قَالَ اللهُ تَعَالَى : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تَقَاتِهِ
আরবী ভাষায় তাওয়া শব্দের আভিধানিক অর্থ ভয় করা, বেঁচে চলা, সতর্কতা অবলম্বন করা, বিরত থাকা ইত্যাদি। এসব অর্থের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কুরআন ও হাদীসে তাকওয়া শব্দটি মূলত একটি বিশেষ ও ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ্র উপর সব সময় দৃঢ় ঈমান রেখে জীবনের সর্বস্তরে কাজ করতে থাকলে মানুষ ভালো ও মন্দের মধ্যে সঠিক পার্থক্য করার যোগ্যতা ও প্রবণতা লাভ করে। আর এতে ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ এবং মন্দ কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়। মনের এরূপ অবস্থা অনুযায়ী পবিত্র ভূমিকা পালন করাকেই ইসলামের পরিভাষায় ‘তাকওয়া’ বলা হয়। এ সম্পর্কে বহু আয়াত ও হাদীস রয়েছে। (অনুবাদক)
মহান আল্লাহ বলেন:
(১) “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যেমন তাঁকে ভয় করা উচিত।” (সূরা আলে ইমরান: ১০২ )
وَقَالَ تَعَالَى : فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ
(২) “তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর।” (সূরা আত্ তাগাবুন: ১৬)
وَقَالَ تَعَالَى : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً
(৩) “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।” (সূরা আল আহ্যাব: ৭০)
وَقَالَ تَعَالَى : وَمَنْ يُتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقَهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ.
(৪) “যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার মুক্তির পথ বের করে দেন এবং তার কল্পনাতীত উৎস থেকে তিনি তাকে রিযক দেন।” (সূরা আত্ তালাক: ২ ও ৩)
وَقَالَ تَعَالَى : إِنْ تَتَّقُوا اللهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرُ لكُم وَاللهُ ذُو الْفَضْل العظيم .
(৫) “যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তাহলে তিনি তোমাদেরকে (ভালো মন্দের মধ্যে ) পার্থক্যকারী (যোগ্যতা ও শক্তি) দান করবেন, তোমাদের থেকে তোমাদের গুনাহসমূহ দূর করে দেবেন এবং তোমাদেরকে মাফ করে দেবেন। আর আল্লাহ বড়ই মহান।” (সূরা আল আনফালঃ ২৯)
٦٩ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ مَنْ أَكْرَمُ النَّاسِ ؟ قَالَ اتْقَاهُمْ فَقَالُوا لَيْسَ عَنْ هَذَا نَسْأَلُكَ قَالَ فَيُوْسُفَ نَبِيُّ اللَّهِ ابْنُ نَبِيِّ اللَّهِ بْنِ نَبِيِّ الله بن خَليل الله قَالُوا لَيْسَ عَنْ هذا نَسْأَلُكَ قَالَ فَعَنْ مَعَادِنِ الْعَرَبِ تَسْأَلُونِي؟ خَيَارُهُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ خِيَارُهُمْ فِي الْإِسْلَامِ إِذَا فَقُهُوا- متفق عليه .وَفَقَهُوا بِضَمِّ الْقَافِ عَلَى الْمَشْهُورِ وَحُكِيَ كَسْرُهَا أَنْ عَلِمُوا أَحْكَامَ الشَّرْعِ
৬৯। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হল: সবচেয়ে সম্মানার্হ ব্যক্তি কে? তিনি বলেন: সকলের চেয়ে যে বেশি আল্লাহ্ভীরু। সাহাবীগণ বলেন, আমরা এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছি না। তিনি বলেন, তাহলে আল্লাহ্ নবী ইউসুফ (আঃ), যাঁর পিতা আল্লাহ্ নবী, তাঁর পিতা আল্লাহ্ নবী এবং তাঁর পিতা ইবরাহীম খলীলুল্লাহ (আঃ)। সাহাবীগণ বলেন, আমরা আপনাকে এটাও জিজ্ঞেস করছি না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তাহলে তোমরা আরবের বিভিন্ন বংশের কথা জিজ্ঞেস করছ? (জেনে রেখ জাহিলিয়াতের যুগে তাদের মধ্যে যারা ভালো ছিল তারাই ইসলামের যুগেও ভালো, যদি তারা দীন-শরীয়াতের জ্ঞান লাভ করে। (বুখারী, মুসলিম)
٧٠ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ وَإِنْ اللَّهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَيَنْظُرُ كَيْفَ تَعْمَلُونَ فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ فَإِنْ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ رواه مسلم.
৭০। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: দুনিয়া অবশ্যই মিষ্ট ও আকর্ষণীয়। আল্লাহ তোমাদেরকে দুনিয়ায় তাঁর প্রতিনিধি করেছেন, যাতে তিনি দেখে নেন তোমরা কেমন কাজ কর। কাজেই তোমরা দুনিয়া সম্পর্কে সতর্ক হও এবং নারীদের (ফিতনা) থেকেও সতর্ক থাক। কারণ বনী ইসরাঈলের প্রথম ফিতনা নারীদের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছিল। (মুসলিম)
۷۱- عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ اللهم اني اسألك الهدى والتقى والعفاف والغنى - رواه مسلم .
৭১ । ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হিদায়াত, তাওয়া, পবিত্রতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা চাই। (মুসলিম)
۷۲ - عَنْ أَبِي طَرِيفِ عَدِي بْنِ حَاتِمٍ الطَّائِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِيْنِ ثُمَّ رَأَى أَتْقَى لِلَّهِ مِنْهَا فَلْيَات التقوى - رواه مسلم .
৭২। আদী ইবনে হাতিম তাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি কোন ব্যাপারে শপথ করার পর অধিকতর আল্লাহভীতির (তাকওয়া) কোন কাজ দেখলো, এ অবস্থায় তাকে তাকওয়ার কাজটি করতে হবে। (মুসলিম)
۷۳ - عَنْ أَبِي أُمَامَةَ صَدَيِّ بْنِ عَجْلانَ الْبَاهِلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَقَالَ اتَّقُوا اللهَ وَصَلُّوا خَمْسَكُمْ وَصُوْمُوا شَهْرَكُمْ وَادُّوا زَكَاةَ أَمْوَالِكُمْ وَأَطِيعُوا أَمَرَاءَكُمْ تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ - رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ فِي آخِرِ كِتَابِ الصَّلاَةِ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيح .
৭৩৷ আবু উমামা সুদাই ইবনে আজলান বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিদায় হজ্জের ভাষণে বলতে শুনেছি: তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় কর, রমযানের রোযা রাখ নিজেদের মালের যাকাত দাও এবং নিজেদের আমীরদের আনুগত্য কর, তাহলে তোমরা তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করবে। ইমাম তিরমিযী কিতাবুস সালাতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ আখ্যা দিয়েছেন।