#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ ২৫, আমানাত আদায় করার নির্দেশ।

Muhammads words
0

মহান আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

قَالَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّ اللهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا


“আল্লাহ তোমাদেরকে যাবতীয় আমানাত তার প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।(সুরা আল-নিসাঃ ৫৮)


وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمواتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَابَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْأَنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولاً .


“আমরা এ আমানাত আসমানসমূহ, যমীন ও পাহাড়-পর্বতের সামনে পেশ করলাম। তারা এটা বহন করতে প্রস্তুত হল না, বরং তারা ভয় পেয়ে গেল। কিন্তু মানুষ তা নিজের ঘাড়ে তুলে নিল। নিশ্চয় মানুষ বড় যালিম ও মূর্খ।” (সূরা আল-আহযাব : ৭২)


١٩٩ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَيَّةُ الْمُنَافِقِ ثلاث اذا حَدَّثَ كَذَبَ واذا وَعَدَ أخْلَفَ واذا اؤْتُمِنَ خَانَ متفق عليه وفي رواية وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ


১৯৯। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: মুনাফিকের চিহ্ন হল তিনটি: সে যখন কথা বলে মিথ্যা বলে; ওয়াদা-চুক্তি করে তার বিপরীত কাজ করে এবং তার কাছে কোন কিছু আমানাত রাখলে খিয়ানত করে। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অন্য বর্ণনায় আরো আছেঃ সে যদি রোযা-নামায করে এবং নিজেকে মুসলিম বলে ধারণা করে (তবুও সে মুনাফিক)।


٢٠٠ - عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثَيْن قَدْ رَأَيْتُ أَحَدَهُمَا وَأَنَا انْتَظِرُ الْأَخَرَ حَدَّثَنَا أَنَّ الْأَمَانَةَ نَزَلَتْ في جَدْرٍ قُلوب الرِّجَالِ ثُمَّ نَزَلَ الْقُرْآنُ فَعَلِمُوا مِنَ الْقُرْآنِ وَعَلِمُوا مِنَ السُّنَّةِ ثُمَّ حَدَّثَنَا عَنْ رَفْعِ الْأَمَانَةِ فَقَالَ يَنَامُ الرَّجُلُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ الْأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ فَيَظُلُّ آثَرُهَا مِثْلَ الْوَكَتِ ثُمَّ يَنَامُ النَوْمَةَ فَتُقْبَضُ الْأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ فَيَظُلُّ أَثَرُهَا مِثْلَ أَثَرِ المَجلِ كَجَمْرٍ دَخَرَجْتَهُ عَلَى رِجْلِكَ فَنَفِطَ فَتَرَاهُ مُشْتَبِرًا وَلَيْسَ فِيْهِ شَيْ ثُمَّ أَخَدَ حَصَاةً فَدَحْرَجَهُ عَلَى رِجْلِهِ فَيُصْبِحَ النَّاسُ يَتَبَايَعُونَ فَلَا يَكَادُ أَحَدٌ يُؤَدِى حَتَّى يُقَالَ إِنَّ فِي بَنِي فَلَانٍ رَجُلاً آمَيْنًا حَتَّى يُقَالَ لِلرَّجُلِ مَا أَجْلَدَهُ مَا أَظْرَفَهُ مَا أعْقَلَهُ وَمَا في قلبه مثقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ ايْمَانِ وَلَقَدْ أَتَى عَلَى زَمَانَ وَمَا أَبَالِي أَيُّكُمْ بَايَعْتُ لَئِنْ كَانَ مُسْلِمًا لَيَرُدُنَّهُ عَلَى دِينُهُ وَلَئِنْ كَانَ نَصْرَانِيًّا أَوْ

الْأَمَانَةَ يَهُودِيًا لَيَرُدُّنَّهُ عَلَى سَاعِيْهِ وَأَمَّا الْيَوْمَ فَمَا كُنْتُ أَبَايِعُ مِنْكُمُ الأَ فَلَانًا وَفُلَانًا - متفق عليه قَوْلُهُ جَنَّرٌ بفَتْح الجيم واسْكَان الذال المُعْجَمَة وَهُوَ أَصْلُ الشَّيْ والْوَكْتُ بِالنَّاءِ الْمُتَنَاةِ مِنْ فَوْقِ الْأَثَرُ الْيَسِيرُ وَالْمَجْلُ بِفَتْحِ الْمِيمِ وَاسْكَانِ الجيمِ وَهُوَ تَنَفَّطُ فِي الْيَدِ وَنَحْوِهَا مِنْ أَثَرِ عَمَلٍ وَغَيْرِهِ قَوْلُهُ مُنْتَبِرًا مُرْتَفِعًا قَوْلُهُ  ساعيه الوالي عليه.


২০০। হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দু'টি কথা বলেন। তার মধ্যে একটি তো আমি দেখেই নিয়েছি আর দ্বিতীয়টির জন্য অপেক্ষা করছি। তিনি (মহানবী) আমাদেরকে বলেনঃ প্রথমত মানুষের অন্তরের অন্তস্থলে আমানাত (বিশ্বস্ততা) ঢেলে দেয়া হল, অতঃপর কুরআন নাযিল করা হল। তারা কুরআনকে জানল এবং হাদীসকেও চিনল। 

অতঃপর তিনি (সাঃ) আমাদের কাছে আমানাত ও বিশ্বস্ততাকে তুলে নেয়ার ব্যাপারে আলোচনা করলেন। তিনি বলেনঃ মানুষ চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী ঘুমিয়ে পড়বে, আর তার অন্তর থেকে আমানাত ও বিশ্বস্ততা তুলে নেয়া হবে। 

অতঃপর তার মধ্যে এর ক্ষীণ প্রভাব অবশিষ্ট থাকবে। সে পুনরায় স্বাভাবিক অভ্যাস অনুযায়ী ঘুমিয়ে পড়বে, তখন তার অন্তর থেকে বিশ্বস্ততার বাকি প্রভাবটুকুও তুলে নেয়া হবে। অতঃপর অন্তরের মধ্যে একটি ফোস্কার মত চিহ্ন বাকি থাকবে। 

যেমন তুমি তোমার পায়ের উপর আগুনের স্ফুলিংগ রাখলে এবং তাতে চামড়া পুড়ে ফোস্কা পড়ল। ব্যাহ্যত স্থানটি ফোলা দেখাবে, কিন্তু এর মধ্যে কিছুই নেই। (রাবী বলেন) অতঃপর তিনি একটি কাঁকর উঠিয়ে নিজের পায়ের উপর মারলেন। 

(রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন এমতাবস্থায় তাদের সকাল হবে এবং তারা ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত হবে। তাদের মধ্যে আমানাত রক্ষা করার মত একটি লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না, এমনকি বলা হবে, অমুক বংশে একজন বিশ্বস্ত লোক আছে। এমনকি একটি লোককে (পার্থিব বিষয়ে পারদর্শী হওয়ার কারণে) বলা হবে, লোকটি কত হুঁশিয়ার, চালাক, স্বাস্থ্যবান, সুন্দর ও বুদ্ধিমান। 

অথচ তার মধ্যে সরিষার দানার পরিমাণ ঈমানও থাকবে না। (রাবী হুযাইফা (রাঃ) বলেন) আজ আমি এমন এক যুগে এসে পড়েছি যে, কার সাথে ক্রয়-বিক্রয় করছি তার কোন বাছবিচার নেই। কেননা যদি সে মুসলিম হয় তবে আমার পাওনা তার দীন ও ঈমানের কারণে আদায় করবে। যদি সে খৃস্টান অথবা ইহূদী হয় তবে তার দায়িত্ব আমার পাওনা তার কাছ থেকে আদায় করে দেবে। আজ আমি তোমাদের কারো সাথে ক্রয়-বিক্রয় করব না, শুধু অমুক অমুক ব্যক্তির সাথে করব।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। শব্দার جذر  কোন বস্তুর আসল ও মূল| الوكت  সাধারণ চিহ্ন| المجلl কাজকর্ম করার কারণে হাত-পা ইত্যাদিতে যে দাগ পড়ে।رمنتب. উচ্চতা, উন্নত। মুতাওয়াল্লী ও তত্ত্বাবধায়ক।


٢٠١ - عَنْ حُذَيْفَةَ وَابِى هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَا قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْمَعُ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى النَّاسَ فَيَقُومُ الْمُؤْمِنُونَ حَتَّى تُزْلَفَ لَهُمُ الجنّة فَيَأْتُونَ أدَمَ صَلَواتُ اللهِ عَلَيْهِ فَيَقُولُونَ يَا أَبَانَا اسْتَفْتِحُ لَنَا الْجَنَّةَ فَيَقُولُ وَهَلْ أَخْرَجَكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ الأخَطيئَةُ أبيكُمْ لَسْتُ بصَاحب ذلكَ اذْهَبُوا إِلَى ابْني إبْرَاهِيمَ خَلِيلِ اللهِ قَالَ فَيَأْتُونَ ابْرَاهِيمَ فَيَقُولُ إِبْرَاهِيمُ لَسْتُ بِصَاحِب ذلكَ إِنَّمَا كُنتُ خَلِيلاً مِنْ وَرَاءَ وَرَاءَ اعْمَدُوا إِلى مُوسَى الَّذِي كَلَّمَهُ اللهِ تَكْلِيمًا فَيَأْتُونَ ، فَيَقُولُ لَسْتُ بِصَاحِب ذلكَ اذْهَبُوا الى عيسَى كَلِمَةِ اللَّهِ وَرَوْحِهِ فَيَقُولُ عيسى لَسْتُ بِصَاحِبَ ذَلِكَ فَيَأْتُونَ مُحَمَّداً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَقُومُ فَيُؤْدَنُ لَهُ وَتُرْسَلُ الْأَمَانَةُ وَالرَّحِمُ فَتَقُوْمَانِ جَنْبَتَي الصَّرَاطِ يَمِينًا وَشِمَالاً فَيَمُرُّ أَوَلَكُمْ كَالْبَرْقِ قُلْتُ بِأَبِى وَأُمِّي أَى شَيْءٍ كَمَرِ الْبَرْقِ ؟ قَالَ أَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ يَمُرُّ وَيَرْجِعُ فِي طرْفَةِ عَيْن؟ ثُمَّ كَمَرِ الرِّيحِ ثُمَّ كَمَرِ الطَّيْرِ وَشَدِ الرِّجَالِ تَجْرِى بِهِمْ أَعْمَالُهُمْ وَنَبِكُمْ قَائِمٌ عَلَى الصِرَاطِ يَقُولُ رَبِّ سَلِمْ سَلَّمَ حَتَّى تَعْجِزَ أَعْمَالَ الْعِبَادِ حَتَّى يَجِي الرَّجُلُ لَا يَسْتَطِيْعُ السَّيْرَ إِلا زَحْفًا وَفِي حَافَتَى الصِرَاطِ كَلَالِيْبُ مُعَلَّقَةٌ مَأمُورَةٌ بِأَخْذِ مَنْ أُمِرَتْ بِهِ فَمَخْدُوْسٌ نَاجِ وَمُكَرْدَسَ فِي النَّارِ وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ إِنْ قَعْرَ جَهَنَّمَ لَسَبْعُونَ خَرِيفًا - رَوَاهُ مُسْلِمُ قَوْلُهُ وَرَاءَ وَرَاءَ هُوَ بِالْفَتْحِ فِيْهِمَا وَقِيْلَ بِالضَمّ بِلا تَنْوِيْنِ وَمَعْنَاهُ لَسْتُ بِتِلْكَ الدِّرَجَةِ الرِّفِيعَةِ وَهِيَ كَلِمَةً تُذكَرُ عَلَى سَبِيلِ التَّوَاضُعِ وَقَدْ بَسَطَتُ مَعْنَاهَا فِي شَرْحِ صَحِيحِ مُسْلِمٍ والله اعلم .


২০১। হুযাইফা ও আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান ও প্রাচুর্যময় আল্লাহ (হাশরের দিন) সকল মানুষকে একত্রিত করবেন। তখন ঈমানদার লোকেরা উঠে দাঁড়াবে। 

এ অবস্থায় তাদের সন্নিকটে জান্নাত আনা হবে। তখন তারা আদম আলাইহিস সালামের কাছে গিয়ে বলবে, হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দিন। তিনি বলবেন: তোমাদের পিতার অপরাধই তো তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত করেছে। 

আমি এর দরজা খোলার উপযুক্ত নই। তোমরা আমার ছেলে ইবরাহীম খলীলুল্লাহ্র কাছে যাও। নবী (সাঃ) বলেনঃ অতঃপর তারা ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেন, আমি এ কাজের উপযুক্ত নই। আমি তো শুধু বিনয়ী খলীল ছিলাম (আমি এ মহান গৌরবের উপযুক্ত নই) । তোমরা বরং মূসা (আঃ)-এর কাছে যাও। আল্লাহ তাঁর সাথে কথা বলেছেন। তারা সবাই ছুটে মূসা (আঃ)-এর কাছে আসবে। 

তিনি বলবেন, আমি এর উপযুক্ত নই। তোমরা ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাও। তিনি তো আল্লাহ্ কালেমা এবং রূহুল্লাহ। ঈসা (আঃ) বলবেন, জান্নাতের দরজা খোলার মত যোগ্যতা আমার নেই। পরিশেষে তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছুটে আসবে। তিনি উঠে দাঁড়াবেন। তাঁকে (শাফাআত করার) অনুমতি দেয়া হবে। 

আমানাত এবং আত্মীয়তার সম্পর্ককেও ছেড়ে দেয়া হবে। এরা পুল-সিরাতের ডানে-বাঁয়ে দু'দিকে দাঁড়িয়ে যাবে। তোমাদের প্রথম দলটি বিদ্যুৎবেগে পুল-সিরাত পার হয়ে যাবে। আমি (হুযাইফা অথবা আবু হুরাইরা) বললাম, (হে আল্লাহ্র রাসূল)  আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গীত হোক। বিদ্যুৎবেগে পার হওয়ার তাৎপর্য কি? তিনি বলেন: তোমরা কি বিদ্যুৎ দেখনি যে, পলকের মধ্যে তা চলে যেতে-আসতে পারে?

অতঃপর তারা বাতাসের গতিতে, অতঃপর পাখির গতিতে এবং দ্রুত দৌড়ের গতিতে পর্যায়ক্রমে পুল-সিরাত পার হবে। এ পার্থক্য তাদের কৃতকর্মের কারণেই হবে। এ সময় তোমাদের নবী (সাঃ) পুল-সিরাতের উপর দাঁড়িয়ে বলতে থাকবেনঃ প্রভু হে! শান্তি বর্ষণ করুন, শান্তি বর্ষণ করুন। এভাবে বান্দাদের সৎ কাজের পরিমাণ কম হওয়াতে তারা অগ্রসর হতে অক্ষম হয়ে পড়বে। 

ফলে তারা পাছা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে সম্মুখে অগ্রসর হতে থাকবে। পুল-সিরাতের উভয় দিকে কিছু লোহার আঁকড়া লটকানো থাকবে। যাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেয়া হবে এগুলো তাকে গ্রেপ্তার করবে। যার গায়ে শুধু আঁচড় লাগবে সে মুক্তি পাবে। আর অন্য সব লোককে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। বর্ণনাকারী (আবু হুরাইরা) বলেন, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আবু হুরাইরার প্রাণ! জাহান্নামের গভীরতা সত্তর বছরের পথের দূরত্বের সমান।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। শব্দার্থ وراء وراء শব্দটির অর্থ হল, আমি উচ্চ মর্যাদার উপযুক্ত নই। শব্দটি বিনয়, নম্রতা ও ভদ্রতা প্রকাশার্থে ব্যবহৃত হয়।


۲۰۲ - عَنْ أَبِى خُبَيْبِ بِضَمَ الْقَاءِ الْمُعْجَمَةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ لَما وَقَفَ الزُّبَيْرُ يَوْمَ الْجَمَلِ دَعَانِى فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَقَالَ يَا بُنَيَّ إِنَّهُ لا يُقْتَلُ الْيَوْمَ الأَظالِمُ أَوْ مَظْلُوم وإنّي لا أرَانِي إِلا سَأَقْتَلُ الْيَوْمَ مَظْلُومًا وَإِنَّ مِنْ اكْبَرِ هَمَنْ لَدَيْنِى أَفَتَرى دَيْنَنَا يُبْقِي مِنْ مَالِنَا شَيْئًا ؟ ثُمَّ قَالَ يَا بُنَيٍّ بِعْ 

مالنا واقْضِ دَينِى وأوصى بالثلث وَتُلْتُهُ لبَنِيهِ يَعْنِي لِبَنِي عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ ثلث الثلث قَالَ فَانْ فَضَلَ مَنْ مَالَنَا بَعْدَ قَضاء الدِّين شَيْ فَقُلْتُهُ لَبَنيكَ قَالَ هِشَامُ وَكَانَ بَعْضُ وَلَدٍ عَبْدِ اللَّهِ قَدْ وَازْى بَعْضَ بَنِي الزَّبَيْرِ حُبَيْبِ وَعَبَّادٍ وَلَهُ يَوْمَئِذٍ تِسْعَةُ بَنِيْنَ وَتِسْعُ بَنَاتٍ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَجَعَلَ يُوْصِيْنِى بِدَيْنِهِ وَيَقُولُ يَا بُنَيَّ إِنْ عَجَزْتَ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ فَاسْتَعِنْ عَلَيْهِ بِمَوْلَايَ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا دَرَيْتُ مَا أرَادَ حَتَّى قُلْتُ يَا آبَتَ مَنْ مَوْلاكَ؟ قَالَ اللهُ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا وَقَعْتُ فِي كُرْبَةِ مِنْ دينه الا قُلْتُ يَا مَوْلَى الزُّبَيْرِ اقْضِ عَنْهُ دَيْنَهُ فَيَقْضِيَهُ قَالَ فَقُتِلَ الزِّبَيْرُ وَلَمْ يَدَعْ ديْنَاراً وَلا دِرْهَما إِلا أَرَضِينَ مِنْهَا الْغَابَةُ وَإحْدَى عَشَرَةَ دَارًا بِالْمَدِينَةِ وَدَارَيْنِ بالْبَصْرَةِ وَدَاراً بِالْكُوفَةِ وَدَاراً بمِصْرَ قَالَ وَإِنَّمَا كَانَ دَيْنُهُ الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ أَنْ الرَّجُلَ كَانَ يَأْتِيهِ بِالْمَالِ فَيَسْتَوْدِعُهُ إِيَّاهُ فَيَقُولُ الزُّبَيْرُ لَا وَلَكِنْ هُوَ سَلَفٌ إِنِّي أخْشَى عَلَيْهِ الضَّيْعَةَ وَمَا وَلَى امَارَةٌ قَط وَلَا حِبَايَةً وَلَا خَرَاجًا وَلَا شَيْئًا إِلا أَنْ يكُونَ فِي غَزُو مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ مَعَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ قَالَ عَبْدُ اللهِ فَحَسَبْتُ مَا كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الدِّيْنِ فَوَجَدتُهُ الفى الف وَمَانَتَى أَلْفِ فَلَقِىَ حَكِيمُ بْنُ حزَامٍ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي كَمْ عَلَى أَخِي مِنَ الدِّيْنِ؟ فَكَتَمْتُهُ وَقُلْتُ مِائَهُ أَلْفَ فَقَالَ حَكِيمُ وَاللَّهِ مَا أرى أَمْوَالَكُمْ تَسعُ هذه فَقَالَ عَبْدُ اللهِ أَرَأَيْتَكَ إِنْ كَانَتْ الْفَى أَلْفِ وَمِائَتَيْ الف؟ قَالَ مَا أَرَاكُمْ تُطيقُونَ هذا فَإِنْ عَجَزْتُمْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ فَاسْتَعِينُوا بِي قَالَ وكَانَ الزُّبَيْرُ قَد اشْتَرَى الْغَابَةَ بِسَبْعِينَ وَمَائَةَ الفَ فَبَاعَهَا عَبْدُ الله بالف الف وَسَتِ مِائَةِ أَلْفَ ثُمَّ قَامَ فَقَالَ مَنْ كَانَ لَهُ عَلَى الزُّبَيْرِ شَيْ فَلْيُوَافَنَا بِالْغَابَةِ فَأَتَاهُ عَبْدُ اللهِ ابْنُ جَعْفَرٍ وَكَانَ لَهُ عَلَى الزُّبَيْرِ أَرْبَعُ مِائَةِ أَلْفِ فَقَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ إِنْ شِئْتُمْ تَرَكْتُهَا لَكُمْ؟ قَالَ عَبْدُ الله لا قَالَ فَانْ َشتْتُمْ جَعَلْتُمُوهَا فِيْمَا تُؤَخَرُونَ إِنْ أَخَّرْتُمْ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ لا قَالَ فَاقْطَعُوا لِى قِطْعَةٌ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَكَ مِنْ هُهُنَا إِلَى هُهُنَا فَبَاعَ عَبْدُ اللهِ مِنْهَا فَقَضَى عَنْهُ دَيْنَهُ وَأَوْفَاهُ وَبَقِيَ مِنْهَا أَرْبَعَةُ أَشْهُم وَنَصْفٌ فَقَدِمَ عَلَى مُعَاوِيَةَ وَعِنْدَهُ عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ وَالْمُنْذِرُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَابْنُ زَمْعَهُ فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَةٌ كَمْ قَوْمَتِ الْغَابَةُ؟ قَالَ كُلُّ سَهُم بِمَائَةِ أَلْفِ قَالَ كَمْ بَقِيَ مِنْهَا ؟ قَالَ ارْبَعَةُ اسْهُم وَنِصْفُ فَقَالَ الْمُنْذِرُ بْنُ الزُّبَيْرِ قَدْ أَخَذْتُ مِنْهَا سَهُما بِمَائَةِ أَلْفِ وَقَالَ عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ قَدْ أَخَذْتُ سَهُما بِمَائَةِ أَلْفَ وَقَالَ ابْنُ زَمْعَةَ قَدْ أَخَذْتُ سَهُما بِمَائَةِ الْفِ فَقَالَ مُعَاوِيَةُ كَمْ بَقِيَ مِنْهَا ؟ قَالَ سَهُمْ وَنِصْفُ قَالَ قَدْ أَخَذْتُهُ بِخَمْسِينَ وَمِائَةِ أَلْفِ قَالَ وَبَاعَ عَبْدُ اللَّهُ بْنُ جَعْفَرٍ نَصِيْبَهُ مِنْ مُعَاوِيَةَ بِسِتِ مِائَةِ أَلْفِ فَلَمَّا فَرَغَ ابْنُ الزُّبَيْرِ مِنْ قَضَاءِ دَيْنِهِ قَالَ بَنُو الزَّبَيْرِ أَقْسِمْ بَيْنَنَا مِيْرَاثَنَا قَالَ واللهِ لا أُقْسِمُ بَيْنَكُمْ حَتَّى أَنَادِى بِالْمَوْسِمِ أَرْبَعَ سِنِينَ عَلَى مَنْ كَانَ لَهُ عَلَى دَيْن فَلْيَاتِنَا فَلْنَقْضِهِ فَجَعَلَ كُلِّ سَنَةٍ يُنَادِي فِي الْمَوْسِمِ فَلَمَّا مَضَى أَرْبَعُ سِنِينَ قَسَمَ بَيْنَهُمْ وَدَفَعَ الثُّلْتَ وَكَانَ لِلزُّبَيْرِ أَرْبَعُ نِسْوَةٍ فَأَصَابَ كُلِّ امْرَأَةٍ أَلْفُ الف وَمِائَنَا أَلْفَ فَجَمِيعُ مَالِهِ خَمْسُونَ أَلْفَ أَلْفَ وَمِائَنَا الْف- رواه البخاري .الزبير


২০২। আৰু খুবাইব আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উটের যুদ্ধের (৩৬ হি.) দিন আয্ যুবাইর (রাঃ) যখন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন, তখন আমাকে কাছে ডাকলেন। আমি তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। তিনি বলেন, হে বৎস! আজ যালিম অথবা মযলুমের কেউ না কেউ মারা যাবেই। আমার মনে হয় আজ আমি নির্যাতিত অবস্থায় মারা যাব। আমি আমার দেনা সম্পর্কে বড়ই দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতার মধ্যে আছি। তুমি কি মনে কর, আমার দেনা পরিশোধ করার পর কিছু মাল অবশিষ্ট থাকবে? 

অতঃপর তিনি বলেন, হে আমার সন্তান! তুমি আমার মাল-সম্পদ বিক্রয় করে আমার দেনা পরিশোধ করে দেবে। অতঃপর তিনি এক-তৃতীয়াংশ মালের ওসিয়াত করলেন এবং তার তৃতীয়াংশ তার পুত্রদের জন্য অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবন যুবাইরের পুত্রদের জন্য এক-তৃতীয়াংশের তৃতীয়াংশ (১/৯ অংশ)। তিনি (আয্ যুবাইর) বলেন, দেনা পরিশোধ করার পর যদি কিছু মাল বেঁচে যায়, তবে তার এক-তৃতীয়াংশ তোমার ছেলেদের জন্য। হিশাম বলেন, আবদুল্লাহ্ কোন কোন ছেলে আয্ যুবাইরের পুত্র খুবাইব ও ‘আব্বাদের সমবয়সী ছিল। আয্ যুবাইরের ৯ পুত্র ও ৯ কন্যা বর্তমান ছিল।

আবদুল্লাহ বলেন, তিনি (পিতা আয্ যুবাইর) বরাবরই আমাকে তাঁর ঋণের কথা বলতে থাকলেন। তিনি বলছিলেন, হে পুত্র! তুমি যদি এ ঋণ পরিশোধে অক্ষম হও তবে তুমি আমার মনিবের কাছে এ দেনা পরিশোধ করার জন্য প্রার্থনা করবে। তিনি (আবদুল্লাহ বলেন, আল্লাহ্ শপথ! আমি বুঝতেই পারছিলাম না তিনি মনিব বলে কাকে বুঝাতে চেয়েছেন। তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, আব্বাজান! আপনার মনিব কে? 

তিনি বলেন, আল্লাহ। আবদুল্লাহ বলেন, আমি যখনই তাঁর দেনা পরিশোধ করতে অসুবিধায় পড়ে যেতাম তখনই বলতাম, হে আয্ যুবাইরের মনিব (আল্লাহ)! তাঁর দেনা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিন। মহান আল্লাহ এ দোয়া কবুল করলেন এবং পিতার দেনা পরিশোধ করার সুযোগ করে দিলেন। তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, আয্ যুবাইর (রাঃ) নিহত হলেন, কিন্তু তিনি কোন নগদ অর্থ (দীনার ও দিরহাম) রেখে যাননি। তিনি কিছু স্থাবর সম্পত্তি রেখে গেলেন। তা হলঃ গাবা নামক স্থানের কিছু জমি, মদীনায় এগারটি ঘর, বসরায় দু'টি ঘর, কুফায় একটি ঘর এবং মিসরে একটি ঘর।

আবদুল্লাহ বলেন, তার ঋণগ্রস্ত হওয়ার কারণ ছিলঃ কোন লোক তাঁর কাছে কিছু গচ্ছিত (আমানাত) রাখতে আসলে তিনি বলতেন, আমি আমানাত রাখি না তবে এটা তোমার কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নিয়ে নিলাম। কেননা আমানাত হিসেবে রাখলে হয়ত এটা আমার হাতে বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে। 

তিনি (আয্ যুবাইর) কখনও কোন প্রশাসনিক পদে অথবা কর আদায়ের জন্য বা অন্য কোন পদে নিযুক্ত হননি। তিনি কোন পদ পছন্দ করতেন না। কিন্তু তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এবং আবু বাক্ (রাঃ), উমার (রাঃ) ও উসমান (রাঃ)-এর সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করেছেন। আবদুল্লাহ বলেন, আমি তাঁর সমস্ত দেনার হিসাব করলাম। তার পরিমাণ দাঁড়াল বাইশ লাখ (দিরহাম)। 

হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইরের সাথে সাক্ষাত করে বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমার ভাইয়ের ঋণের পরিমাণ কত? আমি (আবদুল্লাহ) আসল পরিমাণটা গোপন করে বললাম, এক লাখ (দিরহাম)। হাকীম (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র শপথ! তোমার এতো পরিমাণ মাল নেই যা দিয়ে এ দেনা পরিশোধ করতে পার। আবদুল্লাহ বলেন, যদি ঋণের পরিমাণ বাইশ লাখ হয় তবে কি অবস্থা হবে? হাকীম (রাঃ) বলেন, তাহলে আমার ধারণা অনুযায়ী এটা পরিশোধ করতে তুমি মোটেই সক্ষম হবে না। 

ঋণ পরিশোধে কোনরূপ অসুবিধার সম্মুখীন হলে আমার সাহায্য চেয়ো। আবদুল্লাহ বলেন, আয্ যুবাইর (রাঃ) গাবা নামক স্থানের সম্পত্তি এক লাখ সত্তর হাজার দিরহামে ক্রয় করেছিলেন। আবদুল্লাহ তা ষোল লাখ দিরহামে বিক্রয় করেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেনঃ আয্ যুবাইরের কাছে যার পাওনা রয়েছে, সে যেন গাবা নামক স্থানে এসে আমাদের সাথে সাক্ষাত করে। 

ঘোষণার পর আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রাঃ) এসে বলেন, আয্ যুবাইরের কাছে আমার চার লাখ (দিরহাম) পাওনা আছে। যদি তোমরা চাও তবে আমি তা ছেড়ে দিতে পারি। আবদুল্লাহ বলেন, না। আবদুল্লাহ ইবনে জাফর বলেন, যদি তোমরা এটা পরিশোধের জন্য সময় চাও, আমি তা দিতে প্রস্তুত। আবদুল্লাহ বলেন, না। তিনি (ইবনে জাফর) বলেন, তবে জমির একটা অংশ আমাকে পৃথক করে দাও। আবদুল্লাহ বলেন, তুমি এখান থেকে ঐ পর্যন্ত জমি নিয়ে নাও ৷

তিনি জমি বিক্রয় করে তাঁর (আহ্ যুবাইরের) ঋণ পরিশোধ করলেন। এরপরও জমির সাড়ে চারটা খণ্ড অবশিষ্ট ছিল। অতঃপর তিনি (আবদুল্লাহ) মু'আবিয়া (রাঃ)-এর কাছে আসলেন। তাঁর কাছে আমর ইবনে উসমান, মুনযির ইবনুয যুবাইর ও ইবনে যাম'আ উপস্থিত ছিলেন। মু'আবিয়া (রাঃ) তাঁকে বলেন, তুমি গাবার জমির কি মূল্য নির্ধারণ করেছ? তিনি বলেন, প্রতি খণ্ড এক লাখ (দিরহাম)। তিনি বলেন, কয় খণ্ড অবশিষ্ট আছে? তিনি বলেন, সাড়ে চার খণ্ড। মুনযির ইবনুয যুবাইর বলেন, আমি এক খণ্ড এক লাখ (দিরহামে) নিয়ে নিলাম। 

আমর ইবনে উসমান বলেন, আমি এক লাখ (দিরহামে) এক খণ্ড নিয়ে নিলাম। ইবনে যাম'আ বলেন, আমি এক লাখ (দিরহামে) এক খণ্ড নিয়ে নিলাম। মু'আবিয়া (রাঃ) জিজ্ঞেস করেন, এখন আর কতটুকু বাকী আছে? তিনি বলেন, দেড় খণ্ড (অবশিষ্ট আছে)। তিনি বলেন, আমি তা দেড় লাখ (দিরহামে) নিয়ে নিলাম। 

বর্ণনাকারী বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর তাঁর পাওনা বাবদ যে অংশটুকু কিনেছিলেন, তা পুনরায় তিনি মু'আবিয়ার কাছে চার লাখ (দিরহামে) বিক্রয় করেন।

আবদুল্লাহ্ ঋণ পরিশোধ করে অবসর হলে আহ্ যুবাইরের অন্য ছেলেরা তাকে বলেন, আমাদের মীরাস আমাদের মধ্যে বণ্টন করুন। তিনি বলেন, আল্লাহ্র শপথ। একাধারে চার বছর হজ্জের মৌসুমে এই ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত আমি তোমাদের মধ্যে মীরাস বণ্টন করব নাঃ “আয্ যুবাইরের কাছে যে ব্যক্তির পাওনা রয়েছে সে যেন আমাদের কাছে আসে। আমরা তা পরিশোধ করে দেব।” তিনি একাধারে চার বছর হজ্জের সমাবেশে এ ঘোষণা দিলেন। চার বছর পূর্ণ হলে তিনি তাদের মধ্যে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টন করলেন এবং এক-তৃতীয়াংশ (ওসিয়াতের মাল হিসেবে) পৃথক করে রাখলেন।

আয্ যুবাইরের চারজন স্ত্রী ছিলেন। প্রত্যেক স্ত্রীর অংশে বার লাখ (দিরহাম) করে পড়লো। সম্ভবত আয্ যুবাইরের ধন-সম্পদের পরিমাণ ছিল পাঁচ কোটি দুই লাখ (দিরহাম)।


ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ ২৫, আমানাত আদায় করার নির্দেশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default