সালামের মুস্তাহাব পদ্ধতি হচ্ছে, যিনি প্রথমে সালাম দেবেন তিনি বলবেন, “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ” (তোমাদের উপর আল্লাহ্র শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)। যাকে সালাম করা হল সেই মুসলমান ব্যক্তি একজন (একবচন) হলেও তাকে সম্বোধন করার জন্য যে সর্বনামটি ব্যবহার করা হবে তা হতে হবে বহুবচনের। এ বহুবচন ব্যবহারের দু'টো কারণ চিহ্নিত করা যেতে পারে। এক, এই একজন মুসলিমকে তার পেছনের সমস্ত মুসলিমের বা সেখানকার মুসলিম সমাজের প্রতিনিধি বিবেচনা করা যেতে পারে। দুইঃ ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী ব্যক্তির সাথে নিযুক্ত আল্লাহ্র যে ফেরেশতারা থাকেন তাঁদের প্রতিও থাকে এ সালামের লক্ষ্য।
আর এর জওয়াবে জওয়াবদানকারী বলবে, “ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ” (তোমাদের উপরও আল্লাহ্র শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)। জওয়াবে ওয়াও (এবং বা আর) সংযোগ অব্যয়টি প্রথমেই ব্যবহৃত হবে।
٨٥١ - عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ السَّلامُ عَلَيْكُمْ فَرَدَّ عَلَيْهِ ثُمَّ جَلَسَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (عَشْرٍّ) ثُمَّ جَاءَ أَخَرُ فَقَالَ السّلامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ فَرَدَّ عَلَيْهِ فَجَلَسَ فَقَالَ (عشْرُونَ) ثُمَّ جَاءَ أَخَرُ فَقَالَ السَّلامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ فَرَةٌ عَلَيْهِ فَجَلَسَ فَقَالَ (ثَلاثُونَ) - رواه أبو داود والترمذي وقال حديث حسن .
৮৫১। ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললো, আস্সালামু আলাইকুম। তিনি তার সালামের জবাব দিলেন। সে ব্যক্তি বসে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: দশটি নেকী লেখা হয়েছে। এরপর আর এক ব্যক্তি এসে বললো, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। তিনি তার জবাব দিলেন। সে ব্যক্তি বসে পড়লে তিনি বলেনঃ বিশটি নেকী লেখা হয়েছে। তারপর আর এক ব্যক্তি এল এবং বলল, আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। তিনি তার জবাব দিলেন। সে লোকটিও বসে পড়লে তিনি বলেন: ত্রিশটি নেকী লেখা হয়েছে।
ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান হাদীস বলেছেন।
٨٥٢- وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وسلم هذا جِبْرِيلُ يَقْرَأَ عَلَيْكَ السَّلامَ قَالَتْ قُلْتُ وَعَلَيْهِ السَّلامُ وَرَحْمَةُ الله وبَرَكَاتُهُ متفق عليه . وَهَكَذَا وَقَعَ فِي بَعْضِ رِوَايَاتِ الصَّحِيحَيْنِ (وَبَرَكَاتُهُ) وَفِي بَعْضِهَا بِحَذْفِهَا وَزِيَادَةُ الثَّقَةِ مَقْبُولةٌ .
৮৫২। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ এই যে জিবরীল, তোমাকে সালাম বলছেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ (তার উপর সালাম বর্ষিত হোক এবং আল্লাহ্র রহমত ও বরকত)।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের এ সম্পর্কিত কোন রিওয়ায়াতে 'বারাকাতুহ' শব্দটি উল্লেখিত হয়েছে, আবার কোন রিওয়ায়াতে উল্লেখিত হয়নি। তবে সিকাহ রাবীর (প্রখর স্মরণশক্তির অধিকারী ও পরম নির্ভরযোগ্য রাবীর) যোগকৃত বাড়তি বক্তব্য গ্রহণীয়।
٨٥٣ - وَعَنْ أَنَس رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا تَكَلَّمَ بكلمة أعَادَهَا ثَلاثاً حَتَّى تُفهَمَ عَنْهُ وإذا أتى على قوم فَسَلَّمَ عَلَيْهِم سَلَّمَ عَلَيْهِم ثَلاثًا - رواه البخاري - وَهذَا مَحْمُولٌ عَلَى مَا إِذَا كَانَ الْجَمْعُ كَثِيراً .
৮৫৩। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত ৷ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কথা বলতেন, তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন, যাতে তাঁর কথা বুঝা যায়। আর যখন তিনি কোন গোত্রের কাছে আসতেন তাদেরকে সালাম করতেন, তিনবার সালাম করতেন।
ইমাম বুখারী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। আর তিনবার সালাম করার ব্যাপারটি ঘটত তখন, যখন জমায়েতটি হত খুব বেশি বড় ও বিরাট।
٨٥٤ - وَعَنِ المِقْدَادِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي حَدِيثِهِ الطَّوِيلِ قَالَ كُنَّا نَرْفَعُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَصِيبَهُ مِنَ اللَّبَن فَيَجِئُ مِنَ اللَّيْلِ فَيُسَلِمُ تَسْلِيمًا لا يُوقِظُ نَائِمًا وَيُسْمِعُ الْيَقظَانَ فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَلَّمَ كَمَا كَانَ يُسلم - رواه مسلم.
৮৫৪। মিকদাদ (রাঃ) তাঁর বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীসে বলেন: আমরা দুধ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তাঁর অংশ তুলে রেখে দিতাম। তিনি আসতেন রাত্রিবেলা । তখন তিনি এমনভাবে সালাম করতেন যা নিদ্রিত লোকদের জাগাতো না কিন্তু জাগ্রত লোকেরা তাঁর সালাম শুনে নিত। কাজেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং যথারীতি সালাম করলেন। (মুসলিম)
٨٥٥ - وَعَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ فِي الْمَسْجِدِ يَوْمًا وَعُصْبَةً مِنَ النِّسَاءِ قُعُودٌ قَالُوى بِيَدِهِ بِالتَّسْلِيم رواه الترمذي وقال حديث حسن وهذا مَحْمُولٌ عَلَى أَنَّهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمَعَ بَيْنَ اللفظ والاشَارَة وَيُؤَيَّدُهُ أن في رواية أبي داود (فَسَلَّمَ عَلَيْنَا ) .
৮৫৫। আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে যাচ্ছিলেন। সেখানে একদল মহিলা বসা ছিল। তিনি নিজের হাতের ইশারায় (তাদেরকে) সালাম করলেন।
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি হাসান হাদীস। আর এটি আসলে এমন একটি ব্যাপার যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শব্দ ও ইশারা উভয়টি একত্রিত করেন। এর প্রতি সমর্থন পাওয়া যায় ইমাম আবু দাউদের রিওয়ায়াত থেকে : “তারপর তিনি আমাদেরকে সালাম করলেন”।
٨٥٦ - وَعَنْ أَبِي جُرَى الهُجَيْمِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ عَلَيْكَ السَّلامُ يَا رَسُولَ اللهُ قَالَ لَا تَقُل عَلَيْكَ السَّلامُ فَإِنَّ عليك السلام تحية الموتى. رواه أبو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح وقد سبق بطوله.
৮৫৬। আবু জুরাই আল-হুজাইমী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললাম, আলাইকাস সালাম ইয়া রাসূলাল্লাহ (হে আল্লাহ্র রাসূল, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। তিনি বলেন: “আলাইকাস সালাম' বলো না। কারণ 'আলাইকাস সালাম' হচ্ছে মৃতদের সালাম।
ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন। ইতিপূর্বে এ হাদীসটি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।