قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَمَا أَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا
সুন্নাত শব্দটির অর্থ পথ, মত, আদর্শ, পন্থা, নিয়ম ইত্যাদি। এখানে ফিক্হ শাস্ত্রের সুন্নাতের কথা বলা হয়নি। ফিক্হ শাস্ত্রে শরীয়াতের বিভিন্ন নির্দেশকে ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত, নফল ইত্যাদি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। ইসলামের সামগ্রিক পরিভাষায় সুন্নাতের মূল অর্থ হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শ, নিয়ম ও জীবন পদ্ধতি, যা তাঁর কথা, কাজ এবং তাঁর অনুমোদন দ্বারা জানা যায়। এই সুন্নাত পালনের কথাই এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে এবং এ সুন্নাত পালনের প্রতি আল কুরআন ও হাদীসে জোর তাকিদ দেয়া হয়েছে। এটাই ঈমানের দাবি। (অনুবাদক)
মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন:
(১) “রাসূল তোমাদেরকে যা কিছু দেয় তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে সে তোমাদেরকে বিরত থাকতে বলে তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা আল হাশর: ৭)
وحي يوحى وَقَالَ تَعَالَى : وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ الاً
(২) “আর সে (রাসূল) মনগড়া কথা বলে না। এ তো ওহী যা তার প্রতি নাযিল করা হয়।” (সূরা আন্ নাজম: ৩-৪)
وَقَالَ تَعَالَى : قُلْ إِنْ كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْيِيكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ .
(৩) “বল, তোমরা যদি আল্লাহ্র প্রতি ভালোবাসা পোষণ কর, তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেবেন।” (সূরা আলে ইমরান: ৩১)
وَقَالَ تَعَالَى : لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُول الله أسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُوا اللَّهَ والْيَوْمَ الْآخر .
(৪) “প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি আশাবাদী তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” (সূরা আল আহযাব: ২১)
وَقَالَ تَعَالَى : فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا جِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
(৫) “না, তোমার রবের শপথ! এরা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের পারস্পরিক মতভেদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক হিসাবে মেনে না নেবে । তারপর তুমি যে ফায়সালা দেবে সে সম্পর্কে তারা নিজেদের মনে কোন দ্বিধা বোধ করবে না, বরং তার নিকট নিজেদেরকে পূর্ণরূপে সোপর্দ করে দেবে।” (সূরা আন্ নিসা: ৬৫)
وَقَالَ تَعَالَى : فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بالله وَالْيَوْمِ الْآخِرِ.
(৬) “তোমাদের মধ্যে যদি কোন ব্যাপারে মতপার্থক্য হয় তবে তাকে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমানদার হয়ে থাক।” (সূরা আন্ নিসা: ৫৯)। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ বলেন, অর্থাৎ আল কুরআন ও সুন্নাহ্র দিকে রুজু কর।
وَقَالَ تَعَالَى : مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ
(৭) “যে রাসূলের আনুগত্য করে সে আল্লাহ্ আনুগত্য করল।” (সূরা আন্ নিসা: ৮০)
وَقَالَ تَعَالَى : وَإِنَّكَ لَتَهْدِى إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمَ صِرَاطِ اللَّهِ
(৮) “আর তুমি সঠিক পথ দেখিয়ে থাক, আল্লাহ্ পথ।” (সূরা আশ্ শূরাঃ ৬৩)
وَقَالَ تَعَالَى : فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُوْنَ عَنْ أَمْرِه أَنْ تُصِيْبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ اليوم.
(৯) “যারা আল্লাহ্র হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদের সতর্ক হওয়া উচিত যে, তাদের উপর কোন বিপর্যয় অথবা কষ্টদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।” (সূরা আন্ নূরঃ ৬৩)
وَقَالَ تَعَالَى : وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلى في بُيُوتِكُنْ مِنْ آيَاتِ الله والحكمة .
(১০) “(হে নবীর স্ত্রীগণ!) তোমাদের ঘরে আল্লাহ্ যেসব আয়াত ও জ্ঞানের কথা পঠিত হয় তা তোমরা মনে রাখ।” (সূরা আল আহযাব: ৩৪)
والْآيَاتُ فِي الْبَابِ كَثِيرَةٌ. وَأَمَّا الْأَحَادِيثُ
: ١٥٦ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ دَعُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ إِنَّمَا أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَثرَةُ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلافُهُمْ عَلَى
أنْبِيَائِهِمْ فَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاجْتَنِبُوهُ وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرِ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُم متفق عليه
১৫৬। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি যেসব বিষয় তোমাদের নিকট বর্ণনা ত্যাগ করেছি, সেসব ব্যাপারে আমাকে ছেড়ে দাও (অর্থাৎ কোনো প্রশ্ন করো না)। তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের অত্যধিক প্রশ্ন ও নবীদের ব্যাপারে মতভেদের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। কাজেই আমি যখন কোন কিছু নিষেধ করি তখন তোমরা সেটা থেকে বিরত থাক। আর যখন আমি তোমাদেরকে কোন কিছুর হুকুম করি, তখন সেটা যথাসাধ্য পালন কর। (বুখারী, মুসলিম)
١٥٧ - عَنْ أَبِي نَجِيحَ الْعَرْبَاضِ بْنِ سَارِبَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ وَعَظَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَوْعِظَةٌ بَلِيغَةٌ وَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ وَذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ كَأَنَّهَا مَوْعِظَةٌ مُوَدَع فَأَوْصِنَا قَالَ أَوْصِيْكُمْ بِتَقْوَى الله والسمع والطاعَةِ وَإِنْ تَأمُرَ عَلَيْكُمُ عَبْدٌ وَإِنَّهُ مَنْ يُعِشُ مِنْكُمْ فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الخلفاء الراشِدِيْنَ الْمَهْدِيَّينَ عَضُوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِدِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنْ كُلِّ بِدْعَةٍ ضَلالة- رواه أبو داود والترمذي وَقَالَ حَديثُ حَسَنٌ صَحِيحَ النَّوَاحِدُ بِالدَّالِ الْمُعْجَمَةِ الْأَنْيَابُ وَقِيلَ الْأَضْرَاسُ .
১৫৭। আবু নাজীহ ইবায ইবনে সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন মর্মস্পর্শী ভাষায় আমাদের উপদেশ দিলেন, যাতে আমাদের সকলের মন গলে গেল এবং চোখ দিয়ে পানি ঝরতে লাগল। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা তো বিদায়ী উপদেশের মত। কাজেই আমাদের আরও উপদেশ দিন। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহকে ভয় করার জন্য তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি। আর তোমাদের উপর হার্শী গোলাম শাসনকর্তা নিযুক্ত হলেও তার কথা শুনার ও তার আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি। আর তোমাদের কেউ জীবিত থাকলে সে বহু মতভেদ দেখতে পাবে। তখন আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাত অনুসরণ করা হবে তোমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। এ সুন্নাতকে খুব মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং (দ্বীনের ব্যাপারে) সমস্ত নব উদ্ভাবিত বিষয় (বিদ'আত) থেকে বিরত থাকবে। কেননা প্রতিটি 'বিদআত'ই পথভ্রষ্টতা।
ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ আখ্যা দিয়েছেন।
١٥٨ - عَنْ أبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلا مَنْ أبي قِيلَ وَمَنْ يَأْبَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى - رواه البخاري
১৫৮। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমার সব উম্মাত জান্নাতে যাবে, সে ব্যতীত যে (জান্নাতে যেতে) অসম্মত। বলা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কে অসম্মত? তিনি বলেন: যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্যতা করল সে জান্নাতে যেতে অসম্মত। (বুখারী)
١٥٩ - عَنْ أَبِى مُسْلِمٍ وَقِيلَ أَبِى إِيَّاسِ سَلَمَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْأَكْوَعِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلاً أَكَلَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشِمَالِهِ فَقَالَ كُلِّ بيمينك قالَ لا أَسْتَطِيعُ قَالَ لَا اسْتَطَعْتَ مَا مَنَعَهُ إِلَّا الْكِبْرُ فَمَا رَفَعَهَا إِلَى
১৫৯। আবু মুসলিম অথবা আবু ইয়াস সালামা ইবনে আমর ইবনে আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে বাম হাতে খেতে লাগল। তিনি বলেনঃ ডান হাতে খাও। সে বলল, আমি পারি না। তিনি বলেন: তুমি যেন না পার। (মূলতঃ) অহংকারই তাকে এ হুকুম পালনে বাধা দিয়েছিল। তারপর সে তার হাত মুখের কাছে উঠাতে পারেনি। (মুসলিম)
ব্যাখ্যাঃ এ হাদীস থেকে স্পষ্ট হয়ে গেলো যে, বাম হাতে পানাহার করা অহংকার প্রকাশের লক্ষণ। আর অহংকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। অথচ বর্তমান যুগে বাম হাতে পানাহার করাটাই যেন আভিজাত্যের পরিচায়ক।
অপর একটি হাদীসে বলা হয়েছে: “তোমরা ডান হাতে পানাহার কর। কেননা শয়তান বাম হাতে পানাহার করে।”
١٦٠ - عَنْ أَبَى عَبْدِ اللهِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَتُسَونَ صُفُونَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وجُوهِكُمْ - متفق عليه وفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِم كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَوِى صُفُونَنَا حَتَّى كَأَنَّمَا يُسَوّى بها القداحَ حَتَّى إذا رَأَى أَنَّا قَدْ عَقَلْنَا عَنْهُ ثُمَّ خَرَجَ يَوْمًا فَقَامَ حَتَّى كَادَ أَنْ يُكَبِّرَ فَرَأَى رَجُلاً بَادِيًا صَدْرُهُ فَقَالَ عِبَادَ اللَّهِ لَتُسَونَ صُفُوقَكُمْ أوْ لَيُخَالَفَنَّ الله بَينَ وَجُوهِكُمْ .
১৬০। আৰু আবদুল্লাহ নু'মান ইবনে বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা নামাযের কাতার সোজা কর, নতুবা আল্লাহ তোমাদের চেহারাগুলোর মধ্যে বিভিন্নতা সৃষ্টি করে দেবেন। (বুখারী, মুসলিম)
মুসলিমের আর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাতারগুলো সোজা করে দিতেন, এমনকি (মনে হতো) তিনি যেন এর দ্বারা তীর সোজা করছেন। আমরা তার কাছ থেকে বিষয়টা পূর্ণভাবে অনুধাবন করতে পেরেছি কিনা তা না বুঝা পর্যন্ত তিনি তাকিদ দিতেন। তারপর একদিন তিনি (হুজরা থেকে) বেরিয়ে এসে নামাযে দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলতে যাবেন এমন সময় এক লোককে দেখলেন যে, তার বুকটা কাতারের বাইরে রয়েছে। তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ্ বান্দারা! তোমাদের কাতার সোজা কর, নয়তো আল্লাহ তোমাদের চেহারাগুলোর মধ্যে বিভিন্নতা (অথবা মনের আমিল) সৃষ্টি করে দেবেন।
رسی ١٦١ - عَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ احْتَرَقَ بَيْتُ بِالْمَدِينَةِ عَلَى أَهْلِهِ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمّا حُدِتَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَأْنِهِمْ قَالَ إِنْ هَذِهِ النَّارَ عَدُوٌّ لَكُمْ فَإِذَا نِمْتُمْ فَاطْفِئُوْهَا عَنْكُمْ متفق عليه .
১৬১। আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনায় এক রাতে একটি বাড়ি আগুনে পুড়ে যায়। এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বলা হলে তিনি বলেনঃ এই আগুন তোমাদের শত্রু। কাজেই তোমরা ঘুমাবার সময় এটাকে নিভিয়ে দাও।” (বুখারী ও মুসলিম)
١٦٢ - وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ مَثَلَ مَا بَعَثَنِيَ اللهُ بهِ مِنَ الْهُدى وَالْعِلْمِ كَمَثَلِ غَيْتُ أَصَابَ أَرْضًا فَكَانَتْ مِنْهَا طَائِفَةٌ طَيِّبَةً قَبِلَتِ الماء فأنبتت الكلاً وَالْعُشْبَ الْكَثِيرَ وَكَانَ منْهَا أَجَادَبُ أَمْسَكَتِ الْمَاءَ فَنَفَعَ اللهُ بهَا النَّاسَ فَشَرَبُوا مِنْهَا وَسَقَوْا وَزَرَعُوا وَأَصَابَ طَائِفَةٌ مِّنْهَا أُخْرَى انْمَا هيَ قيْعَانَّ لا تُمْسِكُ مَاءً وَلَا تُثبتُ كَلَا فَذَلكَ مَثَلُ مَنْ فَقُه في دين الله وَنَفَعَهُ بِمَا بَعَثَنِي اللهُ به فَعَلمَ وَعَلمَ وَمَثَلُ مَنْ لَمْ يَرْفَعُ بذلك رَأْسًا وَلَمْ يَقْبَلُ هُدَى الله الذي أُرْسِلْتُ بهِ = متفق عليه فَقُةَ بِضَمِّ الْقَافِ عَلَى الْمَشْهُورِ وَقَبْلَ بَكَسْرِهَا أَنْ صَارَ فَقِيها
১৬২। আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে আল্লাহ যে জ্ঞান ও সঠিক পথসহ পাঠিয়েছেন, তার উদাহরণ বৃষ্টির মত। বৃষ্টির পানি কোনো জমিতে পড়লে জমির ভালো অংশ তা চুষে নেয় এবং বহু নতুন ও তাজা ঘাস জন্মায়। জমির আর এক অংশ যাতে বৃষ্টির পানি আটকে থাকে এবং আল্লাহ তা দ্বারা মানুষের উপকার করেন। তারা সেখান থেকে পানি পান করে এবং তা দিয়ে জমিতে সেচ দেয় ও ফসল উৎপন্ন করে। জমির আর এক অংশ ঘাসহীন অনুর্বর এলাকা, যেখানে পানিও আটকায় না, ঘাসও হয় না। এটা (প্রথমটি) হচ্ছে সেই লোকের উদাহরণ যে, আল্লাহ্ দীনের গভীর জ্ঞান লাভ করেছে এবং আল্লাহ যা কিছু দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন তা থেকে উপকৃত হয়েছে। সে নিজেও জ্ঞান লাভ করেছে এবং অপরকেও জ্ঞান দান করেছে। আর শেষোক্ত দৃষ্টান্ত হচ্ছে সেই ব্যক্তির যে দীনের জ্ঞানের দিকে ফিরেও তাকায়নি এবং আল্লাহ্ যে বিধানসহ আমাকে পাঠান হয়েছে তা সে গ্রহণও করেনি। (বুখারি, মুসলিম)
١٦٣ - عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلِي وَمَثَلُكُمْ كَمَثَلِ رَجُلٍ أَوْقَدَ نَاراً فَجَعَلَ الْجَنَادِبُ وَالْفَرَاسُ يَقَعْنَ فِيهَا وَهُوَ يَذَّبَّهُنَّ عنها وأنا أخذ بحُجَرَكُمْ عَن النَّار وانْتُمْ تُفْلِتُوْنَ مِنْ يَدَى - رواه مسلم الجنادبُ نَحْوُ الْجَراد والْفَرَاش هذا الْمَعْرُوفُ الذي يَقَعُ في النَّارِ وَالْحُجَرُ جَمْعُ حُجْزَةٍ وَهِيَ مَعْقِدُ الْإِزارِ والسَّراويل.
১৬৩। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার ও তোমাদের উদাহরণ হচ্ছে ঐ ব্যক্তির মত, যে আগুন জ্বালানোর পর ফড়িং ও অন্যান্য পতঙ্গ তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সে ওগুলোকে বাধা দিতে থাকে। আর আমিও তোমাদের কোমর ধরে তোমাদেরকে আগুনে পড়া থেকে বাধা দিচ্ছি, কিন্তু তোমরা আমার হাত থেকে ছুটে তাতে পড়ে যাচ্ছ। (মুসলিম)
١٦٤ - وَعَنْهُ أنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِلَعْقِ الْأَصَابِع وَالصَّحْفَةِ وَقَالَ إِنَّكُمْ لَا تَدْرُونَ فِي أَيّهَا الْبَرَكَةُ . رواه مسلم
وَفِي رِوَايَةٍ لَّهُ إِذا وَقَعَتْ لُقْمَةُ أحَدِكُمْ فَلْيَأْخُذْهَا فَلْيُمِطُ مَا كَانَ بِهَا مِنْ أَذًى ولِيَأْكُلْهَا وَلَا يَدَعْهَا لِلشَّيْطَانِ وَلَا يَمْسَحُ يَدَهُ بِالْمِنْدِيلِ حَتَّى يَلْعَقَ أَصَابِعَهُ فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي فِي أَي طَعَامِهِ الْبَرَكَةُ وفي رِوَايَةٍ لَهُ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَحْضُرُ أَحَدَكُمْ عِنْدَ كُلِّ شَيْءٍ مِّنْ شَأْنِهِ حَتَّى يَحْضُرَهُ عندَ طعامه قاذَا سَقَطتْ منْ أحَدِكُمُ اللقَمَةُ فَلْيُمْطُ مَا كَانَ بِهَا مِنْ أَذًى فَلْيَأْكُلُهَا وَلَا يَدَعْهَا لِلشَّيْطَانِ .
১৬৪। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙুল ও থালা চেটে খেতে হুকুম করেছেন এবং বলেছেন: তোমরা জান না তার কোন্ স্থানে বরকত রয়েছে। (মুসলিম)
মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে, তোমাদের কারও খাবারের লোকমা পড়ে গেলে সে যেন তা উঠিয়ে নেয় এবং তার ময়লা পরিষ্কার করে তা খায়, শয়তানের জন্য যেন তা রেখে না দেয়। আর আঙুল চেটে না খাওয়া পর্যন্ত সে তার হাত যেন রুমাল দিয়ে না মোছে। কারণ সে জানে না যে, তার খাদ্যের কোন্ অংশে বরকত রয়েছে।
মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে, শয়তান তোমাদের প্রত্যেকের নিকট প্রতিটি ব্যাপারে হাযির হয়, এমনকি তার খাওয়ার সময়ও সে হাযির হয়। কাজেই তোমাদের কারও লোকমা পড়ে গেলে সে যেন তার ময়লা পরিষ্কার করে তা খায় এবং শয়তানের জন্য ফেলে না রাখে।
١٦٥ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَامَ فِيْنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَوْعِظَةِ فَقَالَ يَأَيُّهَا النَّاسُ انَّكُمْ مَحْشُورُونَ إِلى اللهِ تَعَالَى حُفَاةً عرَاةً غُزلاً كَمَ) بَدَأْنَا أَوّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْداً عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ) أَلَا وَإِنْ أَوَّلَ الْخَلائِقِ يُكسى يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَامِ أَلَا وَإِنَّهُ سَيُجَاءُ بِرِجَالٍ مِنْ أُمَّتِي فَيُؤْخَذُ بِهِمْ ذَاتَ الشِّمَالِ فَأَقُولُ يَا رَبِّ أَصْحَابِي فَيُقَالُ إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أحْدَثُوا بَعْدَكَ فَأَقُولُ كَمَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ وَكُنتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَّا دُمْتُ فِيهِمْ إلى قَوْلِهِ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ فَيُقَالُ لِى إِنَّهُمْ لَمْ يَزَالُوْا مُرْتَدِيْنَ عَلَى أَعْقَابِهِمْ مُنْدُ فَارَقْتَهُمُ - متفق عليه غُرُلاً أَى غَيْرَ مَختُونِينَ .
১৬৫। ইবনুল আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন: হে লোকেরা! তোমাদেরকে আল্লাহ্র সামনে খালি পায়ে, উলংগ শরীরে এবং খাতনাহীন অবস্থায় সমবেত করা হবে। আল্লাহ বলেন: “যেমন আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছি, তেমন আবার সৃষ্টি করব। এটা আমার ওয়াদা। আমি ওয়াদা পূরণ করবই (সূরা আল আম্বিয়াঃ ১০৩)। জেনে রাখ, কিয়ামাতের দিন সর্বপ্রথম ইবরাহীম (আঃ)-কে কাপড় পরানো হবে। সাবধান! আমার উম্মাতের কিছু লোককে এনে বাম দিকে (জাহান্নামের দিকে) ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বলব, হে আমার রব! এরাতো আমার সাহাবী। তখন বলা হবে, তুমি জান না যে, তোমার পর এরা কি কি নতুন নতুন কাজ করেছে। আমি তখন ঈসা (আঃ)-এর মত বলব, “আমি যতকাল তাদের মধ্যে ছিলাম তাদের উপর সাক্ষ্যদানকারী হয়েই ছিলাম” (সূরা আল মায়িদা: ১১৭-১১৮)। তখন আমাকে বলা হবে, তাদের কাছ থেকে তুমি যখন বিদায় নিয়েছ তখন তারা তোমার দীন ছেড়ে দূরে সরে গেছে। (বুখারী, মুসলিম)
١٦٦ - عَنْ أبِي سَعِيدِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفّل رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْخَذْفِ وَقَالَ إِنَّهُ لا يَقْتُلُ الصَّيْدَ وَلَا يَنْكَأُ الْعَدُوِّ وَإِنَّهُ يَفْقَا الْعَيْنَ وَيَكْسِرُ السِّنَّ - متفق عليه
وَفِي رِوَايَةٍ أَنْ قَريباً لِابْنِ مُغَفَل خَذَفَ فَنَهَاهُ وَقَالَ أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الْخَذْفِ وَقَالَ إِنَّهَا لا تَصِيدُ صَيْدا ثُمَّ عَادَ فَقَالَ أَحَدِّثُكَ أَنَّ رَسُولَ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهى عَنْهُ ثُمَّ عُدْتُ تَخُذَفُ؟ لا أَكَلِمُكَ أَبَدًا
১৬৬। আবু সাঈদ আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথরের টুকরা শাহাদাত আঙুল ও বৃদ্ধাঙুলের মাঝখানে রেখে নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ এতে কোন শিকারও মারা পড়ে না এবং দুশমনও শেষ হয় না, বরং এটা চোখ ফুঁড়ে দেয় এবং দাঁত ভেঙ্গে দেয়। (বুখারী, মুসলিম)
অন্য এক রিওয়ায়াতে আছেঃ আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফালের এক নিকটাত্মীয় পাথর মেরেছিল। আবদুল্লাহ (রাঃ) নিষেধ করেন এবং বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে পাথর ছুঁড়তে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ এতে শিকার মরে না। ঐ ব্যক্তি পুনর্বার একই কাজ করে। এতে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি তোমাকে বলছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা নিষেধ করেছেন তবুও তুমি মারছো। আমি তোমার সাথে কখনো কথা বলব না।
١٦٧ - عَنْ عَابِسِ بْنِ رَبْعَمْ قَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يُقَبِّلُ الْحَجَرَ يَعنِى الْأَسْوَدَ وَيَقُولُ انّى َاعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ مَا تَنْفَعُ وَلَا تَضُرُّ وَلَوْ لَا أَنِّي رايْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُكَ مَا قَبلْتُكَ - متفق عليه .
১৬৭। আবেস ইবনে রাবীআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে হাজরে আসওয়াদ চুমো দিতে দেখেছি। তিনি বলেন, আমি জানি যে, তুমি একখণ্ড পাথর মাত্র, তুমি কোন উপকারও করতে পার না, অপকারও করতে পার না। আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তোমাকে চুমো দিতে না দেখতাম, তাহলে আমি তোমাকে চুমো দিতাম না। (বুখারী, মুসলিম)
#মুহাম্মদের_বাণী #ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন
