#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ ১৭, আল্লাহর হুকুম পালন করা অপরিহার্য এবং যে ব্যক্তি তা পালনের জন্য আহ্বান জানায়, সৎকাজের আদেশ দেয় ও অন্যায় কাজ থেকে বারণ করে তার যা বলা উচিৎ।

Muhammads words
0

قَالَ اللهُ تَعَالَى : فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُم .يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا .


মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন:

(১) “না, তোমার রবের শপথ! তারা ঈমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাকে তাদের পারস্পরিক বিরোধের মীমাংসাকারী হিসাবে মেনে না নেয়, তারপর তুমি যে রায় দেবে তারা সে সম্পর্কে মনে কোন প্রকার দ্বিধা-সংকোচ বোধ না করে পূর্ণ আন্তরিকতা সহকারে তা মেনে নেয়।” (সূরা আন্ নিসা: ৬৫)


وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذا دُعُوا إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أن يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وأولئكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ


(২) “মুমিনদের মধ্যে কোন ব্যাপারে ফায়সালা করার জন্য যখন তাদেরকে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে (কুরআন ও সুন্নাহ্ দিকে) আহ্বান জানানো হয়, তখন তারা এই কথাই বলে, আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। আর এসব লোকই কল্যাণপ্রাপ্ত।” (সূরা আন্ নূরঃ ৫১) এই অনুচ্ছেদের সাথে সামঞ্জস্যশীল হাদীসমূহের মধ্যে আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর হাদীসটি ইতিপূর্বে (১৫৬ নং হাদীস) উল্লেখিত হয়েছে। এছাড়াও আরো বহু হাদীস এ প্রসঙ্গে পাওয়া যায়। য়েমনঃ


١٦٨ - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ عَلَى رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُم بِهِ اللهُ الْآيَةَ اشْتَدَّ ذلكَ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاتَوُا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ بَرَكُوا عَلَى الرَّكَبِ فَقَالُوا أى رَسُولَ اللهِ كَلِفْنَا مِنَ الْأَعْمَالِ مَا نُطِيقُ الصَّلاةَ وَالصِّيَامَ وَالْجِهَادَ وَالصَّدَقَةَ وَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيْكَ هذه الأيَةُ وَلَا نُطِيقُهَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اتُرِيدُونَ أَنْ تَقُولُوا كَمَا قَالَ أَهْلُ الْكِتَابَيْنِ مِنْ قَبْلِكُمْ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا ؟ بَلْ قُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرَ فَلَمَّا اقْتَرَأَهَا الْقَوْمُ وَذَلَّتْ بِهَا السنَتُهُمْ أَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى فِي اثْرِهَا أَمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبِّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ) فَلَمَّا فَعَلُوا ذلكَ نَسَخَهَا اللهُ تَعَالَى فَانْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ الا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لاَ تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِيْنَا أَوْ أَخْطَأْنَا) قَالَ نَعَمْ (رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِنَا) قَالَ نَعَمُ رَبِّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لا طَاقَةَ لَنَا بِهِ) قَالَ نَعَمْ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْلَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ) قَالَ نَعَمْ- رواه مسلم .


১৬৮। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নাযিল হল: “আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহর। তোমাদের মনের কথা প্রকাশ কর বা গোপন রাখ, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন” (সূরা আল বাকারা: ২৮৪), 

তা সাহাবীগণের নিকট খুব কঠিন মনে হল। সাহাবীগণ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে নতজানু হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের সাধ্যানুযায়ী নামায, জিহাদ, রোযা, সাদাকা ইত্যাদি কাজগুলো আমাদের উপর চাপানো হয়েছে, অথচ আপনার উপর এই আয়াত নাযিল হয়েছে, আর আমরা তা করার ক্ষমতা রাখি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পূর্বে ইহুদী ও খৃস্টানরা যেমন বলেছিল, আমরা শুনলাম এবং অমান্য করলাম, তোমরাও কি তেমনি বলতে চাও? তোমরা বরং বল, “শুনলাম, মেনে নিলাম, তোমার কাছে ক্ষমা চাই, হে প্রভু! আর তোমারই নিকট ফিরে যেতে হবে।” লোকেরা যখন এ আয়াতটি পড়ল এবং তাদের জিহ্বা আনুগত্য করল, তখন আল্লাহ উক্ত আয়াতের পর নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করলেন: “রাসূলের নিকট তাঁর রবের কাছ থেকে যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি রাসূল ও মুমিনগণ ঈমান এনেছে। তারা সবাই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে। আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না এবং তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। 

হে আমাদের প্রভু! আমরা তোমার কাছে ক্ষমা চাই। আর তোমার নিকটেই তো ফিরে যেতে হবে। (সূরা আল বাকারা : ১৮৫)

যখন সাহাবীগণ এসব করলেন তখন আল্লাহ উক্ত আয়াতের হুকুম পরিবর্তন করে দিয়ে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করলেন: “আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কষ্ট দেন না। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তার (ভাল) কাজের সাওয়াব রয়েছে এবং (মন্দের জন্য) শাস্তিও রয়েছে। (তারা বলে) “হে আমাদের প্রভু! আমরা ভুলত্রুটি করে থাকলে সেজন্য তুমি আমাদের পাকড়াও করো না।” আল্লাহ বলেন, আচ্ছা তাই হবে। তারা বলে, “হে আমাদের প্রভু! আমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর যেমন তুমি (কঠিন হুকুমের) বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলে তেমন কোন বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ো না।” আল্লাহ বলেন, আচ্ছা তাই হবে। তারা বলে, “হে আমাদের প্রভু! আমাদের উপর এমন কোন দায়িত্বভার দিয়ো না যা পালন করার শক্তি আমাদের নেই, আর আমাদের গুনাহর কালিমা মুছে দাও, আমাদের গুনাহ মাফ করে দাও, আমাদের উপর দয়া কর। তুমিই তো আমাদের অভিভাবক, কাজেই কাফিরদের উপর আমাদেরকে বিজয়ী কর” (সূরা আল বাকারা: ২৮৬)। আল্লাহ বলেন, “আচ্ছা তাই হবে।” (মুসলিম)

#রিয়াদুস_সালেহীন প্রথম খণ্ড অনুচ্ছেদঃ ১৭, আল্লাহর হুকুম পালন করা অপরিহার্য এবং যে ব্যক্তি তা পালনের জন্য আহ্বান জানায়, সৎকাজের আদেশ দেয় ও অন্যায় কাজ থেকে বারণ করে তার যা বলা উচিৎ।
#মুহাম্মদের_বাণী #ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ  #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী  #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default