قَالَ اللهُ تَعَالَى : واعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ .
তোমরা আল্লাহ্ ইবাদাত কর, তাঁর সাথ কাউকে শরীক করো না, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো এবং নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম, মিসকীন, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, পাশাপাশি চলার সাথী, পথিক-মুসাফির এবং তোমাদের অধীনস্থ দাস-দাসীদের প্রতিও সদয় ব্যবহার কর । (সূরা আন্ নিসাঃ ৩৬)।
وَقَالَ تَعَالَى : وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُوْنَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ .
তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় কর যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা পরস্পরের নিকট থেকে যার যার হক দাবি করো এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বিনষ্ট করা থেকে সতর্ক থাক।” (সূরা আন্ নিসা : ১)।
وقَالَ تَعَالَى : وَالَّذِينَ يَصلُونَ مَا أمَرَ الله به أنْ يُوصَلَ الآيَةَ .
(বুদ্ধিমান লোক তারাই) যারা আল্লাহ যেসব সম্পর্ক বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তা বহাল রাখে।” (সূরা আর-রাদ ২১)।
وَقَالَ تَعَالَى : وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بوَالدَيْه حُسْنًا.
“আমরা মানুষকে নিজেদের পিতা-মাতার সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি। (সূরা আল-আনকাবূতঃ ৮)।
وَقَالَ تَعَالَى: وَقَضَى رَبُّكَ أَلا تَعْبُدُوا إِلا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلا تَقُلْ لَهُمَا أَفٍ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلاً كَرِيمًا. وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيراً .
তোমার প্রভু নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদাত করবে এবং পিতা- মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। তোমাদের কাছে যদি তাদের কোন একজন অথবা উভয়ে বৃদ্ধাবস্থায় থাকে তবে তোমরা তাদেরকে 'উহ' পর্যন্ত বলবে না, তাদেরকে ভর্ৎসনা করবে না; বরং তাদের সাথে বিশেষ মর্যাদা সহকারে কথা বলবে, বিনয় ও নম্রতা সহকারে তাদের সামনে নত হয়ে থাকবে এবং এ দু'আ করতে থাকবে : প্রভু হে! তাদের প্রতি রহম কর, যেমন তারা বাল্যকালে আমাকে লালন-পালন করেছেন।” (সূরা বনী ইসরাঈল ৪.২৩, ২৪)।
وَقَالَ تَعَالَى: وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عامين أن اشْكُرْ لي ولوالديكَ .
মহান আল্লাহ বলেন :
“আমরা মানুষকে তাদের পিতা-মাতার অধিকার বুঝবার জন্য নিজ থেকেই তাকিদ করেছি। তার মা কষ্ট ও দুর্বলতা সহ্য করে তাকে নিজের পেটে বহন করেছে, অতঃপর তাকে একাধারে দুই বছর দুধ পান করিয়েছে। ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমাদ, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদের মতে,শিশুর দুধপান করার মেয়াদ দুই বছর।
এই সময়সীমার মধ্যে কোন শিশু যদি অপর কোন নারীর দুধ পান করে, তবে দুধ পানজনিত 'হুরমাত' কার্যকর হবে। অর্থাৎ ঐ স্ত্রীলোকটি তার দুধ মা হবে এবং তার সন্তান-সন্ততির সাথে তার বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা হারাম সাব্যস্ত হবে, কিন্তু এ সময়সীমা পর দুধ পান করলে হুরমাত কার্যকর হবে না। ইমাম মালিক থেকেও এরূপ একটি মত ব্যক্ত হয়েছে।
কিন্তু ইমাম আবু হানীফার মতে, দুধ পানের মেয়াদ আড়াই বছর। তিনি আরো বলেন, দুই বছর বা তার পূর্বেই যদি শিশু দুধ ছেড়ে অন্য খাদ্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে যায় তবে এরপর সে কোন নারীর দুধপান করলে তাতে বিশেষ বিধান বলবৎ হবে না।
অতএব তুমি আমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাক এবং পিতা-মাতার প্রতিও। (সূরা লোকমান : ১৪)।
۳۱۲ - عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا قلْتُ ثُمَّ أَيُّ؟ قَالَ بِرِّ الْوَالِدَيْنِ قُلْتُ ثُمَّ أَيُّ؟ قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ - متفق عليه.
৩১২। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, কোন কাজটি আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয়?
তিনি বলেন : ওয়াক্তমত নামায পড়া। আমি আবার বললাম, অতঃপর কোনটি? তিনি বলেনঃ
পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কোনটি?
তিনি বলেন : আল্লাহ্র পথে জিহাদ করা।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ।
۱۳ - عَنْ أبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا يجزئ ولد والدا الا ان يُجدَهُ مَمْلُوكًا فَيَشْتَرِيَهُ فَيُعْتِقَهُ - رواه مسلم .
৩১৩। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন সন্তানই তার পিতার প্রতিদান আদায় করতে সক্ষম নয়। কিন্তু সে যদি তাকে (পিতাকে) দাস অবস্থায় পেয়ে ক্রয় করে আযাদ করে দেয় (তবে কিছুটা প্রতিদান আদায় হবে)।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٣١٤- وَعَنْهُ أَيْضًا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَصِل رَحِمَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ متفق عليه.
৩১৪। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন উত্তম কথা বলে, অন্যথায় চুপ থাকে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ।
٣١٥- وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَلَقَ الخلق حَتَّى إِذا فَرَغَ مِنْهُمْ قَامَتِ الرَّحِمُ فَقَالَتْ هَذَا مَقَامُ الْعَائِذٍ بِكَ مِنَ الْقَطِيعَةِ قَالَ نَعَمُ أَمَا تَرْضَيْنَ أَن أَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ وَاقْطَعَ مَنْ قَطَعَكَ؟ قَالَتْ بَلَى قَالَ فذلك لك ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِعُوا أَرْحَامَكُمْ أُولَئِكَ الَّذِيْنَ لَعَنَهُمُ اللهُ فَأَصَمِّهُمْ وَأَعْمَى ابْصَارَهُمْ) . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِي فَقَالَ اللهُ تَعَالَى مَنْ وَصَلَك وَصَلْتُهُ وَمَنْ قَطَعَكَ قَطَعْتُهُ .
৩১৫। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টিকুলের সৃষ্টিকর্ম শেষ করে তাদের থেকে অবসর হলে ‘রাহেম' (আত্মীয়তার সম্পর্ক) দাঁড়িয়ে বলল, এ স্থানটি কি ঐ ব্যক্তির জন্য যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চায়?
তিনি (আল্লাহ্) বলেন : হাঁ। তুমি কি এ কথায় সন্তুষ্ট হবে : যে তোমাকে বজায় রাখবে আমি তার প্রতি অনুগ্রহ করব এবং যে তোমার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবে আমিও তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করব? রাহেম বলল, হাঁ আমি সন্তুষ্ট হব।
আল্লাহ বললেন।এ স্থানটি তোমার। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবীদেরকে) বলেনঃ যদি তোমরা (অটল থাকতে) চাও তবে এই আয়াত পাঠ করো তবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা। পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এরা এমন লোক যাদের ওপর আল্লাহ অভিশাপ বর্ষণ করেছেন এবং তাদেরকে অন্ধ ও বধির করে দিয়েছেন” (সূরা মুহাম্মাদ : ২২, ২৩)।
ইসলামে নিকটত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা সম্পূর্ণ হারাম।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। বুখারীর আর এক বর্ণনায় আছেঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, যে তোমাকে বজায় রাখবে আমি তাকে অনুগ্রহ করব এবং যে তোমার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবে আমিও তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করব।
٣١٦ - وَعَنْهُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَنْ أَحَقُّ النَّاسِ بِحُسْنِ صَحَابَتِي ؟ قَالَ أُمُّكَ قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ أَمُّكَ قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ أَمُّكَ قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ أَبُوكَ - مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ يَا رَسُولَ اللهِ مَنْ أَحَقُّ بِحُسْنِ الصُّحْبَةِ؟ قَالَ أُمُّكَ ثُمَّ أُمُّكَ ثُمَّ أُمُّكَ ثُمَّ أَبَاكَ ثُمَّ ادْنَاكَ أَدْنَاكَ . وَالصَّحَابَةُ بِمَعْنَى الصُّحْبَةِ وَقَوْلُهُ ثُمَّ أَبَاكَ هكَذَا هُوَ مَنصُوبُ بِفِعْل مَحْذُوف اى ثُمَّ بِرِّ آبَاكَ وَفِي رِوَايَةٍ ثُمَّ أَبُوكَ وَهَذَا وَاضِحُ .
৩১৬। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার কাছ থেকে সদ্ব্যবহার ও সৎসংগ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার কে?।
তিনি বলেন : তোমার মা । সে বলল, অতঃপর কে?।
তিনি বলেনঃ তোমার মা? সে বলল, অতঃপর কে?।
তিনি বলেন : তোমার মা। সে বলল, অতঃপর কে ?।
তিনি বলেনঃ তোমার পিতা।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অপর বর্ণনায় আছেঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার কাছ থেকে সদ্ব্যবহার ও সৎসঙ্গ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার কে?।
তিনি বলেনঃ তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার পিতা, অতঃপর তোমার নিকটাত্মীয়, অতঃপর তোমার নিকটাত্মীয়। অপর এক বর্ণনায় এল -এর পরিবর্তে এ আছে ।
۳۱۷- وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَغِمَ أَنْفُ ثُمَّ رَغِمَ أَنْفُ ثُمَّ رَغِمَ انْفُ مَنْ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ عِنْدَ الْكَبَرِ أَحَدَهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ - رواه مسلم.
৩১৭। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন।
ঐ ব্যক্তির নাক ধুলি-মলিন হোক, ঐ ব্যক্তির নাক ধুলি-মলিন হোক, ঐ ব্যক্তির নাক ধুলি-মলিন হোক, যে তার পিতা-মাতার উভয়কে অথবা একজনকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেয়েও (তাদের সেবা করে) জান্নাতে যেতে পারল না।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۳۱۸- وَعَنْهُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي قَرَابَةً أَصِلُهُمْ وَيَقْطَعُونِي وَأَحْسِنُ إِلَيْهِمْ وَيُسِيتُونَ إِلَى وَاحْلُمُ عَنْهُمْ وَيَجْهَلُونَ عَلَى فَقَالَ لَئِنْ كُنتَ كَمَا قُلْتَ فَكَأَنَّمَا تُسفُهُمُ الْمَل وَلَا يَزَالُ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ ظَهِيرٌ عَلَيْهِمْ مَا دمْتَ عَلى ذلِكَ - رواه مسلم . وَتُسِفُهُمْ بِضَمِّ النَّاءِ وَكَسْرِ السِّينِ الْمُهْمَلَةِ وَتَشْدِيدِ الْقَاءِ وَالْمَلُ بِفَتْحِ الْمِيْمِ وَتَشْدِيدِ اللَّامِ وَهُوَ الرِّمَادُ الْحَارُّ أَيْ كَأَنَّمَا تطْعِمُهُمُ الرِّمَادَ الْخَارُ وَهُوَ تَشْبِيهُ لِمَا يَلْحَقُهُمْ مِنَ الْإِثْمِ بِمَا يَلْحَقُ أَكِلَ الرِّمَادِ الخَارِ مِنَ الْأَلم وَلَا شَى عَلى هذا الْمُحْسِنِ إِلَيْهِمْ لَكِنْ يَنَالُهُمْ إِثْمٌ عَظِيمٌ بِتَقْصِيرِهِمْ فِي حَقِهِ وَادْخَالِهِمُ الْآذَى عَلَيْهِ وَاللهُ أَعْلَمُ .
৩১৮। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার এরূপ আত্মীয় রয়েছে, আমি তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করি, কিন্তু তারা আমার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে।
আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করি, কিন্তু তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। আমি তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করি, কিন্তু তারা সর্বদাই মূর্খতার পরিচয় দেয়। তিনি (নবী) বলেন : তুমি যেমন বলেছ সত্যিই যদি তেমনটি হয়ে থাকে, তবে তুমি যেন তাদেরকে গরম ছাই খাওয়াচ্ছ। তুমি যতক্ষণ তোমার উল্লেখিত কর্মনীতির উপর কায়েম থাকবে, আল্লাহ্র সাহায্য সর্বদা তোমার সাথে থাকবে । ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ।
ইমাম নববী বলেন, হাদীসে গরম ছাইকে গুনাহর সাথে তুলনা করা হয়েছে। গরম ছাই ভক্ষণকারী যেমন কষ্ট ভোগ করে ঠিক তদ্রূপ গুনাহগার ব্যক্তিও দুঃখ-কষ্ট ও শাস্তির সম্মুখীন হবে। কিন্তু নেককার ব্যক্তিকে এরূপ কোন অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে না, বরং তাকে কষ্ট দেয়ার জন্য এবং তার প্রাপ্য হক নষ্ট করার জন্য তার প্রতিপক্ষই কষ্ট ভোগ করবে।
١٩ - عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أحب أن يُبْسُطُ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَيُنْسَأَ لَهُ فِى أَثَرِهِ فَلْيَصِلُ رَحِمَهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَمَعْنى يُنسَأَلَهُ فِي أَثَرِهِ أَى يُؤَخِّرَ لَهُ فِى أَجَلِهِ وَعُمْرِهِ .
৩১৯। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন।
যে ব্যক্তি নিজের রিযক প্রশস্ত হওয়া এবং নিজের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পাওয়া পছন্দ করে সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۳۲۰ - وَعَنْهُ قَالَ كَانَ أَبُو طَلْحَةَ اكْثَرَ الْأَنْصَارِ بِالْمَدِينَةِ مَالاً مِنْ نَخْلٍ وَكَانَ أحَبُّ أَمْوَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرَحَاءَ وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَةَ الْمَسْجِدِ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُهَا وَتَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيهَا طَيِّبِ فَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ الَنْ تَنَالُوا البر حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ قَامَ أَبُو طَلْحَةَ إِلى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ الَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ وَإِنْ أَحَبُّ مَالِى إِلَى بَيْرَحَاءُ وَأَنَّهَا صَدَقَةٌ لِلَّهِ تَعَالَى أَرْجُو برهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللهِ فَضَعْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ حَيْثُ أَرَاكَ اللهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَحْ ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ وَقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ وإني أرى أن تَجْعَلَهَا فِي الْأَقْرَبِينَ فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ افْعَلُ يَا رَسُولَ الله فَقَسَمَهَا أبو طلحةَ فِي أَقَارِبِهِ وَبَنِى عَمِهِ . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَسَبَقَ بَيَانُ الْفَاظِهِ فِي بَابِ الاتفاق مما يُحب .
৩২০। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খেজুর বাগান সম্পদে সমৃদ্ধ আবু তালহা (রাদিআল্লাহ) মদীনার আনসারদের মধ্যে সর্বাধিক ধনবান ব্যক্তি ছিলেন। তার সমস্ত মালের মধ্যে বাইরাহা। নামক বাগানটি তার কাছে সর্বাধিক প্রিয় ছিল। বাগানটি মসজিদে নববীর সামনেই ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ বাগানে প্রবেশ করে বাগানের মধ্যস্থিত মিঠা পানি পান করতেন। যখন এই আয়াত নাযিল হলঃ তোমাদের প্রিয় ও পছন্দনীয় জিনিস (আল্লাহ্ পথে) খরচ না করা পর্যন্ত তোমরা কিছুতেই কল্যাণ লাভ করতে পারবে না (সূরা আলে ইমরান : ৯২)।
তখন আবু তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা আপনার উপর নাযিল করেছেনঃ তোমাদের প্রিয় বস্তু (আল্লাহ্র রাস্তায়) খরচ না করা পর্যন্ত তোমরা কিছুতেই কল্যাণ লাভ করতে পারবে না। ‘বাইরাহা' নামক বাগানটি আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয় সম্পদ। আমি এটা আল্লাহ্র জন্য সাদাকা করে দিলাম । এর বিনিময়ে আমি আল্লাহ্র কাছে সাওয়াব ও প্রতিদানের আশা রাখি। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্র মর্জি মাফিক আপনি এটা কাজে লাগান।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আচ্ছা, আচ্ছা এটা তো লাভজনক সম্পদ। তুমি যা বলেছ আমি শুনেছি। এটা তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে দেয়াটাই আমি সংগত মনে করি। আবু তালহা (রাঃ) বলেন, আমি তাই করব, হে আল্লাহ্র রাসূল! অতঃপর আবু তালহা (রাঃ) বাগানটি তার নিকটাত্মীয় ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۳۲۱- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أَقْبَلَ رَجُلٌ إلى نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَبَايِعُكَ عَلَى الْهَجْرَةِ وَالْجِهَادِ ابْتَغِي الْأَجْرَ مِنَ اللهِ تَعَالَى قَالَ فَهَلْ لَكَ مِنْ وَالِدَيْكَ أَحَدٌ حَى؟ قَالَ نَعَمْ بَلْ كِلاهُمَا قَالَ فَتَبْتَغِي الْأَجْرَ مِنَ اللهِ تَعَالَى ؟ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَارْجِعُ إِلى وَالِدَيْكَ فَأَحْسِنُ صُحْبَتَهُمَا - مُنْفَقُ عَلَيْهِ وَهَذا لفظ مُسْلِم وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا جَاءَ رَجُلٌ فَاسْتَأْذَنَهُ فِي الْجِهَادِ فَقَالَ أَحَى وَالِدَاكَ؟ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَفِيْهِمَا فَجَاهِدٌ
৩২১। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এসে বলল, আমি আপনার কাছে জিহাদ ও হিজরাত করার বাই'আত করতে চাই এবং আল্লাহ তা'আলার কাছে প্রতিদানের আশা রাখি।
তিনি বলেনঃ তোমার পিতা-মাতার মধ্যে কেউ কি জীবিত আছে? সে বলল, হাঁ, বরং উভয়ই (জীবিত আছেন)। তিনি বলেনঃ এরপরও তুমি আল্লাহ্র কাছে প্রতিদান আশা কর? সে বলল, হাঁ, তিনি বলেন। পিতা-মাতার কাছে ফিরে যাও এবং তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস কর।
ইমাম বুারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
তাঁদের অপর বর্ণনায় আছেঃ এক ব্যক্তি এসে তাঁর (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের।) নিকট জিহাদে যোগদানের অনুমতি চায়। তিনি বলেন : তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত আছে? সে বলল, হাঁ। তিনি বলেন : তাহলে তাদের (সন্তুষ্টির) ব্যাপারে চেষ্টা-সাধনা কর।
۳۲۲ - وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِي ولكن الوَاصِلَ الَّذِي إِذا قَطعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَقَطَعَتْ بِفَتْحِ ء ورحمه القاف والطاء
৩২২। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : সদ্ব্যবহার প্রাপ্তির বিনিময়ে সদ্ব্যবহারকারী আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপনকারী নয়। বরং আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপনকারী হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর সে পুনরায় তা স্থাপন করে ৷
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۳۲۳- عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَتْ قَالَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الزَّحِمُ معلقة بِالْعَرْشِ تَقُوْلُ مَنْ وَصَلَنِى وَصَلَهُ اللهُ وَمَنْ قَطَعَنِي قَطَعَهُ اللَّهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
৩২৩। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। রাহেম' (আত্মীয়তার সম্পর্ক) আরশের সাথে ঝুলানো রয়েছে। সে (দু'আর ছলে) বলে, যে আমাকে জুড়ে দেবে আল্লাহ তাকে জুড়ে দেবেন এবং যে আমাকে ছিন্ন করবে আল্লাহ তাকে ছিন্ন করবেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ।
٣٢٤ - عَنْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّهَا أَعْتَقَتُ وليدَةً وَلَمْ تَسْتَأذنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُهَا الَّذِي يَدُورُ عَلَيْهَا فِيهِ قَالَتْ أَشَعَرْتَ يَا رَسُولَ اللهِ انّى أَعْتَقْتُ وَلِيُدَنِي؟ قَالَ أَوَفَعَلْتِ؟ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ أَمَا إِنَّكِ لَوْ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ كَانَ أَعْظَمَ لِأَجْرِكِ - متفق عليه .
৩২৪। উম্মুল মুমিনীন মাইমূনা বিনতুল হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একটি ক্রীতদাসী আযাদ করলেন; কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অনুমতি নিলেন না। তিনি পালাক্রমে যেদিন তার (মাইমূনার) ঘরে গেলেন, সেদিন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্ রাসূল! আপনি কি জানেন, আমি আমার বাঁদীটা আযাদ করে দিয়েছি? তিনি বলেন: তুমি কি তাকে আযাদ করে দিয়েছ? তিনি বলেন, হাঁ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যদি তুমি এ বাঁদীটা তোমার মামাদের দিতে তবে আরো অধিক সাওয়াবের অধিকারী হতে ।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٣٢٥ - عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرِ الصَّدِيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَتْ قَدِمَتْ عَلَى أُمِّي وَهِيَ مُشْرِكَةً فِى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاسْتَفْتَيْتُ رَسُولَ الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ قَدمَتْ عَلَى أُمِّى وَهِيَ رَاعْبَةٌ أَفَأَصلُ أُمِّي ؟ قَالَ نَعَمْ صلي أمك - متفق عليه. وَقَوْلُهَا رَاغِبَةٌ أَي طَامِعَةً فِيْمَا عِنْدِي تَسْأَلُنِي شَيْئًا قِيْلَ كَانَتْ أُمِّهَا مِنَ النَّسَبِ وَقِيْلَ مِنَ الرَّضَاعَةِ وَالصَّحِيحُ الْأَوَّلُ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (হুদাইবিয়ার সন্ধি স্থাপনের পর আমার মা আমার কাছে (মক্কা থেকে মদীনায়) আসলেন। তখন তিনি মুশরিক ছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, আমার মা আমার কাছে কিছু চাওয়ার জন্য এসেছেন; আমি কি আমার মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার করব? তিনি বলেনঃ হাঁ, তার সাথে সৌজন্যমূলক ব্যবহার কর।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٣٢٦ - عَنْ زَيْنَبَ الثَّقَفِيَّةِ امْرَأَةِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَعَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَصَدَّقَنَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ وَلَوْ مِنْ حُلِيكُن قَالَتْ فَرَجَعْتُ إِلى عَبْدِ اللهِ بن مَسْعُودٍ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّكَ رَجُلٌ خَفِيْفٌ ذَاتِ الْيَدِ وَإِنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَمَرَنَا بِالصَّدَقَةِ فَأْتِهِ فَاسْأَلْهُ فَإِنْ كَانَ ذلِكَ يُجْزِئُ عَنِّى وَإِلا صَدَقْتُهَا إِلى غَيْرِكُمْ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهُ بَلِ انْتِيْهِ انْتِ فانطلقتُ فَإذا امْرَأَةَ مِنَ الْأَنْصَار يبَاب رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَاجَتي حَاجَتُهَا وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ الْقِيَتْ عَلَيْهِ الْمَهَابَةُ فَخَرَجَ عَلَيْنَا بِلال فَقُلْنَا لَهُ انْتِ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبِرُهُ أَنَّ امْرَتَيْنِ بِالْبَابِ تَسْأَلَائِكَ اتَّجْزِئُ الصَّدَقَةُ عَنْهُمَا عَلَى أَزْوَاجِهِمَا وَعَلَى أَبْنَاءِ فِي حُجُورِهِمَا؟ وَلَا تُخْبِرُهُ مَنْ نَحْنُ فَدَخَلَ بِلال عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ هُمَا ؟ قَالَ امْرَأَةٌ مِّنَ الْأَنْصَارِ وَزَيْنَبُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الزِّيَانِبِ هِيَ؟ قَالَ امْرَأَةُ عَبْد الله فَقَالَ رَسُولُ الله صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَهُمَا أَجْرَانِ أَجْرُ الْقَرَابَةِ
৩২৬। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর স্ত্রী ও সাকাফী গোত্রের কন্যা যায়নাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে মহিলা সম্প্রদায়! তোমরা সাদাকা কর, এমনকি গহনাপত্র দিয়ে হলেও। যায়নাব (রাঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের কাছে ফিরে এসে তাকে বললাম, আপনি গরীব এবং সামান্য ধন-সম্পদের অধিকারী।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের স্ত্রীলোকদেরকে সাদাকা করার নির্দেশ দিয়েছেন । আপনি তাঁর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, আমার সাদাকা আপনাকে দিলে যথার্থ হবে কি না, অন্যথায় অন্য লোকদেরকে দেব। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন: বরং তুমি গিয়েই তাঁর কাছে জিজ্ঞেস করে এসো। তাই আমি বের হয়ে পড়লাম।
গিয়ে দেখি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরজায় আরো একজন আনসার মহিলা অপেক্ষা করছে এবং তার ও আমার একই প্রসংগ। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এক মহান ও অলৌকিক অবস্থা বিরাজ করছিল।
বিলাল (রাঃ) আমাদের কাছে বেরিয়ে আসলেন। আমরা তাকে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গিয়ে খবর দিন, দুই জন মহিলা দরজায় অপেক্ষা করছে। তারা আপনার কাছে জানতে চাচ্ছে, “তারা যদি তাদের স্বামীদের ও তাদের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত ইয়াতীমদের দান করে তবে তা কি তাদের জন্য যথার্থ হবে”?।
কিন্তু আমরা কে, এ সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করবেন না। অতএব বিলাল (রাঃ) ভেতরে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে প্রবেশ করে তাঁকে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা দু'জন কে?।
তিনি বললেন, এক আনসার মহিলা এবং যায়নাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ কোন্ যায়নাব?।
বিলাল (রাঃ) বললেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর স্ত্রী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাদের উভয়ের জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব রয়েছেঃ (এক), নিকটাত্মীয়তার সাওয়াব (দুই), দানের সাওয়াব ।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ।
۳۲۷- عَن أبي سُفْيَانَ صَخر بن حَرب رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي حَدِيثه الطويل في قصة هرقلَ أَنْ هِرَقْلَ قَالَ لِأَبِي سُفْيَانَ فَمَاذَا يَأْمُرُكُمْ بِهِ؟ يَعْنِي النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قُلْتُ يَقُولُ اعْبُدُوا اللهَ وَحْدَهُ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَاتْرُكُوا مَا يَقُولُ أَبَاؤُكُمْ وَيَأْمُرُنَا بِالصَّلاَةِ والصِّدْقِ وَالْعَفَافِ وَالصَّلَةِ متفق عليه .
৩২৭। আবু সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করল, তিনি (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদেরকে কি হুকুম করেন? আবু সুফিয়ান বলেন, আমি বললাম, তিনি (নবী) বলেন: তোমরা এক আল্লাহ্র ইবাদাত কর; তাঁর সাথে অন্য কিছু শরীক করো না এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা বলেছে তা পরিত্যাগ কর। তিনি আমাদের নামায, সত্যবাদিতা, পবিত্র জীবন যাপন এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা ইত্যাদির নির্দেশ দেন। (বুখারী, মুসলিম)।
۳۲۸- عَنْ أَبِي ذَرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكُمْ سَتَفْتَحُونَ أَرْضًا يُذْكَرُ فِيهَا الْقِيْرَاطُ وَفِي رِوَايَةٍ سَتَفْتَحُونَ مِصْرَ وَهِيَ أَرْضِ يُسَمَّى فِيهَا الْقِبْرَاطُ فَاسْتَوْصُوا بِأَهْلِهَا خَيْرًا فَإِنْ لَهُمْ ذِمَّةً وَرَحِمًا - وَفِي روايَةٍ فَإِذَا فَتَحْتُمُوهَا فَاحْسِنُوا إِلى أَهْلِهَا فَاِنَّ لَهُمْ ذِمَّةً وَرَحِمًا أَوْ قَالَ ذِمَّةً وصهراً . رواه مسلم . قَالَ الْعُلَمَاءُ الرَّحِمُ الَّتِي لَهُمْ كَوْنُ هَاجَرَ أَمَ إِسْمَاعِيلَ مِنْهُمْ والصَّهْرُ كَوْنُ مَارِيَةَ أَمَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْهُمْ.
৩২৮। আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবীদেরকে) বলেনঃ অচিরেই তোমরা এমন এক ভূখণ্ড জয় করবে, যেখানে কীরাতের আলোচনা হয়ে থাকে। কীরাত একটা পরিভাষা, সাওয়াবের একটা বিশেষ পরিমাণ বুঝানোর জন্য শব্দটি ব্যবহৃত হয় ৷
অপর এক বর্ণনায় আছেঃ অচিরেই তোমরা মিসর জয় করবে, যেখানে কীরাতের নাম করা হয়। অতএব তোমরা সেখানকার বাসিন্দাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে।
কেননা তাদের জন্য যিম্মাদারি ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। অপর এক বর্ণনায় আছেঃ যখন এটা তোমরা জয় করবে তখন সেখানকার অধিবাসীদের প্রতি দয়া পরবশ হবে। কেননা তাদের ব্যাপারে যিম্মাদারি ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। অথবা তিনি -এর স্থলে শব্দ বলেছেন। অর্থাৎ যিম্মাদারি ও শ্বশুর পক্ষীয় আত্মীয়তা রয়েছে।
۳۲۹- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هذه الآية (وَانْذِرُ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبَيْنَ دَعَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُرَيْشًا فَاجْتَمَعُوا فَعَمْ وَخَصٌ وَقَالَ يَا بَنِى عَبْدِ شَمْسٍ يَا بَنِى كَعْبِ بْنِ لُغَيِّ انْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ يَا بَنِي مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ انْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافِ انْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ يَا بَنِي هَاشِرِ انْقِدُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَلِبِ انْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ يَا فَاطِمَةُ انْقِذِى نَفْسَكَ مِنَ النَّارِ فَإِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ مِنَ اللهِ شَيْئًا غَيْرَ أَنْ لَكُمْ رَحِمًا سَائِلُهَا ببلالِهَا - رواه مسلم. قَوْلُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبِلالِهَا هُوَ بِفَتْحِ الْبَاءِ الثَّانِيَةِ وَكَسْرِهَا وَالْبَلَالُ الْمَاءُ وَمَعْنَى الْحَدِيثِ سَاصِلُهَا شَبِّهَ قَطِيعَتَهَا بِالْحَرَارَةِ تُطْفَأُ بِالْمَاءِ وَهُذِهِ تُبَرِّدُ بِالصَّلَةِ .
তোমার নিকটতম আত্মীয়-স্বজনকে ভয় দেখাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের ডাকলেন। ইতর-ভদ্র-উচ্চ-নীচ সাধারণ-বিশেষ সবাই একত্রিত হল। তিনি বলেন: হে আবদে শামসের বংশধর, হে কা'ব ইবনে লুয়াইর বংশধর! নিজেদেরকে আগুন থেকে বাঁচাও। হে আবদে মানাফের বংশধর। নিজেদেরকে আগুন থেকে বাঁচাও।
হে হাশেম বংশীয়রা। নিজেদেরকে আগুন থেকে বাঁচাও। হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধর! নিজেদেরকে আগুন থেকে বাঁচাও। হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেকে আগুন থেকে বাঁচাও। আল্লাহ্ পাকড়াও থেকে তোমাদের রক্ষা করার মালিক আমি নই।
শুধু ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٣٣٠- عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جِهَارًا غَيْرَ سِرِ يَقُولُ إِنْ أَلَ بَنِي فَلَانٍ لَيْسُوا بِأَوْلِيَانِي إِنَّمَا وَلِلَّى اللهُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ وَلَكِنْ لَهُمْ رَحِمَ أَبْلُهَا بِلالِهَا . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ واللفظ للْبُخَارِي.
৩৩০। আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গোপনে নয়, প্রকাশ্যে বলতে শুনেছিঃ অমুকের বংশধররা আমার বন্ধু বা পৃষ্ঠপোষক নয়। আমার বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষক হলেন আল্লাহ এবং সৎকর্মশীল মুমিনগণ। তবে তাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, আমি তা সজীব রাখার চেষ্টা করব।
হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তবে মূল পাঠ বুখারীর।
اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلا قَالَ يَا ۳۳۱ - عَنْ أَبِي أَيُّوبَ خَالِدِ بْنِ زَيْدِ الْأَنْصَارِي رَضِيَ رَسُولَ اللهِ أَخْبِرْنِي بِعَمَلِ يُدْخِلْنِى الْجَنَّةَ وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَعْبُدُ اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلاةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ وَتَصِلُ الرَّحِمَ - مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .
৩৩১। আবু আইউব খালিদ ইবনে যায়িদ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে এমন একটি কাজ সম্পর্কে অবহিত করুন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ্র ইবাদাত কর, তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করো না, নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখ। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ।
۳۳۲ - عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إذا أفطر أحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرُ عَلَى تَمْرِ فَإِنَّهُ بَرَكَةً فَإِنْ لَمْ يَجِدُ تَمْرًا فَالْمَاءُ فَانَّهُ طهور وَقَالَ الصَّدَقَةُ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ وَعَلَى ذِي الرَّحِمِ ثِنْتَانِ صَدَقَةٌ وصلة - رَوَاهُ التِّرْمَدَى وَقَالَ حَديثُ حَسَنٌ .
৩৩২। সালমান ইবনে আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। কেননা এতে বরকত আছে। যদি সে খেজুর না পায়, তবে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কেননা এটা পবিত্র বা পৰিত্রকারী। তিনি আরো বলেন: মিসকীনকে দান করা কেবল দান হিসাবেই গণ্য, কিন্তু আত্মীয়-স্বজনের বেলায় তা একই সঙ্গে দান এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা দুটোই হয় ।
হাদীসটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটা হাসান হাদীস।
۳۳۳- عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَتْ تَحْتِي امْرَأَةُ وَكُنْتُ أَحِبُّهَا وكَانَ عُمَرُ يَكْرَهُهَا فَقَالَ لِي طَلِقْهَا فَأَبَيْتُ فَأَتَى عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلِقْهَا . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِرْمَدَى وَقَالَ حَديثُ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
৩৩৩। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার এক স্ত্রী ছিল। আমি তাকে খুর বালভাসতাম। কিন্তু উমার (রাদিআল্লাহ) তাথে পছেন্দ করতেন না। তিনি আমাকে বলেন, তাকে তালাক দাও!
আমি এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলাম। উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাঁকে এটা জানালেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে) বলেন: তাকে তালাক দাও।
ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।
٣٣٤ - عَن أبي الدرداء رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلاً آتَاهُ فَقَالَ إِنَّ لِي امْرَأَةٌ وَإِنْ أُمِّي تَأْمُرُنِي بِطَلاقِهَا ؟ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْوَالِدُ أوْسَطُ ابْوَابِ الْجَنَّةِ فَإِنْ شِئْتَ فَاضِعُ ذَلِكَ الْبَابَ أَوِ احْفَظْهُ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَديثُ حَسَن صحيح.
৩৩৪। আবুদ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, আমার .একজন স্ত্রী আছে। আমার মা তাকে তালাক দেয়ার জন্য আমাকে হুকুম করেছেন। তিনি (আবুদ দারদা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ পিতা-মাতা জান্নাতের দরজাগুলোর মধ্যে একটি মজবুত দরজা। এখন তুমি ইচ্ছা করলে দরজাটি ভেংগেও দিতে পার অথবা হিফাযাতও করতে পার।
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ۳۳۵ - قَالَ الْخَالَةُ بِمَنْزِلَةِ الأم . رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
৩৩৫। বারাআ ইবনে আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ খালা মাতৃস্থানীয় ইমাম তিরমিজি হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা সহীহ হাদীস।
এ অনুচ্ছেদের সাথে সম্পৃক্ত বহু সংখ্যক নির্ভরযোগ্য হাদীস সহীহ গ্রন্থে রয়েছে। অনুচ্ছেদটি দীর্ঘায়িত হওয়ার ভয়ে সেগুলো উদ্ধৃত করা হল না। আমর ইবনে আবাসা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত একটি সুদীর্ঘ হাদীসও আছে। তার অংশবিশেষ এখানে উল্লেখ করা হল:
دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَكَّةَ يَعْنِي فِي أَوَّلِ النُّبُوَّةِ فَقُلْتُ لَهُ مَا أنتَ؟ قَالَ نَبِيُّ فَقُلْتُ وَمَا نَبِيٍّ؟ قَالَ أَرْسَلَنِي اللهُ فَقُلْتُ بِأَيِّ شَيْءٍ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ أَرْسَلَنِيُّ بِصِلَةِ الْأَرْحَامِ وَكَسْرِ الْأَوْثَانِ وَأَنْ يُوَحْدَ اللَّهَ لَا يُشْرَكَ بِهِ شَيْ وَذَكَرَ تَمَامَ الْحَدِيثِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ
আমর ইবনে আবাসা (রাঃ) বলেন, নবুয়াতের প্রথম দিকে আমি মক্কায় এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাত করলাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কে? তিনি বলেনঃ
নবী। আমি বললাম, নবী কাকে বলে?।
তিনি বলেন: আল্লাহ তা'আলা আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি বললাম, কি জিনিসসহ তিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন?।
তিনি বলেন: আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা, পৌত্তলিকতার অবসান, আল্লাহ্র একত্বের প্রতিষ্ঠা এবং তাঁর সাথে অন্য কিছুকে শরীক না করার নির্দেশসহ পাঠিয়েছেন।
👉পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়া, তাদের অবাধ্য হওয়া এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম।
#মুহাম্মদের_বাণী #ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন