আরবী ভাষায় ইয়াকীন শব্দের অর্থঃ নিশ্চিত ও দৃঢ় বিশ্বাস যাতে কোন প্রকার সন্দেহ, দ্বিধা, সংকোচ ও সংশয় নেই। আল কুরআনে তিন প্রকার ইয়াকীন বর্ণিত হয়েছে।
(১) ইলমুল ইয়াকীন অর্থাৎ যুক্তি ও জ্ঞান ভিত্তিক বিশ্বাস;
(২) আইনুল ইয়াকীন অর্থাৎ চোখে দেখা ভিত্তিক বিশ্বাস;
(৩) হাক্কুল ইয়াকীন অর্থাৎ বাস্তব বোধ ভিত্তিক বিশ্বাস।
দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, কেউ সঠিকভাবে জানতে পারল কোথাও আগুন লেগেছে। এ ক্ষেত্রে তার এ কথা বিশ্বাস করার নাম হচ্ছে ইলম্বুল ইয়াকীন। অতঃপর স্বচক্ষে ঐ আগুন দেখে তার যে বিশ্বাস জাগলো তার নাম হচ্ছে আইনুল ইয়াকীন। তারপর নিজের হাত দিয়ে উক্ত আগুন স্পর্শ করে তার যে বিশ্বাস হল তার নাম হচ্ছে হাক্কুল ইয়াকীন।
তাওয়াক্কুল শব্দের অর্থ আস্থা স্থাপন করা, ভরসা ও নির্ভর করা। কুরআন ও হাদীসের পরিভাষায় ইসলামের বিধান অনুযায়ী পূর্ণ উদ্যমে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়ে কোন কাজ করার সাথে সাথে তার সাফল্যের জন্য আল্লাহ্র উপর আস্থা সহকারে ভরসা ও নির্ভর করার নাম তাওয়াক্কুল। কাজ ও তাওক্কুলের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই। উভয়ে একে অপরের পরিপূরক। কাজ করতে ও চেষ্টা করতে আল্লাহ্ই হুকুম দিয়েছেন। কাজেই তাঁর হুকুম অমান্য করে তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করা যাবে কি করে? কাজ করা এ দুনিয়ার নিয়ম। কাজের জন্যই আল্লাহ মানুষকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এজন্য কাজ মানুষকে করতেই হয় এবং করতেই হবে। আর কাজ করতে গিয়েই তো সাফল্যের জন্য তাওয়াক্কুলের দরকার হয়। কাজ না করলে তাওয়াক্কুলের প্রশ্নই উঠে না। যোগ্যতা, জ্ঞান ও কর্মক্ষমতা অবশ্যই পূর্ণভাবে কাজে লাগাতে হবে, কিন্তু সাফল্যের জন্য ভরসা করতে হবে একমাত্র আল্লাহ্র উপর। কারণ সবকিছুর চাবিকাঠি ও সাফল্য তাঁরই হাতে। (অনুবাদক)
قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُونَ الْأَحْزَابَ قَالُوا هذا مَا وَعَدَنَا اللهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللهُ وَرَسُولُهُ وَمَا زَادَهُمْ إِلا إِيْمَانًا وَتَسْلِيمًا
মহান আল্লাহ বলেন:
(১) “আর মুমিনগণ (আক্রমণকারী) সৈন্যদেরকে দেখতে পেয়ে বলল, এই তো সেই জিনিস যার ওয়াদা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আমাদের নিকট করেছেন। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সত্যিই বলেছেন । এ ঘটনা তাদের ঈমান ও (আল্লাহর নিকট) আত্মসমর্পণের মাত্রা বৃদ্ধি করে দিল।” (সূরা আল আহযাব : ২২)
وَقَالَ تَعَالَى : الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ فَانْقَلَبُوا بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ
لَمْ يَمْسَسْهُمْ سُوءٍ وَاتَّبَعُوا رِضْوَانَ الله وَاللهُ ذُو فَضْل عظيم .
(২) “আর যাদের নিকট লোকেরা বলেছে যে, তোমাদের বিরুদ্ধে বিরাট সৈন্যবাহিনী সমবেত হয়েছে, কাজেই তাদেরকে ভয় কর, (একথা শুনে) তাদের ঈমান আরো বেড়ে গেল । আর তারা উত্তরে বলল, আল্লাহ্ই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই অতি চমৎকার কর্মসম্পাদনকারী । অবশেষে তারা আল্লাহ্ নিয়ামত ও দানসহ এমন অবস্থায় ফিরে এল যে, তাদের কোন ক্ষতি হল না। আর তারা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির অনুসরণ করল । আর আল্লাহ বিরাট অনুগ্রহের মালিক।” (সূরা আলে ইমরান : ১৭৩, ১৭৪)
وَقَالَ تَعَالَى : وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لاَ يَمُوتُ .
(৩) “আর সেই চিরঞ্জীব আল্লাহ্র উপর তাওয়াক্কুল কর যিনি অমর।” (সূরা আল ফুকানঃ ৫৮)
وَقَالَ تَعَالَى : وَعَلى الله فَلْيَتَوَكَّل المُؤمِنُونَ .
(৪) “আল্লাহ্র উপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।” (সূরা ইবরাহীম: ১১)
وَقَالَ تَعالى : فَاذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى الله
(৫) “তুমি যখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তখন আল্লাহ্র উপর ভরসা কর।” (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)
وَقَالَ تَعَالَى : وَمَنْ يُتَوَكَّلْ عَلَى اللَّه فَهُوَ حَسْبُهُ
(৬) “যে ব্যক্তি আল্লাহ্র উপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট ।” (সূরা আত্ তালাকঃ ৩)
وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وُجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ .
(৭) “ঈমানদার তারাই যাদের দিল আল্লাহকে স্মরণকালে কেঁপে উঠে এবং আল্লাহ্ আয়াতসমূহ যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয়, তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়। আর তারা তাদের প্রভুর উপরই ভরসা রাখে।” (সূরা আল আনফাল: ২)
এ ছাড়াও কুরআনে তাওয়াক্কুল সম্পর্কে আরো বহু আয়াত রয়েছে।
وأما الْأَحَادِيثُ : ٧٤ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُرِضَتْ عَلَى الْأُمَمُ فَرَأَيْتُ النَّبِيِّ وَمَعَهُ الرُّهَيْطُ وَالنَّبِيِّ وَمَعَهُ الرَّجُلُ والرجُلانِ وَالنَّبِيِّ وَلَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ إِذ رُفِعَ لِى سَوَادٌ عَظِيمٌ فَظَنَنْتُ أَنَّهُمْ أُمَّتِي فَقِيلَ لِى هذا مُوسَى وَقَوْمُهُ وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى الْأُفُقِ فَنَظَرْتُ فَإِذَا سَوَادٌ عَظِيمٌ فَقِيلَ لِى أَنْظُرُ إِلَى الْأُفُقِ الْآخَرِ فَإِذَا سَوَادَّ عَظِيمٌ فَقِيلَ لِى هَذِهِ أُمِّتُكَ وَمَعَهُمْ بُعُونَ أَلْفًا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ وَلَا عَذَابٍ ثُمَّ نَهَضَ فَدَخَلَ مَنْزِلَهُ فَخَاصَ النَّاسُ فِي أُولئِكَ الَّذِيْنَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ وَلَا عَذَابٍ فَقَالَ بَعْضُهُمْ فَلَعَلَهُمُ الَّذِيْنَ صَحِبُوا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ بَعْضُهُمْ فَلَعَلَّهُمُ الَّذِيْنَ وُلِدُوا فِي الْإِسْلامِ فَلَمْ يُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا وَذَكَرُوا أَشْيَاءَ فَخَرَجَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَا الَّذِي تَخُوضُونَ فِيْهِ؟ فَأَخْبَرُوهُ فَقَالَ هُمُ الَّذِينَ لَا يَرْقُونَ وَلَا يَسْتَرْقُوْنَ وَلَا يَتَطَيِّرُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ فَقَامَ عكاشَةُ بْنُ مِحْصَ فَقَالَ أَدْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فَقَالَ أَنْتَ مِنْهُمْ ثُمَّ قَامَ رَجُلٌ أَخَرُ فَقَالَ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يُجْعَلَنِى مِنْهُمْ فَقَالَ سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ. متفق عليه الرُّهَيْطُ بِضَمَ الرَّاءِ تَصْغِيرُ رَهْطٍ وَهُمْ دُونَ عَشَرَةِ أَنْفُسِ وَالْأُفُقُ النَّاحِيَةُ وَالْجَانِبُ وَعُكَاشَةُ بِضَمِّ الْعَيْنِ وَتَشْدِيدِ الْكَافِ وَبِتَخْفِيفِهَا وَالتَّشْدِيدُ أَفْصَحُ .
৭৪। ইবনুল আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার নিকট (স্বপ্নে অথবা মিরাজে) উম্মাতদের পেশ করা হল। আমি একজন নবীকে একটি ছোট দলসহ দেখলাম, আরেকজন নবীকে একজন-দুইজন লোকসহ দেখলাম আর এক নবীকে দেখলাম যে, তাঁর সাথে কেউ নেই। হঠাৎ করে আমাকে একটি বিরাট দল দেখানো হল। আমি ভাবলাম, এরা আমার উম্মাত। আমাকে বলা হল, এরা মূসা (আঃ) ও তাঁর উম্মাত। তবে আপনি আসমানের দিগন্তে তাকিয়ে দেখুন। আমি দেখলাম, সেখানে বিরাট একটি দল। আবার আমাকে আসমানের অন্য দিগন্তে তাকিয়ে দেখতে বলা হল। আমি দেখলাম, সেখানেও বিরাট দল। তারপর আমাকে বলা হল, এসব আপনার উম্মাত। আর তাদের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে ও বিনা শাস্তিতে জান্নাতে যাবে। ইবনুল আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে উঠে তাঁর হুজরায় গেলেন। এ সময় সাহাবীগণ ঐসব লোকের ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন যারা বিনা হিসাবে ও বিনা শাস্তিতে জান্নাতে যাবেন। কেউ বলেন, বোধ হয় তারা ঐ সব লোক যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন। কেউ বলেন, মনে হয় তারা ইসলাম-যুগে জন্মগ্রহণকারী ঐসব লোক যারা আল্লাহ্র সাথে কোন কিছুকে শরীক করেননি। এভাবে সাহাবীগণ বিভিন্ন কথা বলাবলি করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে এসে বলেন: তোমরা কোন্ বিষয় আলোচনা করছ? তাঁরা তাঁকে বিষয়টা সম্পর্কে জানালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তারা হচ্ছে ঐসব লোক যারা তাবীজ-তুমারের কারবার করে না এবং করায়ও না। আর তারা কোন কিছুকে শুভ ও অশুভ লক্ষণ হিসেবে গ্রহণ করে না এবং তারা একমাত্র তাদের প্রভু আল্লাহ্র উপরই তাওয়াক্কুল করে। উক্কাশা ইবনে মিহসান (রাঃ) দাঁড়িয়ে বলেন, আপনি আল্লাহ্র কাছে দু'আ করুন যাতে তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বলেন: তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত। তারপর আর একজন উঠে বলেন, আল্লাহ্র কাছে দু'আ করুন যাতে আমাকেও তিনি তাদের মধ্যে গণ্য করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ঃ উক্কাশা তোমার অগ্রবর্তী হয়ে গেছে। (বুখারী, মুসলিম)
٧٥ - عَنِ ابْنِ عَبَّاس رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَيْضًا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ اللَّهُمْ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ أمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبَكَ خَاصَمْتُ اللَّهُم أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ لا إِلهَ إلا أنت أَنْ تُضِلَّنِي أَنْتَ الْحَيُّ الَّذِي لَا تَمُوتُ والجنَّ وَالْإِنسُ يَمُوتُونَ - متفق عليه وهذا لفظ مُسْلِمِ وَاخْتَصَرَهُ الْبُخَارِيُّ .
৭৫। ইবনুল আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য ইসলাম গ্রহণ অর্থাৎ আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার প্রতি ঈমান এনেছি, তোমারই উপর ভরসা করেছি, তোমার দিকে ধাবিত হয়েছি এবং তোমার নিকট ফায়সালাপ্রার্থী হয়েছি। হে আল্লাহ! আমি তোমার সম্মানের আশ্রয় চাই, যাতে তুমি আমাকে পথভ্রষ্ট না কর। তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তুমি চিরঞ্জীব। তুমি মরবে না। আর জিন ও মানুষ সবাই মরে যাবে। (বুখারী, মুসলিম) হাদীসের মূল শব্দগুলো ইমাম মুসলিমের। ইমাম বুখারী একে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন৷
٧٦ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَيْضًا قَالَ حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ قَالَهَا ابْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلامُ حِينَ ألْقَى فِى النَّارِ وَقَالَهَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ قَالُوا إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيْمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ - رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاس رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ أُخِرَ قَوْلِ إِبْرَاهِيمَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِيْنَ أَلْقَى فِي النَّارِ حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
৭৬। ইবনুল আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়, তখন তিনি বলেছিলেন, আল্লাহ্ই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি চমৎকার দায়িত্ব গ্রহণকারী। আর লোকেরা যখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথীদেরকে বলেছিল, মুশরিকরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, তোমরা তাদেরকে ভয় কর, তখন এতে তাদের ঈমান বেড়ে গেল এবং তারা বলে যে, আল্লাহ্ই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি চমৎকার দায়িত্ব গ্রহণকারী। (বুখারী) বুখারীর অপর বর্ণনায় আছে, ইবনুল আব্বাস (রাঃ) বলেন: ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে আগুনে নিক্ষেপ করার পর তাঁর সর্বশেষ কথা ছিল, আল্লাহ্ই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম বন্ধু।
۷۷- عَنْ أَبي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَن النَّبيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَدْخُلُ الجنَّةَ أَقوَاء أَفْئِدَتُهُم مثل أفئدة الطير. رواه مسلم
قبْلَ مَعْنَاهُ مُتَوَكَّلُونَ وَقِيلَ قُلُوبُهُمْ رَقِيْقَةً.
৭৭। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: জান্নাতে এমন অনেক লোক যাবে যাদের দিল পাখির দিলের মত হবে (অর্থাৎ তাদের দিল নরম এবং তারা আল্লাহ্র উপর ভরসা করে)। (মুসলিম)
۷۸- عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ غَزَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِبَلَ نَجدِ فَلمَّا قَفَلَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَفَلَ مَعَهُمْ فَأَدْرَكَتْهُمُ الْقَائِلَةُ في واد كثير العِضَاءِ فَتَزَلَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَفَرَّقَ النَّاسُ يَسْتَطلُونَ بِالشَّجَرَ وَنَزَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَحْتَ سَمُرَةٍ فَعَلَّقَ بِهَا سَيْفَهُ وَنِمْنَا نَوْمَةً فَإِذَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُونَا وَإِذَا عِنْدَهُ
أعْرَابِيُّ فَقَالَ إِنْ هَذَا اخْتَرَطَ عَلَى سَيْفِيُّ وَأَنَا نَائِمٌ فَاسْتَيْقَظْتُ وَهُوَ فِي يَدِهِ صَلْنا قَالَ مَنْ يَمْنَعُكَ مِنّى؟ قُلْتُ اللهُ ثَلاثاً وَلَمْ يُعَاقِبُهُ وَجَلَسَ. متفق عليه وفِي رِوَايَةٍ قَالَ جَابِرٌ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَاتِ الرِّقَاعِ فَاذَا آتَيْنَا عَلَى شَجَرَةٍ ظليلة تَرَكْنَاهَا لرَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَسَيْفَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُعَلَّقٌ بِالشَّجَرَةِ فَاخْتَرَطَهُ فَقَالَ تَخَافُنِي؟ قَالَ لَا قَالَ فَمَنْ يُمْنَعُكَ مِنِّي؟ قَالَ اللهُ.
وَفِي رِوَايَةٍ أَبِي بَكْرِ الْإِسْمَاعِيْلِي فِي صَحِيحِهِ قَالَ مَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّي ؟ قَالَ اللهُ قَالَ فَسَقَطَ السَّيْفُ مِنْ يَدِهِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السَّيْفَ فَقَالَ مَنْ يُمْنَعُكَ مِنّى؟ فَقَالَ كُنْ خَيْرَ أخذ فَقَالَ تَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ ؟ قَالَ لا وَلكِنِّي أَعَاهِدُكَ أنْ لا أَقَاتِلَكَ وَلَا أَكُونَ مَعَ قَوْمٍ يُقَاتِلُونَكَ
فَخَلَى سَبِيْلَهُ فَأَتَى اصْحَابَهُ فَقَالَ جِئْتُكُمْ مِنْ عِنْدِ خَيْرِ النَّاسِ .قَولُهُ قَفَلَ أَى رَجَعَ وَالْعِضَاهُ الشَّجَرُ الَّذِى لَهُ شَوْكَ وَالمُرَةُ بِفَتْحِ السِّينِ وَضَمِ الميمِ الشَّجَرَةُ مِنَ الطَّلْحِ وَهِيَ الْعِظَامُ مِنْ شَجَرِ الْعِضَاءِ وَاخْتَرَطَ السَّيْفَ أَى سَلَهُ وَهُوَ فِى يَده صَلْنَا أَى مَسْلُولاً وَهُوَ بِفَتْح الصَّادِ وَضَمَهَا
৭৮। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নাজ্দ এলাকায় জিহাদ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফিরে এলেন তখন তিনিও তাঁর সাথে ফিরে এলেন। দুপুরে তাঁরা সকলেই এমন এক ময়দানে এসে হাযির হলেন যেখানে অনেক কাঁটাওয়ালা গাছপালা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে নামলেন এবং অন্যান্য লোক গাছের ছায়ার সন্ধানে ছড়িয়ে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাবলা গাছের ছায়ায় গেলেন এবং তাঁর তলোয়ারখানি গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখলেন। আমরা সকলেই ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ডাকতে লাগলেন। তাঁর নিকট এক বেদুইন। তিনি বলেনঃ এই লোকটি আমার ঘুমন্ত অবস্থায় আমার উপর আমার তলোয়ারের আঘাত হানতে উদ্যত হয়। আমি জেগে দেখি তার হাতে উলংগ তলোয়ার। সে আমাকে বলল, কে তোমাকে এখন আমার হাত থেকে বাঁচাবে? আমি তিনবার বললাম, আল্লাহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে লোকটিকে কোন শাস্তি দিলেন না এবং বসে পড়লেন । ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে : আমরা ‘যাতুর রিকা' যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। আমরা একটি ছায়াদানকারী গাছের কাছে পৌঁছে এ গাছটিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরামের জন্য ছেড়ে দিলাম। মুশরিকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি এলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তলোয়ারটি গাছের সাথে ঝুলানো ছিল। সে তলোয়ারটি খুলে নিয়ে বললো, আপনি আমাকে ভয় করেন? তিনি জবাব দিলেন, না। সে আবার বলল, তাহলে আমার হাত থেকে আপনাকে কে রক্ষা করবে? তিনি জবাব দিলেন, “আল্লাহ”। আর আবু বাক্ ইসমাঈলী তার সহীহ গ্রন্থে যে রিওয়ায়াতটি উল্লেখ করেছেন তাতে আছে, মুশরিক বলল, কে আপনাকে আমার হাত থেকে বাঁচাবে? তিনি জবাবে বলেন, “আল্লাহ”। এতে তার হাত থেকে তলোয়ার পড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তলোয়ারটি তুলে নিয়ে তাকে বলেনঃ কে তোমাকে আমার হাত থেকে রক্ষা করবে? সে জবাব দিল, আপনি সর্বোত্তম গ্রেপ্তারকারী হয়ে যান। তিনি বলেন: তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহ্র রাসূল? সে জবাব দিল, না। তবে আমি আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমি আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করব না এবং যারা আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদেরও সহযোগিতা করবো না। (এ কথায় তিনি তার পথ ছেড়ে দিলেন। এরপর মুশরিকটি তার সাথীদের কাছে এসে তাদেরকে বলল, আমি সর্বোত্তম মানুষটির সাথে সাক্ষাত করে তোমাদের কাছে এসেছি।
٧٩ - عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَوْ أَنَّكُمْ تَتَوَكَّلُوْنَ عَلَى اللهِ حَقٌّ تَوَكَّله لرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ تَعْدُو خِمَاصَا وَتَرُوحُ بِطَانًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثُ حَسَنُ .
مَعْنَاهُ تَذْهَبُ أَوَّلَ النَّهَارِ خِمَاصًا أَى ضَامِرَةَ البُطُونِ مِنَ الْجُوعِ وَتَرْجِعُ أَجْرَ النَّهَارِ بِطَانًا أَي مُمْتَلَثَةَ الْبُطُونِ .
৭৯। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যদি তোমরা আল্লাহ্র উপর ভরসা করার মত ভরসা করতে, তবে তিনি পাখিকে রিযক দেওয়ার মতই তোমাদেরকেও দিতেন। পাখি তো সকালে খালি পেটে বের হয়ে যায় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান আখ্যা দিয়েছেন।
عَنْ أَبِي عِمَارَةَ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا فُلانُ إِذَا أَوَيْتَ إِلى فِرَاشِكَ فَقُلْ اللَّهُمْ أَسْلَمْتُ نَفْسِي الَيْكَ وَوَجْهُتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَقَوضْتُ اشرى اليْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِى إِلَيْكَ رَغْبَةً ورَهْبَةً إِلَيْكَ لا مَلْجَاءَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلا إِلَيْكَ أَمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ فَانَّكَ انْ متَ مِنْ لَيْلَتِكَ من عَلَى الْفطْرَةِ وَأَنْ أَصْبَحْتَ أصَبْتَ خَيْرًا - متفق عليه وفي رواية في الصَّحِيحَيْنِ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا آتَيْتَ مَضْجَعَكَ فَتَوَضًا وُضُوءَكَ لِلصَّلاةِ ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلى شِقِكَ الْأَيْمَنِ وَقُل وَذَكَرَ نَحْوَهُ ثُمَّ قَالَ وَاجْعَلْهُنَّ أَخَرَ مَا تَقُولُ .
৮০। বারাআ ইবনে আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: হে অমুক! যখন তুমি তোমার বিছানায় শয়ন করতে যাও তখন বল, “হে আল্লাহ! আমি নিজেকে তোমার নিকট সমর্পণ করলাম, আমি আমার চেহারাকে তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আমার ব্যাপারটা তোমার নিকট সোপর্দ করলাম এবং আমার পিঠখানা তোমার দিকে লাগিয়ে দিলাম। আর এসব কিছুই করেছি তোমার ভয়ে এবং তোমার পুরস্কারের আশায়। তুমি ছাড়া কোথাও আশ্রয়ের জায়গা নেই, তুমি ছাড়া বাঁচবার কোন স্থান নেই। আমি তোমার কিতাবের উপর ঈমান এনেছি, যা তুমি নাযিল করেছ, তোমার প্রেরিত নবীর প্রতিও ঈমান এনেছি।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি তুমি ঐ রাতেই মারা যাও তাহলে ইসলামের অবস্থায় তোমার মৃত্যু হবে, আর যদি সকাল পর্যন্ত জীবিত থাক তাহলে কল্যাণ লাভ করবে। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। বুখারী ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছেঃ বারাআ (রাঃ) বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যখন তুমি ঘুমাতে যাও তখন উযু কর যেমন নামাযের জন্য উযু করে থাক, তারপর ডান কাতে শুয়ে পড়ো এবং এই দু'আটি পড়। এই বলে তিনি উপরের দু'আটি পড়েন। তিনি বলেন, এই দু'আটি একেবারে সবশেষে পড়বে।
عَنْ أَبِي بَكْرِ الصَّدِيقِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَامِرِ بْنِ عُمَرَ بْنِ كَعْبِ ابْنِ سَعْدِ بْنِ تَيْمِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُوَيِّ بْنِ غَالِبِ الْقُرَيْشِي التيمِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ وَهُوَ وَأَبُوهُ وَأُمُّهُ صَحَابَةٌ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ قَالَ نَظَرْتُ إِلَى
أقْدَامِ الْمُشْرِكِيْنَ وَنَحْنُ فِي الْغَارِ وَهُمْ عَلَى رُؤُوسِنَا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ لَوْ أَنَّ أحَدَهُمْ نَظرَ تَحْتَ قَدَمَيْهِ لَأَبْصَرنَا فَقَالَ مَا ظَنُّكَ يَا أَبَا بَكْرِ بِاثْنَيْنِ اللهُ ثالثهما - متفق عليه
৮১। আবু বাক্ আস্ সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে (সাওর পাহাড়ের) গুহায় থাকাকালীন মুশরিকদের পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম। তারা তখন আমাদের মাথার উপরে ছিল (এটা হিজরাতের ঘটনা)। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি এখন তাদের কেউ তার দুই পায়ের নীচ দিয়ে তাকায়, তবে আমাদেরকে দেখে ফেলবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবু বাক্! এমন দু'জন ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কী ধারণা, যাদের সাথে তৃতীয়জন হচ্ছেন আল্লাহ? (বুখারী, মুসলিম)
۸۲ - عَنْ أمِ الْمُؤْمِنِينَ أُمِّ سَلَمَةَ وَاسْمُهَا هِنْدُ بِنْتِ أَبِي أُمَيَّةَ حُذَيْفَةَ الْمَخْرُومِيَّةِ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ قَالَ بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ اللهُم إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أنْ أضِلَّ أَوْ أَضَلَّ أَوْ أَزِلَ أَوْ أَزَلَ أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أَظْلَمَ أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَى - (حَدِيث صَحِيح)
رواه أبو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَغَيْرُهَمَا بِأَسَانِيدَ صَحِيحَةٍ قَالَ التِّرْمِذِى حَدِيثُ حَـ صَحِيحٌ وَهَذَا لَفْظُ أَبِي دَاوُدَ
৮২। উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর বাড়ী থেকে বের হতেন তখন বলতেন: “আল্লাহ্র নামে বের হচ্ছি এবং তাঁর উপর ভরসা করছি। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই যেন আমি গোমরাহ্ না হই অথবা আমাকে গোমরাহ্ না করা হয়। আমি যেন দীন থেকে সরে না যাই অথবা আমাকে সরিয়ে না দেয়া হয়। আমি যেন কারও উপর যুগ্ম না করি অথবা আমার উপর যুল্ম না করা হয়। আমি যেন মূর্খতা অবলম্বন না করি অথবা আমি মূর্খতার শিকার না হয়ে যাই”।
ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী এবং অন্য ইমামগণ সহীহ সনদ সহকারে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। তবে হাদীসের শব্দাবলী এখানে আবু দাউদ থেকে গৃহীত হয়েছে।
- عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَالَ يَعْنِى إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ الدَّ بالله يُقَالُ لَهُ هُديْتَ وَكَفيتَ وَوُقِيْتَ وَتَنَحَى عَنْهُ الشَّيْطَانُ - رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ والترمذي والنِّسَائِيُّ وَغَيْرُهُمْ وَقَالَ اليَرْمِدَى حَدِيثُ حَسَنْ - زَادَ أَبُو دَاوُدَ فَيَقُولُ
يَعْنِي الشَّيْطَانَ لِشَيْطَانِ أَخَرَ كَيْفَ لَكَ بِرَجُلٍ قَدْ هُدِى وَكُفِيَ وَوُقِيَ؟
৮৩। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় বলে: “আল্লাহ্ নামে বের হলাম এবং আল্লাহ্র উপর ভরসা করলাম । আল্লাহ ছাড়া কারও কাছ থেকে কোন কৌশল এবং কোন শক্তি পাওয়া যায় না।” (এরূপ দু'আ করলে) তাকে বলা হয়, তোমাকে হিদায়াত দেয়া হয়েছে, তোমাকে যথেষ্ট দেয়া হয়েছে এবং তোমাকে হিফাযতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর শয়তান তার থেকে দূরে চলে যায়।
আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ থেকে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে এবং তিরমিযী একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন। তবে আবু দাউদে আরো আছে : শয়তান অন্য শয়তানকে বলে, তুমি এর উপর কেমন করে নিয়ন্ত্রণ লাভ করবে যাকে হিদায়াত দান করা হয়েছে, যথেষ্ট দেয়া হয়েছে ও হিফাযত করা হয়েছে?
٨٤ - وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ أَخَوَانِ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وكَانَ أحْدُهُمَا يَأْتِي النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْآخَرُ يَحْتَرِفُ فَشَكَا الْمُحْتَرِفُ أَخَاهُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَعَلَّكَ تُرْزَقُ بِهِ - رَوَاهُ التِرْمِذِيُّ بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ يَحْتَرِفُ يَكْتَسِبُ وَيَتَسَبِّبُ
৮৪ । আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলে দুই ভাই ছিল। তাদের একজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসত, অপরজন নিজ পেশায় ব্যস্ত থাকত। (একদা) কর্মব্যস্ত ভাই তার ভাই-এর বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে অভিযোগ করল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ খুব সম্ভব তোমাকে তার উসীলায় রিষ্ক দেয়া হয়। (তিরমিযী)
