قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّتِنَا قُرَةَ أَعْيُنٍ واجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ امَامًا
মহান আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
১। “আর যারা বলে, আমাদের প্রভু! তুমি আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান কর যাদেরকে দেখে আমাদের চোখ জুড়িয়ে যায় এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানাও।” (সূরা আল ফুরকানঃ ৭৪)
وَقَالَ تَعَالَى : وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يُهْدُونَ بِأَمْرِنَا
২। “আমি তাদেরকে (নবীগণকে) নেতা হিসেবে নিযুক্ত করেছি, তারা আমার হুকুম অনুযায়ী সৎপথে পরিচালিত করে।” (সূরা আল আম্বিয়াঃ ৭৩)
۱۷۱ - عَنْ أَبِي عَمْرٍو جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا فِي صَدْرِ النَّهَارِ عِندَ رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَهُ قَوْمَ عُرَاةٌ مُجْتَابِي النِّمَانِ أو الْعَبَاءِ مُتَقَلِدِى السَّيُوفِ عَامَّتُهُمْ مِنْ مُضَرَ بَلْ كُلُّهُمْ مِنْ مُضَرَ فَتَمَعْرَ وَجْهُ رَسُولِ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَا رَأَى بِهِمْ مِنْ الْفَاقَةِ فَدَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ فَأَمَرَ بِلالاً فَاذْنَ وَأَقَامَ فَصَلَّى ثُمَّ خَطَبَ فَقَالَ (يَايُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نفس واحدة) إلى آخِرِ الْآيَةِ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا) وَالْايَةُ الْأُخْرَى الَّتِي في آخر الحشرِ (يَايُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ)
تَصَدِّقَ رَجُلٌ مِّنْ دِينَارِهِ مِنْ دِرْهَمِهِ مِنْ ثَوْبِهِ مِنْ صَاعِ بُرِهِ مِنْ صَاعِ تَمْرِهِ حَتَّى قَالَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ فَجَاءَ رَجُلُ مِنَ الْأَنْصَارِ بِصُرِّةٍ كَادَتْ كَفَّهُ تَعْجِزُ عَنْهَا بَلْ قَدْ عَجَرَتْ ثُمَّ تَتَابَعَ النَّاسُ حَتَّى رَأَيْتُ كَوْمَيْنِ مِنْ طَعَامٍ وَثِيَابٍ حَتَّى رَأَيْتُ وَجْهَ رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَهَلَلُ كَأَنَّهُ مُذْهَبَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَنْ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةٌ حَسَنَةٌ فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنقُصُ مِنْ أَجُورِهِمْ شَيْ وَمَنْ سَنْ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةٌ سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنقُصُ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْ رواه مسلم
قَولُهُ مُجْتَابِي النِّمَارِ هُوَ بِالْحِيمِ وَبَعْدِ الْأَلِفِ بَاءُ مُوَحْدَةٌ وَالنِّمَارُ جَمْعُ نَمِرَةٍ وَهِيَ كسَاء مِنْ صُوف مُخَطط وَمَعْنى مُجْتَابِيْهَا أى لأبسيْهَا قَدْ خَرَقُوهَا فِي رُوسِهِمْ والجوبُ الْقَطْعُ وَمِنْهُ قَوْلُ اللهِ تَعَالَى وَتَمَوْدَ الَّذِيْنَ جَابُوا الصِّخْرَ بِالْوَادِ) أَيْ نَحتُوهُ وَقَطَعُوهُ وَقَوْلُهُ تَمَعْرَ هُوَ بِالْعَيْنِ الْمُهملة أَي تَغَيْرَ وَقَوْلُهُ رَأَيْتُ كَوْمَيْنِ بِفَتْحِ الْكَافِ وَضَمِّهَا أَى صُبْرَتَيْنِ وَقَوْلُهُ كَأَنَّهُ مُذْهَبَةً هَوَ بِالدَّالِ الْمُعْجَمَةِ وَفَتْحِ الهَاءِ وَالْبَاءِ الْمُوَحِدَةِ قَالَهُ الْقَاضِي عِبَاضُ وَغَيْرُهُ وَصَحْفَهُ بَعْضُهُمْ فَقَالَ مُدْهُنَةٌ بِدَالٍ مُهْمَلَةٍ وَضَمَ الْهَاءِ وَبِالنُّونِ وكَذَا ضَبَطَهُ الْحُمَيْدِي وَالصَّحِيحُ الْمَشْهُورُ هُوَ الْأَوَّلُ وَالْمُرَادُ به عَلَى الْوَجْهَيْنِ الصَّفَاءُ وَالْاسْتَنَارَةُ .
১৭১। জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা দিনের প্রথম ভাগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন একদল লোক তাঁর কাছে এল। তাদের শরীর ছিল অনাবৃত, চট কিংবা আবা পরিহিত ছিল তারা।
তরবারিও তাদের সাথে ঝুলানো ছিল। তাদের অধিকাংশ বরং সবাই ছিল মুদার গোত্রের লোক। তাদের দুর্ভিক্ষাবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি ঘরের ভেতর গেলেন, তারপর বের হয়ে এসে বিলাল (রাঃ)-কে আযান দিতে বলেন। বিলাল (রাঃ) আযান ও ইকামাত দিলেন।
তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষ করে বক্তৃতায় বলেনঃ
“হে জনগণ! তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, আর উভয় থেকে অনেক পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং আল্লাহকে ভয় কর, যার দোহাই দিয়ে তোমরা পরস্পর নিজ নিজ অধিকার দাবি কর। আর তোমরা আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করা থেকে বিরত থাক। আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের উপর কড়া দৃষ্টি রাখেন” (সূরা আন্ নিসা, আয়াতঃ ১)।
তিনি সূরা আল হাশরের শেষের দিকের নিম্নোক্ত আয়াতটিও পড়লেনঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ্য রাখে যে, সে আগামী দিনের (আখিরাতের) জন্য কি ব্যবস্থা করে রেখেছে। তোমরা আল্লাহকেই ভয় কর। তোমরা যা করছ আল্লাহ তার খবর রাখেন” (সূরা আল হাশর, আয়াতঃ ১৮)।
(তারপর তিনি বলেন) প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত সে যেন তার দীনার (স্বর্ণমুদ্রা), তার দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা), তার কাপড়, তার গম এবং তার খেজুর থেকে দান করে। তিনি এমনকি এ কথাও বলেন যে, এক টুকরা খেজুর হলেও তা দান কর। এরপর একজন আনসারী এক থলি খেজুর নিয়ে এল। থলিটি বয়ে আনতে তার হাত অক্ষম হওয়ার উপক্রম, বরং অক্ষম হয়েই পড়েছিল। তারপর লোকেরা একের পর এক দান করতে লাগল।
শেষ পর্যন্ত আমি কাপড় ও খাদ্যের দু'টি স্তূপ দেখতে পেলাম। দেখতে পেলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারার নূর উজ্জ্বল হয়ে তা যেন সোনালী রংয়ে পরিবর্তিত হয়ে গেছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলেনঃ যে ব্যক্তি ইসলামে কোন ভালো নিয়মের প্রচলন করবে, সে তার প্রতিদান পাবে এবং পরে যারা তদনুযায়ী আমল করবে তাদের সমপরিমাণ সাওয়াবও সে পাবে। কিন্তু এতে তাদের বিনিময় কিছুমাত্র কম হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন মন্দ নিয়ম চালু করে তার উপর এর (গুনাহর) বোঝা চেপে বসবে এবং তারপর যারা সে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করবে তাদের বোঝাও তার উপর গিয়ে পড়বে। কিন্তু তাদের বোঝা কিছুমাত্র হ্রাসপ্রাপ্ত হবে না। (মুসলিম)
۱۷۲ - عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ا لَيْسَ مِنْ نَفْسٍ تُقْتَلُ ظُلْمًا إِلا كَانَ عَلَى ابْنِ أُدَمَ الْأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا لِأَنَّهُ كَانَ اَوَّلُ مَنْ سَنَّ الْقَتْلَ - متفق عليه
১৭২। ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তিই অন্যায়ভাবে নিহত হবে তার রক্তপাতের দায়ভাগ আদম (আঃ)-এর প্রথম হত্যাকারী সন্তানের (কাবীল) উপরও পড়বে। কারণ সেই প্রথম ব্যক্তি যে হত্যার নিয়ম চালু করে। (বুখারী, মুসলিম)
#মুহাম্মদের_বাণী #ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন