بخير يَوْمٍ مَرَّ عَلَيْكَ مُذْ وَلَدَتْكَ أَمُّكَ فَقُلْتُ آمَنْ عِندَكَ يَارَسُولَ اللهِ أمْ مِنْ عِنْدِ اللهِ ؟ سر قَالَ لا بَلْ مِنْ عِنْدِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا . اسْتَنَارَ وَجْهُهُ حَتَّى كَانَ وَجْهَهُ قِطْعَهُ قَمَرِ وَكُنَّا نَعْرِفُ ذَلكَ مِنْهُ فَلَمَّا جَلَسْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنْ مِنْ تَوْبَتِي أَنْ أَنْخَلِعَ مِنْ مَالِي صَدِّقَةٌ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْسِكَ عَلَيْكَ بَعْضَ مَالِكَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ فَقُلْتُ انّى أَمْسَكَ سَهُمى الذي بخَيْبَرَ وَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهَ انَّ اللهَ . تَعَالَى إِنَّمَا أَنجَانِي بالصَّدْقِ وَإِنَّ مِنْ تَوْبَتِى أَنْ لَا أُحَدِّثَ الأَ صِدْقًا مَا بَقِيْتُ فَوَالله مَا عَلِمْتُ أَحَداً مِنَ الْمُسْلِمِينَ ابْلاَهُ اللهُ تَعَالَى فِي صِدْقِ الْحَدِيثِ مُنْدُ ذكَرْتُ ذلكَ الرَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْسَنَ مِمَّا أَبْلَانِيَ اللهُ تَعَالَى والله مَا تَعَمَّدْتُ كَذَّبَةٌ مُنْذُ قُلْتُ ذلك لرَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلى يَوْمِن هذا وَأَنِّي لَأَرْجُو أَنْ يَحْفَظْنِي اللهُ تَعَالَى فِيمَا بَقِى . قَالَ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى القَدْ تَابَ ى . الله عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ) حَتَّى بَلَغَ : (إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ وَعَلَى الثّلاثَةِ الَّذِيْنَ خُلْفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ). حَتَّى بَلَغَ : (وَاتَّقُوا اللهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ) (التوبة : ۱۱۹-۱۱۷) قَالَ كَعْب وَاللهِ مَا انْعَمَ اللَّهُ عَلَى مِنْ نِعْمَةٍ قَط بَعْدَ إِذْ هَدَانِيَ
اللهُ لِلإسْلامِ أَعْظَمَ فِي نَفْسِي مِنْ صِدْقِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ لَا اكُوْنَ كَذَبْتُهُ فَأَهْلَكَ كَمَا هَلَكَ الَّذِيْنَ كَذَّبُوا إِنَّ اللهَ تَعَالَى قَالَ لِلَّذِيْنَ كَذَّبُوا حِيْنَ أنزَلَ الْوَحْيَ شَرِّ مَا قَالَ لِأَحَدٍ فَقَالَ اللهُ تَعَالَى سَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إليهم لتُعْرِضُوا عَنْهُمْ فَأَعْرِضُوا عَنْهُمْ أَنَّهُمْ رِجْسٌ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ . يَحْلِفُونَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنْ تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَرْضَى عَنِ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ) (التوبة : ٩٥، ٩٦)
قَالَ كَعْبٌ كُنَّا خُلِفْنَا أَيُّهَا الثَّلاثَةُ عَنْ أمْر أولئك الذينَ قَبلَ مِنْهُمْ رَسُولُ الله . صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِيْنَ خَلَفُوا لَهُ فَبَايَعَهُمْ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمْ وَأَرْجَأَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْرَنَا حَتَّى قَضَى اللهُ تَعَالَى فيه بذلكَ قَالَ اللهُ تَعَالَى (وَعَلَى الثّلاثَةِ الذِيْنَ خُلِفُوا وَلَيْسَ الَّذى ذكَرَ مِمَّا خُلَقْنَا تَخَلَقْنَا عَنِ الْغَزْوِ وَأَنَّمَا هُوَ تَخْلِيْفُهُ أَيَّانَا وَارْجَاؤُهُ أَمْرَنَا عَمِّنْ حَلَفَ لَهُ وَاعْتَذَرَ إِلَيْهِ فَقَبلَ مِنْهُ - متَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ فِي عَزْوَةِ تَبُوكَ يَوْمَ الْخَمِيسِ وَكَانَ يُحِبُّ أَنْ يَخْرُجَ يَوْمَ الْخَمِيسِ وَفِي رِوَايَةٍ وَكَانَ لَا يَقْدَمُ مِنْ سَفَرٍ الا نَهَاراً فِي الضُّحى فَإِذَا قَدِمَ بَدَأُ بِالْمَسْجِدِ فَصَلَّى فِيْهِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ فِيْهِ.
২১। কা'ব ইবনে মালিক (রাঃ)-এর পুত্র আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। কা'ব ইবনে মালিক (রা) অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তাঁর পুত্রদের মধ্যে আবদুল্লাহ তাঁর পরিচালক ছিলেন। আবদুল্লাহ বলেন, তাবুকের জিহাদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে না গিয়ে পেছনে রয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আমি কা'ব ইবনে মালিক (রাঃ)-এর বক্তব্য শুনেছি। কা'ব বলেন, তাবুকের জিহাদ ছাড়া আমি কোনো জিহাদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আলাদা ছিলাম না। তবে বদরের জিহাদ থেকেও আমি দূরে রয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু এই জিহাদে যারা শরীক হননি তাদের কাউকে শাস্তি দেয়া হয়নি ।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুসলিমগণ কুরাইশদের ব্যবসায়ী কাফিলার ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নেবার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলেন। অবশেষে আল্লাহ তাআলা (বাহ্যত) অসময়ে মুসলমানদেরকে তাদের দুশমনদের সাথে সংঘর্ষের সম্মুখীন করে দিলেন। আমরা আকাবার রাতে যখন ইসলামের উপর কায়েম থাকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। যদিও বদরের জিহাদ মানুষের মধ্যে বেশি স্মরণীয়, তবুও আমি আকাবায় উপস্থিতির বদলে বদরের উপস্থিতিকে অধিক প্রিয় মনে করি না।
তাবুকের জিহাদে আমার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে না যাওয়ার বিবরণ এই যে, এই জিহাদের সময় আমি যতটা শক্তিশালী ও ধনবান ছিলাম এতটা আর কোন সময় ছিলাম না। আল্লাহ্র শপথ! এ জিহাদের সময় আমার দু'টি উট ছিল কিন্তু এর পূর্বে আমার দু'টি উট ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও জিহাদে যাওয়ার ইচ্ছা করলে ( সরাসরি না বলে ইংগিতবহ শব্দ দ্বারা) অন্যভাবে তা প্রকাশ করতেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যধিক গরমের সময় তাবুকের জিহাদে যান। সফর ছিল অনেক দূরের। অঞ্চল ছিল খাদ্য ও পানিহীন। আর শত্রুসৈন্যের সংখ্যাও ছিল বেশি। তাই তিনি মুসলিমদের কাছে এই জিহাদের কথা খুলে বলে দিলেন, যাতে সবাই জিহাদের জন্য ঠিকমত প্রস্তুত হতে পারেন। তিনি তাঁদেরকে তাঁর ইচ্ছা জানিয়ে দিলেন। বহু মুসলিম মুজাহিদ এ জিহাদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। সে সময়ে তাঁদের নাম তালিকাভুক্ত করার জন্য কোন রেজিস্ট্রি বই ছিল না। কা'ব (রাঃ) বলেন, যে লোক জিহাদে যোগদান না করে আত্মগোপন করতে চাইতো সে অবশ্যই মনে করত যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার সম্পর্কে ওহী নাযিল না হবে ততক্ষণ তার ভূমিকা গোপন থাকবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এ জিহাদে যান তখন গাছে ফল পেকে গিয়েছিল এবং গাছপালার ছায়াও আরামদায়ক হয়ে উঠেছিল। আমি এসবের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম। যাহোক, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথে মুসলিমগণ প্রস্তুতি শুরু করলেন। আমিও তাঁর সাথে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতির উদ্দেশে সকাল বেলা যেতাম বটে, কিন্তু কোন কিছু না করেই ফিরে আসতাম এবং মনে মনে ভাবতাম যে, আমি ইচ্ছা করলেই এ কাজ করতে পারব। এভাবে গড়িমসি করতে করতে অনেক দিন চলে গেল, এমনকি লোকেরা সফরের জোর প্রস্তুতি নিয়ে ফেলল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম মুজাহিদদের নিয়ে রওয়ানা হলেন, কিন্তু আমি কোন প্রস্তুতিই নিলাম না। কিছু কাল আমার এই গড়িমসি চলতে লাগল। ওদিকে মুজাহিদগণ দ্রুত অগ্রসর হয়ে গিয়েছেন এবং জিহাদও সন্নিকটে। আমি তখন লক্ষ্য করলাম যে, রওয়ানা হয়ে যাওয়ার পর আমি যখন লোকদের মধ্যে চলাফেরা করতাম, তখন যাদেরকে মুনাফিক বলা হত এবং যাদেরকে আল্লাহ অক্ষম ও দুর্বল বলে গণ্য করেছিলেন সেই রকমের লোক ছাড়া আর কাউকে আমার মত ভূমিকায় দেখতে পেতাম না। এ অবস্থা আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিত ৷
তাবুকে পৌঁছা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথা স্মরণ করেননি। তাবুকে তিনি লোকজনের মধ্যে বসা অবস্থায় জিজ্ঞেস করলেন, কা'ব ইবনে মালিক কি করল? বনূ সালেমার একজন বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাকে তার চাদর ও শরীরের দুই পার্শ্বদেশ দর্শন আটকে রেখেছে। মু'আয ইবনে জাবাল রাদিআল্লাহু আনহু তাকে বলেন, তুমি যা বললে তা খারাপ কথা। আল্লাহ্র শপথ! ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা তো তার ব্যাপারে ভালো ছাড়া আর কিছু জানি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন। এমন অবস্থায় তিনি সাদা পোশাক পরিহিত একজন লোককে মরুভূমির মরীচিকার মধ্য দিয়ে আসতে দেখে বলেন, তুমি আবু খাইসামা? দেখা গেল তিনি সত্যিই আবু খাইসামা আনসারী (রাঃ)। আর আবু খাইসামা হচ্ছেন সেই ব্যক্তি মুনাফিকরা যাঁকে টিটকারি দিয়েছিল তিনি এক সা খেজুর দান করেছিলেন বলে। কা'ব (রাঃ) বলেন, যখন তাবুক থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লমের ফিরে আসার খবর পেলাম তখন আমার খুব দুশ্চিন্তা হল। তাই মিথ্যা ওজর ভাবতে লাগলাম। (মনে মনে) বলতে লাগলাম, কিভাবে তাঁর অসন্তোষ থেকে বাঁচতে পারি। আমার পরিবারবর্গের বুদ্ধিমান লোকদের নিকট সাহায্য চাইলাম। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসছেন বলে খবর পাওয়া গেল, তখন মিথ্যা বলার ইচ্ছা দূর হয়ে গেল, এমনকি কোন কিছু দ্বারা মুক্তি পাব না বলে বুঝতে পারলাম, তাই সত্য কথা বলার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করলাম।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এলেন। আর তিনি সফর থেকে ফিরে এসে প্রথমে মসজিদে গিয়ে দুই রাক'আত নামায আদায় করতেন, তারপর লোকজনের সামনে বসতেন। এ নিয়ম অনুযায়ী তিনি যখন বসলেন, তখন যারা এ জিহাদে যোগদান করেনি, তারা শপথ করে ওজর পেশ করতে লাগল। এরূপ লোক ছিল আশিজনের বেশি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য গ্রহণ করলেন, তাদের বাইয়াত গ্রহণ করলেন এবং তাদের গুনাহ্র জন্য আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাদের গোপন অবস্থা আল্লাহ্র নিকট সোপর্দ করলেন। অবশেষে আমি হাযির হয়ে যখন সালাম দিলাম, তিনি রাগের হাসি হাসলেন, তারপর কাছে ডাকলেন। আমি তাঁর সামনে গিয়ে বসে পড়লাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন পেছনে রয়ে গেলে? তুমি তোমার বাহন কিনেছিলে না? কা'ব (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি যদি আপনি ছাড়া অন্য কোন দুনিয়াদার লোকের সামনে বসতাম, তাহলে কোন ওজর দ্বারা তার অসন্তোষ থেকে বাঁচবার পথ দেখতে পেতাম। যুক্তি প্রদর্শনের যোগ্যতা আমার আছে। আল্লাহ্র শপথ! আমি জানি, যদিও আজ আমি আপনার নিকট মিথ্যা কথা বললে তাতে আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন, কিন্তু আল্লাহ আপনাকে আমার প্রতি অতি শীঘ্রই অসন্তুষ্ট করে দেবেন। আর সত্য কথা বলায় আপনি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হলেও আমি আল্লাহ্র নিকট ভাল পরিণতির আশা করি । আল্লাহ্ শপথ! আমার কোন ওজর ছিল না। আল্লাহ্র শপথ! এ জিহাদে আপনার সাথে না গিয়ে পেছনে রয়ে যাওয়ার সময় আমি যতটা শক্তিমান ও অর্থশালী ছিলাম অতটা অন্য কোন সময় ছিলাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে সত্য কথাই বলেছে। আচ্ছা উঠে যাও। তোমার ব্যাপারে আল্লাহ কোন ফায়সালা করা পর্যন্ত দেখা যাক।
বনী সালেমার কয়েকজন লোক আমার পেছনে পেছনে এসে আমাকে বলতে লাগল, আল্লাহ্ শপথ। ইতিপূর্বে তুমি কোন অপরাধ করেছ বলে আমরা জানি না। তুমি কি অন্য লোকদের মত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওজর পেশ করতে পারলে না? তোমার গুনাহর জন্য আল্লাহ্র নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষমা প্রার্থনাই তো যথেষ্ট হয়ে যেত। এরা আমাকে এত তিরস্কার করতে লাগল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে গিয়ে নিজেকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করার আমার ইচ্ছা হল। তারপর আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, আমার মত এরূপ ব্যাপার আর কারও ঘটেছে কি? তারা বলল, হাঁ আরও দু'জনের ব্যাপারও তোমার মতই ঘটেছে। তুমি যা বলেছ, তারাও সেই রকমই বলেছে। আর তোমাকে যা বলা হয়েছে, তাদেরকেও তাই বলা হয়েছে। কা'ব (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, সে দু'জন কে কে? লোকেরা বলল, তারা হচ্ছেন মুরারা ইবনে রবীআ আমেরী ও হিলাল ইবনে উমাইয়া ওয়াকেফী (রাঃ)।
কা'ব (রাঃ) বলেন, লোকেরা আমাকে যে দু'জন লোকের নাম বলল, তারা ছিলেন খুবই সৎ ও আদর্শ পুরুষ এবং বদরের জিহাদে তারা যোগদান করেছিলেন। কা'ব বলেন, লোকেরা উক্ত দু'জনের খবর দিলে আমি আমার পূর্বের নীতির উপর অবিচল রইলাম।
যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল তাদের মধ্য থেকে আমাদের তিনজনের সাথে লোকদেরকে কথা বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করে দিলেন। কাজেই সব লোক আমাদের নিকট থেকে দূরে থাকতে লাগল (অথবা তারা আমাদের জন্য পরিবর্তিত হয়ে গেল), এমনকি আমার জন্য দুনিয়া একেবারে অপরিচিত হয়ে গেল। পরিচিত দেশ আমার জন্য অপরিচিত হয়ে গেল। এভাবে আমরা পঞ্চাশ দিন পর্যন্ত থাকলাম। আমার দু'জন সাথী ঘরের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়লেন এবং তারা ঘরে বসে বসে কাঁদতে থাকলেন। আমি নওজোয়ান ও শক্তিশালী ছিলাম। তাই আমি বাইরে বের হয়ে মুসলিমদের সাথে নামায পড়তাম এবং বাজারে চলাফেরা করতাম, কিন্তু কেউ আমার সাথে কথা বলত না। নামাযের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্থানে বসলে আমি তাঁকে সালাম দিতাম এবং মনে মনে ভাবতাম দেখি তিনি সালামের জওয়াব দিতে ঠোঁট নাড়েন কি না। তারপর আমি তাঁর নিকটবর্তী স্থানে নামায পড়তাম এবং চুপে চুপে দেখতাম তিনি আমার দিকে তাকান কিনা। আমি যখন নামাযে মশগুল হতাম তখন তিনি আমার দিকে তাকাতেন। আবার আমি যখন তাঁর দিকে তাকাতাম, তখন তিনি আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন।
এভাবে যখন মুসলিম সমাজের অসহযোগিতার দরুন আমার এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হল, তখন আমি (একদিন) আবু কাতাদা (রাঃ)-এর বাগানের দেওয়াল টপকে তাঁকে সালাম দিলাম। আল্লাহ্র শপথ! সে আমার সালামের জওয়াব দিল না। অথচ সে ছিল আমার চাচাত ভাই ও প্রিয়তম বন্ধু। আমি তাকে বললাম, আবু কাতাদা! আমি তোমাকে আল্লাহ্ শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তুমি কি জান না যে, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি? সে চুপ রইল । আমি আবার তাকে শপথ করে জিজ্ঞেস করলাম। সে চুপ করে থাকল। আমি আবার শপথ করলে সে বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। এ কথায় আমার দু' চোখ ফেটে পানি বের হয়ে এলো। আমি দেওয়াল পার হয়ে ফিরে এলাম। এরপর আমি একদিন মদীনার বাজারে ঘুরছিলাম, এমন সময় মদীনায় খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করার জন্য আগত এক সিরিয়াবাসী কৃষক আমাকে খুঁজতে লাগলো । লোকেরা তাকে আমার দিকে ইঙ্গিত করতে লাগল। সে আমার কাছে এসে আমাকে গাস্সান বাদশাহের একটি পত্র দিল। আমি পত্রটি পড়লাম। তাতে লেখা ছিল, আমরা জানতে পারলাম, তোমার সাথী (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমার উপর যুম করেছে। আল্লাহ তোমাকে লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার স্থানে থাকবার জন্য সৃষ্টি করেননি। তুমি আমাদের সাথে মিলে যাও, আমরা তোমাকে সাহায্য করব। পত্র পড়ে আমি বললাম, এটাও আমার জন্য পরীক্ষা। আমি পত্রটি চুলায় নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে ফেললাম।
এভাবে পঞ্চাশ দিনের চল্লিশ দিন চলে গেল। আর কোন ওহীও নাযিল হল না। হঠাৎ একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সংবাদদাতা এসে আমাকে জানান, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে আমার স্ত্রী থেকে পৃথক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি বললাম, আমি কি তাকে তালাক দেব অথবা অন্য কিছু করব? সংবাদদাতা বলেন, না তুমি তার থেকে পৃথক থাকবে, তার সাথে থাকবে না। আমার অন্য দু'জন সাথীকেও উক্তরূপ খবর দেয়া হয়েছে। আমি স্ত্রীকে বললাম, তুমি তোমার বাপের বাড়ি চলে যাও এবং আল্লাহ যতক্ষণ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন ফায়সালা না করেন ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি তাদের কাছেই থাক। হেলাল ইবনে উমাইয়ার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে আরজ করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! হিলাল ইবনে উমাইয়া খুবই বুড়ো মানুষ, তার কোন খাদেম নেই। আমি তার খিদমত করলে আপনি কি অপছন্দ করবেন? তিনি বললেন, না। তবে সে যেন তোমার সাথে সহবাস না করে। উমাইয়ার স্ত্রী বলেন, আল্লাহ্র শপথ। এ ব্যাপারে তার কোন শক্তিই নেই। আল্লাহ্র শপথ! এই দিন পর্যন্ত তার ব্যাপারে যা কিছু হচ্ছে তাতে সে সর্বদা কাঁদছে। (কা'ব বলেন) আমার পরিবারের কেউ আমাকে বলল, তুমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে তোমার স্ত্রীর (খিদমত নেয়ার) ব্যাপারে অনুমতি নিতে পারতে। তিনি তো হিলাল ইবনে উমাইয়ার খিদমত করার জন্য তার স্ত্রীকে অনুমতি দিয়েছেন। আমি বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এ ব্যাপারে অনুমতি চাইব না। না জানি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অনুমতি চাইলে তিনি কি বলেন। আর আমি হচ্ছি একজন নওজোয়ান।
এভাবে (আরও) দশ দিন কাটালাম। আমাদের সাথে কথা বলা নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে পূর্ণ পঞ্চাশ দিন গত হল। তারপর আমি আমার এক ঘরের ছাদে পঞ্চাশতম দিনের ভোরে ফজরের নামায আদায় করে এমন অবস্থায় বসে ছিলাম যে অবস্থার প্রেক্ষিতে আল্লাহ আল কুরআনে আমাদের সম্পর্কে বলেছেন : আমার মন ছোট হয়ে গেছে এবং পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও আমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেছে।
আমি এ অবস্থায় বসে আছি, এমন সময় সাআ পাহাড়ের উপর থেকে একজন লোককে (আবু বাক্ আস্ সিদ্দীক) চিৎকার করতে শুনলাম। তিনি উচ্চস্বরে বলছিলেন, হে কা'ব! তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। আমি এ কথা শুনে সিজদায় পড়ে গেলাম এবং বুঝতে পারলাম যে, মুক্তির বার্তা এসেছে। আল্লাহ যে আমাদের তাওবা কবুল করেছেন, এ খবর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামায শেষে সমস্ত লোককে জানিয়ে দিলেন। এতে লোকেরা আমাদের সুখবর দিতে এলো। কতিপয় লোক আমার দু'জন সাথীকে সুখবর দিতে গেল। আর একজন লোক দৌড়ে গিয়ে পাহাড়ের উপর উঠল। ঘোড়ার চেয়ে শব্দের গতি ছিল বেশি দ্রুতগামী। যিনি আমাকে সুখবর দিচ্ছিলেন তার আওয়ায আমি যখন শুনতে পেলাম, তখন আমি তার সুখবর দেয়ার জন্য (আনন্দের আতিশয্যে) নিজের কাপড় দু'খানা খুলে তাকে পরিয়ে দিলাম । আল্লাহ্ শপথ! সেদিন ঐ দু'খানা কাপড় ছাড়া আর কোন কাপড় আমার ছিল না। আমি অপর দু'খানা কাপড় ধার করে নিলাম এবং তা পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশে রওয়ানা হলাম। লোকেরা দলে দলে আমার সাথে দেখা করে আমার তাওবা কবুলের জন্য আমাকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করতে লাগল।
তারা আমাকে বলতে লাগল, আল্লাহ তোমার তাওবা কবুল করায় তোমার প্রতি অভিনন্দন। অবশেষে আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন, আর লোকেরা তাঁর চারপাশে ছিল। তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ) দ্রুতবেগে উঠে এসে সাদরে আমার সাথে মুসাফাহ করে আমাকে অভিনন্দন জানান । আল্লাহ্র শপথ! তালহা (রাঃ) ছাড়া আর কোন মুহাজির উঠেননি। কা'ব (রাঃ) তালহা (রাঃ)-এর এই ব্যবহার ভুলেননি। কা'ব (রাঃ) বলেন, আমি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিলাম, তখন তাঁর চেহারা আনন্দে জ্যোতির্ময় হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন: “তোমার জন্মদিন থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত সবচেয়ে উত্তম দিনের সুসংবাদ গ্রহণ কর।” আমি বললাম, এ খবর কি আপনার পক্ষ থেকে না আল্লাহ্র পক্ষ থেকে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেন: “না, বরং মহান আল্লাহ্র পক্ষ থেকে।” আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আনন্দিত হতেন, তাঁর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে যেত এবং মনে হত যেন এক টুকরা চাঁদ। আমরা তা বুঝতে পারতাম। তারপর আমি তাঁর সামনে বসে বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার তাওবা কবুল হওয়ায় আমার মাল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য সাদাকা করে দিতে চাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: কতক মাল রেখে দাও, সেটাই তোমার পক্ষে ভালো। আমি বললাম, তাহলে আমার খাইবারের মালের অংশটা রেখে দিলাম। আমি আরও বললাম, হে আল্লাহ্ রাসূল! আল্লাহ আমাকে সত্য কথা বলার জন্য মুক্তি দিয়েছেন। কাজেই আমার তাওবার এটাও দাবি যে, আমি বাকী জীবনে সত্য কথাই বলে যাব। আল্লাহ্র শপথ! আমি যখন এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বলছিলাম তখন থেকে সত্য কথা বলার যে উত্তম নি'আমত আল্লাহ আমাকে দান করেছেন তা অন্য কোন মুসিলমকে দান করেছেন বলে আমার জানা নেই। আল্লাহ্র শপথ! 'সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমি কোন মিথ্যা বলার ইচ্ছা করিনি। বাকী জীবনেও আল্লাহ আমাকে মিথ্যা থেকে রক্ষা করবেন বলে আশা রাখি। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ নবী, মুহাজির ও আনসারদের তাওবা কবুল করেছেন... তিনি তাদের প্রতি মেহেরবান ও সদয়। তিনি সেই তিনজনের তাওবাও কবুল করেছেন যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল, এমনকি শেষ পর্যন্ত এ দুনিয়া প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল...। আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক ।” (সূরা আত্ তাওবা : ১১৭-১১৯ আয়াত কা'ব (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র শপথ! যখন থেকে আল্লাহ আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দিয়েছেন তখন থেকে এ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সত্য কথা বলাই আমার জন্য আল্লাহ্র সবচেয়ে বড় নি'আমত। যদি আমি তাঁর নিকট মিথ্যা বলতাম তাহলে অন্যান্য মিথ্যাবাদীদের ন্যায় আমি ধ্বংস হয়ে যেতাম। যারা মিথ্যা ওজর পেশ করেছিল তাদের সম্পর্কে আল্লাহ যখন ওহী নাযিল করেন তখন এতটা তীব্র ভাষায় তাদের নিন্দা করেন যা (ইতিপূর্বে) অন্য কারো ব্যাপারে করেননি। আল্লাহ বলেনঃ “তোমরা যখন তাদের নিকট ফিরে যাবে, তখন তারা তোমাদের সামনে আল্লাহ্র শপথ করে ওজর পেশ করবে, যাতে তোমরা তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না কর ৷ যাক, তাদেরকে ছেড়েই দাও।
তারা অপবিত্র, আর তাদের স্থান হবে জাহান্নাম। এটা হচ্ছে তাদের কৃতকর্মের ফল। তারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য তোমাদের নিকট শপথ করে মিথ্যা ওজর পেশ করবে। তোমরা তাতে তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেও আল্লাহ কিছুতেই এরূপ ফাসিক লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হন না।” (সূরা আত্ তাওবাঃ ৯৫-৯৬) কা'ব (রাঃ) বলেন, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শপথ করে মিথ্যা ওজর পেশ করেছিল, তিনি তাদের ওজর কবুল করে তাদের বাইয়াত নিয়েছিলেন এবং তাদের গুনাহ মাফের দোয়াও করেছিলেন, আর আমাদের তিনজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পিছিয়ে দিলেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ এ ব্যাপারে মীমাংসা করে দিলেন। আল্লাহ যে বলেছেন “আর যে তিনজন পেছনে রয়ে গিয়েছিল” তার অর্থ জিহাদ থেকে আমাদের পেছনে থাকা নয়, বরং তার অর্থ এই যে, আমাদের ব্যাপারটা ঐসব লোকের পরে রাখা হয়েছিল যারা শপথ করে মিথ্যা ওজর পেশ করেছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা কবুল করেছিলেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। অন্য এক বর্ণনায় আছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহস্পতিবার তাবুকের যুদ্ধে রওয়ানা হন। আর তিনি বৃহস্পতিবার সফরে বের হওয়া পছন্দ করতেন। অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা আছেঃ তিনি দিনের বেলা দুপুরের পূর্বে ছাড়া সফর থেকে ফিরতেন না। আর সফর থেকে ফিরেই তিনি প্রথমে মসজিদে যেতেন, সেখানে দুই রাক'আত নামায পড়তেন, তারপর বসতেন।
۲۲ - وَعَنْ أَبِى نُجَيْدِ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ الْخُزَاعِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنْ امْرَأَةٌ منْ جُهَيْئَةَ اتَتْ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ حُبْلَى مِنَ الزِّنَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ الله صَبْتُ حَداً فَاقِمْهُ عَلَى فَدَعَا نَبِيُّ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَيْهَا فقال أحسنُ إِلَيْهَا فَإِذَا وَضَعَتْ فَأْتِنِى فَفَعَلَ فَأَمَرَ بِهَا نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَشُدِّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا ثُمَّ أَمَرَبِهَا فَرُحِمَتْ ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا فَقَالَ لَهُ عُمَرُ تُصَلَّى عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللهِ وَقَدْ زَنَتُ؟ قَالَ لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةٌ لَوْ قُسْمَتْ بَيْنَ سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَوَسِعَتْهُمْ وَهَلْ وَجَدْتُ أفْضَلَ مِنْ أَنْ جَادَتْ بِنَفْسِهَا الله عَزَّ وَجَلَّ رَوَاهُ مُسْلِمٌ
২২। ইমরান ইবনে হুসাইন আল-খুযাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। জুহাইনা গোত্রের এক মহিলা যিনার ফলে গর্ভবতী হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি যিনার অপরাধ করেছি, আমাকে এর শাস্তি দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবককে ডেকে বলেন: এর সাথে সদ্ব্যবহার করবে। সন্তান প্রসব করার পর তাকে আমার নিকট নিয়ে আসবে। এ লোকটি তাই করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যিনার শাস্তির হুকুম দিলেন। তার শরীরের কাপড় ভালো করে বেঁধে দেয়া হল এবং হুকুম অনুযায়ী তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার নামায পড়লেন । উমার (রাঃ) তাঁকে বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! এ তো যিনা করেছে, তবুও আপনি এর জানাযার নামায পড়ছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সে এমন তাওবা করেছে যা সত্তরজন মদীনাবাসীর মধ্যে ভাগ করে দিলেও তা তাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যেত। যে মহিলা তার নিজের প্রাণকে আল্লাহ্র জন্য স্বেচ্ছায় উৎসর্গ করে দেয় তার এরূপ তাওবার চেয়ে ভালো কোনো কাজ তোমার কাছে আছে কি? (মুসলিম)
٢٣ وَعَنْ ابْنِ عَبَّاس رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ أَنَّ لِابْنِ أَدَمَ وَادِيًا مَنْ ذَهَبٍ أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ لَهُ وَادِيَانِ وَلَنْ يُمْلَا فَاهُ الا القُرَابُ وَيَتُوبُ اللهُ عَلَى مَنْ تَابَ مُتَفَقَ عَلَيْهِ
২৩। ইবনুল আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি কোন মানুষের এক উপত্যকা ভর্তি সোনা থাকে, তবে সে তার জন্য আরো দু'টি উপত্যকা (ভর্তি সোনা) হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে। তার মুখ মাটি ছাড়া আর কিছুতেই ভরে না । আর যে ব্যক্তি তাওবা করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন। (বুখারী, মুসলিম)
٢٤ وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَضْحَكُ اللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى إِلى رَجُلَيْنِ يَقْتُلُ أحَدُهُمَا الْأَخَرَ يَدْخُلَانِ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُ هَذَا في سَبِيلِ الله فَيُقْتَلُ ثُمَّ يَتُوبُ اللهُ عَلَى الْقَاتِلِ فَيُسْلِمُ فَيُسْتَشْهَدُ - متفق عليه .
২৪। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ এমন দু'জন লোকের জন্য হাসবেন যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করবে এবং উভয়ই জান্নাতে যাবে। একজন আল্লাহ্র রাস্তায় লড়াই করে শহীদ হবে। তারপর আল্লাহ তার হত্যাকারীর তাওবা কবুল করবেন এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে (জিহাদে) শহীদ হয়ে যাবে। (বুখারী, মুসলিম)