#রিয়াদুস_সালেহীন দ্বিতীয় খণ্ড অনুচ্ছেদঃ১ সালামের আদান-প্ৰদান সালামের মাহাত্ম্য এবং তার ব্যাপক প্রসারের নির্দেশ।

Muhammads words
0

قَالَ اللهُ تَعَالَى : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُو


মহান আল্লাহ বলেন :

تَسْتَأْنسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا .


“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না তার বাসিন্দাদের থেকে অনুমতি নাও এবং তাদেরকে সালাম কর।” (সূরা আন-নূর : ২৮)

وَقَالَ تَعَالَى : فَإِذَا دَخَلْتُمْ بُيُوتًا فَسَلِمُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ تَحِيَّةٌ مِنْ عِندِ الله مباركة طيبة.


“যখন তোমরা নিজেদের ঘরে প্রবেশ করবে, তখন নিজেদের লোকদেরকে সালাম করবে অভিবাদন স্বরূপ যা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে বরকতময় ও পবিত্র।”(সূরা আন-নূর: ৬১)

وقَالَ تَعَالَى : وَإِذَا حُيِّيْتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَدُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا .


“যখন তোমাদেরকে সালাম করা হয়, তখন তোমরাও ভালো কথায় সালাম কর অথবা সেই কথাগুলোই বলে দাও।” (সূরা আন নিসা: ৮৬)

وَقَالَ تَعَالَى : هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ ضَيفَ إِبْرَاهِيمَ الْمُكْرَمِينَ . إِذ دَخَلُوا عَلَيْهِ فَقَالُوا سَلَامًا قَالَ سَلام.


“ইবরাহীমের সম্মানিত মেহমানদের খবর কি তোমার কাছে পৌঁছেছে? যখন তারা তার কাছে এলো, তারপর তাকে সালাম করল, সেও তাদের সালাম করল।” (আয-যারিয়াত: ২৪)

٨٤٥ وَعَنْ عَبْد الله بن عَمْرو بن العاص رضى اللهُ عَنْهُمَا أَنْ رَجُلاً سَأَلَ بْنِ بْنِ ا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْإِسْلامِ خَيْرٌ قَالَ تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتَقَرَا السَّلام عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعرف متفق عليه.


৮৪৫। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করল, কোন কাজ ইসলামে সবচেয়ে ভালো? তিনি বলেন ঃ অভুক্তদের আহার করানো এবং সালাম করা চেনা-অচেনা নির্বিশেষে সবাইকে । ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٨٤٦ وَعَنْ أبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَن النَّبيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لما خَلَقَ اللهُ تَعَالَى آدَمَ عَلَيْهِ السّلامُ قَالَ اذْهَبْ فَسَلِمْ عَلَى أُولَئِكَ نَفَرٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ جُلُوسٌ فَاسْتَمِعْ مَا يُحَبُّونَكَ فَإِنَّهَا تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ فَقَالُوا السّلامُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللهِ فَزَادُوهُ وَرَحْمَةُ اللهِ- متفق عليه.


৮৪৬। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করে বললেনঃ যাও, ফেরেশতাদের যে দলটি বসে আছে তাদের সালাম কর এবং তারা তোমাকে কী জবাব দেয় তা শুন। তারা যা জবাব দেবে তাই হবে তোমার ও তোমার সন্তানদের জবাব। কাজেই আদম আলাইহিস সালাম গেলেন (এবং ফেরেশতাদের দলকে সম্বোধন করে) বললেন: আসসালামু আলাইকুম (তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। ফেরেশতারা বলল, আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ (তোমার উপরও শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহ্র রাহমতও)। তারা ওয়া রাহমাতুল্লাহ বাক্যটি বৃদ্ধি করেছিল।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٨٤٧ - وَعَنْ أَبِي عُمَارَةَ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَبْعَ بِعِبَادَةِ الْمَرِيضِ وَاتَّبَاعِ الْجَنَائِزِ وَتَشْمِيْتِ الْعَاطِسِ وَنَصْرِ الضَّعِيْفِ وَعَوْنِ الْمَظْلُومِ وَانْشَاء السَّلَامِ وَأَبْرَارِ الْمَقْسِمِ - متفق عليه هذا لفظ إحدَى رِوَايَاتِ البخاري .


৮৪৭। আবু উমারা বারাআ ইবনে আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সাতটি বিষয়ের হুকুম দিয়েছেন: (১) রোগীকে দেখতে যাওয়া; (২) জানাযায় শরীক হওয়া; (৩) হাঁচি দানকারীর আলহামদু লিল্লাহ বলার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা; (৪) দুর্বল ও বৃদ্ধকে সাহায্য করা; (৫) মাযলুমকে সহায়তা করা; (৬) সালামের প্রচলন করা এবং (৭) শপথ পূর্ণ করা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের মূল পাঠ ইমাম বুখারীর একটি রিওয়ায়াত থেকে গৃহীত।

٨٤٨ - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَقْسُوا السَّلامَ بَيْنَكُمْ - رواه مسلم.


৮৪৮। আৰু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং পরস্পরকে না ভালোবাসা পর্যন্ত তোমাদের ঈমান পূর্ণতা লাভ করবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন কাজের কথা বলব না, যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রচলন কর ৷

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

٨٤٩ - وَعَنْ أَبِى يُوسُفَ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَام رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَقْسُوا السَّلامَ وَأَطْعِمُوا الطعام وصلوا الْأَرْحَامَ وَصَلُّوْا وَالنَّاسُ نِيَامُ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلام رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح.


৮৪৯। আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ হে লোকেরা। সালামের ব্যাপক প্রচলন ঘটাও, (অভুক্তদের) আহার করাও, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সদ্ব্যবহার কর এবং যখন লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায পড়। তাহলে তোমরা শান্তিতে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

٨٥٠ - وَعَنِ الطُّفَيْلِ بْنِ أَبِي بْنِ كَعْب أَنَّهُ كَانَ يَأْتِي عَبْدِ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَيَعْدُو مَعَهُ إِلَى السُّوقِ قَالَ فَإِذَا غَدَوْنَا إِلَى السُّوقِ لَمْ يَمُرٌ عَبْدُ اللَّهِ عَلَى سَقَاطِ وَلَا صَاحِبِ بَيْعَةٍ وَلَا مِسْكِينِ وَلَا أَحَدٍ إِلا سَلَّمَ عَلَيْهِ قَالَ الطَّفَيْلُ فَجِئْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَوْمًا فَاسْتَتْبَعَنِي إِلَى السُّوقِ فَقُلْتُ لَهُ مَا نَصْنَعُ بِالسُّوقِ وَأَنْتَ لَا تَقِفُ عَلَى الْبَيْعِ وَلَا تَسْأَلُ عَنِ السِلعِ وَلَا تَسُومُ بِهَا وَلَا تَجْلِسُ فِي مَجَالِسِ السُّوقِ وأقولُ اجْلِسُ بِنَا هَاهُنَا نَتَحَدَّثُ فَقَالَ يَا أَبَا بَطْنٍ وَكَانَ الطَّفَيْلُ ذَابَطن إِنَّمَا نَعْدُو مِنْ أجلِ السَّلامِ فَنُسَلِمُ عَلَى مَنْ لَقِينَاه- رواه مالك في الموطأ بإسناد صحيح.


৮৫০। তুফাইল ইবনে উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-এর কাছে যাতায়াত করতেন। তিনি ইবনে উমারের সংগে সকাল সকাল বাজারে যেতেন । তিনি বলেন, যখন সকালে আমরা বাজারে যেতাম, যে কোন উঠো দোকানদার, স্থায়ী ব্যবসায়ী, মিসকীন বা যে কোন লোকের পাশ দিয়ে তিনি যেতেন, তাকেই সালাম দিতেন। তুফাইল বলেন, একদিন আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমারের কাছে এলাম। তিনি যথারীতি আমাকে বাজারে নিয়ে যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে বললাম, আপনি বাজারে গিয়ে কী করবেন? কোন জিনিস বেচা-কেনার জন্য আপনি দাঁড়ান না, কোন দ্রব্যের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদও করেন না এবং তার দর-দামও করেন না, আবার বাজারের কোন মজলিসেও বসেন না? আমি বলছি, আসুন! আমরা এখানে বসে কিছু কথাবার্তা বলি । ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, হে ভুঁড়িওয়ালা (আর তুফাইলের ভুঁড়িটা ছিল বেশ বড়)! আমরা সকাল সকাল বাজারে আসি স্রেফ সালাম দেবার উদ্দেশে, যার সাথে দেখা হয় তাকে সালাম করি।

এ হাদীসটিতে এবং সালাম সম্পর্কিত অন্যান্য হাদীসে যে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত হয়েছে তা হচ্ছে, ইসলামী সমাজে ব্যক্তির নিরাপত্তা, পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধের ব্যাপক পরিধি রয়েছে। সালাম এখানে অভয় বাণী হিসেবে দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ এ সমাজে কারোর প্রতি কারো হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা নেই। জানা-অজানা সবার জন্য সবাই শান্তি ও নিরাপত্তার গভীর অনুভূতি হৃদয়ে বহন করে চলেছে। তাই পরিচিত অপরিচিত নির্বিশেষে সব মুসলিমকে যে কোন জায়গায় যে কোন সময় সালাম করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। মুসলিমদের প্রতিটি সমাজের জন্য, বিশেষ করে কোন নতুন মুসলিম সমাজের জন্য বা এমন কোন সমাজের জন্য যেখানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে এবং প্রত্যেকে প্রত্যেকের শত্রুতে পরিণত হয়েছে, অন্তত এমনি একটি আতংকজনক পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে গেছে, সেখানে এ ধরনের সালামের ব্যাপক প্রচলনের গুরুত্ব সহজেই অনুমান করা যায়।

ইমাম মালিক সহীহ সনদ সহকারে এ হাদীসটি তাঁর মুআত্তায় বর্ণনা করেছেন।

#মুহাম্মদের_বাণী #ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ  #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী  #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default