#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ ২৩, ন্যায় কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজের প্রতিরোধ।

Muhammads words
0

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَلْتَكُنْ مِنْكُمُ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ .

মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন:

“তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক অবশ্যই থাকতে হবে, যারা (মানুষকে) কল্যাণ ও মঙ্গলের দিকে ডাকবে; ন্যায় ও সৎ কাজের নির্দেশ দেবে এবং অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে। যারা এ কাজ করবে তারাই কৃতকার্য হবে।” (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)


وَقَالَ تَعَالَى : كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ.

“তোমরা সর্বোত্তম উম্মাত, তোমাদেরকে মানুষের (হিদায়াত ও সংস্কারের) জন্য (কর্মক্ষেত্রে) উপস্থিত করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখবে।” (সূরা আলে ইমরান: ১১০)


وَقَالَ تَعَالَى : خُذِ الْعَفْوَ وَآمُرُ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ .

“নম্রতা ও ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর; সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ লোকদের সাথে বিতর্কে জড়িয়ো না।” (সূরা আল-আ'রাফ: ১৯৯)


وَقَالَ تَعَالَى : وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُم أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَر .

“মুমিন পুরুষ ও মুমিন স্ত্রীলোক পরস্পরের বন্ধু ও সহযোগী। এরা যাবতীয় ভালো কাজের নির্দেশ দেয়, অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে, নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে।” (সূরা আত্ তাওবা: ৭১)


وَقَالَ تَعَالَى : لعنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذلكَ بمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ كَانُوا لا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنكَرِ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ .

“বনী ইসরাঈলের মধ্য থেকে যারা কুফরের পথ অবলম্বন করেছে তাদেরকে দাউদ ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের মুখ দিয়ে অভিশাপ দেয়া হয়েছে। কেননা তারা বিদ্রোহী হয়ে গিয়েছিল এবং অত্যন্ত বাড়াবাড়ি শুরু করেছিল। তারা পরস্পরকে পাপ কাজ থেকে বিরত রাখা পরিহার করেছিল। অত্যন্ত জঘন্য কর্মনীতিই তারা অবলম্বন করেছিল।” (সূরা আল মা-ইদা: ৭৮, ৭৯)


وَقَالَ تَعَالَى : وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنُ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرُ .

“বল, সত্য তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে এসেছে। সুতরাং যার ইচ্ছা ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছা সত্য প্রত্যাখ্যান করুক।” (সূরা আল কার্ফ : ২৯)


وَقَالَ تَعَالَى : فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ .

“কাজেই হে নবী! যে জিনিসের হুকুম তোমাকে দেয়া হচ্ছে তা জোরেশোরে উচ্চকণ্ঠে বলে দাও, মুশরিকদের বিন্দুমাত্র পরোয়া করো না।” (সূরা আল-হিজর: ৯৪)


وَقَالَ تَعَالَى : انْجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابِ بَيْيْسِ بمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ .

“আমরা এমন লোকদের মুক্তি দিলাম যারা খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকত এবং যারা যালিম ছিল তাদেরকে তাদেরই বিপর্যয়মূলক কাজের জন্য কঠিন আযাব দিয়ে পাকড়াও করলাম।” (সূরা আল-আ'রাফ: ১৬৫)


এ অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যশীল বহু সংখ্যক আয়াত কুরআন মজীদে মওজুদ রয়েছে।


١٨٤ - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنكَرًا فَلْيُغَيِّرُهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيْمَانِ- رواه مسلم

১৮৪। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ যখন কোন খারাপ কাজ হতে দেখে সে যেন তা হাত দিয়ে (শক্তি প্রয়োগে) প্রতিরোধ করে। যদি সে এ ক্ষমতা না রাখে তবে যেন মুখের (কথার) দ্বারা (জনমত গঠন করে) তা প্রতিরোধ করে। যদি সে এ ক্ষমতাটুকুও না রাখে তবে যেন অন্তরের দ্বারা (পরিকল্পিত উপায়ে) এটা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে (বা এর প্রতি ঘৃণা পোষণ করে)। আর এটা হল ঈমানের দুর্বলতম (নিম্নতম স্তর।


١٨٥ - عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ نَبِي بَعَثَهُ اللهُ فِي أُمَّةٍ قَبْلِى إِلا كَانَ لَهُ مِنْ أُمَّتِهِ حَوَارِثُونَ وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِاَمْرِهِ ثُمَّ إِنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفَ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُوْنَ فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنُ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنُ وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الْإِيْمَانِ حَبَّةٌ خردل- رواه مسلم.

১৮৫। ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার পূর্বে কোন জাতির কাছে যে নবীকেই পাঠানো হয়েছে, তাঁর সহযোগিতার জন্য তাঁর উম্মাতের মধ্যে একদল সাহায্যকারী ও সাহাবী থাকত। তারা তাঁর সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরত এবং তাঁর নির্দেশের অনুসরণ করত। এদের পরে এমন লোকের উদ্ভব হল যে, তারা যা বলত তা নিজেরা করত না এবং এমন কাজ করত যা করার নির্দেশ তাদেরকে দেয়া হয়নি।

অতএব এ ধরনের লোকের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি হাত দিয়ে (শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে) জিহাদ করবে, সে মুমিন। যে অন্তর দিয়ে এদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সেও মুমিন। যে মুখ দিয়ে (মানুষকে বুঝানোর মাধ্যমে) এদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সেও মুমিন। এরপর আর সরিষার দানা পরিমাণও ঈমানের স্তর নেই।


ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٦ - عَن أبي الوليد عُبَادَةَ بن الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَايَعْنَا رَسُولَ الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلى السمع والطاعَةِ فِي الْعُسْرِ وَالْمُسْرِ وَالْمَنْشَط وَالْمَكْرَه وَعَلَى اثْرَةٍ عَلَيْنَا وَعَلَى أَنْ لَا تُنَازِعَ الْأَمْرَ أَهْلَهُ إِلَّا أَنْ تَرَوْا كُفْرًا بَوَاحاً عِنْدَكُم مِّنَ اللهِ فِيهِ بُرْهَانَ وَعَلَى أنْ نَقُولَ بِالْحَقِّ أَيْنَمَا كُنَّا لَا تَخَافُ فِي اللهِ لومة لأمر متفق عليه المَنْشَط والمَكْرَهُ بِفَتْحِ مِنْمَيْهِمَا أَن فِي السَّهْلِ والصعبِ وَالْآثَرَةُ الْاِخْتِصَاصُ بِالْمُشْتَرِكِ وَقَدْ سَبَقَ بَيَانُهَا بَوَاحًا بِفَتْحِ الْبَاءِ الْمُوَحدَةِ وَبَعْدَهَا وَاوْ ثُمَّ أَلف ثُمَّ حَاءُ مُهْمَلَهُ أَنْ ظَاهِرًا لَا يَحْتَمِلُ تَاوِيلاً .

১৮৬। আবুল ওয়ালীদ উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করার, সুখে- দুঃখে, বিপদে-আপদে, স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক সর্বাবস্থায় আনুগত্য করার এবং নিজেদের উপর অন্যদেরকে অগ্রাধিকার প্রদানের শপথ (বাই'আত) গ্রহণ করেছি। আমরা আরো শপথ গ্রহণ করেছিঃ আমরা যোগ্য ও উপযুক্ত শাসকের সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হব না।

(নবী সা. বলেন) হাঁ, যদি তোমরা তাকে স্পষ্টভাবে ইসলাম বিরোধী কাজে লিপ্ত দেখ, যে সম্পর্কে তোমাদের কাছে আল্লাহ্র দেয়া কোন দলীল-প্রমাণ রয়েছে (তবে তোমরা তার বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতে পার)। আমরা আরো শপথ গ্রহণ করেছিঃ আমরা যেখানেই থাকি সর্বাবস্থায় হকের (সত্য-ন্যায়ের) কথা বলব এবং আল্লাহ্ (বিধানমত জীবন যাপনের) ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দা ও তিরস্কারের পরোয়া করব না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

শব্দার্থ : نْشَطُ وَالْمُكْرَهُ সহজ ও কঠিন, অনায়াস ও আয়াসসাধ্য। الأثرة কোন জিনিসকে অন্য শরীকের জন্য বিশেষিত করা। وب সুস্পষ্ট, যার কোন ব্যাখ্যা করে বুঝানোর প্রয়োজন নেই।


۱۸۷ - عَنِ النَّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَثَلُ الْقَائِمِ فِي حُدُودِ اللهِ وَالْوَاقِعِ فِيْهَا كَمَثَلِ قَوْمٍ اسْتَهَمُوا عَلَى سَفِينَةٍ فَصَارَ بَعْضُهُمْ أَعْلاهَا وَبَعْضُهُمْ أسْفَلَهَا وَكَانَ الَّذِينَ فِي أَسْفَلِهَا إِذا اسْتَقَوْا مِنَ الْمَاء مَرُّوا عَلَى مَنْ فَوْقَهُمْ فَقَالُوا لَوْ أَنَّا خَرَقْنَا فِي نَصِيبَنَا خَرُقًا وَلَمْ نُوذِ مَنْ فَوْقَنَا فَإِنْ تَرَكُوهُمْ وَمَا أَرَادُوا هَلَكُوا جَمِيعًا وَإِنْ أَخَذُوا عَلَى أَيْدِيهِمْ نَجَوْا وَنَجَوْا جَمِيعًا - رواه البخاري الْقَائِمُ فِي حُدُودِ اللَّهِ مَعْنَاهُ المُنكَرُ لهَا الْقَائِمُ فِي دَفْعِها وإزالتِهَا وَالْمُرَادُ بِالْخُدُودِ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ اسْتَهَمُوا اقْتَرَعُوا .

১৮৭। নুমান ইবনে বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ্ নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী ও সীমালংঘনকারীর দৃষ্টান্ত হলঃ

একদল লোক লটারী করে একটি সমুদ্রযানে উঠলো। তাদের কতক নীচের তলায় আর কতক উপরের তলায় স্থান পেল। নীচের তলার লোকদের পানির প্রয়োজন হলে তারা তাদের উপরের তলার লোকদের কাছ দিয়ে পানি আনতে যায়। তারা (নীচের তলার লোকেরা) পরস্পর বলল, আমরা যদি আমাদের এখান দিয়ে একটি ফুটো করে নিই, তবে উপর তলার লোকদেরকে কষ্ট দেয়া থেকে বাঁচা যেত।

এখন যদি তারা (উপর তলার লোকেরা) তাদেরকে এ কাজ করতে দেয় তবে সবাই ধ্বংস হবে। আর যদি তারা তাদেরকে বাধা দেয় (ছিদ্র করা থেকে বিরত রাখে) তবে নিজেরাও বাঁচতে পারবে এবং সবাইকেও বাঁচাতে পারবে।


ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۸ - عَنْ أمِّ الْمُؤْمِنِينَ أمّ سَلَمَةَ هند بنت أبى أُمَيَّةَ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ إِنَّهُ يُسْتَعْمَلُ عَلَيْكُمْ أَمَرَاءُ فَتَعْرِفُونَ وَتُنْكِرُونَ فَمَنْ كَرِهَ فَقَدْ بَرِئَ وَمَنْ انْكَرَ فَقَدْ سَلَمَ وَلَكِنْ مِنْ رَضِيَ تَابَعَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ الاَ نُقَاتِلُهُمْ قَالَ لا مَا أَقَامُوا فِيْكُمُ الصَّلاةَ - رواه مسلم مَعْنَاهُ وَلَمْ يَسْتَطِعْ انْكَارًا بِيَدٍ وَلَا لِسَانٍ فَقَدْ بَرِئَ مِنَ الْإِثْمِ وَأَدَّى مَنْ كَرِهَ بِقَلْبِهِ فـ وَظِيفَتَهُ وَمَنْ أَنْكَرَ بِحَشبٍ طَاقَتِهِ فَقَدْ سَلَمَ مِنْ هَذِهِ الْمَعْصِيَةِ وَمَنْ رَضِيَ يفعْلِهِمْ وَتَابَعَهُمْ فَهُوَ الْعَاصِي.

১৮৮। উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তোমাদের উপর কতক শাসক নিযুক্ত করা হবে। তোমরা তাদের কিছু কার্যকলাপের সাথে (ইসলামী শরী'আত অনুযায়ী হওয়ার কারণে) পরিচিত থাকবে আর কিছু কার্যকলাপ তোমাদের কাছে (শরী'আত বিরোধী হওয়ার কারণে) অপরিচিত থাকবে। এরূপ অবস্থায় যে ব্যক্তি এগুলোকে খারাপ জানবে সে (গুনাহ থেকে) বেঁচে গেল। 

আর যে ব্যক্তি এর প্রতিবাদ করবে সে (জবাবদিহির ব্যাপারে) নিরাপদ। কিন্তু যে ব্যক্তি এরূপ কাজের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করল এবং এর সাথে সহযোগিতা করল (সে নাফরমানী করল)। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা কি তাদের (এরূপ স্বৈরাচারী শাসকদের) বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবো না? তিনি বলেনঃ না, যতক্ষণ তারা তোমাদের মাঝে নামায কায়েম করে।


ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۹ - عَنْ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ أُمِّ الْحَكَمِ زَيْنَبَ بِئْتِ جَحْشٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا فَرْعًا يَقُولُ لا اله الا اللهُ وَيْلُ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرَ قد اقْتَرَبَ فَتحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدَم يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مثل هذه وَخَلَقَ بِأَصْبُعَيْه الاتهام والتي تليها فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ انَهْلِكُ وَفِيْنَا الصَّالِحُونَ؟ قَالَ نَعَمُ إِذَا كَثرَ الْخَبَتْ متفق عليه .

১৮৯। উম্মুল মুমিনীন যায়নাব বিনতে জাশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। (একদিন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তাঁর কাছে আসলেন। তিনি বলছিলেন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ধ্বংস আরবের সেই মন্দ ও অনিষ্টের কারণে যা নিকটে এসে গেছে। আজ ইয়াজুজ-মাজুজের (বন্দীশালার) দরজা এতদূর খুলে দেয়া হয়েছে। তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুল ও তর্জনী দিয়ে বৃত্ত বানিয়ে তা দেখালেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের মধ্যে নেক্কার-আল্লাহভীরু লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বলেন : হাঁ, যখন মন্দ ও অনিষ্টের অত্যধিক প্রসার ঘটবে।


ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٩٠ - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِيَّاكُمُ والجلوس في الطرقات فَقَالُوا يَا رَسُولَ الله مَا لَنَا مِنْ مَجَالِسِنَا بُدَّ نَتَحَدِّثُ فِيهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا أَبَيْتُمْ إِلَّا الْمَجْلِسَ فَاعْفُوا الطريق حَقَّهُ قَالُوا وَمَا حَقُّ الطريق يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ غَضُ الْبَصَرَ وَكَفُّ الْأَذَى وَرَدُّ السَّلامِ وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهَى عَنِ الْمُنْكَرِ - متفق عليه .

১৯০। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা রাস্তার উপর বসা থেকে বিরত থাক। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! রাস্তায় বসা ছাড়া তো আমাদের কোন উপায় নেই। আমরা সেখানে বসে (পারস্পরিক প্রয়োজন সম্পর্কিত) আলাপ-আলোচনা করে থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা যখন রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাকতে অস্বীকার করছ, তাহলে রাস্তার হক আদায় কর। তারা বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! রাস্তার হক আবার কি? তিনি বলেনঃ রাস্তার হক হল, দৃষ্টি সংযত রাখা, (রাস্তা থেকে) কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা, সালামের জবাব দেয়া, সৎ কাজের নির্দেশ দেয়া এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখা।


ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۹۱ - عَنِ ابْنِ عَبَّاس رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ راى خَاتَمًا مِنْ ذَهَب فِي يَدِ رَجُلٍ فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ وَقَالَ يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ فَقِيلَ لِلرَّجُلِ بَعْدَ مَا ذَهَبَ رَسُولُ الله صَلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُذْ خَاتَمَكَ انْتَفعُ به قَالَ لا والله لا أَخُذُهُ أَبَدًا وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - رواه مسلم

১৯১। ইবনুল আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির হাতে একটি সোনার আংটি দেখতে পেলেন। তিনি আংটিটি তার হাত থেকে খুলে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং বলেনঃ তোমাদের কেউ কি নিজের হাতে জ্বলন্ত অংগা রাখতে পছন্দ করে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সেখান থেকে) চলে যাওয়ার পর লোকটিকে বলা হল, আংটিটি উঠিয়ে নিয়ে কোন উপকারী কাজে লাগাও। সে বলল, আল্লাহ্ শপথ! যে জিনিসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন তা আমি কখনও নেব না ৷


ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٩٢ - عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْحَسَنِ الْبَصَرِي أَنْ عَائِدَ بْنَ عَشْرِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ دَخَلَ عَلَى عُبَيْدِ اللهِ بْنِ زِيَادِ فَقَالَ أَى بَنَى إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنْ شَرِّ الرَّعَا الْحُطَمَةُ فَايَّاكَ أنْ تَكُونَ مِنْهُمْ فَقَالَ لَهُ اجْلِسُ فَإِنَّمَا أنتَ مِنْ نُخَالَةِ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ وَهَلْ كَانَتْ لَهُمْ نُخَالَةٌ إِنَّمَا كَانَتِ النُّخَالَةُ بَعْدَهُمْ وَفِي غَيْرِهِمْ - رواه مسلم .

১৯২। আবু সাঈদ হাসান আল-বসরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আয়েয ইবনে আমর (রাঃ) একদা উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের কাছে গেলেন। তিনি (আয়েয) বলেন, হে বৎস! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ নিকৃষ্ট রাখাল (প্রশাসক) হল সেই ব্যক্তি যে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে নম্রতা ও সহনশীলতা অবলম্বন করে না।

তুমি সতর্ক থাক যেন এর অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যাও। সে তাকে বলল, থাম! কেননা তুমি তো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে অপদার্থদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি (আয়েয) বলেন, তাদের (সাহাবীদের) মধ্যে কি এরূপ অপদার্থ লোক ছিল? নীচ ও অপদার্থ লোক তো ছিল তাদের পরের স্তরে এবং তারা ছাড়া অন্যদের মধ্যে।


ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۹۳ - عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنُ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَونَ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللَّهُ أَنْ يُبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُونَهُ فَلا يُسْتَجَابُ لَكُمْ - رواه الترمذي وَقَالَ حَدِيثُ حَسَنُ.

১৯৩। হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন! তোমরা অবশ্যই সত্য-ন্যায়ের আদেশ এবং অন্যায় ও অসত্যের প্রতিরোধ করবে। অন্যথায় অচিরেই আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি দেবেন। (গযবে নিপতিত হয়ে) তোমরা দু'আ করবে কিন্তু তখন তোমাদের ডাকে সাড়া দেয়া হবে।


ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটা হাসান হাদীস।

١٩٤ - عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَفْضَلُ الْجِهَادِ كَلِمَةُ عَدْلٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ - رواه أبو داود والترمذي وَقَالَ حَدِيثُ حَسَنٌ .

১৯৪। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অত্যাচারী শাসকের সামনে ন্যায়সঙ্গত কথা বলা উত্তম জিহাদ।


ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটাকে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।


١٩٥- عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ طَارِقِ بْنِ شِهَابِ الْبَعَلِيِّ الْأَحْمَسِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أن رَجُلاً سَأَلَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ وَضَعَ رِجُلَهُ فِي الْغَرْزِ أَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ قَالَ كَلِمَةً حَقٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ - رواه النِّسَائِيُّ بِإِسْنَادِ صَحِيحِ الْغَرْزُ بِغَيْنِ مُعْجَمَةٍ مَفْتُوحَةٍ ثُمَّ رَاءٍ سَاكِنَةٍ ثُمَّ رَأَى وَهُوَ رِكَابَ كَوْرِ الْجَمَلِ إِذَا كَانَ مِنْ جلد أَوْ خَشَبٍ وَقِيلَ لَا يَخْتَصُّ بِعِلْدٍ وَخَشَبٍ .

১৯৫। আবু আবদুল্লাহ তারিক ইবনে শিহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন সময় প্রশ্ন করল, যখন তিনি সওয়ারীর রেকাবে পা রেখেছেন মাত্রঃ সর্বোত্তম জিহাদ কোনটি? তিনি বলেনঃ অত্যাচারী শাসকের সামনে হক কথা বলা (সর্বোত্তম জিহাদ)


١٩٦ - عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَوَّلَ مَا دَخَلَ النَّقْصُ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنَّهُ كَانَ الرَّجُلُ يَلْقَى الرَّجُلَ فَيَقُولُ يَا هَذَا اتَّقِ اللهَ وَدَعْ مَا تَصْنَعُ فَإِنَّهُ لَا يَحِلُّ لَكَ ثُمَّ يَلْقَاهُ مِنَ الْغَدِ وَهُوَ على حاله فَلا يَمْنَعُهُ ذلكَ أنْ يَكُونَ اكيْلَهُ وَشَرِيْبَهُ وَقَعِيدَهُ فَلَمَّا فَعَلُوا ذلكَ ضَرَبَ اللهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ ثُمَّ قَالَ العِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ . كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنكَرِ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُوْنَ . تَرَى كَثِيرًا مِنْهُمْ يَتَوَلَّوْنَ الَّذِيْنَ كَفَرُوا لَبِئْسَ مَا قَدَّمَتْ لَهُمْ أَنْفُسُهُمْ إِلى قَوْلِهِ (فَاسِقُونَ) ثُمَّ قَالَ كَلا والله لتَأْمُرُنَ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَلَتَأْخُذَنَّ عَلَى يَدِ الظَّالِمِ ولَتَا طَرْتُهُ عَلَى الْحَقِّ أَطْرَا وَلَتَقْصُرْتُهُ عَلَى الْحَقِّ قَضَرًا أَوْ لَيَضْرِيَنَّ اللَّهَ بِقُلُوبِ بَعْضِكُمْ عَلَى بَعْضٍ ثُمَّ لَيَلْعَتَنكُمْ كَمَا لَعَنَهُمْ- رواه أبو داود والترمذي وقال حديث حسن

هذا لفظ أبِي دَاوُدَ وَلَفْظُ التَّرْمِذِي قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا وَقَعَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ فِى الْمَعَاصِي نَهَتْهُمْ عَلَمَاؤُهُمْ فَلَمْ يَنْتَهُوا فَجَالَسُوهُمْ فِي مجالسهمْ وَوَاكَلُوهُمْ وَشَارَبُوهُمْ فَضَرَبَ اللهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ وَلَعَنَهُمْ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى بْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ فَجَلَسَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ مُتْكنًا فَقَالَ لا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ حَتَّى تَأْطِرُوهُمْ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا - قَوْلُهُ تَأظُرُوهُمْ أَى تَعْطِفُوهُمْ وَلَتَقْصُرُنَّهُ أَى لَتَحْبِسُنَّهُ .

১৯৬। ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বনী ইসরাঈলের মধ্যে প্রথমে এভাবে দুষ্কৃতি ও অনিষ্টকারিতা অনুপ্রবেশ করেঃ এক (আলিম) ব্যক্তি অপর ব্যক্তির সাথে মিলিত হত এবং তাকে বলত, হে অমুক! আল্লাহকে ভয় কর এবং যা করছ তা পরিত্যাগ কর, কেননা এ কাজ তোমার জন্য বৈধ নয়। পরদিনও সে তার সাথে মিলিত হয়ে তাকে পূর্বাবস্থায় দেখতে পেত কিন্তু সে আর তাকে নিষেধ করত না। 

এভাবে সেও তার পানাহার ও উঠা-বসায় শরীক হয়ে পড়ে। যখন তারা এ অবস্থায় পৌঁছে গেল, তখন আল্লাহ তাদের একের অন্তরের (কালিমা) দ্বারা অপরের অন্তরকে অন্ধকার করে দিলেন। অতঃপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেনঃ 

“বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরের পথ অবলম্বন করল তাদের প্রতি দাউদ ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের মুখ দিয়ে অভিসম্পাত করা হল। কেননা তারা বিদ্রোহী হয়ে গিয়েছিল এবং অত্যন্ত বাড়াবাড়ি করেছিল। তারা পরস্পরকে পাপ কাজ থেকে বিরত রাখা পরিত্যাগ করেছিল। অতি জঘন্য কর্মনীতিই তারা অবলম্বন করেছিল। তোমরা তাদের অনেক লোককে দেখতে পাচ্ছ, যারা (মুমিনদের বিপরীতে) কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা করতে ব্যস্ত। নিশ্চয় অত্যন্ত খারাপ পরিণামই সম্মুখে রয়েছে, যার ব্যবস্থা তাদের প্রবৃত্তিসমূহ তাদের জন্য করেছে। 

আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রোধান্বিত হয়েছেন। তাদের শাস্তিভোগ স্থায়ী হবে। তারা যদি বাস্তবিকই আল্লাহ, রাসূল এবং সেই জিনিসের প্রতি ঈমান আনত, যা তাঁর (নবীর) প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, তবে তারা কখনও (ঈমানদার লোকদের বিরুদ্ধে) কাফিরদেরকে নিজেদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই ফাসিক” (সূরা আল মা-ইদাঃ ৭৮-৮১)। 

অতঃপর তিনি (মহানবী বলেনঃ কখনও নয়! আল্লাহর শপথ! তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ করতে থাক এবং অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে (মানুষকে) বিরত রাখ, যালিমের হাত শক্ত করে ধর এবং তাকে টেনে তুলে সত্য-ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত কর। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের (নেক্কার ও গুনাহগার) পরস্পরের অন্তরকে মিলিয়ে (অন্ধকার করে) দেবেন, অতঃপর বনী ইসরাঈলের মত তোমাদেরকেও অভিশপ্ত করবেন।

ইমাম আবু দাউদ ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন, এটা হাসান হাদীস। হাদীসের মূল শব্দগুলো আবু দাউদের। তিরমিযীর মূল হাদীসের অর্থ নিম্নরূপঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বনী ইসরাঈল যখন পাপ কাজে লিপ্ত হল, তাদের আলিমগণ তাদেরকে তা থেকে বিরত থাকতে বলল, কিন্তু তারা বিরত হল না।

(এক পর্যায়ে) আলিমগণও তাদের সাথে উঠা-বসা ও পানাহার করতে থাকল। অতঃপর আল্লাহ তাদের অন্তরকে পরস্পরের সাথে মিলিয়ে দিলেন (ফলে আলিমরাও পাপে লিপ্ত হয়ে পড়ল)। আল্লাহ তাদেরকে দাউদ ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের মুখ দিয়ে অভিশাপ দিলেন। কেননা তারা বিদ্রোহী হয়ে গিয়েছিল এবং খুব বাড়াবাড়ি শুরু করেছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেলান দেয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে বসলেন এবং বলেনঃ কখনও নয়, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা তাদেরকে (যালিমদেরকে) হাত ধরে টেনে এনে হকের উপর প্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত ছাড়বে না।


۱۹۷ - عَنْ أبِي بَكْرِ الصَّدِيقِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ يَأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ لَتَقْرَؤُونَ هذه الآية (يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمُ انْفُسَكُمْ لَا يَضُرُكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذا اهْتَدَيْتُمْ....) وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ انَّ النَّاسَ إِذَا رَآوُا الظَّالِمَ فَلَمْ يَأْخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَوْشَكَ أَنْ يُعْمُهُمُ اللَّهُ بِعِقَابِ مِنْهُ - رَوَاهُ أبو داود والترمذي وَالنِّسَائِيُّ بِاَسَانِيدٍ صَحِيحَةٍ .

১৯৭। আবু বাক্ আস্ সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে লোকসকল! তোমরা এ আয়াত পাঠ করে থাকঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের কথা চিন্তা কর, কারো পথভ্রষ্ট হওয়ায় তোমাদের কোন ক্ষতি হবে না, যদি তোমরা সঠিক পথে থাকতে পার। তোমাদের সবাইকে আল্লাহ্ দিকে ফিরে যেতে হবে। অতঃপর তিনি তোমাদের বলে দেবেন, তোমরা (দুনিয়ার জীবনে) কি করছিলে” (সূরা আল মা-ইদা: ১০৫)। 

অথচ আমি (আবু বাক্র) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ লোকেরা যখন দেখে, যালিম যুম করছে, কিন্তু তারা তা প্রতিরোধ করে না, এরূপ লোকদের উপর আল্লাহ অচিরেই শাস্তি পাঠাবেন।


ইমাম আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ সহীহ সনদ সহকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ ২৩, ন্যায় কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজের প্রতিরোধ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default