قَالَ اللهُ تَعَالَى : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا
মহান আল্লাহ বলেন:
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবর কর এবং সবরের প্রতিযোগিতা কর।” (সূরা আলে ইমরান : ২০০)
وقَالَ تَعَالَى : وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ والثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ .
মহান আল্লাহ বলেন:
“আমি অবশ্যি তোমাদের ভয় ও ক্ষুধা দিয়ে এবং তোমাদের জান, মাল ও শস্যের ক্ষতি সাধন করে পরীক্ষা করব। (এ পরীক্ষায়) ধৈর্যশীলদেরকে সুখবর দাও।” (সূরা আল বাকারা: ১৫৫)
وَقَالَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّمَا يُوَفِّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ .
মহান আল্লাহ বলেন:
“ধৈর্যশীলদেরকে অগণিত পুরস্কার পূর্ণভাবে দেয়া হবে।” (সূরা আয্ যুমার: ১০)
وَقَالَ تَعَالَى : وَلَمَنْ صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمور .
তিনি আরো বলেনঃ “যে ব্যক্তিই ধৈর্য ধারণ করে এবং মাফ করে দেয়, সেটা দৃঢ় মনোভাবেরই অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা আশ্ শূরাঃ ৪৩)
وَقَالَ تَعَالَى : اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلوةِ إِنَّ اللهَ مَعَ الصَّابِرِينَ .
মহান আল্লাহ বলেন:
“ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা কর। আল্লাহ নিশ্চয় ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (সূরা আল বাকারাঃ ১৫৩)
وَقَالَ تَعَالَى : وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنْكُمْ وَالصَّابِرِينَ .
মহান আল্লাহ বলেন:
“আমি তোমাদের পরীক্ষা করব, যাতে তোমাদের মধ্যকার মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদেরকে চিনে নিতে পারি।” (সূরা মুহাম্মাদ : ৩১)
সবর ও তার ফযীলাত সম্পর্কিত এ ধরনের আরো বহু প্রসিদ্ধ আয়াত আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।
٢٥ - وَعَنْ أَبِي مَالِكَ الْحَارِثِ بْنِ عَاصِمِ الْأَشْعَرِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَمَ الطَهُورُ شَطْرُ الإِيْمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَأُ الْمِيزَانَ وَسُبْحَانَ الله وَالحَمْدُ للهِ تَمْلَأَنْ أَوْ تَمُلَا مَا بَيْنَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالصَّلَاةُ نُوْرٌ والصَّدَقَةُ بُرْهَانَ وَالصَّبْرُ ضِيَاء وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ كُلُّ النَّاسِ يَعْدُو فَبَائِعُ نَفْسَهُ فَمُعِتْقُهَا أَوْ مُوْبِقُهَا - رَوَاهُ مُسْلِمٌ
২৫। আবু মালিক আল আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। আর আলহামদু লিল্লাহ (আমলের) পাল্লা পূর্ণ করে দেয় এবং সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের মাঝখানের সবকিছুকে (সাওয়াবে) পরিপূর্ণ করে দেয়। নামায হচ্ছে আলোক এবং সাদাকা (ঈমানের) প্রমাণ, সবর বা ধৈর্য হচ্ছে জ্যোতি এবং কুরআন তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে একটি দলীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি সকালে উঠে নিজেকে বিক্রয় করে এবং তাতে সে নিজেকে মুক্ত করে অথবা ধ্বংস করে। (মুসলিম)
শেষোক্ত কথাটার অর্থ এই যে, মানুষ আল্লাহ্র নিকট নিজেকে পূর্ণভাবে সমর্পণ করে দিয়ে আখিরাতের জন্য কাজ করলে মুক্তি লাভ করবে এবং তা না করে নিজেকে নফসের কাছে অথবা অন্য কারও কাছে সমর্পণ করে দুনিয়ার স্বার্থের জন্য কাজ করলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। (অনুবাদক)
٢٦ - وَعَنْ أَبِي سَعِيدِ سَعْدِ بْنِ مَالِكِ بْنِ سَنَانِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ نَاسًا مِنَ الْأَنْصَارِ سَأَلُوا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَاهُمْ ثُمَّ سَأَلُوْهُ فَأَعْطَاهُمْ حَتَّى نَفَدَ مَا عِنْدَهُ فَقَالَ لَهُمْ حِينَ انْفَقَ كُلِّ شَيْءٍ بِيَدِهِ مَا يَكُنْ عِنْدِى مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ أُدْخِرَهُ عَنْكُمْ وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفْهُ اللَّهُ وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ وَمَنْ يُصَبَرْهُ اللهُ وَمَا أَعْطِيَ احَدٌ عَطَاء خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ - متفق عليه.
২৬। আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আনসারদের কতিপয় লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সাহায্য চাইল। তিনি তাদের দান করলেন। আবার তারা চাইল । তিনি আবার তাদের দান করলেন, এমনকি তাঁর নিকট যা কিছু ছিল তা সবই শেষ হয়ে গেল। তাঁর হাতের সবকিছু দান করার পর তিনি তাদের বলেন: আমার নিকট যা মাল আসে তা আমি তোমাদেরকে না দিয়ে জমা করে রাখি না । যে ব্যক্তি পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন। যে ব্যক্তি কারও মুখাপেক্ষী হতে চায় না, আল্লাহ তাকে স্বাবলম্বী করে দেন। যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করতে চায়, আল্লাহ তাকে ধৈর্য দান করেন । ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত আর কোন কিছু কাউকে দেয়া হয়নি । (বুখারি, মুসলিম)
۲۷ - وَعَنْ أَبِي يَحْيِي صُهَيْبِ بْنِ سِنَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ أَنْ أَمْرَهُ كُلَّهُ لَهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَلِكَ لأحد إلا للمؤمِن إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ - رَوَاهُ مُسْلم .
২৭। সুহাইব ইবনে সিনান (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মুমিনের ব্যাপারটা আশ্চর্যজনক। তার সমস্ত কাজই কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্যের ব্যাপার এরূপ নয়। তার জন্য আনন্দের কোন কিছু হলে সে আল্লাহ্র শোকর করে। তাতে তার মংগল হয়। আবার ক্ষতিকর কোন কিছু হলে সে ধৈর্য ধারণ করে । এটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়। (মুসলিম)
۲۸ - وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا ثَقُلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ يَتَغَشَاهُ الْكَرْبُ فَقَالَتْ فَاطِمَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا وَاكَرْبَ أَبْتَاهُ فَقَالَ لَيْسَ عَلَى آبِيْكِ كَرْبُ بَعْدَ الْيَوْمِ فَلَمَّا مَاتَ قَالَتْ يَا أَبَتَاهُ أَجَابَ رَبَّا دَعَاهُ يَا أَبَتَاهُ جَنَّةٌ الْفِرْدَوس مَأْوَاهُ يَا ابْنَاهُ إِلى جِبْرِيلَ تَنْعَاهُ فَلَمَّا دُفِنَ قَالَتْ فَاطِمَةُ رَضِيَ اللهُ عنها أطابَتْ أَنْفُسُكُمْ أَنْ تَحْتُوا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التُّرَابَ؟ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .
২৮। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুব বেশি রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন তখন রোগ যাতনা তাঁকে অজ্ঞান করতে লাগল । ফাতিমা (রা) বললেন, আহ আমার আব্বার কি কষ্ট! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আজকের দিনের পরে তোমার আব্বার আর কষ্ট হবে না। যখন তিনি ইস্তিকাল করলেন তখন ফাতিমা (রাঃ) বলেন, হায় আব্বা! আল্লাহ্ ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন। হে আব্বা! জান্নাতুল ফিরদাওস আপনার বাসস্থান! হায় আব্বা! জিবরীল (আ)-কে আপনার ইন্তিকালের খবর দিচ্ছি! তাঁর দাফন শেষ হলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর মাটি নিক্ষেপ করতে কি তোমাদের মন চাইল? (বুখারি)
٢٩ - وَعَنْ أَبِي زَيْدٍ أَسَامَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحبَهُ وَابْنِ حَبَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أَرْسَلَتْ بِنتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ ابْنِي قَدْ اِحْتُضِرَ فَشْهَدْنَا فَأَرْسَلَ يُقْرِئُ السَّلامَ وَيَقُولُ إِنَّ لِلَّهِ مَا أَخَدَ وَلَهُ مَا أَعْطى وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِاَجَلٍ مُسَمًّى فَلْتَصْبِرُ وَلْتَحْتَسِبُ فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ تُقْسِمُ عَلَيْهِ لَيَأْتِيَنَّهَا فَقَامَ وَمَعَهُ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَأَبَيُّ بْنُ كَعْبٍ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِت وَرِجَال رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ فَرُفِعَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصبي فَاقْعَدَهُ فِي حِجْرِهِ وَنَفْسُهُ تَقَعْقَعُ فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ فَقَالَ سَعْدُ يَا رَسُولَ الله ما هذا ؟ فَقَالَ هذه رَحْمَةٌ جَعَلَهَا اللهُ تَعَالَى فِي قُلُوب عبادة. وفي روايَةٍ فِي قُلُوبِ مَنْ شَاءَ مِنْ عِبَادِهِ وَإِنَّمَا يَرْحَمُ الله من عباده الرُّحَمَاء مُتَّفَق مِنْ عَلَيْهِ وَمَعْنى تَفَعْقَعُ تَتَحَرَكَ وَتَضْطَرِبُ .
২৯ । রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মুক্তদাস যায়িদ ইবনে হারিসার পুত্র উসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক কন্যা তাঁর ছেলের মৃত্যুর সময় এসেছে বলে খবর পাঠিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেখানে আসতে বললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খবর বাহকের নিকট তাঁকে সালাম দিয়ে বলেন: আল্লাহ যা নিয়ে গেছেন তা তাঁরই, আর যা কিছু দিয়েছেন তাও তাঁরই। তাঁর নিকট প্রত্যেক বস্তুর একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে। কাজেই তোমার ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহ্র নিকট পুরস্কারের আশা করা উচিত। তিনি (কন্যা) তাঁকে লোক মারফত শপথ দিয়ে তাঁর নিকট আসতে বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা'দ ইবনে উবাদা, মু'আয ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কা'ব, যায়িদ ইবনে সাবিত ও আরও কয়েকজন লোকসহ উঠে গেলেন। তারপর বাচ্চাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দেয়া হল। তিনি তাকে নিজের কোলে বসালেন। এ সময় তার প্রাণ (মৃত্যু যন্ত্রণায়) ছটফট করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু'চোখ থেকে পানি ঝরতে লাগল। সা'দ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, একি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ এটা রহমত, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের হৃদয়ে দিয়েছেন। অন্য এক বর্ণনায় আছেঃ আল্লাহ তাঁর যে বান্দার হৃদয়ে চান (উক্ত রহমত দেন)। আর আল্লাহ তাঁর দয়ালু বান্দাদেরকে রহমত দান করেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।
٣٠ - وَعَنْ صُهَيْبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَانَ مَلِكَ فِيْمَنْ قَبْلَكُمْ وَكَانَ لَهُ سَاحِرٌ فَلَمَّا كَبِرَ قَالَ لِلْمَلَك إِنِّي قَدْ كَبَرْتُ فَابْعَثْ إلى غُلَامًا أَعَلِمُهُ السِّحْرَ فَبَعَثَ اليه غُلَامًا يُعَلِمُهُ وَكَانَ فِي طريقه اذا سَلَكَ رَاهِبٌ فَقَعَدَ إِلَيْهِ وَسَمِعَ كَلامَهُ فَأَعْجَبَهُ وَكَانَ إِذَا آتَى السَّاحِرَ مَرَّ بِالرَّاهِبِ وَقَعَدَ إِلَيْهِ فَإِذَا أَتَى السَّاحِرَ ضَرَبَهُ فَشَكَا ذَلِكَ إِلَى الرَّاهِبِ فَقَالَ إِذَا خَشَيْتَ السَّاحِرَ
فَقُل حَبَسَنِى أَهْلِى وَإِذَا خَشِيْتَ أهْلَكَ فَقُلْ حَبَسَنَى الساحر. فَبَيْنَمَا هُوَ عَلى ذلِكَ اذْ أَتَى عَلَى دَابَّةٍ عَظِيمَة قَدْ حَبَسَتِ النَّاسَ فَقَالَ الْيَوْمَ أعلمُ السَّاحِرُ أَفْضَلُ أم الرَّاهِبُ أَفْضَلُ؟ فَأَخَذَ حَجَرًا فَقَالَ اللهُم إِنْ كَانَ أَمْرُ الراهب أحَبُّ إِلَيْكَ مِنْ أمْرِ السَّاحِرٍ فَاقْتُلُ هذه الدابةَ حَتَّى يَمْضِي النَّاسُ فَرَمَاهَا فَقَتَلَهَا وَمَضَى النَّاسُ فَأَتَى الرَّاهِبَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ لَهُ الرَّاهِبُ أَيْ بُنَيَّ أَنْتَ الْيَوْمَ أَفْضَلُ مِنِّي قَدْ بَلَغَ مِنْ أَمْرِكَ مَا أَرَى وَإِنَّكَ سَتُبْتَلَى فَإِنِ ابْتُلِيْتَ فَلَا تَدُلُّ عَلَى وَكَانَ الْغُلامُ يُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَيُدَاوِي النَّاسَ مِنْ سَائِرِ الْأَدْوَاءِ فَسَمِعَ جليس لِلْمَلِكِ كَانَ قَدْ عَمِيَ فَأَتَاهُ بِهَدَايَا كَثِيرَةٍ فَقَالَ مَا هُهُنَا لَكَ أَجْمَعُ إِنْ أَنْتَ
شَفَيْتَنِي فَقَالَ إِنِّي لا أَشْفِى أَحَداً إِنَّمَا يَشْفِى اللَّهُ تَعَالَى فَإِنْ أَمَنْتَ بِاللَّهِ تَعَالَى دَعَوْتُ اللهَ فَشَفَاكَ فَأَمَنَ بِاللهِ تَعَالَى فَشَفَاهُ اللَّهُ فَأَتَى الْمَلِكَ فَجَلَسَ إِلَيْهِ كَمَا كَانَ يَجْلِسُ فَقَالَ لَهُ الْمَلكُ مَنْ رَدَّ عَلَيْكَ بَصَرَكَ؟ قَالَ رَبِّي قَالَ : أَولَكَ رَبِّ غَيْرِي؟ قَالَ رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ فَأَخَذَهُ فَلَمْ يَزَلْ يُعَذِبُهُ حَتَّى دَلَّ عَلَى الْغُلَامِ فَجِي بِالْغُلام فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ أَيْ بُنَى قَدْ بَلَغَ مِنْ سِحْرِكَ مَا تُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَتَفْعَلُ وتَفْعَلُ فَقَالَ إِنِّي لا أشفى أحَداً إِنَّمَا يَشْفِي اللَّهُ تَعَالَى فَأَخَذَهُ فَلَم يَزَلْ يُعَذِّبُهُ حَتَّى دَلَّ عَلَى الرَّاهِبِ فَجِيْ بِالرَّاهِبِ فَقِيلَ لَهُ ارْجِعُ عَنْ دِينِكَ فَأَبَى فَدَعَا بِالْمِنْشَارِ فَوُضِعَ الْمِنْشَارُ فِي مَفْرَقِ رَأْسِهِ فَشَقَّهُ حَتَّى وَقَعَ شِقًّاهُ ثُمَّ حِيْءَ بِجَلِيسِ الْمَلِكِ فَقِيْلَ لَهُ ارْجِعُ عَنْ دِينِكَ فَأَبَى فَوُضِعَ الْمِنْشَارُ فِي مَفْرَقِ رَأْسِهِ فَشَقَّهُ بِهِ حَتَّى وَقَعَ شِقَّاهُ ثُمَّ جِيءَ بِالْغُلامِ فَقِيلَ لَهُ ارْجِعْ عَنْ دِينِكَ فَأَبَى فَدَفَعَهُ إِلى نَفَرٍ مِّنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ اذْهَبُوا بِهِ إِلى جَبَل كَذَا وَكَذَا فَاصْعَدُوا بِهِ الْجَبَلَ فَإِذَا بلغتُمْ ذِرْوَتَهُ فَإِنْ رَجَعَ عَنْ دِينِهِ وَإِلَّا فَاطْرَحُوهُ فَذَهَبُوا بِهِ فَصَعِدُوا بِهِ الْجَبَلَ فَقَالَ اللهم اكفنيهِمْ بِمَا شِئْتَ فَرَجَفَ بِهِمُ الْجَبَلُ فَسَقَطُوا وَجَاءَ يَمْشِي إِلَى الْمَلِكِ فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ مَا فُعِلَ بِأَصْحَابِكَ ؟ فَقَالَ كَفَانِيْهِمُ اللَّهُ تَعَالَى فَدَفَعَهُ إِلَى نَفَرٍ منْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ اذْهَبُوا بِهِ فَاحْمِلُوْهُ فِي قُرْقُورٍ وَتَوَسَطُوا بِهِ الْبَحْرَ فَإِنْ رَجَعَ عَنْ دِينِهِ وَإِلا فَاقْذِفُوهُ فَذَهَبُوا بِهِ فَقَالَ اللهُمُ اكْفِنِيهِمْ بِمَا شِئْتَ فَانْكَفَاتْ بِهِمُ السَّفِينَةُ فَغَرِقُوا وَجَاءَ يَمْشِي إِلَى الْمَلِكِ فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ مَا فُعِلَ بِأَصْحَابِكَ ؟ فَقَالَ كَفَّانِيهِمُ اللهُ تَعَالَى فَقَالَ لِلْمَلكَ انَّكَ لَسْتَ بقاتلى حَتَّى تَفْعَلَ مَا أمُرُكَ بـ قَالَ مَا هُوَ؟ قَالَ تَجْمَعُ النَّاسَ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ وَتَصْلُبُنِي عَلَى جِذْعِ ثُمَّ خُذْ سَهُما مِنْ كِنَانَتِى ثُمَّ ضَعِ السَّهُمَ فِى كَبِدِ الْقَوْسِ ثُمَّ قُلْ بِسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلَامِ ثُمَّ ارْمنِي فَإِنَّكَ إِذا فَعَلْتَ ذَلِكَ قَتَلْتَنِي فَجَمَعَ النَّاسَ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ وَصَلَبَهُ على جذع ثُمَّ أَخَذَ سَهُما مِنْ كِنَانَتِهِ ثُمَّ وَضَعَ السُّهُم فِي كَبِدِ الْقَوْسِ ثُمَّ قَالَ
بِسمِ اللهِ رَبِّ الْغُلام ثُمَّ رَمَاهُ فَوَقَعَ السَّهُمُ فِي صُدْغِهِ فَوَضَعَ يَدَهُ فِي صُدْعَه فَمَات فَقَالَ النَّاسُ أَمَنَّا بِرَبِّ الْغُلَامِ فَأُتِيَ الْمَلِكُ فَقِيلَ لَهُ أَرَأَيْتَ مَا كُنْتَ تَحْذَرُ قَدْ وَالله نَزَلَ بكَ حَذَرُكَ قَدْ أَمَنَ النَّاسُ فَآمَرَ بالأَخْدُود بأفواه السكك فَخُدَّتْ وَأَضْرِمَ فِيهَا النَّيْرَانُ وَقَالَ مَنْ لَمْ يَرْجِعْ عَنْ دِينِهِ فَأَقْحِمُوهُ فِيهَا أَوْ قِيْلَ لَهُ اقتحم فَفَعَلُوا حَتَّى جَاءَتْ امْرَأَةٌ وَمَعَهَا صَبِي لَهَا فَتَقَاعَسَتْ أَنْ تَقَعَ فِيْهَا فَقَالَ لَهَا الْغُلامُ يَا أمَّهُ إصْبرى فَانَّكَ عَلَى الْحَقِّ رَوَاهُ مُسلم
ذرُوةُ الْجَبَلِ أَعْلَاهُ هِيَ بِكَسْرِ الدَّالِ الْمُعْجَمَةِ وَضَمِّهَا وَالْقُرْقُورُ بِضَمِّ الْقَافَيْنِ نوع مِنَ السُّفْنِ وَالصَّعِيْدُ هُنَا الْأَرْضُ الْبَارِزَةُ وَالْأَخْدُودُ السُّقُوقُ فِي الْأَرْضِ
كَالنَّهْرِ الصَّغِيرِ وَأَضْرِمَ أوْقِدَ وَانْكَفَات اى انْقَلَبَتْ وَتَقَاعَسَتْ تَوَقَّفَتْ وَجَيِّنَتْ .
৩০। সুহাইব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে এক বাদশাহ্ ছিল। তার ছিল এক যাদুকর। সে যখন বৃদ্ধ হয়ে গেল, তখন বাদশাকে বলল, আমি বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি, কাজেই একজন বালককে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। আমি তাকে যাদু শিক্ষা দেব। বাদশাহ্ একজন বালককে যাদু শেখার জন্য তার কাছে পাঠায়। তার যাতায়াতের রাস্তায় ছিল এক খৃস্টান দরবেশ। সে তার কাছে বসে তার কথাবার্তা শুনে মুগ্ধ হল। এভাবে সে যাদুকরের কাছে আসার সময় পথে দরবেশের কাছে বসতে লাগল। যাদুকরের কাছে গেলে সে তাকে মারপিট করে। সে দরবেশের কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ পেশ করল। সে বলল, যখন তোমার যাদুকরের জিজ্ঞাসাবাদের ভয় হবে তখন তাকে বলবে, আমার পরিবারবর্গ আমাকে আটকে রেখেছিল। আর যখন তোমার পরিবারবর্গের ভয় হবে তখন তাদেরকে বলবে, যাদুকর আমাকে আটকে রেখেছিল। এমতাবস্থায় একদিন একটা বিরাট হিংস্র পশু এসে লোকদের পথ আটকে দিল । বালকটি তখন (মনে মনে) বলল : আজ আমি জেনে নেব যে, দরবেশ শ্রেষ্ঠ না যাদুকর শ্রেষ্ঠ? তাই সে একটি পাথর খণ্ড নিয়ে বলল : হে আল্লাহ! দরবেশের কাজ যাদুকরের কাজ থেকে তোমার নিকট যদি বেশি পছন্দনীয় হয়, তবে এই পশুটাকে মেরে ফেল, যাতে লোকেরা পথ চলতে পারে। তারপর সে উক্ত পাথরখণ্ড নিক্ষেপ করল এবং তাতে পশুটি মারা গেল। আর লোকেরাও চলে গেল। তারপর সে দরবেশের কাছে এসে তাকে এ খবর জানায়। দরবেশ তাকে বলল: হে আমার প্রিয় ছেলে! আজ তুমি আমার চেয়ে উত্তম। তোমার ব্যাপারটা এখন আমার মতে একটি বিশেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তুমি শীঘ্রই পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। যদি তুমি পরীক্ষায় পড়ে যাও, তবে আমার সন্ধান দেবে না। বালকটি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে নিরাময় করে দিত এবং মানুষের সব রকম রোগের চিকিৎসা করত। বাদশাহের পারিষদবর্গের একজন অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে এ খবর শুনে বালকটির কাছে অনেক হাদিয়া নিয়ে এসে বলল, তুমি আমাকে আরোগ্য দান করবে এইজন্যই আমি তোমার এখানে এত হাদিয়া পেশ করছি। বালকটি বলল: আমি কাকেও আরোগ্য দান করি না, আল্লাহ্ই আরোগ্য দান করেন। যদি তুমি আল্লাহ্ প্রতি ঈমান আন তবে আমি আল্লাহ্র নিকট দোয়া করব। যাতে তোমাকে তিনি আরোগ্য দান করেন। সে তখন আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনল। আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করলেন। তারপর সে বাদশাহের দরবারে পূর্ববৎ যোগদান করল। বাদশাহ্ তাকে জিজ্ঞেস করল, কে তোমাকে তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিল? সে উত্তর দিল, আমার রব। বাদশাহ্ বলল, আমি ছাড়াও কি তোমার রব আছে? সে বলল, আল্লাহ্ই তোমার ও আমার রব। এতে বাদশাহ্ তাকে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে লাগল। অবশেষে সে বালকটির কথা বলে দিল। তখন বালকটিকে আনা হল। বাদশাহ্ তাকে বলল, হে ছেলে! তোমার যাদুবিদ্যার খবর পৌঁছেছে যে, তুমি নাকি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে আরোগ্য দান করে থাক এবং এটা-সেটা আরও কত কি করে থাক। বালকটি বলল: আমি কাউকে আরোগ্য দান করি না । আরোগ্য তো আল্লাহ্ই দান করেন। বাদশাহ্ তাকেও গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে লাগল। অবশেষে সে খৃস্টান দরবেশের কথা বলে দিল। দরবেশকে আনা হল এবং তাকে তার দীন ত্যাগ করতে বলা হল। কিন্তু সে অস্বীকার করল। তখন বাদশাহ্ করাত আনতে বলল। তারপর করাতটি তার মাথার মাঝখানে রাখা হল এবং করাতটি তাকে চিরে ফেলল, এমনকি সে দুই টুকরো হয়ে পড়ে গেল। তারপর বাদশাহর সেই পারিষদকে আনা হল । তাকেও তার দীন ত্যাগ করতে বলা হল। কিন্তু সে অস্বীকার করায় তার মাথার মাঝখানে করাত দিয়ে চিরে ফেলা হল, এমনকি সে দুই টুকরা হয়ে পড়ে গেল। তারপর বালকটিকে আনা হল। তাকেও তার দীন ত্যাগ করতে বলা হল, কিন্তু সে অস্বীকার করল। তখন তাকে বাদশাহ্ তার কতিপয় সংগীর হাতে দিয়ে বলল: তোমরা তাকে অমুক পাহাড়ে নিয়ে উঠাও। যখন পাহাড়ের উচ্চ শিখরে তাকে নিয়ে পৌঁছবে তখন যদি সে তার দীন ত্যাগ করে, তবে তো ভালো, নতুবা তাকে সেখান থেকে ফেলে দাও। তারা তাকে নিয়ে গিয়ে পাহাড়ে উঠল। সে বলল, হে আল্লাহ! তুমি যেভাবে চাও এদের হাত থেকে আমাকে মুক্তি দান কর। তখন পাহাড়টি কেঁপে উঠল। এতে তারা নীচে পড়ে গেল এবং সে বাদশাহর কাছে চলে এলো। বাদশাহ তাকে বলল, তোমার সংগীদের কি হলো? সে বলল, তাদের ব্যাপারে আমার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট। তখন বাদশাহ্ তাকে তার কতিপয় সংগীর কাছে দিয়ে বলল : তাকে তোমরা একটি ছোট নৌকায় উঠিয়ে সমুদ্রের মাঝখানে নিয়ে যাও। তারপর সে যদি তার দীন ত্যাগ না করে, তবে তাকে সেখানে ফেলে দাও। তারা তাকে নিয়ে চলল। ছেলেটি বলল, হে আল্লাহ! তুমি যেভাবে চাও তাদের হাত থেকে আমাকে মুক্তি দাও। এতে নৌকা তাদেরকে নিয়ে উল্টে গেল এবং তারা সবাই ডুবে মরল। আর ছেলেটি বাদশাহর কাছে ফিরে এলো। বাদশাহ্ তাকে জিজ্ঞেস করল, তোমার সংগীদের কি হলো? সে বলল : আল্লাহ্ই আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করতে যথেষ্ট হয়েছেন। তারপর সে বাদশাকে বলতে লাগল, তুমি আমার হুকুম অনুযায়ী কাজ করলেই আমাকে হত্যা করতে পারবে। বাদশাহ্ জিজ্ঞেস করল, সেটা কি কাজ? সে বলল, একটি মাঠে লোকদেরকে একত্র কর। তারপর আমাকে শূলের উপর উঠাও এবং আমার তীরদানি থেকে একটি তীর নিয়ে ধনুকের মাঝখানে রেখে বল: বিস্ মিল্লাহি রাব্বিল গোলাম (বালকটির রব সেই আল্লাহ্ নামে তীর মারছি), এই বলে তীর মার। এরূপ করলে তুমি আমাকে মারতে পারবে। বাদশাহ্ তখন এক মাঠে লোকদেরকে একত্র করে তাকে শূলের উপর উঠিয়ে তার তীরদানি থেকে একটি তীর ধনুকের মাঝখানে রেখে বলল, “বিসমিল্লাহি রাব্বিল গোলাম' এবং তার প্রতি তীর নিক্ষেপ করল। তীরটি বালকটির কানের কাছে মাথায় লাগল এবং সে সেখানে তার হাত রাখল, তারপর মারা গেল। এতে লোকেরা বলতে লাগল, আমরা বালকটির রব আল্লাহ্ প্রতি ঈমান আনলাম। এ খবর বাদশাহর নিকট গেলে তাকে বলা হল, যে আশংকা তোমার ছিল তাই তো হয়ে গেল যে, সব লোক আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনল। বাদশাহ্ তখন রাস্তার পাশে গর্ত খনন হুকুম দিল। গর্ত খনন করে তাতে আগুন জ্বালানো হল। বাদশাহ্ ঘোষণা দিল, যে ব্যক্তি তার দীন থেকে ফিরে আসবে না তাকে তোমরা এতে নিক্ষেপ কর। যারা তাদের দীন থেকে ফিরে এল না তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করা হল। অবশেষে একজন মহিলা তার সন্তানসহ এল। সে আগুনের মধ্যে যেতে সংকোচ করায় সন্তান বলল, হে আম্মা! আপনি সবর করুন (আগুনে ঝাঁপ দিতে সংকোচ করবেন না)। কারণ আপনি তো সত্যের উপর আছেন। (মুসলিম)
٣١ - وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِامْرَأَةٍ تبكي عند قبر فَقَالَ اتَّقى الله واصْبِرِي فَقَالتْ إِلَيْكَ عَنِّى فَانَّكَ لَمْ تُصَبُ بِمُصِيبَتِي وَلَمْ تَعْرِفُهُ فَقِيلَ لَهَا إِنَّهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاتَتْ بَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ تَجِدَ عندَهُ بَوابِينَ فَقَالَتْ لَمْ أَعْرِفُكَ فَقَالَ إِنَّمَا الصبر عند الصَّدْمَةِ الأولى متفق عليه وَفِي رِوَايَةٍ المُسلِم تَبْكِي عَلى .صبی
৩১ । আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার নিকট দিয়ে যান। সে একটি কবরের পাশে বসে কাঁদছিল। তিনি বলেন, আল্লাহকে ভয় কর এবং সবর কর। সে বলল, আপনি আমাকে ছেড়ে দিন (অর্থাৎ আমাকে কাঁদতে দিন)। আপনি আমার মত মুসীবাতে পড়েননি। সে তাঁকে চিনতে পারেনি। তাকে বলা হল, ইনি হচ্ছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মহিলাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাড়ীর দরজার সামনে এল এবং সেখানে কোন দারোয়ান দেখতে পেল না। সে বলল, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সবর তো প্রথম আঘাতেই (বুখারী, মুসলিম)। মুসলিমের এক বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ সে তার এক শিশু পুত্রের জন্য কাঁদছিল।
۳۲ - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَقُولُ اللهُ تَعَالَى مَا لِعَبْدِي الْمُؤْمِنِ عِنْدِى جَزَاء إِذَا قَبَضْتُ صَفِيَّهُ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا ثُمَّ احْتَسَبَهُ إِلَّا الْجَنَّةَ رَوَاهُ البُخَارِيُّ .
৩২। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ বলেন, আমার মুমিন বান্দার জন্য আমার নিকট জান্নাত ছাড়া আর কোন পুরস্কার নেই, যখন আমি দুনিয়া থেকে তার প্রিয়জনকে নিয়ে যাই আর সে সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করে । (বুখারী)
٣٣- وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّهَا سَأَلَتْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عن الطاعون فَأَخْبَرَهَا أَنَّهُ كَانَ عَذَابًا يَبْعَثُهُ اللهُ تَعَالَى عَلَى مَن يُشَاءُ فَجَعَلَهُ الله تَعَالَى رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِينَ فَلَيْسَ مِنْ عَبْدٍ يَقَعُ فِي الطَّاعُونِ فَيَمْكُثُ فِي بَلَدِهِ صَابِراً مُحْتَسِبًا يَعْلَمُ أَنَّهُ لا يُصِيبُهُ الأَ مَا كَتَبَ اللهُ لَهُ إِلا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ الشهيد - رَوَاهُ البُخَارِيُّ .
৩৩। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মহামারি রোগ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বলেন: এটা ছিল আল্লাহ্র তরফ থেকে একটা শাস্তি । আল্লাহ যাকে চান তার উপর এটা পাঠান। তিনি এটাকে মুমিনদের জন্য রহমত বানিয়ে দিয়েছেন। কোন মুমিন বান্দা মহামারি রোগে আক্রান্ত হলে যদি সে তার এলাকায় সবর সহকারে সাওয়াবের নিয়াতে এ কথা জেনে-বুঝে অবস্থান করে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তাতেই সে আক্রান্ত হয়েছে, তবে সে শহীদের সাওয়াব পাবে। (বুখারী)
وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ انَّ اللهَ عَ وَجَلٌ قَالَ إِذا ابْتَلَيْتُ عَبْدِى بِحَبيبَتَيْهِ فَصَبَرَ عَوْضْتُهُ مِنْهُمَا الْجَنَّةَ يُرِيدُ عَيْنَيْهِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.
৩৪ । আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, মহামহিম আল্লাহ বলেছেন: আমি যখন আমার বান্দাকে তার দু'টি প্রিয় বস্তুর মাধ্যমে পরীক্ষা করি (অর্থাৎ তার দু'টি চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দিই), আর সে তাতে সবর করে, তখন আমি তাকে তার বদলে জান্নাত দান করি।(বুখারী)
٣٥ - وَعَنْ عَطاء بن رَبَاحٍ قَالَ قَالَ لَى ابْنُ عَبَّاس رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَلَا أُريكَ امْرَأَةٌ مِّنْ أَهْل الْجَنَّةِ؟ فَقُلْتُ بَلَى قَالَ هذه الْمَرْأَةُ السَّوْدَاءُ أَنَتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ أنّى أَصْرَعُ وَانّي أَتَكَشْفُ فَادْعُ اللهَ تَعَالَى لَى قَالَ إِنْ شِئْتِ صَبَرْت وَلَكَ الْجَنَّةُ وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْتَ اللهَ تَعَالى أَنْ يُعَافِيَكِ فَقَالَتْ أَصْبِرَ فَقَالَتْ إِنِّي أَتَكَشْفَ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ لَا أَتَكَشَّفَ فَدَعَا لَهَا - متفق عليه
৩৫ । আতা ইবনে রাবাহ বলেছেন, (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমাকে ইবনুল আব্বাস (রাঃ), আমি তোমাকে একজন জান্নাতী মহিলা দেখাব না কি? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেন, এই কালো মহিলাটি (ইংগিত করে দেখালেন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, আমি মৃগী রোগে ভুগছি এবং তাতে আমার শরীর বিবস্ত্র হয়ে যায়। আপনি আমার জন্য আল্লাহ্র নিকট দু'আ করুন। তিনি বলেন, যদি তুমি চাও সবর করতে পার। তাতে তুমি জান্নাত লাভ করবে। আর যদি চাও তো আমি তোমার আরোগ্যের জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করি । সে বলল, আমি সবর করব কিন্তু আমার শরীর যে বিবস্ত্র হয়ে যায় সেজন্য আল্লাহ্র নিকট দু'আ করুন, যাতে বিবস্ত্র না হই । তিনি তার জন্য দু'আ করলেন। (বুখারী, মুসলিম)
٣٦ - وَعَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدِ اللهِ بن مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانِي انظر إلى رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْكى نَبيَّا مِّنَ الْأَنْبِيَاء صَلَواتُ الله وَسَلامُهُ عَلَيْهِمْ ضَرَبَهُ قَوْمُهُ فَادْمَوْهُ وَهُوَ يَمْسَحُ الدَّمَ عَنْ وَجْهِهِ يَقُولُ اللَّهُمَّ اغْفِرُ لِقَوْمِنْ فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ- متفق عليه
৩৬। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখছি, তিনি নবীগণের মধ্যকার এক নবীর কাহিনী বলছিলেন যে, তাঁর জাতি তাঁকে মেরে রক্তাক্ত করে দিয়েছিল আর তিনি নিজের চেহারা থেকে রক্ত মুছে ফেলছিলেন এবং বলছিলেন: হে আল্লাহ! আমার জাতিকে ক্ষমা করে দাও, কারণ তারা জানে না। (বুখারী, মুসলিম)
۳۷- وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَآبِى هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبَ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هَمَ وَلَا حَزَنَ وَلَا أَذًى وَلا غَم حَتَّى الشَّوْكَةُ يُشَاكُهَا الأكَفْرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ - متفق عليه وَالْوَصَبُ الْمَرَضُ .
৩৭। আৰু সা'ঈদ ও আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুসলিম বান্দার যে কোন ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, উদ্বিগ্নতা, কষ্ট ও অস্থিরতা হোক না কেন, এমনকি কোন কাঁটা বিধলেও, তার কারণে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন। (বুখারী মুসলিম )
۳۸- وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُوْعَكَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ تُوْعَكَ وَعْكَا شَدِيدًا قَالَ أَجَلْ إِنِّي أوْعَكَ كَمَا يُوْعَكَ رَجُلاَن مِنْكُمْ قُلْتُ ذلكَ أنْ لكَ أجْرَيْنِ ؟ قَالَ أَجَلَ ذلكَ كَذَلكَ ا مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذًى شَوْكَةً فَمَا فَوْقَهَا الأَ كَفْرَ اللَّهُ بِهَا سَيِّئَاتِهِ وَخَطَتْ عَنْهُ ذُنُوبُهُ كَمَا تَحطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا - متفق عليه والْوَعْكُ مَعْتُ الحُمّى وَقِيلَ الحُمى..
৩৮। ইবনে মাস'ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম। তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো ভীষণ জ্বরে ভুগছেন। তিনি বলেন: হাঁ তোমাদের মতো দু'জনের সমান জ্বরে ভুগছি। অর্থাৎ তোমাদের দু'জন লোকের জ্বর হলে যে পরিমাণ তাপ ওঠে আমার একার তাপ তার সমান। আমি বললাম, আপনার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব সেজন্য কি? তিনি বলেনঃ হাঁ, ঠিক তাই। যে কোন কষ্টদায়ক বস্তু দ্বারা, তা কাঁটা কিংবা অন্য কোন বেশি কষ্টদায়ক কিছু হোক না কেন, মুসলিম বান্দা কষ্ট পেলে আল্লাহ অবশ্যই সে কারণে তার গুনাহ মাফ করে দেন। আর তার ছোট গুনাহগুলো গাছের পাতার মত ঝরে পড়ে যায়৷ (বুখারী মুসলিম )
۳۹ - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُصِبْ مِنْهُ - رَوَاهُ الْبُخَارِى وَضَبَطوا يُصَبُ بِفَتْحِ الصَّادِ وَكَسْرِهَا .
৩৯। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যাণ চান তাকে বিপদে ফেলেন। (বুখারী)
٤٠ - وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا يَتَمَنْينْ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرِّ أَصَابَهُ فَإِنْ كَانَ لَا بُدَّ فَاعِلاً فَلْيَقُلْ اللَّهُمْ أَحْيِنِي مَاكانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِى وَتَوَفَّنِى إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي- متفق عليه
৪০। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কারো কোনো বিপদ বা কষ্ট হলে সে যেন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে। যদি কেউ এরূপ করতেই চায় তবে সে যেন বলে, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জীবিত রাখ যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত থাকা আমার জন্য কল্যাণকর এবং যখন আমার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর তখন আমাকে মৃত্যু দাও।” (বুখারী, মুসলিম)
٤١ - وَعَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ خَبَّابِ بْنِ الْأَرَتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ شَكَوْنَا إِلَى رَسُولِ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُتَوَسَدُ بُرْدَةٌ لَهُ فِي ظَلَّ الْكَعْبَةِ فَقُلْنَا الا تَسْتَنْصِرُ لَنَا أَلا تَدْعُو لَنَا ؟ فَقَالَ قَدْ كَانَ مَنْ قَبْلِكُمْ يُؤْخَذُ الرَّجُلُ فَيُحْفَرُ لَهُ فِي الْأَرْضِ فَيُجْعَلُ فِيهَا ثُمَّ يَؤْتَى بِالْمَنْشَارِ فَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ فَيُجْعَلُ نِصْفَينِ وَيُمْشَطُ بِأَمْشَاطِ الْحَدِيْدِ مَا دُونَ لَحْمِمٍ وَعَظْمِهِ مَا يَصُدُهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ وَاللَّهِ ليتمنُ اللَّهُ هذا الأَمْرَ حَتَّى يَسير الراكبُ مِنْ صَنْعَاءَ إِلى حَضَرَمُوْتَ لَا يَخَافُ الا الله والذِنْبَ عَلَى غَنَمِهِ وَلَكِنَّكُمْ تَسْتَعْجِلُونَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي رِوَايَةٍ وَهُوَ مَتَوسِدٌ بُرْدَةً وَقَدْ لَقِيْنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ شِدَّةً
৪১। আবু আবদুল্লাহ খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট (মক্কার কাফিরদের বিরোধিতার ব্যাপারে) অভিযোগ করলাম। তিনি তখন তাঁর একটি চাদর মাথার নীচে রেখে কা'বার ছায়ায় শুয়েছিলেন। আমরা বললাম, আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহ্র নিকট সাহায্য প্রার্থনা করবেন না এবং আমাদের জন্য দোয়া করবেন না? তিনি বলেন: তোমাদের আগের যামানায় মানুষকে ধরে এনে মাটিতে গর্ত করে তাতে স্থাপন করা হত। তারপর করাত এনে তার মাথার উপর রাখা হত এবং তাকে দুই টুকরা করা হত, অতঃপর লোহার চিরুনী দিয়ে তার শরীরের গোপ্ত ও হাড় আঁচড়িয়ে ছিন্নভিন্ন করা হত। তবুও কোন কিছু তাকে তার দীন ত্যাগ করাতে পারেনি। আল্লাহ্র শপথ! এ দীনকে পূর্ণভাবে তিনি কায়েম করবেনই, এমনকি সে সময় একজন আরোহী সায়া থেকে হাদরামাওত পর্যন্ত ভ্রমণ করবে, কিন্তু আল্লাহ আর নিজের মেষপালের জন্য নেকড়ে ছাড়া আর কিছুর ভয় করবে না। কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়া করছ।
অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছেঃ তিনি (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চাদর রেখেছিলেন মাথার নীচে। আর মুশরিকদের পক্ষ থেকে আমাদের অনেক কষ্ট দেয়া হচ্ছে। (বুখারী)
٤٢ - وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ حُنَيْنِ أَثَرَ رَسُولُ الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَاسًا فِي الْقِسْمَةِ فَاعْطى الْأَقْرَعَ بْنَ حَابِسِ مِائَةٌ مِّنَ الْإِبِلِ وأعطى عُيَيْنَةَ بْنَ حضن مثل ذلك وأعْطى نَاسًا مِنْ أَشراف الْعَرَبِ وَأَثَرَهُمْ يَوْمَئِذٍ فِي الْقِسْمَةِ فَقَالَ رَجُلٌ وَاللَّهَ إِنَّ هذه قِسْمَةٌ مَا عُدِلَ فِيْهَا وَمَا أُرِيدَ فِيْهَا وَجْهُ الله فَقُلْتُ والله لأخْبَرَنَ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَيْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ بمَا قَالَ فَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ حَتَّى كَانَ كَالصِرف ثُمَّ قَالَ فَمَنْ يَعْدِلُ إِذَا لَمْ يَعْدِلُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ؟ ثُمَّ قَالَ يَرْحَمُ اللهُ مُوسَى قَدْ أَوْذِيَ بِاكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ فَقُلْتُ لَا جَرَمَ لَا أَرْفَعُ إِلَيْهِ بَعْدَهَا حَدِيثًا - متفق عليه وَقَولُهُ كَالصِرْفِ هُوَ بِكَسْرِ الصَّادِ الْمُهْمَلَةِ وَهُوَ صَبْغَ أَحْمَرُ .
৪২। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনাইনের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোককে গনীমাতের মালের অংশ বেশি দিয়েছিলেন (নও মুসলিমদের সন্তুষ্ট করার জন্য)। তিনি আকরা ইবনে হাবিসকে এক শত উট এবং উয়াইনা ইবনে হিকেও উক্ত সংখ্যক উট দান করেছিলেন। আর আরবের সম্ভ্রান্ত লোকদেরকে বেশি দিয়েছিলেন। তখন এক লোক বলল, আল্লাহ্র শপথ! এই বণ্টনে সুবিচার করা হয়নি এবং এতে আল্লাহ্র সন্তোষের নিয়াত করা হয়নি। আমি বললাম, আল্লাহ্র শপথ! আমি এ খবর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবশ্যই দেব। কাজেই আমি তাঁর নিকট এসে তাঁকে উক্ত ব্যক্তির মন্তব্য জানালাম। এতে তাঁর পবিত্র চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে লালবর্ণ ধারণ করল। তিনি বলেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যদি সুবিচার না করেন তাহলে আর কে সুবিচার করবে? তারপর তিনি বলেন: আল্লাহ মূসা (আ)-এর প্রতি রহম করুন। তাঁকে তো এর চেয়ে বেশি কষ্ট দেয়া হয়েছে। তিনি সবর করেছেন। আমি মনে মনে বললাম, এরপর আমি কখনো তাঁর নিকট এরূপ কোন কথা পৌছাব না । (বুখারী, মুসলিম)
وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أرَادَ اللهُ بِعَبْدِهِ خَيْراً عَجَلَ لَهُ الْعُقُوبَةَ في الدُّنْيَا وَإِذَا أَرَادَ بِعَبْدِهِ الشَّرِّ أَمْسَكَ عَنْهُ بِذَنْبِهِ حَتَّى يُوَافِيَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ عِظَمَ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلَاءِ وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى إِذا أَحَبٌ قَوْمًا إِبْتَلَاهُمْ فَمَنْ رَضِيَ فَلَهُ الرِّضَا وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السَّخَطُ روَاهُ التِّرْمَدَى وَقَالَ حَدِيثُ حَسَنٌ
৪৩। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ যখন তাঁর কোন বান্দার প্রতি কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন দুনিয়াতেই তার (পাপের) শাস্তি ত্বরান্বিত করেন। আর তিনি যখন তাঁর কোন বান্দার প্রতি অমংগলের ইচ্ছা করেন, তখন তাকে (দুনিয়াতে) তার পাপের শাস্তি দান থেকে বিরত থাকেন, অবশেষে কিয়ামাতের দিন তার চূড়ান্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন: কষ্ট বেশি হলে সাওয়াবও বেশি হয়। আর আল্লাহ যখন কোন জাতিকে ভালোবাসেন, তখন তাকে পরীক্ষায় ফেলেন। যে ব্যক্তি এ পরীক্ষায় সন্তুষ্ট থাকে তার জন্য রয়েছে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি, আর যে ব্যক্তি অসন্তুষ্ট হয় তার জন্য রয়েছে আল্লাহ্ অসন্তুষ্টি।
ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।
٤٤ - وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ ابْنُ لِأَبِي طَلْحَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَشْتَكِي فَخَرَجَ أَبُو طَلْحَةَ فَقُبِضَ الصَّبِيُّ فَلَمّا رَجَعَ أَبُو طَلْحَةَ قَالَ مَا فَعَلَ ابْنِي؟ قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمَ وَهِيَ أُمُّ الصَّبِيِّ هُوَ أَسْكَنُ مَا كَانَ فَقَرَبَتْ إِلَيْهِ الْعَشَاءَ فَتَعَشَى ثُمَّ أَصَابَ مِنْهَا فَلَمَّا فَرَغَ قَالَتْ وَارُوا الصَّبِيِّ فَلَمَّا أَصْبَحَ أَبُو طَلْحَةَ اتى رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ أَعَرَّسْتُمُ اللَّيْلَةَ؟ قَالَ نَعَمْ قَالَ اللهُم بَارِكْ لَهُمَا فَوَلَدَتْ غُلَامًا فَقَالَ لِى أَبُو طَلْحَةَ اِحْمِلُهُ حَتَّى تَأْتِيَ بِهِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَعَثَ مَعَهُ بِتَمَرَاتِ فَقَالَ امَعَهُ شَيْ؟ قَالَ نَعَمْ تَمَرَاتٌ فَأَخَذَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَضَغَهَا ثُمَّ أَخَذَهَا مِنْ فِيهِ فَجَعَلَهَا فِي فِي
الصَّبِيِّ ثُمَّ حَنْكَهُ وَسَمَّاهُ عَبْدَ اللَّهِ مَتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِي قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ فَقَالَ رَجُلٌ مِّنَ الْأَنْصَارِ فَرَأَيْتُ تِسْعَةَ أَوْلاد كُلُّهُمْ قَدْ قَرَمُوا الْقُرْآنَ يَعْنى من أولاد عبد الله المولود.
وفي رواية لِمُسْلِمِ مَاتَ ابْنُ لِأَبِي طَلْحَةَ مِنْ أمّ سُلَيْمٍ فَقَالَتْ لِأَهْلِهَا لَا تُحَدِّثُوا آبَا طَلْحَةَ بِابْنِهِ حَتَّى أَكُونَ أَنَا أَحَدِثُهُ فَجَاءَ فَقَرَبَتْ إِلَيْهِ عَشَاء فَاكَلَ وَشَرِبَ ثُمَّ تَصَنِّعَتْ لَهُ أَحْسَنَ مَا كَانتْ تَصَنِّعُ قَبْلَ ذَلِكَ فَوَقَعَ بِهَا فَلَمَّا أَنْ رَأَتْ أَنَّهُ قَدْ شَبِعَ وأَصَابَ مِنْهَا قَالَتْ يَا آبَا طَلْحَةَ ارَأَيْتَ لَوْ أَن قَوْمًا أَعَارُوا عَارِيَّتَهُمْ أَهْلَ بَيْتِ فَطَلَبُوا عَارِيَتَهُمْ أَلَهُمْ أَنْ يُمْنَعُوْهُمْ؟ قَالَ لا فَقَالَتْ فَاحْتَسِبْ ابْنَكَ قَالَ فَغَضِبَ ثُمَّ قَالَ تَركتنى حَتَّى إذا تَلَطَّعْتُ ثُمَّ أَخْبَرْتنِي بِابْنِي؟ فَانْطَلَقَ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ بِمَا كَانَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَارَكَ اللهُ في لَيْلَتكُمَا قَالَ فَحَمَلَتْ قَالَ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ وَهِيَ مَعَهُ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا آتَى الْمَدِينَةَ مِنْ سَفَرٍ لَا يَطْرُقُهَا طَرُوقًا فَدَنَوْا مِنَ الْمَدِينَةِ فَضَرَبَهَا الْمَخَاضُ فَاحْتَبَسَ عَلَيْهَا أبو طلحة وانْطَلَقَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَقُولُ أَبُو طَلْحَةَ أَنَّكَ لتَعْلَمُ يَا رَبِّ أَنَّهُ يُعْجِبُنِي أَنْ أَخْرُجَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَرَجَ وَادْخُلَ مَعَهُ إِذا دَخَلَ وَقَدِ احْتَبَسْتُ بِمَا تَرى تَقُولُ أم سليم يَا أَبَا طَلْحَةَ مَا أَجِدُ الَّذى كُنتُ أجدُ انْطَلَقُ فَانْطَلَقْنَا وَضَرَبَهَا الْمَخَاصُ حِيْنَ قَدمَا فَوَلَدَتْ غُلَامًا فَقَالَتْ لَى أُمِّى يَا أَنَسُ لا يُرْضِعُهُ أَحَدٌ حَتَّى تَغُدُو بِهِ عَلَى رَسُولِ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا أَصْبَحَ احْتَمَلَتُهُ فَانْطَلَقْتُ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَذَكَرَ تَمَامَ الْحَدِيثِ .
৪৪।আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আবু তালহা (রাঃ) এর এক ছেলে রোগাক্রান্ত হল। আবু তালহা বাইরে কোথাও গেলেন। সে সময় ছেলেটির মৃত্যু হয়। আবু তালহা ফিরে এসে ছেলের অবস্থা জিজ্ঞেস করলেন। ছেলের আম্মা উম্মু সুলাইম (রাঃ) বলেন, পূর্বের চেয়ে সে ভালো। তারপর তিনি আবু তালহাকে রাতের খানা দিলেন। আবু তালহা খানা খেলেন, তারপর স্ত্রী মিলন করলেন। শেষে উম্মু সুলাইম বলেন, ছেলেকে দাফন করুন। আবু তালহা (রাঃ) সকালবেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তাঁকে এ খবর দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি আজ রাতে স্ত্রী মিলন করেছ? আবু তালহা বলেন, হাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: হে আল্লাহ! তাদের দু'জনকে তুমি বরকত দাও। তারপর উম্মু সুলাইমের একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে।
আনাস (রাঃ) বলেন, আবু তালহা আমাকে এ বাচ্চা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে যেতে বলেন এবং তার সাথে কিছু খেজুরও দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : তোমাদের সাথে কোন কিছু আছে কি? তিনি বলেন, হাঁ কিছু খেজুর আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই খেজুর নিয়ে চিবালেন, তারপর তাঁর মুখ থেকে বের করে তা বাচ্চার মুখে দিলেন, আর তার নাম রাখলেন আবদুল্লাহ। (বুখারী, মুসলিম)
বুখারীর এক বর্ণনায় আছে : ইবনে উয়াইনা (রাঃ) বলেন, আনসারদের একজন লোক বললেন, আমি আবদুল্লাহর নয়টি সন্তান দেখেছি। তাদের প্রত্যেকেই কুরআন বিশেষজ্ঞ ছিলেন। মুসলিমের এক বর্ণনায় এরূপ আছেঃ আবু তালহার ছেলে ইন্তিকাল করলে তার মাতা উম্মু সুলাইম বাড়ীর লোকদেরকে বলেন যে, তারা যেন আবু তালহাকে ছেলে সম্পর্কে কিছু না বলে। তিনি নিজেই তাকে যা বলার বলবেন। আবু তালহা বাড়ী এলে পর উম্মু সুলাইম তাঁকে রাতের খানা দিলেন। তিনি খাওয়া-দাওয়া করলেন। তারপর উম্মু সুলাইম নিজেকে স্বামীর জন্য পূর্বের চেয়ে বেশী সুন্দর করে সাজালেন। আৰু তালহা তাঁর সাথে মিলন করলেন। উম্মু সুলাইম যখন দেখলেন, আবু তালহা তৃপ্তি লাভ করেছেন এবং তাঁর প্রয়োজন মিটে গেছে, তখন তাঁকে বললেন, হে আবু তালহা! দেখুন, যদি কোন কাওম কোন পরিবারকে কিছু ধার দেয়, তারপর সেই ধার ফেরত চায়, তবে কি সেই পরিবার তাদের ধার ফেরত না দেয়ার অধিকার রাখে? আবু তালহা বলেন, না। উম্মু সুলাইম বলেন, তাহলে আপনার ছেলের ব্যাপারে নাল্লাহ্র নিকট সাওয়াব প্রার্থনা করুন। আবু তাস্হা এ কথা শুনে রাগান্বিত হলেন এবং বলেন, তুমি আগে কিছু বললে না, এমনকি আমি মিলনও করে ফেললাম, তারপর আমার ছেলে সম্পর্কে খবর দিলে । তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গিয়ে সব খবর বলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ করলেন, আল্লাহ তোমাদের দু'জনের রাতে বরকত দিন। তারপর উম্মু সুলাইম (রাঃ) গর্ভবতী হলেন। কোন এক সফরে তিনি (আবু তালহাসহ)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে মদীনায় সাধারণত রাতে ফিরে আসতেন না। যাহোক, তারা যখন মদীনার নিকটবর্তী হলেন, তখন উম্মু সুলাইমের প্রসব বেদনা শুরু হল। এজন্য আবু তালহা তার নিকট রয়ে গেলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আবু তালহা বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! তুমি জান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও যখন যান এবং কোথাও থেকে ফিরে আসেন তখন তাঁর সাথে থাকতে আমার ভালো লাগে। আর এখন তো আমি এখানে যে কারণে আটকে পড়লাম তা তুমি দেখছ। উম্মু সুলাইম (রাঃ) বলতে লাগলেন, হে আৰু তালহা! আমি যে বেদনা অনুভব করছিলাম, এখন আর তা বোধ করছি না, চলুন যাই। আমরা সেখান থেকে চলে এলাম। মদীনায় আসার পর তার প্রসব বেদনা শুরু হল এবং একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করল। আনাস (রাঃ) বলেন, আমার আম্মা আমাকে বলেন, এ বাচ্চাকে সকালে কেউ দুধ পান করাবার আগে তুমি একে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যাবে। সকাল বেলা আমি বাচ্চা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম । এভাবে তিনি হাদীসের বাকী অংশ বর্ণনা করেন।
٤٥ - وَعَنْ أبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ اِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ- متفق عليه والصُّرَعَةُ بضم الصاد وفَتْح الرأ، وأصْلَهُ عنْدَ الْعَرَب مَن يُصْرَعُ النَّاسَ كَثِيراً .
৪৫। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি (মল্লযুদ্ধে) অন্যকে ধরাশায়ী করে সে শক্তিশালী নয়, বরং শক্তিশালী হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে রাগের সময় নিজেকে সংযত রাখে। (বুখারী, মুসলিম)
وَعَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَجُلان يَسْتَيَّان وَأَحَدُهُمَا قَد احْمَرٌ وَجْهُهُ وَانْفَخَتْ أَوْدَاجُهُ فَقَالَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انّي لَأَعْلَمُ كَلمَة لَوْ قَالَهَا لَذَهَبَ عَنْهُ مَا يَجِدُ لَوْ قَالَ أَعُوذُ بالله منَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ ذَهَبَ مِنْهُ مَا يَجِدُ فَقَالُوا لَهُ إِنَّ النَّبِيِّ صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَعَوذ بالله من الشيطان الرجيم - متفق عليه
৪৬। সুলাইমান ইবনে সুরাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসা ছিলাম। এ সময় দুই ব্যক্তি পরস্পর ঝগড়া ও গালমন্দ করছিল। একজনের চেহারা তো রাগে লাল হয়ে গিয়েছিল এবং তার ঘাড়ের শিরাগুলো ফুলে উঠেছিল । তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি এমন একটি কথা জানি যা বললে তার এই অবস্থা অবশ্যই দূর হয়ে যাবে। সে যদি “আউযু বিল্লাহি মিনাশ্ শাইতানির রাজীম” বলে তবে তার এ ক্রোধের ভাব চলে যাবে। সাহাবীগণ তাকে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আউযু বিল্লাহ কথাটা বলে তোমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলেছেন। (বুখারী, মুসলিম)
٤٧ - وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ قَادِرٌ عَلى أنْ يُنْفَدَهُ دَعَاهُ اللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَلَى رُءُوس الْخَلائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُخَيْرَهُ مِنَ الْحُورِ الْعِيْنِ مَا شَاءَ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ والترمذي وَقَالَ حَدِيثُ حَسَنُ .
৪৭। মু'আয ইবনে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ কার্যকর করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা দমিয়ে রাখে, তাকে আল্লাহ কিয়ামাতের দিন সব মানুষের উপর মর্যাদা দিয়ে ডাকবেন, এমনকি তাকে তার ইচ্ছামত বড় বড় চোখবিশিষ্ট হৃরদের মধ্য থেকে বেছে নেয়ার স্বাধীনতা দেবেন। ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিরমিযী একে হাসান আখ্যা দিয়েছেন।
٤٨ - وَعَنْ أبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلاً قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أوْصَنِي قَالَ لا تَغْضَبُ فَرَدَّدَ مِرَارًا قَالَ لا تَغْضَبْ - رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .
৪৮। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বলেনঃ রাগ করো না। সে ব্যক্তি বারবার একই কথা বলতে থাকল, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বারবার বলেনঃ রাগ করো না। (বুখারী)
٤٩ وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَزَالُ الْبَلاءَ بِالْمُؤْمِن وَالْمُؤْمِنَة فِى نَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَمَالِهِ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ تَعَالَى وَمَا عَلَيْهِ خَطيئَةٌ رَوَاهُ الحِرْمَدَى وَقَالَ حَدِيثُ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
৪৯। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিন নর-নারীর জান, মাল ও সন্তানের উপর বিপদ-আপদ আসতেই থাকে। অবশেষে আল্লাহ্র সাথে সে সাক্ষাত করে এমন অবস্থায় যে, তার আর কোন গুনাহ থাকে না। ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ আখ্যায়িত করেছেন।
٥٠ - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاس رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَدَمَ عُيَيْنَةُ بْنُ حِصْنٍ فَنَزَلَ عَلَى ابْنِ أَخِيْهِ الْحَرِ بْنِ قَيْسٍ وَكَانَ مِنَ النَّفَرِ الَّذِينَ يُدْنِيْهِمْ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَكَانَ اللهُ عَنْهُ وَمُشَاوَرَتِهِ كُهُوْلاً كَانُوا أَوْ شُبانًا القُرآءُ أَصْحَابَ مَجْلِسِ عُمَرَ رَضِيَ فَقَالَ عُيَيْنَةُ لِابْنِ أَخِيهِ يَا ابْنَ أَخِي لَكَ وَجْهُ عِنْدَ هَذَا الْأَمِيرِ فَاسْتَأْذِنْ لِي عَلَيْهِ فَاسْتَأْذَنَ فَاذَنَ لَهُ عُمَرُ فَلَمَّا دَخَلَ قَالَ هى يَا ابْنَ الْخَطَابِ فَوَاللَّهِ مَا تُعْطَيْنَا الجزل ووَلَا تَحْكُمُ فِيْنَا بِالْعَدْلِ فَغَضِبَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ حَتَّى هَمَ أَنْ يُوقِعَ بِهِ فَقَالَ لَهُ الْحُرُّ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ اللهَ تَعَالَى قَالَ لِنَبِيِّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (خُذِ الْعَفْوَ وَآمُرُ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ) (الأعراف : ١٩٩) وَإِن هذا مِنَ الجَاهِلِينَ وَاللهِ مَا جَاوَزَهَا عُمَرُ حِيْنَ تَلَاهَا وَكَانَ وَفَّانًا عِنْدَ كِتَابِ اللهِ تعالى- رواه البخاري .
৫০। ইবনুল আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, উয়াইনা ইবনে হিস্ মদীনায় তার ভাতিজা হুর ইবনে কায়েসের নিকট এসে মেহমান হলেন। উমার (রাঃ) যাদেরকে নিজের সান্নিধ্যে রাখতেন, হুর ইবনে কায়েস তাদেরই একজন। আর উমার (রাঃ)-এর পারিষদবর্গ ও তাঁর পরামর্শ সভার সদস্যবৃন্দ, তাঁরা যুবক হোন বা বৃদ্ধ সকলেই ছিলেন কুরআন বিশারদ। উয়াইনা তার ভাতিজাকে বললেন, হে ভাতিজা! আমীরুল মুমিনীনের কাছে যাওয়ার তোমার সুযোগ-সুবিধা আছে। কাজেই তাঁর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আমার জন্য অনুমতি চাও। তিনি অনুমতি চাইলে উমার (রাঃ) অনুমতি দিলেন। তিনি তাঁর নিকট গিয়ে বলেন, হে ইবনুল খাত্তাব! আল্লাহ্র শপথ! আপনি আমাদের বেশি বেশি দান করেন না এবং আমাদের ব্যাপারে সুবিচারের সাথে হুকুম করেন না। এতে উমার (রা) রাগান্বিত হন, এমনকি তাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হন। তখন হুর তাকে বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন : “ক্ষমা প্রদর্শন কর, ভালো কাজের হুকুম দাও এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল।” (সূরা আল আ'রাফ : ১৯৯) আর ইনি তো মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্র শপথ! এ আয়াত তিলাওয়াত করার পর উমার
কোনরূপ বাড়াবাড়ি করেননি। আর তিনি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী খুব বেশি আমল
٥١ - وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ - أنَّهَا سَتَكُونُ بَعْدِى أَثَرَةٌ وَأَمُورٌ تُنْكَرُونَهَا قَالُوا يَا رَسُولَ الله فَمَا تَأْمُرُنَا ؟ قَالَ تُوَدُّونَ الْحَقِّ الذى عَلَيْكُمْ وَتَسْأَلُونَ اللهَ الذى لكُم متفق عليه والآثَرَةُ الانْفَرَادُ بِالشَّيْ عَمِّنْ لَّهُ فِيهِ حَقٌّ.
৫১। ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার পরে অনতিবিলম্বে কারও উপর কাউকে গুরুত্ব দেয়া হবে এবং এমন সব কাজ হবে যা তোমরা পছন্দ করবে না। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে (এ অবস্থায়) আপনি আমাদের কি হুকুম করেন? তিনি বলেন : তোমাদের উপর যেসব অধিকার প্রাপ্য রয়েছে সেগুলো আদায় কর এবং তোমাদের পাওনা আল্লাহ্র কাছে চাও । (বুখারী, মুসলিম)
٥٢ - وَعَنْ أَبِي يَحْيى أُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَجُلاً مِّنَ الْأَنْصَارِ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ الاَ تَسْتَعْمِلُنِى كَمَا اسْتَعْمَلْت فلانًا فَقَالَ إِنَّكُمْ سَتَلْقَوْنَ بَعْدِي أَثَرَةً فَاصْبِرُوا حَتَّى تَلْقَوْنِيْ عَلَى الْحَوْضِ - متفق عليه . وَأُسَيْد بِضَمِّ الْهَمْزَةِ وَحُضَير
بِعَاءِ مُهْمَلَةٍ مَضْمُوْمَةٍ وَضَاد مُعْجَمَة مَفْتُوحَةٍ ، وَاللهُ اعْلَمُ.
৫২। আবু ইয়াহ্ইয়া উসাইদ ইবনে হুদাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক আনসারী বলল, রাসূলাল্লাহ! আপনি কি আমাকে কর্মচারী নিযুক্ত করবেন না, যেমন অমুককে নিয়োগ করেছেন? ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : তোমরা অনতিবিলম্বে আমার পরে (তোমাদের নিজেদের উপর) অন্যের গুরুত্ব দেখতে পাবে। তখন আমার সাথে হাওযে কাওসারে দেখা না হওয়া পর্যন্ত সবর করবে। (বুখারী, মুসলিম)
٥٣ - وَعَنْ أَبِي إِبْرَاهِيمَ عَبْدِ اللهِ بْن أبي أوفى رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْض أيامه التي لقي فِيهَا الْعَدُوِّ انْتَظَرَ حَتَّى إِذَا مَالَتِ الشَّمْسُ قَامَ فِيهِمْ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ لا تَتَمَنوا لَقَاءَ الْعَدُوِّ وَاسْأَلُوا الله الْعَافِيَةَ فَإِذَا لَقِيْتُمُوْهُمْ فَاصْبِرُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ ظِلالِ السُّيُوفِ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُم مُنَزَّلَ الْكِتَابِ وَمُجْرِيَ السَّحَابِ وَهَازِمَ الْأَحْزَابِ اهْزِمُهُمْ وَأَنْصُرْنَا عَلَيْهِمْ - متفق عليه وبالله التوفيق .
৫৩। আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুশমনদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন এবং সূর্য হেলে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এমন অবস্থায় তিনি তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বলেন : হে লোকেরা! তোমরা দুশমনদের সাথে সংঘর্ষের আকাঙ্ক্ষা করো না, আল্লাহ্র নিকট শান্তি চাও। তবে যখন তাদের সাথে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে তখন সবর করবে (অটল থাকবে)। জেনে রাখ, জান্নাত তরবারির ছায়াতলে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : হে কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘ চালনাকারী ও দুশমন বাহিনীকে পরাস্তকারী আল্লাহ! তাদেরকে পরাস্ত কর এবং আমাদেরকে তাদের উপর বিজয়ী কর। (বুখারী, মুসলিম)