قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَمَنْ يُعَظِمْ حُرُمَاتِ اللهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ عِنْدَ رَبِّهِ
মহান আল্লাহ বলেন:
“যে ব্যক্তি আল্লাহ্ কায়েম করা সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করবে, এটা তার নিজের জন্যই তার প্রভুর নিকট খুবই কল্যাণকর হবে।” (সূরা আল-হজ্জঃ ৩০)
وَقَالَ تَعَالَى : وَمَنْ يُعَظِمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقَوَى الْقُلُوبِ
“যে ব্যক্তি আল্লাহ্ নিদর্শনসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে; আর তা (সম্মান প্ৰদৰ্শন) দিলের তাকওয়ার ফল।” (সূরা আল-হজ্জঃ ৩২)
وَقَالَ تَعَالَى : واخْفِضْ جَنَاحَكَ لِلْمُؤْمِنينَ .
“মুমিনদের প্রতি তোমার বিনয় ও নম্রতার ডানা প্রসারিত কর।” (সূরা আল-হিজরঃ ৮৮)
وَقَالَ تَعَالَى : مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا
“যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে হত্যার অপরাধ অথবা যমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করার অপরাধ ছাড়া (অন্যায়ভাবে) হত্যা করে, তবে সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করল। আর যদি কোন ব্যক্তি কাউকে জীবন দান করে (অন্যায়ভাবে নিহত হওয়া থেকে রক্ষা করে) তবে সে যেন সকল মানুষকে জীবন দান করল।” (সূরা আল মা-ইদাঃ ৩২)
عَنْ أَبِي مُوسى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَسُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا وَشَبَكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ- متفق عليه.
২২২। আবু মূসা আল আশ্ আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্য প্রাচীরস্বরূপ। এর এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে। (এ কথা বলার সময়) তিনি তাঁর এক হাতের আঙুল অন্য হাতের আঙুলের ফাঁকে ঢুকিয়ে দেখান।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۲۳ - وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ مَرَّ فِي شَيْءٍ مِنْ مَسَاجِدِنَا أَوْ أَسْوَاقِنَا وَمَعَهُ نَبْلُ فَلْيُمْسِكَ أوْ لِيُقْبِضُ عَلَى نِصَالِهَا بِكَفِّهِ أَنْ يُصِيبَ أَحَدًا مِّنَ الْمُسْلِمِينَ مِنْهَا بِشَيْءٍ متفق عليه .
২২৩। আবু মূসা আল আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি আমাদের কোন মসজিদ অথবা বাজার অতিক্রমকালে তার সাথে যদি তীর থাকে, তবে সে যেন তার অগ্রভাগ সাবধানে রাখে অথবা হাতের মুঠোর মধ্যে রাখে। তাহলে কোন মুসলিমের গায়ে আঘাত লাগার আশংকা থাকবে না।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷
٢٢٤ - عَنِ النُّعْمَانِ بْن بَشير رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَوَادِهِمْ وَتَرَاحُمِهِمْ وَتَعَاطِفِهِمْ مَثَلُ الْجَسَدِ إِذَا اشتكى منْهُ عُضْوٌّ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْجَسَد بالسهر والحمى متفق عليه
২২৪। নু'মান ইবনে বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া-অনুগ্রহ ও মায়া-মমতার দৃষ্টিকোণ থেকে মুমিনগণ একটি দেহের সমতুল্য। যদি দেহের কোন অংশ অসুস্থ হয়ে পড়ে তবে অন্যান্য অংগ-প্রত্যংগও তা অনুভব করে। সেটা জাগ্রত অবস্থায়ই হোক কিংবা জ্বরের অবস্থায় (সর্বাবস্থায় একে অপরের সুখ-দুঃখের ভাগী হয়)।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٢٥ - وَعَنْ أبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَبْلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا وَعِنْدَهُ الْأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ فَقَالَ الْأَقْرَعُ إِنَّ لِي عَشَرَةٌ من الولد ما قَبلْتُ مِنْهُمْ أَحَدًا فنظر اليهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَنْ لا يَرْحَمُ لا يُرْحَمَ - متفق عليه .
২২৫। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ইবনে আলী (রাঃ)-কে চুমো দিলেন। আকরা ইবনে হাবেস (রাঃ) তাঁর কাছেই উপস্থিত ছিলেন। আকরা বলেন, আমার দশটি সন্তান আছে কিন্তু আমি কখনও তাদের কাউকে চুমো দিইনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে তাকালেন এবং বলেনঃ যে ব্যক্তি দয়া প্রদর্শন করে না সে দয়ার পাত্র হতে পারে না।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٢٦ - عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ قَدِمَ نَاسٌ مِنَ الْأَعْرَابِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا اتَّقَتِلُونَ صِبْيَانَكُمْ؟ فَقَالَ نَعَمْ قَالُوا لَكِنَّا وَاللَّهِ مَا نُقَبِّلُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوَ أَمْلِكُ إِنْ كَانَ اللَّهُ نَزَعَ مِنْ قُلُوبِكُمُ الرَّحْمَةَ؟ متفق عليه.
২২৬। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় আরব বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, আপনারা কি আপনাদের ছোট্ট শিশুদের চুমো দেন? তিনি বলেনঃ হাঁ। তারা বলল, আল্লাহ্ শপথ! আমরা কিন্তু চুমো দিই না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি কি এর মালিক বা জিম্মাদার হতে পারি, যদি আল্লাহ তোমাদের অন্তর থেকে রহমত ও অনুগ্রহকে তুলে নেন? ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۲۷ - عَنْ جَرِيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ . وَسَلَّمَ مَنْ لا يَرْحَمُ النَّاسَ لَا يَرْحَمُهُ اللهُ - متفق عليه عليه
২২৭। জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি মানুষকে দয়া করে না, আল্লাহ তাকে দয়া করেন না। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۲۸ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إذا صَلَّى أَحَدَكُمْ لِلنَّاسِ فَلْيُخَقِفْ فَإِنَّ فِيهِمُ الضَّعِيفَ وَالسَّقِيمَ وَالْكَبِيرَ وَإِذَا صلى أحَدُكُمْ لِنَفْسِهِ فَلْيَطُولُ مَا شَاءَ متفق عليه وفي روايَةٍ وَذَا الْحَاجَةِ .
২২৮। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন নামাযে লোকদের ইমামতি করে, সে যেন নামায সংক্ষেপ করে। কেননা তাদের মধ্যে দুর্বল, রুগ্ন ও বৃদ্ধ লোক থাকতে পারে। যখন তোমাদের কেউ একাকী নামায পড়ে, তখন সে ইচ্ছামত নামায দীর্ঘায়িত করতে পারে।
ইমাম বুখারী ও ইয়াম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অন্য এক বর্ণনায় “ব্যস্ত বা অভাবী লোকের” কথাও উল্লেখ আছে।
٢٢٩ - عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيَدْعُ الْعَمَلَ وَهُوَ يُحِبُّ أَنْ يُعْمَلَ بِهِ خَشْيَةَ أَنْ يُعْمَلَ بِهِ النَّاسُ فَيُقْرَضَ
২২৯। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন কাজ (ইবাদাত) করার ঐকান্তিক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তা পরিত্যাগ করতেন এই ভয়ে যে, লোকেরা (তাঁর দেখাদেখি) তা নিয়মিত করতে থাকলে হয়ত এটা তাদের উপর ফরয করে দেয়া হবে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٣ - وَعَنْهَا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَتْ نَهَاهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْوِصَالِ رَحْمَةً لَهُمْ فَقَالُوا إِنَّكَ تُوَاصِلُ؟ قَالَ إِنِّي لَسْتُ كَهَيْئَتِكُمْ إِنِّي أَبِيْتُ يُطعمنى رَبِّي وَيَسْقِينى - متفق عليه مَعْنَاهُ يَجْعَلُ فِي قُوةٌ مَنْ أَكَلَ وَشَرِبَ .
২৩০। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওরাসাল্লাম সাহাবীদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তাদেরকে 'সাওমে বিসাল’ যৎসামান্য পানাহার করে একাধারে দীর্ঘদিন যে রোযা রাখা হয়, তাকে সাওমে বিসাল বলে।
করতে নিষেধ করেছেন। তারা আবেদন করলেন, আপনি যে (সাওমে বিসাল) করেন। তিনি বলেন: আমি তোমাদের মত নই। আমি রাত্রিযাপন করি আর আমার প্রতি লক আমাকে পানাহার করান (অর্থাৎ পানাহারকারী ব্যক্তির ন্যায় আমাকে শক্তি দান করেন)।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۳۱ - عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الْحَارِثِ بْنِ رِبْعِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انّي لأقومُ الى الصلاة وأريدُ أَنْ أَطُولَ فِيهَا فَاسْمَعُ بُكَاءَ
الصَّبِيِّ فَأَتَجَوزُ فِي صَلَاتِي كَرَاهِيةَ أنْ أشق عَلَى أُمِّهِ- رواه البخاري .
২৩১। আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি নামাযকে দীর্ঘায়িত করার ইচ্ছা নিয়ে নামায পড়তে দাঁড়াই । আমি শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পাই এবং তা তার মাকে বিচলিত করতে পারে এই আশংকায় আমি আমার নামায সংক্ষিপ্ত করি।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۳۲ - عَنْ جُنْدَبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى صَلاَةَ الصُّبْحِ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ فَلَا يَطْلُبَنَّكُمُ اللهُ مِنْ ذمته بشَيْءٍ فَإِنَّهُ مَنْ يُطْلَبُهُ مِنْ دَمَتِهِ بِشَيْءٍ يُدْرِكَهُ ثُمَّ يَكْبُهُ عَلَى وَجْهِهِ فِي نَارِ جهنم رواه مسلم.
২৩২। জুনদুৰ ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালের (ফজরের) নামায পড়ল, সে আল্লাহ্র যিযায় চলে গেল (তোমাদের এরূপ অবস্থার মধ্যেই থাকা উচিত)। আল্লাহ যেন তোমাদের কাছ থেকে তাঁর যিম্মার ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব না চান। কেননা তাঁর যিম্মার ব্যাপারে তিনি কাউকে পাকড়াও করতে চাইলে করতে পারবেন, তারপর তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۳۳ - عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُسْلِمُ أخو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يُسْلِمُهُ مَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ وَمَنْ فَرْجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةٌ فَرْجَ اللهُ عَنْهُ بِهَا كُرْبَهُ مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ - متفق عليه
২৩৩। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে না তার উপর যুগ্ম করতে পারে এবং না তাকে শত্রুর হাতে সোপর্দ করতে পারে। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট হয়, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের কোন কষ্ট বা অসুবিধা দূর করে দেয়, এর বিনিময়ে আল্লাহ কিয়ামাতের দিন তার কষ্ট ও বিপদ থেকে অংশবিশেষ দূর করে দেবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ কিয়ামাতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٣٤ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَخُونُهُ وَلَا يَكْذِبُهُ وَلَا يَخْذُلُهُ كُلَّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِم حرام عرضُهُ وَمَالُهُ وَدَمَهُ التَّقْوى فَهُنَا بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يُحْفِرَ أَخَاهُ المسلم - رواه الترمذي. وَقَالَ حَديثُ حَسَنٌ.
২৩৪। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না; তাকে মিথ্যা বলবে না এবং তাকে হেয় প্রতিপন্ন করবে না। প্রত্যেক মুসলিমের মান-ইযযত, ধন-সম্পদ ও রক্ত অন্য সব মুসলিমের উপর হারাম। (তিনি বক্ষস্থলের দিকে ইশারা করে বলেন) তাকওয়া এখানে। কোন ব্যক্তির অধম হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে ঘৃণা করে, তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে।
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটা হাসান হাদীস।
٢٣٥ - وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَنَاجَشُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَلاَ يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ اِخْوَانًا اَلْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لاَ يَظْلِمُهُ وَلَا يَحْقِرُهُ وَلَا يَخْذُلُهُ التَّقْوى ويُشيرُ إِلى صَدْرِهِ ثَلَاثَ مَرَأتِ بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِ أَنْ يُحْقِرَ أَخَاهُ
الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ - رواه مسلم النَّجَسُ أَنْ يُزِيدَ فِى ثَمَن سِلْعَةِ يُنَادَى عَلَيْهَا فِي السُّوقِ وَنَحْوِهِ وَلَا رَغْبَةَ لَهُ فِي شرَائِهَا بَلْ يَقْصِدُ أَنْ يُغْرَ غَيْرَهُ وَهَذَا حَرَامٌ وَالتَّدَابُرُ أَنْ يُعْرِضَ عَنِ الْإِنْسَانِ وَيَهْجَرَهُ وَيَجْعَلَهُ كَالشئ الذي وَرَاءَ الظهر والدبر
২৩৫। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা পরস্পরের প্রতি হিংসা পোষণ করো না, তামাজুশ করো না, নকল ক্রেতা সেজে আসল ক্রেতার সামনে পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে বলাকে 'তামাজুশ' বলে। এতে প্রকৃত ক্রেতা ধোঁকা খেয়ে অধিক মূল্যে তা ক্রয় করতে বাধ্য হয়। এরূপ করা হারাম। ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না, কেউ অপর কারো ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় করো না। আল্লাহ্ বান্দাগণ! তোমরা ভাই ভাই হয়ে থাক।
মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তাকে যুম করতে পারে না, হীন জ্ঞান করতে পারে না এবং অপমান-অপদস্থও করতে পারে না। তাকওয়া এখানে। এ কথাটা তিনি তিনবার বলেন এবং নিজের বক্ষস্থলের দিকে ইশারা করেন। কোন ব্যক্তির খারাপ প্রমাণিত হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে ঘৃণা করে, হীন মনে করে। প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত (জীবন), ধন-সম্পদ ও মান-সম্মান অন্য সব মুসলিমের জন্য হারাম।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُؤْمِنُ ٢٣٦ - عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ ا أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبُّ لأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ- متفق عليه
২৩৬। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউই ঈমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۳۷ - وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْصُرُ أَخَاكَ ظَالمًا أَوْ مَظْلُومًا فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ انْصُرُهُ إِذا كَانَ مَظْلُومًا أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ ظَالِماً
كَيْفَ انْصُرُهُ ؟ قَالَ تَحْجُرُهُ أَوْ تَمْنَعُهُ مِنَ الظُّلْمِ فَإِنَّ ذَلِكَ نَصْرُهُ - رواه البخاري .
২৩৭। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার ভাইকে সাহায্য কর, চাই যালিম হোক অথবা মাযলুম। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! সে যদি মাযলুম হয়, আমি তাকে সাহায্য করব। যদি সে যালিম হয় তবে আমি তাকে কিভাবে সাহায্য করবো? তিনি বলেনঃ তাকে যুগ্ম করা থেকে বিরত রাখ, বাধা দাও। এটাই তাকে সাহায্য করা।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۳۸ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حَقَّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ رَدُّ السّلامِ وَعِبَادَةُ الْمَرِيضِ وَاتَّبَاعُ الْجَنَائِزِ وَاجَابَةُ الدَّعْوَةِ وَتَشْمِيْتُ الْعَاطِس - متفق عليه وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمِ حَقٌّ الْمُسْلِمِ سِتّ إِذا لَقِيْتَهُ فَسَلِمْ عَلَيْهِ وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبُهُ وإِذا اسْتَنضَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ وَإِذا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَشَمَتْهُ وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعُهُ .
২৩৮। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের পাঁচটি হক (অধিকার) রয়েছে। সালামের জবাব দেয়া, রুগ্নকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত কবুল করা এবং হাঁচির জবাব দেয়া (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা)।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে : মুসলিমদের পরস্পরের উপর ছ'টি অধিকার রয়েছে। তুমি তার সাথে সাক্ষাতকালে তাকে সালাম দেবে; সে তোমাকে দাওয়াত দিলে তা গ্রহণ করবে; তোমার কাছে উপদেশ (অথবা পরামর্শ) চাইলে উপদেশ দেবে; হাঁচি দিয়ে সে আলহামদু লিল্লাহ (যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য) বললে তুমি তার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমাকে রহম করুন) বলবে; সে রোগাক্রান্ত হলে তাকে দেখতে যাবে এবং সে মারা গেলে তার জানাযায় শরীক হবে।
۲۳۹ - عَنْ أَبِي عُمَارَةَ الْبَرَاء بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَبْعٍ وَنَهَانَا عَنْ سَبْعِ أَمَرَنَا بِعِيَادَةِ الْمَرِيضِ وَإِتِّبَاعِ الْجَنَازَةِ وَتَشْمِيْتِ الْعَاطِسِ وَإِبْرَارِ الْمُقْسِمِ وَنَصْرِ الْمَظْلُومِ وَإِجَابَةِ الدَّاعِي وَإِنْشَاء السّلامِ وَنَهَانَا عَنْ خَوَاتِثِمِ أَوْ تَخَتُم بِالذَّهَبِ وَعَنْ شُرْبِ بِالْفِضَّةِ وَعَنِ الْمَيَائِرِ الْحُمْرِ وَعَنِ الْقَسِيِّ وَعَن لَبْسُ الْحَرِيرِ وَالْاسْتَبْرَقِ وَالدِّيباج متفق عليه وَفِي رِوَايَةٍ وَإِنْشَادِ الضَّالَّةِ فِي السَّبْعِ الْأَوَّلِ الْمَيَاثِرُ بِيَا ، مُتَنَّاةٍ قَبْلَ الْأَلِفِ وَثَاءِ يُتَّخَذُ مِنْ حَرِيْرٍ وَيُحْشَى قُطْنَا أَوْ غَيْرَهُ مُتَلقَة بَعْدَهَا وَهِيَ جَمْعُ مَبْشَرَةٍ وَهِيَ وَيُجْعَلُ فِي السِّرْجِ وَكُوْرِ الْبَعِيرِ يَجْلِسُ عَلَيْهِ الرَّاكِبُ وَالْقَسَى بِفَتْحِ الْقَافِ ثيَابٌ تُنْسَجُ مِنْ حَرِيْرٍ وَكَتَّانِ مُخْتَلِطَيْنِ وهى ثياب وكَسْرِ السِّينِ الْمُهْمَلَةَ الْمُشَدِّدَة .وَانْشَادُ الضَّالَّةِ تَعْرِيفُهَا.
২৩৯। বারাআ ইবনে আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি বিষয় করতে এবং সাতটি বিষয় না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেনঃ রোগীর খোঁজখবর নিতে, জানাযায় অংশগ্রহণ করতে, হাঁচির জবাব দিতে, শপথ বা প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করতে, মাযলুমের সাহায্য করতে, দাওয়াতকারীর দাওয়াত কবুল করতে এবং সালামের বহুল প্রচলন করতে।
তিনি আমাদের নিষেধ করেছেনঃ স্বর্ণের আংটি পরিধান করতে ও তৈরি করতে, রূপার পাত্রে পান করতে, লাল রং-এর রেশমের গদিতে আরবে এ ধরনের গদি বানিয়ে ঘোড়া ও উটের পিঠে বসবার বহুল প্রচলন ছিল। বসতে; কাচ্ছি (কাপড়), রেশমী বস্ত্র এবং দীবাজ পরিধান করতে।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অপর এক বর্ণনায়, প্রথম সাতটির মধ্যে ‘শপথ পূর্ণ করার' স্থলে 'হারানো প্রাপ্তির ঘোষণা' দেয়ার হুকুম রয়েছে।
শব্দার্থঃ ভুল। রেশম ও সূতার সংমিশ্রণে তৈরী কাপড় যা উট অথবা ঘোড়ার জিনের উপর বিছানো হয়। এই রেশম ও তুলার সংমিশ্রণে তৈরী কাপড়।
এক প্রকার রেশমী বস্ত্র।
