#রিয়াদুস_সালেহীন দ্বিতীয় খণ্ড অনুচ্ছেদঃ৭৮ জনগণের সাথে শাসক কাজেকর্মে নম্রতা অবলম্বন করবে, তাদেরকে ভালোবাসবে, তাদেরকে সদুপদেশ দেবে এবং তাদেরকে প্রতারিত করবে না, কঠোরতা করবে না, তাদের কল্যাণ সাধনে ও প্রয়োজনপূরণে অমনোযোগী হবে না।

Muhammads words
0

 #রিয়াদুস_সালেহীন দ্বিতীয় খণ্ড অনুচ্ছেদঃ৭৮

قَالَ اللهُ تَعَالَى : واخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“যে সকল মুমিন তোমার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি তুমি বিনম্র হও।” (সূরা আশ্ শুআরা: ২১৫)

وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ  َوالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاء وَالْمُنْكَر وَالْبَغَى يَعظُكُمْ لَعَلَّكُمْ ذكَّرُونَ.


“বস্তুত আল্লাহ তোমাদেরকে ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দিচ্ছেন। আর তিনি নিষেধ করছেন অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ ও সীমালংঘন। আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।” (সূরা আন্ নাহল : ৯০)

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ الْإِمَامُ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي أَهْلِهِ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالْمَرَاةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا وَالْخَادِمُ رَاعٍ فِى مَالِ سَيْدِهِ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَكُلُّكُمْ راع وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ- متفق عليه


৬৫৩। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তোমাদের প্রত্যেকেই রক্ষণাবেক্ষণকারী (বা দায়িত্বশীল) এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুরুষ তার পরিবার ও সংসারের জন্য দায়িত্বশীল এবং তাকে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। স্ত্রীলোক তার স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারিণী এবং তাকে সে সম্পর্কে জওয়াবদিহি করতে হবে। খাদিম তার মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তাকে তার সে দায়িত্বপালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। অতএব তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জওয়াবদিহি করতে হবে। (বুখারী, মুসলিম)

وَعَنْ أَبِي يَعْلَى مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله يَوْمَ يَمُوتُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْتَرْعِيْهِ اللهُ رَعِيَّةٌ يَمُوتُ يَوْمَ يَـ وَهُوَ غَاش لرعيته الأحَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ - متفق عليه . وَفِي رِوَايَةٍ فَلَمْ يَحطَهَا بِنُصْحِهِ لَمْ يَجِدْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ . وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ مَا مِنْ أَمِيرِ يَلِيُّ أمورَ الْمُسْلِمِينَ ثُمَّ لَا يَجْهَدُ لَهُمْ وَيَنْصَحُ لَهُم الألم يَدْخُلْ مَعَهُمُ الْجَنَّةَ .


৬৫৪। আবু ইয়ালা মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ তাঁর কোন বান্দাকে প্রজাসাধারণের তত্ত্বাবধায়ক বানাবার পর সে যদি তাদের সাথে প্রতারণা করে থাকে, তবে সে যেদিনই মরুক, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অন্য এক রিওয়ায়াতে আছেঃ সেই ব্যক্তি যদি তার প্রজাদের কল্যাণ সাধনে আত্মনিয়োগ না করে, তাহলে সে জান্নাতের সুবাসটুকুও পাবে না। মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে: যে শাসক মুসলিমদের যাবতীয় বিষয়ের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হয়; তারপর তাদের উপকারের জন্য কোনরূপ চেষ্টা যত্ন করে না এবং তাদের কল্যাণ সাধনে এগিয়ে আসে না, সে মুসলিমদের সাথে কখনো জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

٦٥٥ - وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي بَيْتِى هذا اللهُم مَنْ وَلِى مِنْ أمْرِ أُمَّتِي شَيْئًا فَشَقٌ عَلَيْهِمْ فَاشْقُقَ عَلَيْهِ وَمَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ أُمِّتِى شَيْئًا فَرَفَقَ بِهِمْ فَارْفُقُ بِهِ- رواه مسلم.


৬৫৫। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার এ ঘরেই বলতে শুনেছিঃ হে আল্লাহ। যে ব্যক্তি আমার উম্মাতের কোন কাজের তত্ত্বাবধায়ক হয়, অতঃপর সে তাদের প্রতি কঠোরতা করলে তুমিও তার প্রতি কঠোরতা কর। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আমার উম্মাতের কোন কাজের তত্ত্বাবধায়ক হয়, অতঃপর সে তাদের প্রতি নরম ও কোমল আচরণ করে তুমিও তার প্রতি কোমল আচরণ কর। (মুসলিম)

عَلَيْهِ ٦٥٦ - وَعَنْ أبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلى الله . وَسَلَّمَ كَانَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ تَسُوسُهُمُ الْأَنْبِيَاءُ كُلَّمَا هَلَكَ نَبِيٍّ خَلَقَهُ نَبِيٍّ وَإِنَّهُ لَا نَبِي بَعْدِي سَيَكُونُ بَعْدِى خُلَفَاء فَيَكْثُرُونَ قَالُوا يَا رَسُولَ الله فَمَا تَأْمُرُنَا قَالَ أوْفُوا بِبَيعَة الْأَول فَالأول ثُمَّ أَعْطُوهُمْ حَقَّهُمْ وَاسْأَلُوا اللَّهَ الَّذِي لَكُمْ فَإِنَّ اللهَ سَائِلُهُمْ عَمَّا اسْتَرْعَاهُمْ ۖ متفق عليه


৬৫৬। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বনী ইসরাঈলের রাজনৈতিক কার্যক্রমের পরিচালক ছিলেন তাদের নবীগণ । এক নবীর ওফাতের পর পরবর্তী নবী তাঁর স্থান পূরণ করতেন। কিন্তু আমার পরে আর কোন নবী নেই। অচিরেই আমার পরে বেশ কিছু সংখ্যক খলীফা হবে। সাহাবীগণ বলেন: তখনকার জন্য আমাদের প্রতি আপনার কি নির্দেশ? তিনি বলেনঃ তোমরা পর্যায়ক্রমে একজনের পর আরেকজনের বাইয়াত পূর্ণ করবে, অতঃপর তাদের প্রাপ্য তাদের প্রদান করবে এবং তোমাদের প্রাপ্য আল্লাহ্র নিকট প্রার্থনা করবে। কারণ আল্লাহ তাদের উপর জনসাধারণের তত্ত্বাবধানের যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, সে সম্পর্কে তিনি নিজেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। (বুখারী, মুসলিম)

٦٥٧ - وَعَنْ عَائِدِ بْنِ عَمْرِهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عُبَيْدِ اللهِ بْنِ زِيَادٍ فَقَالَ لَهُ أَي بُنَى إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ شَرِّ الرعاء الحُطَمَة فَإِيَّاكَ أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ - متفق عليه .


৬৫৭। আয়েয ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদের নিকট উপস্থিত হয়ে বলেন, হে বৎস! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ নিকৃষ্ট শাসক সেই ব্যক্তি যে জনগণের প্রতি কঠোর ও অত্যাচারী। কাজেই সতর্ক থেকো তুমি যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত না হও। (বুখারী, মুসলিম)

٦٥٨ - وَعَنْ أَبِي مَريم رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ لِمُعَاوِيَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ وَلَاهُ اللَّهُ شَيْئًا مِنْ أَمُورِ الْمُسْلِمِينَ فَاحْتَجَبَ دُونَ حَاجَتِهِمْ وَخَلَتِهِمْ وَفَقْرِهِمْ احْتَجَبَ اللهُ دُونَ حَاجَتِهِ وَخَلْته وَفَقْره يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَجَعَلَ مُعَاوِيَةُ رَجُلاً عَلَى حَوَائِجِ النَّاسِ- رواه أبو داود والترمذي.


৬৫৮। আবু মরইয়াম আল-আয্দী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মুআবিয়া (রাঃ) কে বলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যাকে আল্লাহ মুসলিমদের শাসক নিযুক্ত করেন এবং সে তাদের প্রয়োজন, চাহিদা ও দরিদ্রাবস্থা দূর করার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না, আল্লাহও কিয়ামাতের দিন তার প্রয়োজন, চাহিদা ও দারিদ্র্য পূরণের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবেন না। অতঃপর মু'আবিয়া (রাঃ) জনগণের প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রাখার জন্য একজনকে নিয়োগ করেন। (আবু দাউদ, তিরমিযী)

#মুহাম্মদের_বাণী #ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ  #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী  #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default