#রিয়াদুস_সালেহীন দ্বিতীয় খণ্ড অনুচ্ছেদঃ৭৪ সহনশীলতা, ধীর-স্থিরতা ও কোমলতা।

Muhammads words
0
#রিয়াদুস_সালেহীন দ্বিতীয় খণ্ড অনুচ্ছেদঃ৭৪

 قَالَ اللهُ تَعَالَى : والْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“তারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।” (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪)

وَقَالَ تَعَالَى : خُذِ الْعَفْوَ وَأَمرُ بِالْعُرْفِ وَاعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ.

“ক্ষমাশীলতা অবলম্বন কর, সৎ কাজের নির্দেশ দান কর এবং মূর্খ লোকদের এড়িয়ে চল।” (সূরা আল আ'রাফ: ১৯৯)


وقال تعالى : وَلا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَاذا وَقَالَ الذي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَانُهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ، وَمَا يُلْقَاهَا إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلقاها الا ذُو حَظٍّ عَظيم

“ভালো ও মন্দ বরাবর নয়। তুমি ভালো দ্বারা মন্দকে প্রতিহত কর। ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে তোমার পরম বন্ধুর মত। আর এহেন সুফল তার ভাগ্যেই জোটে যে ধৈর্য ও সহনশীলতার অধিকারী এবং যে বিরাট সৌভাগ্যশালী।” (সূরা হা-মিম সেজদা ৩৪-৩৫)

وَقَالَ تَعَالَى : وَلَمَنْ صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ.


“অবশ্য যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিঃসন্দেহে এটা দৃঢ় সংকল্পের কাজ।” (সূরা আশ শূরাঃ ৪৩)

٦٣٢ - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاس رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَشَجَ عَبْدِ الْقَيْسِ إِنْ فِيْكَ خَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللهُ الْعِلْمُ وَالْآنَاء رواه مسلم.


৬৩২। ইবনুল আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল কায়েস গোত্রের আশাজ্জকে বললেন : তোমার মধ্যে এমন দু'টি গুণ বা অভ্যাস রয়েছে যা আল্লাহও পছন্দ করেন : সহনশীলতা ও ধীর-স্থিরতা। (মুসলিম)

٦٣٣- وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ رَفِيق يُحِبُّ الرِّفْق في الأمر كله - متفق عليه .


৬৩৩। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ কোমল । তাই তিনি প্রতিটি কাজে কোমলতা পছন্দ করেন। (বুখারী, মুসলিম)

٦٣٤ - وَعَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ ويُعْطِي عَلَى الرِّفْقِ مَا لاَ يُعْطِي عَلَى الْعُنْفِ وَمَا لَا يُعْطِي عَلَى مَا سِوَاهُ رواه مسلم .


৬৩৪। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ নিজে কোমল। তিনি কোমলতা ভালোবাসেন। তিনি কোমলতা দ্বারা ঐ জিনিস দান করেন যা কঠোরতা দ্বারা দেন না। তথা কোমলতা ছাড়া অন্য কিছু দ্বারাই তিনি তা দেন না। (মুসলিম)

٦٣٥ - وَعَنْهَا أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الرِّفْقَ لَا يَكُونُ فِي شَيْءٍ الا زَانَهُ وَلَا يُنْزَعُ مِنْ شَيْءٍ إِلا شَانَهُ - رواه سلم


৬৩৫। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে জিনিসে কোমলতা থাকে, কোমলতা সেটিকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। যে জিনিস থেকে কোমলতা ছিনিয়ে নেয়া হয় সেটাই দোষদুষ্ট ও ত্রুটিযুক্ত হয়ে যায়। (মুসলিম)

٦٣٦ - وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَالَ أَعْرَابِيُّ فِي الْمَسْجِدِ فَقَامَ النَّاسُ إِلَيْهِ لِيَقَعُوا فِيهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعُوهُ وَآرِيقُوا عَلَى بَوْلِهِ سَجَلاً مِنْ مَاءٍ أَوْ ذَنُوا مِنْ مَاءٍ فَإِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِرِينَ وَلَمْ تُبْعَثُوا رواه البخاري . معسرين


৬৩৬। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুইন মসজিদে পেশাব করলে লোকেরা ঝাঁপিয়ে পড়তে উঠে দাঁড়াল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ছাড় তাকে। তার পেশাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। তোমাদেরকে সহজ নীতি অবলম্বনকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, কঠোর নীতির ধারক হিসেবে নয়। (বুখারী)

٦٣٧ - وَعَنْ أَنَس رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَن النَّبيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَسَرُوا وَلَا تُعَسِرُوا وَتَشِرُوا وَلَا تُنفِرُوا - متفق عليه


৬৩৭। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ঃ তোমরা সহজ নীতি ও আচরণ অবলম্বন কর, কঠোর নীতি অবলম্বন করো না। সুসংবাদ শুনাতে থাক এবং পরস্পর ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িও না। (বুখারী, মুসলিম)

٦٣٨ - وَعَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تُحْرَمُ الرِّفْقَ يُحْرَمُ الْخَيْرَ كُلَّهُ- رواه مسلم .


৬৩৮। জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : যাকে কোমলতা বঞ্চিত করা হয়েছে, তাকে সব রকমের কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত করা হয়েছে। (মুসলিম)

٦٣٩ - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَن رَجُلاً قَالَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْه وَسَلَّمَ أوْصَنِي قَالَ لا تَغْضَبُ فَرَدَّدَ مِرَارًا قَالَ لا تَغْضَبُ - رواه البخاري .


৬৩৯ । আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বলেন ঃ রাগ করো না। লোকটি (এটাকে যথেষ্ট মনে না করে) কথাটি কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার বলেন ঃ রাগ করো না । (বুখারী)

٦٤٠- وَعَنْ أَبِي يَعْلَى شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ انَّ اللهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ فَاذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسَنُوا الْقَتْلَةَ وإذا ذبَحْتُمْ فَاحْسِنُوا الذِيْحَةَ وَلْيُحِدٌ أَحَدُكُمْ شَفرَتَهُ وَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ- رواه مسلم.


৬৪০। আবু ইয়া'লা শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের প্রতি দয়া-মায়াপূর্ণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছেন। অতএব তোমরা কোন প্রাণীকে হত্যা করলে, উত্তমভাবে হত্যা করবে এবং কোন প্রাণীকে যবেহ করলে উত্তমভাবে যবেহ করবে। তোমাদের প্রত্যেকেই যেন তার ছুরিকে শানিত করে নেয় এবং যবেহ করার প্রাণীকে আরাম দেয়। (মুসলিম)

٦٤١ - وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا خُيْرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَمْرَيْنِ قَطُّ إِلا أَخَذَ أَيْسَرَهُمَا مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا فَإِنْ كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِنَفْسِهِ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلَّا أنْ تُنتَهَكَ حُرْمَةُ اللهِ فَيَنْتَقِمُ لِلَّهِ تَعَالَى- متفق عليه


৬৪১। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দু'টি বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণ করার ইখতিয়ার দেয়া হলে তিনি সর্বদাই অপেক্ষাকৃত সহজটি গ্রহণ করতেন, যদি না তা গুনাহ্ বিষয় হত। তা গুনাহ্ বিষয় হলে তা থেকে তিনি সকলের চাইতে বেশি দূরে অবস্থানকারী হতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যক্তিগত কোন বিষয়ে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তবে আল্লার বিধান লংঘিত হলে তিনি শুধু মহান আল্লাহ্র জন্যই প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন। (বুখারী, মুসলিম)

٦٤٢ - وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيه وسلم إلا أخبركُم بِمَنْ يَحْرُمُ عَلَى النَّارِ أوْ بِمَنْ تَحْرُمُ عَلَيْهِ النَّارُ؟ تَحْرُمُ عَلَى كُلِّ قَرِيْب هَيِّن لين سهل - رواه الترمذي وقال حديث حسن .


৬৪২। ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের জানাব না যে, কোন্ লোক জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম অথবা কার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম? জাহান্নামের আগুন এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য হারাম যে লোকদের নিকটে বা তাদের সাথে মিলেমিশে থাকে, যে কোমলমতি, নরম মেজাজ ও বিনম্র স্বভাববিশিষ্ট।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

#মুহাম্মদের_বাণী #ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ  #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী  #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default