قَالَ اللهُ تَعَالَى : ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ عِنْدَ رَبِّهِ.
মহান আল্লাহ বলেন:
“এটাই বিধান এবং কেউ আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত বিধানকে যথাযথ মর্যাদা দান করলে, তার জন্য এটা তার রবের নিকট কল্যাণকর হবে।” (সূরা আল হজ্জ : ৩০)
وَقَالَ تَعَالَى : إِن تَنْصُرُوا اللهَ يَنْصُرُكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ.
“তোমরা যদি আল্লাহ্র দীনকে সাহায্য কর তাহলে আল্লাহও তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদযুগলকে মজবুত ও অনড় রাখবেন।” (সূরা মুহাম্মাদ: ৭)
এ সম্পর্কে আয়িশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীস ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।
٦٤٩ - وَعَنْ أَبِى مَسْعُودٍ عُقْبَةَ بْنِ عَمْرُو الْبَدْرِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنِّي لَا تَخْرُ عَنْ صَلَاةِ الصُّبْحِ مِنْ أَجَلٍ فلان مِمَّا يُطِيلُ بِنَا فَمَا رَأَيْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَضِبَ فِي مَوْعِظَةٍ قَط أَشَدَّ مِمَّا غَضِبَ يَوْمَئِذٍ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنْ مِنْكُمْ مُنَفِرِينَ فَأَيُّكُمْ .النَّاسَ فَلْيُوحِزْ فَإِنْ مِنْ وَرَائِهِ الْكَبِيرَ وَالصَّغِيرَ وَذَا الْحَاجَةِ - متفق عليه .
৬৪৯। আবু মাসউদ উকবা ইবনে আমর আল-বদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, অমুক ব্যক্তির কারণে আমার ফজরের নামাযে বিলম্ব হয়ে যায়, কেননা সে আমাদের নিয়ে খুব দীর্ঘ নামায পড়ে। সেদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত অসন্তোষ সহকারে ওয়াজ করলেন, যেরূপ ইতিপূর্বে আমি আর কখনো তাঁকে অসন্তুষ্ট হতে দেখিনি। তিনি বলেন: হে লোকেরা! তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ রয়েছে লোকদের ঘৃণা সৃষ্টিকারী। তোমাদের যে কেউ লোকদের ইমামতি করে, সে যেন নামাযকে সংক্ষিপ্ত করে। কারণ তার পেছনে (নামাযীদের মধ্যে) থাকে বৃদ্ধ, বালক, দুর্বল এবং হাজতমন্দ ব্যক্তিবর্গ। (বুখারী, মুসলিম)
٦٥٠ - وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَدَمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ سَفَرٍ وَقَدْ سَتَرْتُ سَهْوَةٌ لِى بِقَرَامٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ فَلَمَّا رَأَهُ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَتَكَهُ وَتَلُونَ وَجْهُهُ وَقَالَ يَا عَائِشَةُ أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا عِندَ الله يَوْمَ الْقِيَامَةِ الذِينَ يُضَاهُونَ بِخَلْقِ اللهِ - متفق عليه .
৬৫০। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে ফিরে এলেন। আমি আমার ঘরের আঙিনায় ছবিযুক্ত একটি পর্দা টাঙিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দাটি দেখামাত্র সেটি ছিঁড়ে ফেললেন এবং তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেন: হে আয়িশা! কিয়ামাতের দিন আল্লাহ্র নিকট সবচাইতে কঠোর শাস্তিপ্রাপ্ত হবে ঐসব লোক, যারা (ছবি তুলে বা বানিয়ে) আল্লাহ্ সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য স্থাপন করে। (বুখারী, মুসলিম)
٦٥١ - وَعَنْهَا أنْ قُرَيْشًا أَهَمِّهُمْ شَأْنُ الْمَرَاةَ الْمَخْرُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ فَقَالُوا مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا مَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلَّا أَسَامَةً بن زند حِبُّ رَسُولِ اللهِ صَلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَلَمَهُ أَسَامَهُ فَقَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَشْفَعُ فِي حَدٌ مِنْ حُدُودِ اللهِ تَعَالَى ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ ثُمَّ قَالَ إِنَّمَا أَهْلَكَ مَنْ قَبْلَكُم أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفَ تَرَكُوهُ وَإِذَا سَرَقَ فيتهمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَد وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لقَطَعْتُ يَدَهَا - متفق عليه .
৬৫১। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। কুরাইশরা মাখযূম গোত্রের এক (সম্ভ্রান্ত) মহিলার ব্যাপারে খুবই চিন্তায় পড়ে গেল। কারণ সে চুরি করেছিল। তারা পরস্পর বলাবলি করল, তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কে আলাপ করবে। তারাই আবার বলল, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রিয়ভাজন উসামা ইবনে যায়িদ ছাড়া আর কে-ই বা তাঁর সামনে এ ব্যাপারে মুখ খোলার হিম্মত রাখে? অবশেষে উসামা (রাঃ) এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : তুমি কি আল্লাহ নির্ধারিত হদ্দ (শাস্তি) সম্পর্কে সুপারিশ করছ? একথা বলে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন, তারপর বলেন: তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগুলো এজন্যই ধ্বংস হয়েছে যে, তাদের মধ্যকার কোন অভিজাত ব্যক্তি চুরি করলে তাকে ছেড়ে দিত এবং কোন দুর্বল ব্যক্তি চুরি করলে তার উপর হদ্দ কার্যকর করত। আল্লাহ্র শপথ! মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করত, তাহলে নিশ্চয় আমি তার হাত কেটে দিতাম (বুখারী, মুসলিম)
٦٥٢- وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى نُخَامَة فِي الْقِبْلَةِ فَشَقٌ ذَلِكَ عَلَيْهِ حَتَّى رُؤيَ فِي وَجْهِهِ فَقَامَ فَحَكَهُ بِيَدِهِ فَقَالَ إِنْ أَحَدَكُمْ إذا قَامَ فِي صَلَاتِهِ فَإِنَّهُ يُنَاجِي رَبَّهُ وَإِنَّ رَبَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ فَلَا يَبْزُقَن أَحَدُكُمْ قبَلَ الْقِبْلَةِ وَلَكِنْ عَنْ يُسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ ثُمَّ أَخَذَ طَرَفَ رِدَانِهِ فَبَصَقَ فِيْهِ ثُمَّ رَد بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ فَقَالَ أَوْ يَفْعَلُ هَكَذَا - متفق عليه
৬৫২। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন যে,মসজিদে কিবলার দিকে কফ লেগে রয়েছে। বিষয়টি তাঁর নিকট খুবই খারাপ লাগল, এমনকি তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ছাপ লক্ষ্য করা গেল। তৎক্ষণাত তিনি উঠে গিয়ে নিজ হাতে তা আঁচড়ে ফেলে দিলেন, তারপর বললেন: তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায়, তখন সে তার রবের সাথে একান্তে কথা বলে। তার রব তার ও কিবলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করেন। অতএব তোমাদের কেউ যেন কিবলার দিকে থুথু না ফেলে, বরং বাম- দিকে অথবা পায়ের নীচে নিক্ষেপ করে। অতঃপর তিনি তাঁর চাদরের এক কোণ ধরলেন এবং তাতে থুথু নিক্ষেপ করে তার একাংশ দ্বারা অপর অংশ রগড়ে দিলেন, তারপর বললেনঃ অথবা সে এরূপ করবে। (বুখারী, মুসলিম
