#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ৫, মুরাকাবা" বা আত্মপর্যবেক্ষণ।

Muhammads words
0

 قَالَ اللهُ تَعَالَى : الذي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ وَتَقَلْبَكَ فِي السَّاجِدِينَ .دو

মুরাকাবা শব্দের অর্থ দৃষ্টি রাখা, পরিদর্শন করা, আত্মসমালোচনা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং গভীর মনোনিবেশ সহকারে আত্মপর্যবেক্ষণ করা ও আল্লাহ্ ধ্যানে মগ্ন হওয়া । এ সম্পর্কে অনেক আয়াত ও হাদীস রয়েছে। (অনুবাদক)


মহান আল্লাহ বলেন :

(১) “তুমি যখন নামাযে দাঁড়াও তখন তিনি তোমাকে এবং নামাযীদের মধ্যে তোমার নড়ন চড়ন প্রত্যক্ষ করেন।” (সূরা আশ্ শু'আরাঃ ২১৯ ও ২২০)

وَقَالَ تَعَالَى : وَهُوَ مَعَكُم أَيْنَمَا كُنتُمْ .وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّ اللَّهَ لَا يَخْفَى عَلَيْهِ شَيْ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ


(৩)“ আল্লাহ্র নিকট আসমান ও যমীনে কোন কিছুই গোপন থাকে না।” (সূরা আলে ইমরানঃ ৫)

وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّ رَبِّكَ لَبِالْمِرْصَادِ


(৪) নিশ্চয়ই তোমার ভ্রভু তাঁর বিরোধীদের প্রতি কড়া দৃষ্টি রাখছেন ( সূরা আলফজরঃ ১৪ )

وَقَالَ تَعَالَى : يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ وَالْآيَاتُ فِي الْبَابِ كَثيرَة مَعْلُومَة


(৫) “আল্লাহ চোখের খিয়ানত (অর্থাৎ অবৈধ দৃষ্টি) ও মনের গোপন কথা জানেন ।” (সূরা গাফিরঃ ১৯)

٦٠ - عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الشَّيَابِ شَديدُ سَواد الشعر لا يُرى عَلَيْه أَثَرُ السِّفَر وَلا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَسْنَدَ رَكْبَتَيْهِ إِلَى رَكْبَتَيْهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ

وَسَلَّمَ الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وأَنْ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ وَتُقِيمَ الصَّلاةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ وَتَحْجُ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيْلاً قَالَ صَدَقْتَ فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيْمَانِ قَالَ أَنْ تُؤْمِنَ باللهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدْرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ قَالَ صَدَقَت قَالَ فَأَخْبِرُنِي عَنِ الْإِحْسَانِ قَالَ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُن تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ قَالَ مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَاتِهَا قَالَ أَن تَلدَ الْآمَةُ رَبِّتَهَا وَأَن تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُوْنَ فِي الْبُنْيَانِ ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ مَلِيَّا ثُمَّ قَالَ يَا عُمَرُ اتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟ قُلْتُ اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ - رواه مسلم.

وَمَعْنَى تَلِدَ الْآمَةُ رَبَّتَهَا أَى سَيِّدَتَهَا وَمَعْنَاهُ أنْ تَكْثُرَ السَّرَارِي حَتَّى تَلدَ الْآمَةُ السُّرِيَّةُ بِنْتَا لِسَيّدِهَا وَبِنْتُ السَّيِّدِ فِى مَعْنَى السَّيِّدِ وَقِيلَ غَيْرُ ذَلِكَ وَالْعَالَةُ الفقرا، وَقَوْلُهُ مَليّاً أى زَمَنا طويلاً وَكَانَ ذلِكَ ثَلاثاً .


৬০। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমাদের সামনে আবির্ভূত হল। লোকটির পোশাক-পরিচ্ছদ ছিল খুবই ধবধবে সাদা, তার চুলগুলো ছিল গাঢ় কালো এবং তার উপর সফরের কোন চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না। আর আমাদের কেউ তাকে চিনতেও পারছিল না। সে সোজা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গিয়ে বসল। তারপর তার হাঁটু রাসূলুল্লাহ (সা)-এর হাঁটুর সাথে লাগিয়ে দিয়ে নিজের হাত দু'খানা তাঁর উরুর উপর রেখে বলল, হে মুহাম্মাদ! ইসলামের পরিচয় আমাকে বলে দিন । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইসলাম এই যে, তুমি সাক্ষ্য দেবে : আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ্র রাসূল। আর তুমি নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে, রমযানের রোযা রাখবে এবং সামর্থ্য থাকলে হজ্জ করবে। সে বলল, আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তার এরূপ আচরণে বিস্ময় বোধ করলাম যে, সে তাঁকে জিজ্ঞেসও করছে আবার তাঁর কথা সত্য বলে মন্তব্যও করছে। সে আবার জিজ্ঞেস করল, আপনি আমাকে ঈমানের পরিচয় বলে দিন। তিনি বলেনঃ ঈমান এই যে, তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, কিয়ামাতের দিন এবং তাকদীরের ভাল-মন্দের প্রতি ঈমান রাখবে। সে বলল, আপনি সত্য বলেছেন। সে আবার জিজ্ঞেস করল, আপনি আমাকে ইহ্সান সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বলেন, তা এই যে, তুমি আল্লাহ্ ইবাদাত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ । যদি তুমি তাঁকে না দেখ, তবে নিশ্চয় তিনি তোমাকে দেখছেন। সে জিজ্ঞেস করল, কিয়ামাতের ব্যাপারে আমাকে কিছু বলুন। তিনি বলেন : যাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হল সে প্রশ্নকারী থেকে বেশি কিছু জানে না। সে বলল, তাহলে তার আলামতগুলো অবহিত করুন। তিনি বলেন : দাসী তার কর্তীকে প্রসব করবে। আর (এক কালের) খালি পা ও উলংগ শরীরবিশিষ্ট গরীব মেষের রাখালদেরকে (পরবর্তীকালে) সুউচ্চ দালান-কোঠা নিয়ে পরস্পর গর্ব করতে দেখবে। তারপর লোকটি চলে গেল। বেশ কিছুক্ষণ অতিবাহিত হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে উমার! তুমি কি জান, প্রশ্নকারী কে? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বলেনঃ তিনি হচ্ছেন জিব্রীল। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দীন শেখাতে এসেছিলেন। (মুসলিম)


٦١ - عَنْ أَبِي ذَرِّ جُندب بن جَنَادَةً وَأَبِى عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُعَاذِ بْنِ جَبَل رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اتَّقِ اللهَ حَيْتُمَا كُنتَ وَاتَّبِعِ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةِ تَمْحُهَا وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَن رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثُ حَسَنُ .

·

৬১। আবু যার ও মু'আয ইবনে জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় কর এবং অসৎ কাজ করলে তার পরপর সৎ কাজ কর। তাহলে ভালো কাজ মন্দ কাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। আর মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার কর।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।


٦٢ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كُنتُ خَلْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَقَالَ يَا غُلامُ انّى أَعَلِمُكَ كَلِمَاتِ احفظ اللهَ يَحْفَظْكَ احْفَظ الله تجده تُجَاهَكَ إِذا سَأَلْتَ فَاسْأَلُ اللهَ وَإِذا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَأَعْلَمُ أَنَّ الْأُمِّةَ لو اجْتَمَعَتْ عَلى أنْ يُنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ الأَ بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ لَكَ وَإِن اجْتَمَعُوا عَلَى أنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ عَلَيْكَ رفعت الأقلامُ وَجَفَّت الصُّحُفُ - رَوَاهُ التِّرْمِدَى وَقَالَ حَدِيثُ حَسَنٌ صَحِيحٌ

وفي رواية غَيْرِ التِّرْمِذِي احْفَظ اللهَ تَجدُهُ امَامَكَ تَعَرِّف إلى الله في الرخاء يَعْرِفُكَ فِي الشِّدَّةِ وَاعْلَمْ اَنْ مَا أَخْطَاكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيْبَكَ وَمَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ

لِيُخْطِنَكَ وَاعْلَمُ أَنْ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ وَأَنَّ الْفَرَجَ مَعَ الْكَرْبِ وَانْ مَعَ الْعُسْرِ يُسْراً .


৬২। ইবনুল আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে ছিলাম। তিনি আমাকে বলেনঃ ওহে যুবক! আমি অবশ্যই তোমাকে কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিচ্ছিঃ আল্লাহ্ (নির্দেশাবলীর) রক্ষণাবেক্ষণ ও অনুসরণ কর, আল্লাহও তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। আল্লাহ্র হক আদায় কর, তাহলে তাঁকে তোমার সাথে পাবে। যখন কোন কিছু চাইবে তো আল্লাহ্র কাছে চাও। আর যখন তুমি সাহায্য চাইবে তা আল্লাহ্র কাছেই চাও। জেনে রাখ, সমস্ত সৃষ্টজীব একসাথে মিলেও যদি তোমার কোন উপকার করতে চায়, তবে আল্লাহ যা তোমার ভাগ্যে নির্ধারিত করে রেখেছেন, তাছাড়া তারা তোমার কোন উপকার করতে পারবে না। আর তারা যদি একসাথে মিলে তোমার কোন অপকার করতে চায়, তবে আল্লাহ যা তোমার ভাগ্যে নির্ধারিত করে রেখেছেন তাছাড়া তোমার কোন অপকার তারা করতে পারবে না। কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে এবং কিতাবাদি শুকিয়ে গেছে ।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষের বাক্যটি দ্বারা অতীব সুন্দরভাবে তাকদীরের অকাট্যতা ব্যক্ত করেছেন। লেখা শেষ করে কলম উঠিয়ে রাখলে এবং লেখা শুকিয়ে গেলে আর নতুন করে কোন কিছু লেখা হয় না এবং কোন কাটাকাটিও হয় না। তাকদীরের লিখন এরূপ অকাট্য যে, এতে আর কোন পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হওয়ার নেই। এ কথাই এখানে বুঝানো হয়েছে। (অনুবাদক)

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ হাদীস আখ্যা দিয়েছেন। তিরমিযী ছাড়া অন্য হাদীস গ্রন্থসমূহে আরো আছে : আল্লাহ্র অধিকার সংরক্ষণ কর, তাহলে তাঁকে পাবে নিজের সামনে। সুদিনে আল্লাহকে স্মরণ রাখ, তাহলে দুর্দিনে তিনি তোমাকে স্মরণ করবেন। জেনে রাখ, যে জিনিস তুমি লাভ করনি তা তুমি (আসলে) পেতে না । আর যা (অসুবিধা) তুমি লাভ করেছ তা তোমার কাছে পৌঁছতে ভুল হত না। (অর্থাৎ ভাগ্যে যা লিখা আছে তা হবেই)। আরো জেনে রাখ, (আল্লাহ্) মদদ আছে সবরের সাথে, (আর্থিক) সচ্ছলতা আছে কষ্ট ও ক্লেশের সাথে, আর অবশ্যই দুঃখের সাথে আছে সুখ।

٦٣ - عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ إِنَّكُمْ لَتَعْمَلُوْنَ أَعْمَالَا هِيَ أَدَقُ فِي أَعْيُنِكُمْ من الشعر كُنَّا نَعُدُّهَا عَلَى عَهْدِ رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْمُوْبِقَاتِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَقَالَ الْمُوْبِقَاتُ الْمُهْلَكَاتُ

করে থাক যেগুলো তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও বেশি হালকা। কিন্তু আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সেগুলোকে ধ্বংসাত্মক (কাজ) গণ্য করতাম। (বুখারী)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ تَعَالى يَغَارُ وَغَيْرَةُ الله تَعَالَى أنْ يَأْتِيَ الْمَرْءُ مَا حَرَّمَ اللهُ عَلَيْه - متفق عليه والْغَيْرَةُ بفتح الْغَيْن وأَصْلُهَا الْأَنْفَةُ.


৬৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আল্লাহ তা'আলা (বান্দার ব্যাপারে) আত্মমর্যাদা বোধ করেন। মানুষের জন্য আল্লাহ যা হারাম করেছেন যখন সে তাতে লিপ্ত হয় তখনই আল্লাহর আত্মমর্যাদাবোধ জেগে উঠে । এ হাদীসের অর্থ এই যে, মানুষের হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া আল্লাহ্র মর্যাদা হানি করার নামান্তর। কাজেই নিষিদ্ধ কাজ করা তাঁর জন্য মর্যাদা হানিকর। এ অর্থে আল্লাহ তাঁর জন্য শোভনীয় আত্মমর্যাদা বোধ করেন। (অনুবাদক)

(বুখারি ও মুসলিম)

٦٥ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ ان ثَلاثَةٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَبْرَصَ وَأَقْرَعَ وَاعْمٰى أَرَادَ اللهُ أَنْ يُبْتَلِيَهُمْ فَبَعَثَ إِلَيْهِمُ مَلَكًا فَأَتَى الْأَبْرَصَ فَقَالَ أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ لَوْنٌ حَسَنَّ وَجِلْدٌ حَسَن وَيَذْهَبُ عَنِّى الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ قَدَرُهُ وَأَعْطِيَ لَوْنًا حَسَنَا قَالَ فَأَى الْمَالَ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ الْابِلُ أَوْ قَالَ الْبَقَرُ شَكُ الرَّاوِيُّ) فَأَعْطِيَ نَاقَةٌ عُشَرَاءَ فَقَالَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيْهَا .

فَأَتَى الْأَقْرَعَ فَقَالَ أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ شَعْرٌ حَسَنٌ وَيَذْهَبُ عَنِّى هَذَا الَّذِي قَذِرَنِي النَّاسُ فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ وَأَعْطِيَ شَعْرًا حَسَنًا قَالَ فَأَيُّ الْمَالَ أَحَبُّ

الَيْكَ ؟ قَالَ الْبَقَرُ فَأَعْطَى بَقَرَةٌ حَامِلاً وَقَالَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا . فَأَتَى الْأَعْمَى فَقَالَ أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ أَنْ يُرُدُ اللَّهُ إِلَى بَصَرِي فَأَبْصِرَ النَّاسَ فَمَسَحَهُ فَرَدَّ اللهُ إِلَيْهِ بَصَرَهُ قَالَ فَأَيُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ الْغَتَمُ

فَأَعْطِيَ شَاةَ وَالِدَا فَانْتَجَ هَدَانِ وَوَلَدَ هَذا فَكَانَ لِهَذَا وَادٍ مِنَ الْإِبِلِ وَلِهَذَا وَادٍ مِّنَ الْبَقَرِ وَلِهَذَا وَادٍ مِنَ الْغَنَمِ

ثُمَّ إِنَّهُ أَتَى الْأَبْرَصَ فِى صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ فَقَالَ رَجُلٌ مِسْكِينُ قَدِ انْقَطَعَتْ بِيَ الْجِبَالُ فِي سَفَرِى فَلَا بَلاغَ لِيَ الْيَوْمَ إِلا بِاللهِ ثُمَّ بِكَ أَسْأَلُكَ بِالَّذِي أَعْطَاكَ اللَّوْنَ الْحَسَنَ وَالْجِلْدَ الْحَسَنَ وَالْمَالَ بعيراً أتبلغ به فِي سَفَرِى فَقَالَ الْحُقُوقُ كَثِيرَةٌ فَقَالَ كَانِي أَعْرِفُكَ أَلَمْ تَكُنْ أبْرَصَ يَقْذَرُكَ النَّاسُ فَقِيرًا فَاعْطَاكَ اللهُ؟ فَقَالَ إِنَّمَا وَرِثْتُ هَذَا الْمَالَ كَابِرًا عَنْ كَابِرٍ فَقَالَ إِنْ كُنتَ كَاذِبًا فَصَيرَكَ اللهُ الى مَا كُنتَ .

وَآتَى الْأَقْرَعَ فِي صُورَته وَهَيْئَتِهِ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ لِهَذَا وَرَدُّ عَلَيْهِ مِثْلَ مَا رد هذا فَقَالَ إِنْ كُنتَ كَاذِبًا فَصَرَكَ اللهُ إِلَى مَا كُنتَ.

وآتَى الْأَعْمَى فِى صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ فَقَالَ رَجُلٌ مِسْكِينٌ وَابْنُ سَبِيْلِ انْقَطَعَتْ بِيَ الحَبَالُ فِي سَفَرِى فَلَا بَلَاغَ لِيَ الْيَوْمَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ أَسْأَلُكَ بِالَّذِي رَبِّ عَلَيْكَ بَصَرَكَ شَاءٌ أَتَبَلغ بها في سَفَرِى ؟ فَقَالَ قَدْ كُنتُ أعمى فَرَدَّ اللهُ إِلَى بَصَرَى فَخُذْ مَا شِئْتَ وَدَعْ مَا شِئْتَ فَوَاللَّهِ مَا اجْهَدُكَ الْيَوْمَ بِشَيْءٍ أَخَذْتَهُ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلٌ فَقَالَ أمْسِكَ مَالَكَ فَإِنَّمَا ابْتُلِيْتُمْ فَقَدْ رَضِيَ اللهُ عَنْكَ وَسَخِطَ عَلَى صَاحِبَيكَ-متفق عليه.


৬৫। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ বনী ইসরাঈলের মধ্যে তিনজন লোক ছিল : কুষ্ঠরোগী, টেকো ও অন্ধ । আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করার ইচ্ছা করলেন এবং একজন ফেরেশতাকে তাদের নিকট পাঠালেন । তিনি কুষ্ঠ রোগীর কাছে এসে বললেন, তোমার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোটি? সে বলল, সুন্দর ত্বক এবং সেই রোগ থেকে মুক্তি যার কারণে লোকেরা আমাকে ঘৃণা করে ৷ ফেরেশ্তা তার গায়ে হাত বুলালেন। এতে তার রোগ নিরাময় হল এবং তাকে সুন্দর রং দান করা হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কোন সম্পদ তোমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল, উট অথবা গরু (বর্ণনাকারীর সন্দেহ)। তখন তাকে দশ মাসের গর্ভবর্তী একটি উট দেয়া হল। ফেরেশতা বললেন, আল্লাহ এতে তোমায় বরকত দিন। তারপর তিনি টেকো লোকটির নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোনটি? সে বলল, সুন্দর চুল এবং এই টাক থেকে মুক্তি, যার কারণে লোকেরা আমাকে ঘৃণা করে। তিনি তার মাথায় হাত বুলালেন। এতে তার টাক সেরে গেল এবং তাকে সুন্দর চুল দান করা হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কোন সম্পদ তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল, গরু তখন তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দেয়া হল। তিনি বললেন, আল্লাহ এতে তোমাকে বরকত দিন। তারপর তিনি অন্ধ লোকটির নিকট এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কি? সে বলল, আল্লাহ আমার চোখ ফিরিয়ে দিন, যাতে আমি মানুষকে দেখতে পাই । তিনি তার চোখে হাত বুলালেন । এতে আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন । তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কোন সম্পদ তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল, ছাগল। তাকে তখন এমন ছাগী দেয়া হল যা বেশি বাচ্চা দেয়। তারপর উট, গাভী ও ছাগলের বাচ্চা হল এবং উট দ্বারা একটি ময়দান, গরু দ্বারা আর একটি ময়দান এবং ছাগল দ্বারা অন্য একটি ময়দান ভরে গেল।

তারপর ফেরেশতা কুষ্ঠ রোগীর নিকট তার প্রথম আকৃতি ধারণ করে এসে বলেন, আমি একজন মিসকীন। সফরে আমার সবকিছু নিঃশেষ হয়ে গেছে। আজ আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই যার সাহায্যে আমি আমার গন্তব্যে পৌঁছতে পারি, অতঃপর তোমার উসীলায়। সেই আল্লাহ্র নামে আমি তোমার কাছে একটা উট সাহায্য চাচ্ছি, যিনি তোমাকে সুন্দর রং, সুন্দর ত্বক ও সম্পদ দিয়েছেন, যাতে আমি তার সাহায্যে গন্তব্যে পৌঁছতে পারি । সে বলল, (আমার উপর) অনেকের হক রয়েছে । তিনি বলেন, আমি বোধহয় তোমাকে চিনি । তুমি কুষ্ঠ রোগী ছিলে না? তোমাকে লোকেরা কি ঘৃণা করত না? তুমি না নিঃস্ব ছিলে? তোমাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন। সে বলল, আমি তো এ সম্পদ পূর্বপুরুষ থেকে ওয়ারিশী সূত্রে পেয়েছি। তিনি বলেন, যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও তাহলে আল্লাহ তোমাকে যেন পূর্বের মত করে দেন।

এরপর তিনি টেকো লোকটির নিকট তার প্রথম আকৃতি ধারণ করে এসে ঐ কথাই বলেন, যা প্রথম ব্যক্তিকে বলেছিলেন এবং সে সেই উত্তরই দিল, যা পূর্বোক্ত লোকটি দিয়েছিল। ফেরেশতা একেও বলেন, যদি তুমি মিথ্যাবাদী হয়ে থাক তাহলে আল্লাহ যেন তোমাকে আবার পূর্বের মত করে দেন।

তারপর তিনি অন্ধ লোকটির নিকট তার পূর্বের আকৃতি ধারণ করে এসে বলেন, আমি একজন মিস্কীন ও পথিক। আমার সবকিছু সফরে নিঃশেষ হয়ে গেছে। এখন গন্তব্যে পৌঁছতে আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপায় নেই, অতঃপর তোমার উসীলায় । তোমার কাছে সেই আল্লাহ্র নামে একটি ছাগল সাহায্য চাচ্ছি, যিনি তোমাকে তোমার দৃষ্টিশক্তি ফেরত দিয়েছেন। লোকটি বলল, আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ আমাকে আমার দৃষ্টিশক্তি ফেরত দিয়েছেন। কাজেই তুমি তোমার যত ইচ্ছা মাল নিয়ে যাও, আর যা ইচ্ছা রেখে যাও। আল্লাহ্র শপথ! আজ তুমি মহান আল্লাহ্র ওয়াস্তে যা কিছু নেবে আমি তাতে তোমাকে বাধা দেব না। ফেরেশতা বলেন, তোমার মাল তোমার কাছেই রাখ। তোমাদের শুধু পরীক্ষা করা হয়েছে। আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট এবং তোমার অপর দু'জন সাথীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন । (বুখারী, মুসলিম)

٦٦ - عَنْ أَبِي يَعْلَى شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْكَيْسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْعَاجِرُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ

هَوَاهَا وَتَمَتَّى عَلَى اللهِ - رَوَاهُ التِّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثُ حَسَنَ قَالَ الحِرْمَدَى وَغَيْرُهُ مِنَ الْعُلَمَاء مَعْنى دَانَ نَفْسَهُ حَاسَبَهَا.


৬৬। শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে তার নফসের হিসাব নেয় (আত্ম-সমালোচনা করে) এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য কাজ করে। আর দুর্বল ঐ ব্যক্তি যে নিজেকে কুপ্রবৃত্তির গোলাম বানায়, আবার আল্লাহ্র কাছেও প্রত্যাশা করে ।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান আখ্যা দিয়েছেন ।

٦٧ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيْهِ - حَدِيثُ حَسَنٌ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَغَيْرُهُ .


৬৭। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : অশোভনীয় (অনর্থক) কাজ পরিহার করা মানুষের ইসলামের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত । (তিরমিযী)

٦٨ - عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُسْأَلُ الرَّجُلُ فيمَ ضَرَبَ امْرَأَتَهُ - رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَغَيْرُهُ .


৬৮। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন সঙ্গত কারণে স্ত্রীকে প্রহার করলে সেজন্য স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। (আবু দাউদ)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default