#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ৪, সততা।

Muhammads words
0

 قالَ اللَّهُ تَعَالَى : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ .

মহান আল্লাহ বলেন:

১। “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যনিষ্ঠদের সাথে থাক।” (সূরা আত্ তাওবা: ১১৯)

وَقَالَ تَعَالى : والصادقين والصادقات .

২। “সত্যনিষ্ঠ পুরুষ ও নারীগণ... আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও বিরাট পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।” (সূরা আল আহযাব: ৩৫)

وَقَالَ تَعَالَى : فَلَوْ صَدَقُوا اللهَ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ

৩। “যদি তারা আল্লাহ্র নিকট ওয়াদায় সত্যতার প্রমাণ দিত, তাহলে অবশ্যই তাদের জন্য তা ভালো হত।” (সূরা মুহাম্মাদ: ২১)

٥٤ - وَعَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الصدقَ يَهْدِى إلى البر وإن البرِّ يَهْدِى الى الْجَنَّة وأن الرّجُلَ لَيَصْدُقُ حَتَّى يُكْتَبَ عند الله صديقا وأنّ الْكَذِبَ يَهْدى إلى الْفُجُور وإِن الْفُجُورَ يَهْدِى إِلَى النَّارِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَكْذِبُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ كَذَابًا - متفق عليه


৫৪ । ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সত্য পুণ্য ও কল্যাণের পথ দেখায়। আর পুণ্য ও কল্যাণ জন্নাতের দিকে নিয়ে যায়। মানুষ সত্যের অনুসরণ করতে থাকলে অবশেষে আল্লাহ্র নিকট সিদ্দীক (পরম সত্যনিষ্ঠ) নামে অভিহিত হয়। আর মিথ্যা পাপাচারের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপাচার জাহান্নামের আগুনের দিকে নিয়ে যায়। মানুষ মিথ্যার অনুসরণ করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্ নিকট চরম মিথ্যাবাদী নামে অভিহিত হয়। (বুখারী, মুসলিম)

٥٥ - وَعَنْ أبِي مُحَمَّدٍ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيّ بْن أبي طالب رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ حفظتُ مِنْ رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعْ مَا يَريبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيْبُكَ فَانْ

الصَّدْقَ طَمَانِينَةٌ وَالْكَذِبَ رِيبَةٌ- رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثُ صَحِيحُ قَوْلُهُ يَريبُكَ بفَتْح الْيَاء وَضَمِهَا وَمَعْنَاهُ أتْرُكُ مَا تَشْكُ فِي حَلِهِ وَاعْدِلُ إِلَى مَا لَا

تشك فيه


৫৫। আবু মুহাম্মাদ হাসান ইবনে আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথাগুলো মুখস্থ করেছিঃ যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে দেয় তা ছেড়ে দিয়ে যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে না তাই গ্রহণ কর। সত্যনিষ্ঠা অবশ্যই প্রশান্তিদায়ক, আর মিথ্যা সন্দেহ সৃষ্টিকারী ।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন।


٥٦ - وَعَنْ أَبِي سُفْيَانَ صَخْرِ بْنِ حَرْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي حَدِيْثِهِ الطَّوِيلِ فِي قصة هرقل قَالَ هِرَقْلُ فَمَا ذَا يَأْمُرُكُمْ يَعْنى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَبُو سُفْيَانَ قُلْتُ يَقُولُ اعْبُدُوا اللهَ وَحْدَهُ لا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَاتْرَكُوا مَا يَقُولُ أَبَاؤُكُمْ وَيَأْمُرُنَا بالصَّلاة والصدق والعفاف والصلة متفق عليه .

৫৬। আবু সুফিয়ান সাখ্ ইবনে হারব (রাঃ) এক দীর্ঘ হাদীসে হিরাক্লিয়াসের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেনঃ হিরাক্লিয়াস জিজ্ঞেস করলেন, নবী (সাঃ) তোমাদের কি কাজ করার হুকুম করেন? আবু সুফিয়ান বলেন, তিনি বলেন: তোমরা একমাত্র আল্লাহ্র ইবাদাত কর এবং তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করো না। তোমরা তোমাদের বাপ-দাদা যা বলে তা ছেড়ে দাও। আর তিনি আমাদেরকে নামায, সত্যনিষ্ঠা, উদারতা ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার হুকুম করেন। (বুখারী, মুসলিম)


٥٧ - وَعَنْ أَبِى ثَابِتٍ وَقِيلَ أَبِي سَعِيدٍ وَقِيْلَ أَبِي الْوَلِيدِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ وَهُوَ بَدْرِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَأَلَ اللَّهَ تَعَالَى الشهادة بصدقٍ بَلَغَهُ اللهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَا ، وانْ مَاتَ عَلى فراشه رواه مسلم .

৫৭। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী সাহল ইবনে হুনাইফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ্র নিকট সত্যিই শাহাদাতের মৃত্যু চায়, সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করলেও আল্লাহ তাকে শহীদদের মর্যাদায় পৌছিয়ে দেন (মুসলিম)

٥٨ - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غزا نَبِيِّ مِّنَ الْأَنْبِيَاء صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلامُهُ عَلَيْهِمُ فَقَالَ لِقَوْمِهِ لا يَتْبَعَنِي رَجُلٌ مَلَكَ بُضْعَ امْرَأَةٍ وَهُوَ يُرِيدُ أنْ يُبْنَى بِهَا وَلَما يَبْنِ بِهَا وَلَا أَحَدٌ بَنَى بُيُوتًا لَمْ يَرْفَعْ سُقُوفَهَا وَلَا أَحَدٌ اِشْتَرى غَنَمًا أَوْ خَلِفَاتٍ وَهُوَ يَنْتَظِرُ أَوْلَادَهَا فَغَزَا فَدَنَا مِنَ الْقَرْيَةِ صَلَاةَ الْعَصْرِ أَوْ قَرِيبًا مِنْ ذَلِكَ فَقَالَ لِلشَّمْسِ إِنَّكِ مَا مُورَةٌ وَأَنَا مَامُور اللهُمَّ احْبِشهَا عَلَيْنَا فَحُبِسَتْ حَتَّى فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَجَمَعَ الْغَنَائِمَ فَجَاءَتْ يعنى النار لتأكُلَهَا فَلَمْ تَطْعَمْهَا فَقَالَ إِنْ فِيكُمُ عُلُولاً فَلْيُبَا يَعْنِي مِنْ كُلِّ قَبِيلَةٍ رَجُلٌ فَلَزِقَتْ يَدُ رَجُلٍ بِيَدِهِ فَقَالَ فِيْكُمُ الْغُلُولُ فَلْيُبَايِعْنِي قَبِيْلَتُكَ فَلَزِقَتْ يَدُ رَجُلَيْنِ أَوْ ثَلاثَة بيده فَقَالَ فِيكُمُ الْغُلُولُ فَجَامُوا بِرَأْس مثلِ رَأْسِ بَقَرَةٍ مِّنَ الذَّهَبِ فَوَضَعَهَا فَجَاءَتِ النَّارُ فَاكَلَتْهَا فَلَمْ تَحِلَّ الْغَنَائِمُ لِأَحَدٍ قَبْلَنَا ثُمَّ أَحَلَّ اللهُ لَنَا الْغَنَائِمَ لَمّا رَأَى ضَعْفَنَا وَعَجْزَنَا فَأَحَلَّهَا لَنَا- متفق عليه الخلفاتُ بِفَتْحِ الْقَاءِ الْمُعْجَمَةِ وَكَسْرِ اللأَمِ جَمْعُ خَلِفَةٍ وَهِيَ النَّاقَةُ الْحَامِلُ.


৫৮। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন একজন নবী (ইউশা ইবনে নূন) জিহাদ করতে গিয়ে তাঁর জাতিকে বলেন, যে ব্যক্তি অচিরেই বিবাহ করে তার স্ত্রীর সাথে মিলন করতে চায়, কিন্তু এখনও সে তা করেনি; যে ব্যক্তি ঘর তৈরি করেছে বটে কিন্তু এখনও তার ছাদ তৈরি করেনি এবং যে ব্যক্তি গর্ভবতী ছাগল বা উটনী খরিদ করে তার বাচ্চার অপেক্ষায় আছে তারা যেন জিহাদে আমার সাথে না যায়। তারপর তিনি জিহাদে গেলেন এবং আসরের নামাযের সময় অথবা তার কাছাকাছি সময় যে জনপদে যুদ্ধ করার ইচ্ছা ছিল সেখানে পৌছে গেলেন। তখন তিনি সূর্যকে বলেন: তুমিও আল্লাহ্র হুকুমের অধীন আর আমিও তাঁর হুকুমের অধীন। হে আল্লাহ! তুমি সূর্যকে আটকে রাখ। 

অতঃপর জিহাদে জয়লাভ করা পর্যন্ত তা আটকে রাখা হল। তিনি গনীমাতের মাল একত্র করে রাখলে আগুন সেগুলোকে খেয়ে (জ্বালিয়ে) ফেলার জন্য এল, কিন্তু আগুন তা খেলোনা। তখন তিনি বলেন, নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে কেউ গনীমাতের মালে খিয়ানত করেছে। কাজেই প্রত্যেক গোত্রের একজনকে আমার হাতে বাইয়াত করতে হবে। বাইয়াত করতে গিয়ে একজনের হাত তাঁর হাতের সাথে আটকে গেল। তিনি (তাকে) বলেন, তোমাদের মধ্যেই খিয়ানতকারী রয়েছে। কাজেই তোমার গোত্রের সব লোককে আমার হাতে বাইয়াত করতে হবে। এভাবে বাইয়াত করতে গিয়ে দু'জন কি তিনজনের হাত তাঁর হাতের সাথে আটকে গেল। তখন তিনি বলেন, তোমাদের দ্বারাই এ খিয়ানত হয়েছে। তারা তখন একটি গরুর মাথার সমান একটি সোনার মাথা নিয়ে এল। 

তারপর সেটাকে তিনি মালের সাথে রেখে দিলেন এবং আগুন এসে তা সব খেয়ে ফেলল। আমাদের পূর্বে কারও জন্য গনীমাতের মাল হালাল করা হয়নি। আল্লাহ আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতার দিকে লক্ষ্য করে আমাদের জন্য এটা হালাল করেছেন। (বুখারী, মুসলিম)

اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى ٥٩ - وَعَنْ أَبِى خَالِدٍ حَكِيمِ بْنِ حَزَامٍ رَضِيَ ا الله عليه وسلمَ الْبَيِّعَان بالخيار مَا لَمْ يَتَفَرِّقَا فَانُ صَدَقَا وَبَيْنَا بُوْرِكَ لَهُمَا فِي

بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَّبَا مُحقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا - متفق عليه .


৫৯। আবু খালিদ হাকিম ইবনে হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ক্রেতা ও বিক্রেতা পরস্পর পৃথক না হওয়া পর্যন্ত তাদের কেনা-বেচা বাতিল করে দেওয়ার অধিকার বা ইখতিয়ার রাখে। যদি তারা উভয়ে সত্য ও স্পষ্ট কথা বলে, তাহলে তাদের কেনা-বেচায় বরকত হয় এবং যদি (কোনো কিছু) গোপন করে ও মিথ্যা বলে, তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত নষ্ট করে দেয়া হয়। ' (বুখারী, মুসলিম)।

মূল আরবী ভাষার ‘সিদকুন' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। শব্দটির অর্থ সাধারণত সততা মনে করা হয়। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এর অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। সত্যবাদিতা, সত্যনিষ্ঠা, সত্য পথে থাকা, সত্যের অনুসরণ করা, কথায় ও কাজে এবং চিন্তা ও মনের সামঞ্জস্য, সত্যপরায়ণতা ইত্যাদি সবই এ শব্দটির অর্থের অন্তর্ভুক্ত। 

ইমাম গাযালী এর ছয় প্রকার অর্থ তার এহ্ইয়াউল উলূম গ্রন্থে লিখেছেন: (১) সত্যবাদিতা, (২) সত্য নিয়াত করা, (৩) সত্য প্রতিজ্ঞা করা (৪) প্রতিজ্ঞা পালনে সত্যের প্রমাণ দেয়া (৫) কাজে সত্যের অনুসরণ করা ও (৬) দীনের পথের সর্বস্তরে সত্যের নমুনা পেশ করা। এসব অর্থই উল্লেখিত আয়াত ও হাদীসসমূহে পাওয়া যায়। (অনুবাদক)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default