قَالَ اللهُ تَعَالَى : مَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلَا شفيع يُطَاعُ .
মহান আল্লাহ বলেন:
“যালিমদের জন্য কেউ দরদী বন্ধু হবে না, আর না এমন কোন শাফা'আতকারী হবে যার কথা মেনে নিয়া হবে (সুরা আল-মুমিনুঃ ১৮)
وَقَالَ تَعَالَى : وَمَا ِللظَّالِمينَ مِنْ نَصير .
যালিমদের কোন সাহায্যকারী হবে না (সুরা আল-হজ্বঃ ৭৯)
وأما الْأَحَادِيْثُ فَمِنْهَا حَدِيثُ أَبِي ذَرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ الْمُتَقَدِّمُ فِي أَخِرِ بَاب الْمُجَاهَدَة .
۲۰۳ - عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اتَّقُوا الظُّلْمَ فَإِنَّ الظُّلَمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَاتَّقُوا الشَّحْ فَإِنَّ الشَّحَ أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلِكُمْ حَمَلَهُمْ عَلى أنْ سَفَكُوا دما ءَهُمْ وَاتَحَلُوا مَحَارَمَهُمْ - رواه مسلم .
২০৩। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা যুম করা থেকে দূরে থাক। কেননা যুগ্ম কিয়ামাতের দিন অন্ধকারাচ্ছন্ন ধোঁয়ায় পরিণত হবে। তোমরা কৃপণতার কলুষতা থেকেও দূরে থাক। কেননা কৃপণতাই তোমাদের পূর্বের অনেক লোককে (জাতিকে) ধ্বংস করেছে। কৃপণতা তাদেরকে রক্তপাত ও মারামারি করতে প্ররোচিত করেছে এবং হারামকে হালাল করতে উস্কানি দিয়েছে।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٤ ٢٠ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لتؤدن الحقوق إلى أَهْلِهَا يَوْمَ الْقِيَامَة حَتَّى يُقادَ الشَّاةِ الْجَلْحاء مِنَ الشَّاةِ القرناء رواه مسلم.
-
২০৪। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (মহান আল্লাহ) কিয়ামাতের দিন অবশ্যই পাওনাদারের পাওনা আদায় করাবেন, এমনকি শিংযুক্ত বকরী থেকে শিংবিহীন বকরীর প্রতিশোধ নেয়া হবে।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٠٥ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كُنَّا نَتَحَدَّثُ عَنْ حَجّة الوداع - والنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَظْهُرِنَا وَلَا نَدْرِي مَا حَجَّةُ الْوَدَاعِ حَتَّى حَمِدَ الله رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاثْنى عَلَيْهِ ثُمَّ ذَكَرَ الْمَسِيحَ الدَّجال فَاطْنَبَ فِي ذِكْرِهِ وَقَالَ مَا بَعَثَ اللَّهُ مِنْ نَبِيِّ إِلَّا انْذَرَهُ أَمَّتَهُ أَنْدَرَهُ نُوْحُ وَالنَّبِيُّونَ مِنْ بَعْدِهِ وَإِنَّهُ اِنْ يُخْرُجُ فِيْكُمْ فَمَا خَفِيَ عَلَيْكُمْ مِنْ شَانِهِ فَلَيْسَ يَخْفَى عَلَيْكُمْ إِنْ رَبِّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَإِنَّهُ أَعْوَرُ عَيْنِ الْيُمْنَى كَانَ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ أَلَا إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْكُمْ دِمَا كُمْ وَأَمْوَالَكُمْ كَحُرمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هذا ألا هل بلغتُ؟ قَالُوا نَعَمْ قَالَ اللّهُمُ اشْهَدُ ثَلَاثًا وَيْلَكُمْ أَوْ وَيْحَكُمُ أَنْظُرُوا لا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعض رواه البخاري وروى مسلم بَعضَهُ .
২০৫। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্জ সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝেই উপস্থিত ছিলেন । আমরা জানতাম না, বিদায় হজ্জ কি বা বিদায় হজ্জ কাকে বলে? অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্র প্রশংসা ও গুণগান করার পর মসীহ দাজ্জাল সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করলেন।
তিনি বলেনঃ আল্লাহ এমন কোন নবী পাঠাননি, যিনি নিজের উম্মাতকে দাজ্জালের ভয় দেখাননি। নূহ (আঃ) এবং তাঁর পরে আগত নবীগণ নিজ নিজ উম্মাতকে এর ভয় দেখিয়েছেন, সাবধান করেছেন। সে তোমাদের মধ্যে আত্মপ্রকাশ করবে।
এর ব্যাপারটা তোমাদের কাছে গোপন থাকবে না। এটাও তোমাদের অজানা নয় যে, তোমাদের প্রভু এক চোখবিশিষ্ট বা অন্ধ নন। দাজ্জালের ডান চোখ কানা হবে এবং তা আঙুর ফলের মত ফোলা হবে। তোমরা সাবধান হও! তোমাদের পরস্পরের রক্ত (জীবন) ও ধন-সম্পদ পরস্পরের জন্য হারাম এবং সম্মানের বস্তু, যেমন তোমাদের এ দিনটি হারাম (সম্মানিত) এবং তোমাদের এ মাসটি হারাম (সম্মানিত)।
সাবধান! আমি কি (আল্লাহ্র বিধান তোমাদের কাছে) পৌঁছে দিয়েছি? উপস্থিত সবাই বলেন, (আপনি পৌঁছে দিয়েছেন)। অতঃপর তিনি তিনবার বলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক। (তিনি পুনরায় বলেন) ধ্বংস হোক অথবা আফসোস হোক, খুব মনোযোগ দিয়ে শোন, আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা পরস্পর রক্তারক্তি করে কুফরে প্রত্যাবর্তন করো না।
সম্পূর্ণ হাদীসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম এর কোন কোন অংশ বর্ণনা করেছেন।
٢٠٦ - عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ ظَلَمَ قِيْدَ شِبْرٍ مِنَ الْأَرْضِ طُوقَهُ مِنْ سَبْع أَرَضِينَ متفق عليه .
২০৬। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ জমিতে যুগ্ম করল (জবরদখল করে নিল; কিয়ামাতের দিন) সাত তবক যমিন তার গলায় লটকিয়ে দেয়া হবে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۰۷ - عَنْ أبِي مُوسى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ لَيُمْلِيُّ لِلظَّالِمِ فَإِذَا أَخَذَهُ لَمْ يُفْلِتُهُ ثُمَّ قَرَأَ وَكَذَلِكَ أَخُذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهيَ ظَالِمَةٌ أن أخَذَهُ الهُم شَديد) - متفق عليه
২০৭। আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ যালিমকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। কিন্তু যখন তিনি তাকে গ্রেপ্তার করেন তখন আর ছাড়েন না। অতঃপর তিনি (মহানবী) এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “আর তোমার রব যখন কোন যালিম জনবসতিকে পাকড়াও করেন, তখন তাঁর পাকড়াও এমনিই হয়ে থাকে। তাঁর পাকড়াও বড়ই কঠিন, নির্মম ও পীড়াদায়ক।” (সূরা হূদ : ১০২)।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۰۸ - عَنْ مُعَادٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَادْعُهُم إِلى شَهَادَةِ أنْ لا اله الا الله وَانِّي رَسُولُ الله فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لذلكَ فَاعْلَمُهُمْ أَنَّ اللهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْهِمُ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذلِكَ فَاعْلَمُهُمْ أَنَّ اللَّهَ قَد افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةٌ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لذلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُوْمِ فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حجاب متفق عليه
২০৮। মু'আয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (ইয়ামানের শাসক করে) পাঠানোর সময় বলেনঃ তুমি আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। তুমি তাদেরকে এরূপ সাক্ষ্য দিতে আহ্বান করবে : “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহ্র রাসূল।” যদি তারা এ আহ্বান মেনে নেয়, তবে তাদেরকে জানিয়ে দেবেঃ প্রত্যেক দিন-রাতের সময়সীমার মধ্যে আল্লাহ তাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন।
তারা যদি তোমার এ কথাও মেনে নেয়, তবে তুমি তাদেরকে জানিয়ে দেবেঃ আল্লাহ তাদের উপর সাদাকা (যাকাত) ফরয করেছেন। এটা তাদের ধনীদের কাছ থেকে আদায় করে তাদের গরীবদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। যদি তারা তোমার এ কথাও মেনে নেয়, তবে বেছে বেছে তাদের উত্তম মালগুলো (গ্রহণ করা) থেকে বিরত থাকবে। আর মযলুম বা নির্যাতিতের দু'আকে (অভিশাপকে) ভয় কর। কেননা তার ও আল্লাহ্র মাঝে কোন আড়াল থাকে না।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢٠٩ - عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ السَّاعِدِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ اسْتَعْمَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلاً مِنَ الْأَزْدِ يُقَالُ لَهُ ابْنُ اللُّتْبِيَّةِ عَلَى الصَّدَقَةِ فَلَمَّا قَدِمَ قَالَ هذا لَكُمْ وَهَذا أَهْدِى إِلَى فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَحَمِدَ الله وأثنى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أَسْتَعْمِلُ الرَّجُلَ مِنْكُمْ عَلَى الْعَمَلِ مِمَّا وَلَأنِيَ اللهُ فَيَأْتِي فَيَقُولُ هَذَا لَكُمْ وَهَذَا هَدِيَّةٌ أَهْدِيَتْ إِلَى أَفَلَا جَلَسَ فِي بَيْتِ أَبِيْهِ أَوْ أُمِّهِ حَتَّى تَأْتِيَهُ هَدِيَّتُهُ إِنْ كَانَ صَادِقًا وَاللَّهِ لَا يَأْخُذ أحدَّ مِنْكُمْ شَيْئًا بِغَيْرِ حَقه الا لقى اللهَ تَعَالَى يَحْمِلُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَلا أَعْرِفَنَّ أَحَدًا مِنْكُمُ لَقَىَ اللهَ يَحْمِلُ بَعِيرًا لَهُ رُغَاءُ أَوْ بَقَرَةً لَهَا خَوَارٌ أَوَ شَاةٌ تَبْعَرُ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رُوِيَ بَيَاضُ إِبْطَيْهِ فَقَالَ اللَّهُمْ هَلْ بَلْغَتُ ثَلَاثًا -متفق عليه
২০৯। আবু হুমাইদ আবদুর রহমান ইবনে সা'দ আস্-সায়েদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আদ গোত্রের এক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত আদায়ের জন্য নিয়োগ করলেন। তার ডাকনাম ছিল ইবনুল লুতবিয়্যা। সে (যাকাত আদায় করে ফিরে এসে (মহানবীকে) বলল, এই মাল আপনাদের আর এই মাল আমাকে উপঢৌকন দেয়া হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে দাঁড়ালেন, আল্লাহ্র প্রশংসা ও গুণগান করার পর বলেনঃ অতঃপর, যেসব পদের অভিভাবক আল্লাহ আমাকে করেছেন, তার মধ্য থেকে কোন পদে আমি তোমাদের কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করি। সে আমার কাছে ফিরে এসে বলে, এগুলো আপনাদের, আর এগুলো আমাকে উপঢৌকন দেয়া হয়েছে। এ ব্যক্তি তার বাপ-মায়ের ঘরে বসে থাকে না কেন? যদি সে সত্যবাদী হয় তবে সেখানেই তো তার উপঢৌকন পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ্ শপথ! তোমাদের কোন ব্যক্তি অনধিকারে (বা অবৈধভাবে) কোন কিছু গ্রহণ করলে, কিয়ামাতের দিন সে তা বহন করতে করতে আল্লাহ্র সামনে হাযির হবে।
অতএব আমি তোমাদের কাউকে আল্লাহ্র দরবারে এই অবস্থায় উপস্থিত হতে দেখতে চাই না যে, সে উট বহন করবে আর তা আওয়াজ করতে থাকবে অথবা গাভী (বহন করে নিয়ে আসবে আর তা) হাম্বা হাম্বা করতে থাকবে অথবা বকরী (বহন করে নিয়ে আসবে আর তা) ভ্যা ভ্যা করতে থাকবে। (রাবী বলেন), অতঃপর তিনি তাঁর দু'হাত এত উপরে উঠালেন যে, তাঁর বগলের শুভ্রতা দৃষ্টিগোচর হল। তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! আমি কি (তোমার হুকুম) পৌঁছে দিয়েছি? তিনবার তিনি এ কথা বলেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢١٠ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَتْ عِنْدَهُ مَظْلِمَةٌ لِأَخِيهِ مِنْ عرْضهِ أَوْ مِنْ شَيْءٍ فَلْيَتَحَلَلْهُ مِنْهُ الْيَوْمَ قَبْلَ أَنْ لا يَكُونَ دِيْنَارُ وَلَا دِرهَمْ إِنْ كَانَ لَهُ عَمَلَ صَالِحٌ أُخِذَ مِنْهُ بِقَدْرِ مَظْلِمَتِهِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أَخذَ مِنْ سَيِّئَاتِ صَاحِبِهِ فَحُمِلَ عَلَيْهِ - رواه البخارى .
২১০। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: কোন ব্যক্তির উপর তার অপর ভাইয়ের যদি কোন দাবি থাকে, তা যদি তার মান-ইযযতের উপর অথবা অন্য কিছুর উপর যুগ্ম সম্পর্কিত হয়, তবে সে যেন আজই কপর্দকহীন-নিঃস্ব হওয়ার পূর্বে তার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করে নেয়। অন্যথায় (কিয়ামাতের দিন) তার যুমের সমপরিমাণ নেকী তার কাছ থেকে নিয়ে নেয়া হবে।
যদি তার কোন নেকী না থাকে তবে তার প্রতিপক্ষের (নির্যাতিতের) গুনাহ থেকে (যুমের সমপরিমাণ) তার হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া হবে।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۱۱ - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَبَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ - متفق عليه
২১১। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার মুখের ও হাতের অনিষ্ট বা ক্ষতি থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে। মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ্র নিষিদ্ধ জিনিস পরিত্যাগ করে। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
وَعَنْهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ عَلَى ثَقَلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ كَرُكَرَةٌ فَمَاتَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ فِي النَّارِ فَذَهَبُوا يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ فَوَجَدُوا عَبَاءَةً قَدْ عَلَهَا - رواه البخاري .
২১২। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিরকিরা নামক এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মালপত্রের দায়িত্বে ছিল। সে মারা গেলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ সে জাহান্নামে। তারা (সাহাবীগণ) তার বাসস্থানে খোঁজ-খবর নিতে গেলেন (কেন সে জাহান্নামী হল)। তারা সেখানে একটি ‘আবা (এক প্রকারের ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۱۳ - عَنْ أَبِي بَكْرَةَ نُفَيْعِ بْنِ الْحَارِثِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ انَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللهُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ثَلاثُ مُتَوَالِيَاتٌ ذُو الْقَعْدَةِ وَذُوالْحِجْةِ والْمُحَرِّمُ وَرَجَبُ مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ أَيُّ شَهْرٍ هَذَا ؟ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيه بغَيْر اسْمه قَالَ اليْسَ ذا الحجة قُلْنَا بَلَى قَالَ فَأَيُّ بَلد هذا ؟ قُلْنَا اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيْسَمِيْهِ بِغَيْرِ اِسْمِهِ قَالَ أَلَيْسَ الْبَلْدَةَ؟ قُلْنَا بَلَى قَالَ فَأَيُّ يَوْمٍ هُذَا ؟ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيه بغَيْر اسْمه قَالَ اليْسَ يَوْمَ النَّحْرِ ؟ بَلَى قَالَ فَإِنْ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كُحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هذا في بلدكُمْ هذا فِي شَهْرِكُمْ هذا وَسَتَلْقَوْنَ رَبَّكُمْ فَيَسْأَلُكُمْ عَنْ أَعْمَالِكُمْ أَلَا فَلا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يُضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ أَلَا لِيُبَلِغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ فَلَعَلَّ بَعْضَ مَنْ يُبْلُغُهُ أَنْ يَكُونَ أَوْعَى لَهُ مِنْ بَعْضٍ مَنْ سَمِعَهُ ثُمَّ قَالَ الَا هَلْ قلنا بَلَغَتُ الاَ هَلْ بَلَغَتُ؟ قُلْنَا نَعَمْ قَالَ اللَّهُمُ اشْهَدْ - متفق عليه
২১৩। আবু বাক্রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ যেদিন আসমান ও যমিন সৃষ্টি করেন সেদিন থেকে যুগ বা কাল তার নির্দিষ্ট নিয়মে আবর্তন করছে। এক বছরে বার মাস, এর মধ্যে চারটি হল নিষিদ্ধ মাস; এর তিনটি পরপর আসে। যেমন যিলকাদ, যিলহজ্জ ও মুহাররম এবং মুদার গোত্রের রজব মাস যা জুমাদাস-সানী ও শাবান মাসের মাঝখানে অবস্থিত। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এটি কোন মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি নিশ্চুপ থাকলেন। আমরা ধারণা করলাম, তিনি হয়ত এর নতুন নামকরণ করবেন।
তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এটা কোন্ এটা কি যিলহজ্জ মাস নয়? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি চুপ থাকলেন। আমরা মনে মনে ভাবলাম, হয়ত তিনি এর নতুন নামকরণ করবেন। তিনি বলেন: এটা কি (মক্কা) শহর নয়? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এটি কোন্ দিন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক অবগত। তিনি চুপ রইলেন।
আমরা ভাবলাম, হয়ত তিনি এর অন্য নামকরণ করবেন। তিনি বলেনঃ এটা কি কোরবানীর দিন নয়? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ তোমাদের আজকের এ দিনটি যেমন পবিত্র, তোমাদের এ শহরটি যেমন পবিত্র এবং তোমাদের এ মাসটি যেমন পবিত্র, তেমনি তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ এবং তোমাদের মান-সম্মানও পবিত্র এবং শ্রদ্ধার বস্তু। তোমরা অচিরেই তোমাদের প্রভুর সাথে মিলিত হবে। তিনি তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন।
সাবধান! আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা পরস্পর রক্তারক্তি করে কুফরে লিপ্ত হয়ো না। সতর্ক হও! উপস্থিত লোকেরা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয়। কেননা এটা অসম্ভব নয় যে, যে ব্যক্তি এটা পৌঁছে দেবে তার চেয়ে যার কাছে পৌঁছোনো হবে সে অধিক সংরক্ষণকারী হবে। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! সাক্ষী থাকুন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢١٤ - عَنْ أَبِي أُمَامَةَ إِيَاسِ بْنِ ثَعْلَبَةَ الْحَارِثِيَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنِ اقْتَطَعَ حَقٌّ امْرِئٍ مُسْلِم بِيَمِينِهِ فَقَدْ أَوْجَبَ اللهُ لَهُ النَّارَ وَحَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ فَقَالَ رَجُلٌ وَإِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيرًا يَا رَسُولَ اللهِ ؟ فَقَالَ وَإِنْ كَانَ قَضيبا مِّنْ أَراك - رواه مسلم
২১৪। আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি (মিথ্যা) শপথের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হক আত্মসাত করল, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন অনিবার্য করে দেবেন এবং জান্নাত হারাম করে দেবেন। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল। যদি সেটা তুচ্ছ জিনিস হয়? তিনি বলেনঃ তা পিলু গাছের একটা শাখাই হোক না কেন।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢١٥ - عَنْ عَدِي بْنِ عُمَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنِ اسْتَعْمَلنَاهُ مِنْكُمْ عَلَى عَمَلٍ فَكَتَمَنَا مِخْيَطَا فَمَا فَوْقَهُ كَانَ غلولاً يَأْتِي بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ أَسْوَدُ مِنَ الْأَنْصَارِ كَاتِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ اقْبَلْ عَنِّى عَمَلَكَ قَالَ وَمَا لَكَ؟ قَالَ سَمِعْتُكَ تَقُولُ كَذَا وَكَذَا قَالَ وَأنا أقولهُ الْآنَ مَنِ اسْتَعْمَلَنَاهُ عَلَى عَمَل فَلْيَجِئ بِقَلَيْلِهِ وَكَثِيرِهِ فَمَا أُوتِيَ منْهُ أَخَذَ وَمَا نُهى عَنْهُ انْتَهى - رواه مسلم .
২১৫। আদী ইবনে উমাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আমরা তোমাদের কোন ব্যক্তিকে কোন সরকারী পদে নিয়োগ করলাম। অতঃপর সে একটা সূঁচ পরিমাণ অথবা তার চেয়ে বেশি আমাদের থেকে গোপন করল। সে খিয়ানাতকারী গণ্য হবে। সে কিয়ামাতের দিন তা নিয়ে হাযির হবে। আনসার সম্প্রদায়ের এক কৃষ্ণকায় ব্যক্তি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, হে আল্লাহ্ রাসূল! আমার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিন। (রাবী বলেন), আমি যেন এ দৃশ্যটা এখনও দেখতে পাচ্ছি।
তিনি বলেনঃ তোমার কি হয়েছে? সে বলল, আমি আপনাকে এরূপ এরূপ বলতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ আমি এখনও তাই বলবো। আমরা তোমাদের কোন ব্যক্তিকে কোন পদে নিয়োগ করলাম। সে কম-বেশি সবকিছু নিয়ে আসবে। তা থেকে তাকে যা দেয়া হবে তা-ই সে নেবে এবং যা থেকে তাকে বারণ করা হবে তা থেকে সে বিরত থাকবে।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢١٦ - عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمَ خَيْبَرَ أَقْبَلَ نَفَرٌ مِّنْ أصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا فَلَانَّ شَهِيدٌ وَفُلَانَّ شَهِيدٌ حَتَّى مَرُّوا عَلَى رَجُلٍ فَقَالُوا فُلاَنٌ شَهِيدٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلَا إِنِّي رَأَيْتُهُ فِي النَّارِ فِي بُرْدَةٍ عَلَهَا أَوْ عَبَاءَةٍ - رواه مسلم .
২১৬। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবারের যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী এলেন। তারা বলেন, অমুক ব্যক্তি শহীদ, অমুক ব্যক্তি শহীদ। এভাবে তারা এক ব্যক্তির কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেন, অমুক ব্যক্তি শহীদ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কখনও নয়, আমি তাকে একটি চাদর অথবা একটি ‘আবার আবা হচ্ছে এক ধরনের আরবীয় পোশাক, যা শেরওয়ানীর চাইতে লম্বা, গলা থেকে পা পর্যন্ত ঢাকা থাকে। জন্য জাহান্নামে দেখতে পাচ্ছি। এটা সে আত্মসাত করেছিল।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۱۷ - عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الْحَارث بن ربعي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَامَ فِيهِمْ فَذَكَرَ لَهُمُ أنَّ الجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْإِيْمَانَ بِاللهِ أَفْضَلُ الْأَعْمَال فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ الله أرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ الله تُكَفِّرُ عَنِّي خَطَايَايَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ أَنْ قُتِلْتَ فِي سَبِيلِ اللهِ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِل غَيْرُ مُدْبِرٍ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ قُلْتَ؟ قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ اتَّكَفُرُ عَنِّى خَطَايَايَ؟ فَقَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِل غَيْرَ مُدْبِرِ الا الدِّينَ فَإِنَّ جِبْرِيلَ قَالَ لِي ذَلِكَ - رواه مسلم .
২১৭। আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের মাঝে দাঁড়ালেন। তিনি তাঁদেরকে বলেনঃ আল্লাহ্র পথে জিহাদ করা এবং আল্লাহ্র উপর ঈমান আনা সবচেয়ে ভালো কাজ। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি মনে করেন, আমি যদি আল্লাহ্র রাস্তায় নিহত হই তাহলে আমার গুনাহসমূহের ক্ষতিপূরণ হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেনঃ হাঁ, যদি তুমি ধৈর্যশীল, সাওয়াবের আশা পোষণকারী ও সামনে অগ্রগামী হও এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারী না হও।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি কিভাবে বললে? লোকটি পুনরায় বলেন, আপনার কি মত, আমি যদি আল্লাহ্র রাস্তায় নিহত হই তবে আমার গুনাহসমূহের ক্ষতিপূরণ হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হাঁ, যদি তুমি ধৈর্যশীল, সাওয়াবের আশা পোষণকারী ও সামনে অগ্রগামী হও এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারী না হও। কিন্তু ঋণ মাফ হবে না। জিবরীল (আঃ) আমাকে এ কথা বলেছেন।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۱۸ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ؟ قَالُوا الْمُفْلِسُ فِيْنَا مَنْ لَا دِرْهَمَ لَهُ وَلَا مَتَاعَ فَقَالَ إِنَّ الْمُفْلِس مِنْ أُمَّتِي مَنْ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلَاةٍ وَصِيَامٍ وَزَكَاة وَيَأْتِي قَدْ شَتَمَ هذا وَقَذَفَ هذا وأكل مال هذا وَسَقَكَ دَمَ هذا وَضَرَبَ هذا فَيُعْطى هذا من حَسَنَاتِهِ وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضِيَ مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطرِحَتْ عَلَيْهِ ثُمَّ طَرِحَ فِي النَّارِ - رواه مسلم
২১৮। আৰু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি জান কোন্ ব্যক্তি নিঃস্ব-গরীব? সাহাবীগণ বলেন, আমাদের মধ্যে গরীব হচ্ছে যার কোন অর্থ-সম্পদ নেই। তিনি বলেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে সবচেয়ে নিঃস্ব-গরীব ব্যক্তি হবে সে, যে কিয়ামাতের দিন নামায-রোযা-যাকাত ইত্যাদি যাবতীয় ইবাদাতসহ হাযির হবে। কিন্তু সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারো মাল আত্মসাত করেছে, কারো রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং কাউকে মেরেছে (সে এসব গুনাহও সাথে করে নিয়ে আসবে)। তখন এদেরকে তার নেক আমলগুলো দিয়ে দেয়া হবে। উল্লেখিত দাবিসমূহ পূরণ করার পূর্বেই যদি তার নেক আমল শেষ হয়ে যায় তবে দাবিদারদের গুনাহসমূহ তার ঘাড়ে চাপানো হবে, অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
٢١٩ - عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ انَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَأَنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ الَى وَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يُكُونَ الْحَنَ بِحُجَّته من بَعْضٍ فَاقْضِيَ لَهُ بِنَحْوِ مَا أَسْمَعُ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ بِحَقِّ أَخِيْهِ فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قطعَةً مِّنَ النَّار - متفق عليه. الْحَنَ أى أعْلَم.
২১৯। উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি একজন মানুষই। তোমরা তোমাদের ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসার জন্য আমার কাছে এসে থাক। হয়ত তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অপর পক্ষের তুলনায় দলীল-প্রমাণ উত্থাপনে অধিক পারদর্শী। আমি তার কাছ থেকে শুনে সেই অনুযায়ী হয়ত ফায়সালা দিতে পারি। এভাবে আমি যদি (অজ্ঞাতে) তার ভাইয়ের প্রাপ্য তাকে দেয়ার ফায়সালা করি, তবে আমি তাকে জাহান্নামের একটি টুকরাই দিলাম ৷
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَنْ يزالَ الْمُؤْمِنُ فِى فُسْحَة من دينه مَا لَمْ يُصبُ دَمًا حَرَامًا - رواه البخاري .
২২০। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মুসলিম সব সময় হিফাযত ও নিরাপত্তার মধ্যে অবস্থান করে যতক্ষণ সে অন্যায়ভাবে রক্ত প্রবাহিত না করে (কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা না করে)।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
۲۲۱ - عَنْ خَوْلَةَ بِنْتِ عَامِرِ الأَنْصَارِيَّةِ وَهِيَ امْرَأَةٌ حَمْزَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنْ رِجَالاً يَتَخَوضُونَ فِي مَالِ اللَّهِ بِغَيْرِ حَقٍ فَلَهُمُ النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ- رواه البخاري.
২২১। খাওলা বিনতে আমের আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হামযা (রাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ এমন অনেক লোক আছে যারা আল্লাহ্ মাল (সরকারী অর্থ-সম্পদ) অবৈধভাবে খরচ করে, অপচয় করে। কিয়ামাতের দিন তাদের শাস্তির জন্য জাহান্নামের আগুন নির্ধারিত রয়েছে।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
